১৯১৯ সালে ব্রিটিশ ভারতের কলকাতায় প্রকাশিত জোয়াকিম জোসেফ এ ক্যাম্পোসের লেখা 'History of the Portuguese in Bengal' বইটির বাংলা অনুবাদ এটি।অভিজ্ঞ অনুবাদক শানজিদ অর্ণব কৃত অনুবাদটি সাবলীল এবং সুখপাঠ্য। বইটি পড়ে জানা যাবে ভারত তথা বাংলায় পর্তুগিজদের আগমন, প্রভাব বিস্তার ও পতনের সম্পূর্ণ কাহিনী, যা অত্যন্ত আকর্ষণীয়, ঘটনাবহুল ও বিচিত্র এক ইতিহাস।
২০১৮ সালের কলকাতা বইমেলায় কিনলাম, বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন থেকে। একনিঃশ্বাসে পড়ে ফেললাম। ছোটবেলা থেকে জলদস্যু সেবাস্টিয়াও গন্জালেস-- অারাকান রাজ-- চট্টগ্রাম বন্দর-- সন্দ্বীপ চ্যানেল-- এসব নিয়ে পড়া কত গল্প-- ইতিহাসে পড়া পর্তুগিজদের ভারত অভিযান-- প্রতাপচন্দ্র চন্দের 'জব চার্নকের বিবি'-- সব অাজ পূর্ণতা পেল যেন। অনুবাদককে অসংখ্য ধন্যবাদ ও শ্রদ্ধা জানাই। অত্যন্ত সাবলীল অনুবাদ। পরিতৃপ্ত হলাম পড়ে। পন্চদশ শতকের লিসবনের টেগাস নদী এসে যেন মিশে যাচ্ছে অাজকের চট্টগ্রামের ফিরিঙ্গিবাজারে। শেষের সংযোজন টূকূও অনবদ্য-- সন্দ্বীপঃ নীরস ঊষর sand heap নাকি অমিত সম্ভাবনার স্বর্ণদ্বীপ!
ইউরোপীয় হিসেবে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম পা রাখে পর্তুগিজরা। ভারতে আসার জলপথ আবিষ্কারের কৃতিত্ব রাখেন নাবিক ভাসকো-ডা গামা। পর্তুগিজদের এখানে আসার মূল উদ্দেশ্য ছিল খ্রিস্টধর্ম প্রচার ও বানিজ্য সম্পর্ক স্থাপন করা। কিন্তু পরবর্তীতে এদেশে আসা প্রথম ইউরোপীয় হিসেবে যে মর্যাদা তারা অর্জন করেছিল, তা আর ধরে রাখতে পারেনি। স্থানীয়দের বন্দি করে দাস হিসেবে বিক্রি করা, জোর করে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহনে বাধ্য করা হতো। একারণে স্থানীয় জনগণ ও শাসনকর্তাদের সাথে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটতে থাকে। তবু বলতে হয়, তারা আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ব্যবহৃত অনেক শব্দের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়ে গিয়েছিল। পেরেক, জানালা, সাবান, চাবি, গামলা, আলমারি প্রভৃতি পর্তুগিজ শব্দ আমরা প্রতিনিয়তই ব্যবহার করছি।
'হিস্টরি অব দ্য পর্তুগিজ ইন বেঙ্গল' বইটি পর্তুগিজদের ভারতীয় উপমহাদেশ ও পরে বাংলায় আগমন পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী ঘটনাবলি নিয়ে লেখা হয়েছে।