বাংলাদেশের ছেলে প্রলয়, চোদ্দ বছর বয়স। বাবা মা ছোটবেলায় মারা যাওয়ায় লন্ডনে চাচার সাথে থাকে সে। সেখানে আর দশজন সমবয়সীর মতই কাটছিল তার জীবন। কিন্তু একদিন মাথার ওপর থেকে সরে যায় শেষ ছাদটাও। চাচার মৃত্যু সংবাদ শুনতে হয় তাকে। সেই সাথে জানতে পারে তার চাচা ছিল বিশ্বের সবচেয়ে চৌকশ গুপ্তচরদের একজন। ঘটনার পরিক্রমায় প্রলয় জড়িয়ে পড়ে সেই গুপ্তচর সংস্থার সাথে। কয়েক দিনের ব্যবধানে এক স্কুলছাত্রকে নামতে হয় গুপ্তচরবৃত্তিতে। যেতে হয় রহস্যময় একাডেমি, ব্ল্যাক এলিটসের অভ্যন্তরে। পড়াশোনার নামে কি চলছে সেখানে যা চলছে তা বদলে দিতে পারে পুরো পৃথিবীর চেহারা? প্রলয় কি পারবে আসন্ন এই মহাপ্রলয় থেকে সবাইকে রক্ষা করতে?
প্রখর তপ্ত দুপুরে বাড়ি থেকে বের হয়ে মায়ের পাহারার পাহাড় পেরিয়ে,পাড়ার পাহারাদারের চোখ এড়িয়ে গা বাঁচিয়ে সাইকেলে চেপে অজানার খোঁজে নেমে পড়া।
কিংবা বন্ধুর সাথে বন্দীশালার নিয়ম ভেঙে নতুন ভোরের ভাবনায় বিভোর হয়ে গুলতানির গলিতে গোলমেলে দিশেহারা স্বপ্ন বুনতে বুনতে হঠাৎ মনে পড়া "আরে কালকেই না পরীক্ষা আছে,মায়ের এই কাজটা করিনি, ইশ্ কত দেরি হয়ে গেছে আজকে বাবার বকুনী বরাদ্দ হয়ে গেছে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি".
ধুস শালা!এত পরাধীন কেন আমরা!
এধরনের খামখেয়ালির খোয়াব আর আলোচনা খোঁয়াড়ে পুরে বাস্তবে আবার দিবি্য ফিরে এসে পুরোনো নিয়মেই নিয়মিত থাকে তারা।
কয়েকবছরের ব্যবধানে বাবা মায়ের আশ্রয় থেকে চাচার সাথে ইহজাগতিক পাঠ চুকিয়ে দিশেহারা প্রলয় যখন পাগলপারা,সে সময়ে টিকটিকিগিরির অফার নিয়ে হাজির টপ টিকটিকি সংস্থা।বিষয়:ব্ল্যাক এলিটের কাজকর্মে কতটা এলিট আর কতটা বিটলামী তা খুঁজে বের করে দুই রহস্যময় মৃত্যু সাথে তার চাচার দেহান্তের যোগসূত্র খুঁজে সুন্দর করে তার ফলাফল তাদের হাতে তুলে দেওয়া!
প্রলয় গেছিলো পড়াশোনার ফাঁকে (টিকটিকি গিরি)প্রতিষ্ঠানের ফাঁক খুঁজতে।কেঁচো খুঁড়তে সাপ বের হওয়ার মতো আবিষ্কার করে ফেললো নিউক্লিয়ার ক্লোনিং এর সাথে পাগলাটে বিজ্ঞানী ড.গ্ৰিফ আর তার আজ্ঞাবাহী পালোয়ান মিসেস স্টেলেনবস্কের বিভীষিকাময় পরিকল্পনা। এরপর যা আর কি হয় নাটকে সিনেমায় গল্প উপন্যাসে,প্রখর তেজদীপ্ত বুদ্ধির আর সাহসের সবোর্চ্চ শো প্রদর্শনী করে নিজের শৌর্যের প্রমান দিয়ে সবাইকে মুক্ত করে আবার সাধারণ স্কুলের ছাত্রের পরিচয়ের ছায়ায় ফিরে গিয়ে গল্পের গাছ ওখানেই মুড়ে গিয়েছে।
গতিময় লেখা। অত্যন্ত সহজ ভঙ্গিতে, দৃশ্যের পর দৃশ্য সাজিয়ে কাহিনির নির্মাণ করেছেন লেখক। ইয়ং অ্যাডাল্ট পাঠকদের জন্য লেখা বই, তাই বিষয়গত কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপিত হয়েছে স্বাভাবিকভাবেই। তবু লেখাটা, ফ্রেডরিক ফরসাইথ এবং অন্য নানা গাঁজাখুরি ভাবনার মিশ্রণ হিসেবেও পড়তে বেশ লাগে। প্রলয় জামানকে বড়ো ভালো লাগল। তবে এম.আই সিক্সের বদলে তাকে সোনার বাংলার হয়ে লড়তে দেখলেই বেশি খুশি হব। হরোউইৎজের ছায়া থেকে বেরিয়ে লেখক তেমন একটি কাহিনি পেশ করবেন প্রলয়ের পরবর্তী অ্যাডভেঞ্চার হিসেবে, এই আশায় রইলাম।
ছোট ভাইকে দেয়ার জন্যে কিনেছলাম, কিন্তু তার আগে আমিই পড়ে ফেললাম। বেশ ভালো লেগেছে, যদিও জেমিনি প্রজেক্টের ব্যাপারে কিছু প্রশ্ন থেকে যায়- কিন্তু যে বয়সীদের জন্যে চিন্তা করে লেখা, সে অনুযায়ী ঠিক আছে :) প্রলয়কে বাংলাদেশে দেখতে পারলে ভালো লাগবে।
