This is the second monograph in the People's History of India series. Illustrations, maps and tables are included to serve as aids to understand the subject better. A sub-chapter is devoted to the Hemland civilization, whose study is indispensable for putting the Indus civilization in a proper perspective.
মেসোপটেমিয়ান সভ্যতার সমসাময়িক সিন্ধু সভ্যতা। প্রায় ৫ হাজার বছর আগের এই সভ্যতার প্রায় প্রত্যেকটি দিক নিয়ে লিখেছেন ইরফান হাবিব। ১ শ + পাতায় এত সমৃদ্ধ একটি সভ্যতার আদি থেকে অন্ত লেখা অসম্ভব। তবুও অধ্যাপক ইরফান হাবিব চেষ্টা করেছেন বিস্তৃত সিন্ধু সভ্যতার আর্থসামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের বর্ণনা দিতে।
প্রায় ৩ হাজার বাড়িতে কম-বেশি মাত্র ৮০ হাজার মানুষ বসবাস করত সুপ্রাচীন মহেঞ্জোদারো নগরীতে। আজকের বিবেচনায় এই সংখ্যা অত্যন্ত তুচ্ছ। কিন্তু ৫ হাজার বছর আগে মহেঞ্জোদারো ছিল সভ্য পৃথিবীর অন্যতম সমৃদ্ধ মেগাসিটি। এই শহরের ব্যাপ্তি ও সমৃদ্ধির সঙ্গে তুলনা চলত তখনকার মেসোপোটেমিয়ান সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র বাবেল ও উর শহরের। সিন্ধুর অধিবাসীরা মেসোপোটেমিয়ানদের কাছে মেলুহা নামে পরিচিত ছিল। আর, দুই সভ্যতার মাঝে নিয়মিত ব্যবসা-বাণিজ্য চলত। যার প্রমাণ ঐতিহাসিকদের হাতে রয়েছে।
হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোতেই সিন্ধু সভ্যতার সরহদ্দ সীমিত ছিল না। বরং উত্তর ভারতের গুজরাট ও দক্ষিণে কর্ণাটক অবধি অনেক স্থান সিন্ধু সভ্যতার আওতাভুক্ত ছিল। বাংলার বর্ধমানে সিন্ধু সভ্যতার যুগে জনবসতি ছিল।
ভুট্টা, বার্লি ও গম সবচেয়ে বেশি চাষ হতো। মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পাতে ধান চাষের বড়ো একটা উল্লেখ পাওয়া যায় না। তা বলে সিন্ধু যুগে মানুষ ভাত খেতো না - এমনটি ভাবা ঠিক নয়। দক্ষিণ ভারতে সেই যুগে ধান চাষের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তুলা মিলত অল্পসল্প। সেই তুলা দিয়ে তৈরি হতো পোশাক। কিন্তু কাপড়ের যোগান ছিল চাহিদার তুলনায় অকল্পনীয় কম। তাই বেশির ভাগ গরিবের নসিবে কাপড় বড়ো বেশি জুটত না বলেই মনে করেন ইরফান হাবিব। আর, ল্যাডার নামক এক ধরনের গাছ থেকে লাল রং পাওয়া যেত। তা কাপড়সহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হতো। লালের বাইরে কালো ছাড়া ভিন্ন কোনো রঙের কথা জানা যায় না।
হাতি, জলহস্তী আজ ভারতবাসী খায় না। তবে মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পাতে হাতি ও জলহস্তীর হাড়ের পরিমাণ দেখে ঐতিহাসিকদের মনে হয়েছে, সেই সময়ে মানুষ হাতি ও জলহস্তী খেত। ষাঁড় ছিল পবিত্র প্রাণী। তাকে ডাকা হতো জেবু নামে।
সিন্ধু সভ্যতার মানুষ জানতই না পৃথিবীতে ঘোড়া নামে কোনো প্রাণী আছে! তাই হয়তো সিন্ধু যুগে কোথাও ঘোড়ার চিত্র, প্রতীক অথবা হাড়গোড় মেলেনি। মালপত্র বহন ও দ্রুতগামী প্রাণী হিসেবে গাধাকে ব্যবহার করা হতো।
মহেঞ্জোদারোতে ছোটো-বড়ো অনেকগুলো পাবলিক গোসলখানা ছিল। এমনকি প্রাইভেট গোসলখানার সন্ধান পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। মুদ্রার প্রচলন ছিল না। তাই বিনিময় প্রথার মাধ্যমে ব্যবহার করা যেত প্রাইভেট গোসলখানা। উল্লেখ্য, পাবলিক গোসলখানাও মুফতে ব্যবহার করা চলত না।
সিন্ধু সভ্যতায় পৃথিবীতে প্রথম বাটখারার প্রচলন করা হয়। তবে সর্বোচ্চ ১৩ কেজির বেশি একসঙ্গে মাপার সুযোগ সেই বাটখারায় ছিল না।
মরদেহ দাহ নয় ; সমাহিত করা হতো। মমি করার কৌশল সিন্ধু সভ্যতায় পৌঁছেনি। এমনকি পিরামিডের মতো সুউচ্চ কোনো স্থাপনার সন্ধান এখন অবধি পাওয়া যায়নি সিন্ধু সভ্যতায়। তাই ধারণা করা হয়, ব্যক্তিগত বাড়ি নির্মাণ ছাড়া বৃহৎ আকারের স্থাপনা নির্মাণকৌশল সিন্ধুবাসীর অজানা ছিল। যদিও ড্রেনসহ সুন্দর রাস্তা ও গোসলখানা নির্মাণকৌশলকে বৃহৎ নির্মাণ হিসেবে দেখতে চান।
ইরফান হাবিবের মতে, আর্যদের আক্রমণে অর্থাৎ বহিঃশত্রুর হামলায় ভেঙে পড়ে সিন্ধু সভ্যতার ভিত।
এই বইয়ের শক্তিশালী দিক তথ্যউপাত্ত ও লেখক ইরফান হাবিবের পড়াশোনার ব্যপ্তি। মাত্র এক শ পাতার একটি বই লেখার জন্য একজন ইতিহাসবিদ এত পড়াশোনা করতে পারেন তা নিঃসন্দেহে কাবিলে তারিফ। অল্পকথায় সিন্ধু সভ্যতা নিয়ে মোটামুটি ধারণা পেতে বইটা পড়া যায়।
তবে ইরফান হাবিব সহজ ইংরেজিতে লেখেননি এবং বিষয়বস্তুর কারণেই বইটা একবসায় পড়া যায় না। অল্প স্থানে অধিক তথ্য দেওয়ার কৌশলের কারণে তথ্যের ভারে বইটি ভারাক্রান্ত হয়ে গেছে। যা পাঠক হিসেবে আমার ধৈর্যচ্যুতি ঘটায়।
সিন্ধু সভ্যতা নিয়ে আমরা যেটুকু জানি ; তারচেয়ে অনেকটাই বেশি আমাদের অজানা। ইতিহাসবিদেরা ভাসা ভাসা তথ্যের ওপর নির্ভর করে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সিদ্ধান্তে এসেছেন ও নিয়েছেন নানা ক্ষেত্রে কল্পনার আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। যাহোক, মাত্র এক শ পাতার একটা বই পড়ে সিন্ধু সভ্যতা নিয়ে ধারণা পেতে পারেন।