“বর্তমান বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের উপর কাফির-মুশরিক জোটের সম্মিলিত আগ্রাসন, পবিত্র ভূমি জেরুজালেম বে-দখল আর শামের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে আমরা ইতিহাসের মহাবীর সালাহউদ্দীন আইয়ুবীর (রহি:) সময়ের সাথে কিছুটা মেলাতে পারি। দুনিয়া আর ক্ষমতার দ্বন্দ্বে অন্ধ মুসলিম শাসকবর্গ যখন উম্মাহকে ভুলে গিয়েছিলো, একজন সালাহউদ্দীন সেদিন একাই একটি উম্মাহ হয়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন। মিসর হয়ে শামে শান্তি ফিরিয়ে এনেছেন, জেরুজালেমকে কাফিরদের হাত থেকে পবিত্র করেছেন, আর সমস্ত বিশ্ববাসীর কাছে সাহসিকতা, বিচক্ষণতা আর মহানুভবতার যে নজির রেখে গেছেন সেটা মুসলিম বিশ্ব তো বটেই; অমুসলিম ইতিহাসবিদরাও গুরুত্বের সাথে স্মরণ রেখেছেন। এই বইটি থেকে যদি পাঠকরা উপকৃত হয়, আমাদের মায়েরা যদি তাঁদের সন্তানদেরকে একেকজন সালাহউদ্দীন আইয়ুবী হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন বুনে, যদি সমগ্র মুসলিম উম্মাহর মাঝে সালাহউদ্দীনের মত দ্বীনের সম্মানে ঝাঁপিয়ে পড়ার সেই পৌরুষ ফিরে আসে, তবেই আমরা স্বার্থক ইন শা আল্লাহ”
সালাহউদ্দিন আইয়ুবী (রাহিমাহুল্লাহ) বাক্তিটি অসামান্য। মূল লেখকের বইটি পড়িনি তাই মন্তব্য করতে পারছিনা। তবুও অনুবাদ নিয়ে আমার ভাবনা এই যে, অনুবাদক মনে ইতিহাসের ভিতরে ঢুকতে পারেননি। যে অসামান্য বাক্তিটিকে (রাহিমাহুল্লাহ) নিয়ে আলোচনা তার ইতিহাসে আমাদের একটা জশন ও জৌলুস খুঁজে পেতে হবে। যা এই বইয়ে আমি অন্তত পাইনি। আল্লাহ আমাদের ভাইদের কে আরও ভালো ভালো কাজ করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
ভালো অনুবাদ। মূল বইটির তথ্য অনেক কম থাকলেও, ছোট পরিসরে সব বিষয়ই কভার করার চেষ্টা করেছে। নাসির আল উলওয়ান এর লেখার ধাঁচ ভালোই, গাম্ভীর্যপূর্ণ নয়। কিন্তু তথ্যসমৃদ্ধ। প্রফেশনাল লেখকের ধাঁচ আছে। এই কারণেই হয়তো বইগুলো ব্যবসাসফল। আল-আজহারে পড়া, তাই অনেক কিছুই ওইমুখী। সালাহউদ্দিন আইয়ুবী নিয়ে লেখার মধ্যে অনেক বিষয়ই তুলে ধরেছেন। তবে আমার কাছে অনেক কিছুতেই অতিরঞ্জন মনে হচ্ছে। আরও অনেকেই ক্রুসেডে জিতেছেন বা জয়টাকে টিকিয়ে রেখেছেন। তাদের বিষয় সবাই নিশ্চুপ। যেনো আইয়ুবী ছাড়া আর কেউ কখনই জিতেনি। অনুবাদের ক্ষেত্রে বলতে হয়, অনুবাদ বেশ সুন্দর হয়েছে। বেশ প্রাঞ্জল। বিশেষ করে কবিতাগুলো বেশ সুন্দর অনুবাদ করেছেন এবং অন্তমিলও রেখেছেন।