গল্পটা মূলত একটা চৌদ্দ বছর বয়সী ছেলে - সাকিব প্রলয় জামানকে ঘিরে। ছোটবেলায় বাবা -মাকে হারিয়ে আশ্রয় পায় আমেরিকায় বসবাসরত জনি চাচার কাছে। সেখান থেকেই কাহিনির সূত্রপাত। জনি চাচাকে খুন করে এক্সিডেন্ট বলে চালিয়ে দেওয়া হয়। সেই রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে চাচার অফিসের মানুষের কাছে ধরা পড়ে যায়। যেটি কোন ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান না হয়ে ছিল একটি গুপ্তচর সংস্থা। প্রলয়কে সেখান থেকে গুপ্তচর নিযুক্ত করে পাঠানো হয় ব্ল্যাক এলিটস স্কুলে। নানা সমস্যা প্রতিবন্ধকতা পার করে, মৃত্যুর মুখোমুখি হয়ে বের করে আনে স্কুলের পেছনে লুকিয়ে থাকা ক্লোন ষড়যন্ত্রকে।
কাহিনী শুনে একটু বেশি বেশিই মনে হতে পারে। আমারও মনে হয়েছিল। কিন্তু প্রলয় ক্যারেক্টরটা মানিয়ে নিয়েছে। নিজের বয়সী একটা ছেলের এতো অ্যাএডভেঞ্চারাস জার্নিটা দারূন উপভোগ করেছি।
সবচেয়ে হাস্যকর কথা হচ্ছে, এমন বাচ্চারা যখন আছে, সেখানেও সোফা থেকে লাফ একটা দিতেই বাসার সবাই যেভাবে ভ্রু কুঁচকে তাকায়....... 😅😅
যখন অন্যান্য বই কয়েকপেজ উল্টিয়ে রেখে দেবার প্রবনতা চলতেছে , তখন আমার মত একজন স্লো রিডার পুরো বইটা দুই বসায় শেষ করে ফেলেছে ! ক্লাসে স্যারদের জ্ঞানগর্ভ লেকচারার প্রতি অনীহাও এ ব্যাপারে সহায়তা করেছে :৩
যাই হোক ,সবারই আমার মত ভালো লাগবে না । বড়দের তো ভালো লাগার সম্ভবনা আরো কম ।
ইহা নাকি মৌলিক নহে, এডাপ্টেশন। তাও আবার সেটা বই এর মলাট/প্রচ্ছদে কোথাও উল্লেখ নাই। সেটার চেয়েও বড় কথা, এডাপ্টেশনের কাহিনী এতো কুৎসিত হয় কী করে? হতাশ।
এন্থনি হরোয়িটজের বিখ্যাত কিশোর স্পাই-থৃলার 'অ্যালেক্স রাইডার' এর প্রথম দুটো উপন্যাস থেকে প্রলয় উপন্যাসের কাঠামো গৃহীত, বাতিঘর থেকে বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০১৮ সালে। গল্পের প্রধান চরিত্রের নাম প্রলয়, যে খুব ছোট বয়সে বাবা মা কে হারিয়ে চলে যায় লন্ডনে তার জনি চাচার কাছে। কিন্তু জনি চাচাও তাকে ছেড়ে বিদায় নেন এ পৃথিবী থেকে। জনি চাচার সেই অস্বাভাবিক মৃত্যুর কারণ অন্বেষণে বেড়িয়ে একসময় প্রলয় জানতে পারে যে তার চাচা আসলে একজন নাম করা গোয়েন্দা ( গুপ্তচর) ছিলেন এবং তার চাচার গোয়েন্দা সংস্থাটির সঙ্গেই একটা অভিযানে জড়িয়ে পড়ে প্রলয়। এই অভিযান নিয়েই কিশোর বয়সী পাঠকপাঠিকাদের জন্য রুদ্ধশ্বাস একটা কিশোর থৃলার এই বই। এ বয়সে যাদের মনে গোয়েন্দা হওয়ার সুপ্তবাসনা জেগে ওঠে তারা সবাই প্রলয়ের মধ্যে নিজেকে খুঁজে পাবে। গল্পটা অসাধারণ লেগেছে পড়ে।-সপ্তর্ষি
Anthony Horwitz এর বই "Stormbreaker" এর অবলম্বনে করা হয়েছে। কিশোর স্পাইয়ের আইডিয়াটা অ্যালেক্স রাইডার থেকে নেওয়া হয়েছে। চাচার মৃত্যুর পর স্পাই হয়ে যাওয়া, প্রসেসটা আ��লে অ্যালেক্স রাইডারকেই ইংগিত করছে
তবে আলাদা করে বলতে গেলে লেখকের লেখনী খারাপ না। সন্তুষ্ট করা যায়
হঠাৎ করে ছেলেবেলায় হারিয়ে গিয়েছিলাম বই্টি পড়ে। ভালো লেগেছে। তবে কিছু কিছু জায়গায় মূল চরিত্রকে দূর্বল মনে হয়েছে। শেষটা সিকুয়েলের ইংগিত করছে। আশা করি নতুন বইতে মূল চরিত্রকে আরেকটু শক্তিশালী করবে লেখক।