মিলান শহরের ছিমছাম বাড়িতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বেশ ভালো দিন কাটছিলো রফিকের। হঠাৎ একদিন জানালার বাইরে এক জিপসি মেয়ের একাকি হেঁটে যাওয়ার দৃশ্য ওলট-পালট করে দিলো তার জগৎ। ধীরে ধীরে উন্মোচিত হতে থাকলো অতীতের এমন কিছু অধ্যায়,যেখানে মায়া-মমতা, আশা- হতাশার বুনন ছাড়াও রয়েছে রক্তের নোনতা গন্ধ। নিতান্ত অপরিচিত এক জিপসি তরুণীর সঙ্গে কী সম্পর্ক রয়েছে এই উপাখ্যানের? কেনই বা রফিক তার স্ত্রীর কাছে সব কিছু লুকোচ্ছে এতোগুলো বছর? কেউ এটাকে বলবে বন্ধুত্বের গল্প। কেউ বা বলবে রহস্য আর ঘৃনায় মোড়া টুকরো বিস্মৃতি। আবার কারও কাছে হতে পারে অনিশ্চিত আশ্বাস নিয়ে অব্যক্ত প্রতীক্ষার দৃষ্টান্ত। তবে আলবার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, এটা শুধুমাত্র এক কালো সূর্যোদয়ের গল্প।
Tania Sultana (Bengali: তানিয়া সুলতানা) is a fiction writer. At 1999, she went to Rome, Italy with her family and started living there. She had gratuated in Tourism from the university of Cristoforo Colombo. She is also passionate about painting and writing poetry.
বেখাপ্পা প্রচ্ছদের জন্য এতদিন বইটা শেলফের কোণায় পড়ে ছিল। বাতিঘরের বইগুলোর সাধারণত এমন পরিণতি হয় না। সত্যি বলতে, প্রচ্ছদ দেখে ভেবেছিলাম, গলগন্ড রোগে ভোগা কোনো মেয়ের গল্প হবে বোধহয় -_- লকডাউনে বাতিঘরের শেষ বই হিসেবে "আলবা নেরা"ই বাকি ছিল। সেটাও শেষ করে ফেললাম।
বইটি সত্যিকার অর্থে ভালো লেগেছে। ইতালিয়ান প্রেক্ষাপটে লেখা জীবনধর্মী থ্রিলার। লেখনীও বেশ সাবলীল।
আমার পড়া তানিয়া সুলতানা'র প্রথম বই এই "আলবা নেরা"। লেখিকার আরো বই পড়তে হবে।
আজেবাজে লেখার ভিড়ে ভালো লেখা খুঁজে পাওয়া আসলেই কঠিন। ইদানিং যতই পড়ছি আর রেটিং দিচ্ছি ততই মনে হচ্ছে আগের কিছু বইয়ের রেটিং আপডেট করা উচিৎ। কারণ ঐ বইও যদি ৫ পায় তাহলে এটা নিশ্চয়ই ৬ পাবে ৫ এ – এরকম বেশ কয়েকটা বই পড়ে মনে হয়েছে। আলবা নেরা এমন একটা বই।
ইটালীর ছোট্ট এক শহরে বাস করা ছোট্ট এক বাংলাদেশি পরিবারের সেটিংসে রাফিকের অতীত জীবনের লুকানো একটি স্মৃতির ধাপে ধাপে উন্মোচন নিয়েই এই গল্প। “রহস্যের প্রতি ধাপে মিশে গিয়েছিলাম” – এ ধরণের বাক্যাংশ আমি আজ পর্যন্ত লিখিনি। কিন্তু আলবা নেরার ক্ষেত্রে এই কথা বলতেই হবে। কারণ, শেষ তিন পাতার টুইস্টও আমি আগে অনুমান করতে পারিনি। মানছি- শেষ ৩০ পৃষ্ঠার আগেই আমি আসলেই ভেবেছিলাম গল্প শেষ।
গল্পের প্রতি চ্যাপ্টারেই কিছু না কিছু রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। গতানুগতিক থ্রিলারগুলোর মতো শুরুতে স্লো আর শেষে ধুমধাম সব উন্মোচন – এমনটা মোটেও ছিলো না। এটাই অবাক লাগলো – লেখক জানেন কিভাবে উপস্থাপন করতে হয়। আমি কয়েকটা ব্যাপার আগে ভাগে বুঝলেও, অনেক কিছুই আগে বুঝিনি কি হতে যাচ্ছে। আর তাই বলবো, রহস্য আমাকে কাবু করতে পেরেছে।
আর সবচেয়ে ভালো লেগেছে যে ব্যাপারটা সেটা হচ্ছে, সাধারণ থ্রিলার/ রহস্য উপন্যাসের মতো শুধু ঘটনা আর পারিপার্শিকের বর্ননাই নয়, এই বইতে লেখকের বিভিন্ন এবস্ট্রাক্ট বিষয়ে অনুভূতি বিশ্লেষণ, দার্শনিক মনোভাব, সময় ও জীবন নিয়ে ভাবনা – এসবও প্রকাশ পেয়েছে বেশ কয়েকটি জায়গায় – যেটা সাধারণত থ্রিলারে পাওয়া যায় না।
“নারীরা আসলেই গভীর থেকে ভাবতে জানে; যে ভাবনার পর্যায়ে পৌঁছতে ছেলেদের অন্তত ত্রিশ-চল্লিশ পার করা লাগে” – এই মন্তব্যটা আমি আমার এক বন্ধুর সাথে আলবা নেরা পড়ার পর আলোচনার সময় বলছিলাম। বইটা পড়ার পরপর ফ্রেশ অনুভূতি আমার ঠিক এটাই ছিলো। অবশ্যই লেখক পুরুষ কি নারী সেটা আলাদা করে দেখার কিছু নেই। কিন্তু শুধু থ্রিল নিয়ে থ্রিলার আর অন্তর্দৃষ্টি নিয়ে থ্রিলার – এ দুয়ের মাঝে ফারাক থাকবে বিস্তর – এটাই বোধহয় স্বাভাবিক।
এবার কিছু সমস্যা নিয়ে বলি – ১। রফিক আর মায়ার কথোপকথন একটা পর্যায়ে গিয়ে আমার বিরক্ত লাগতে শুরু করেছে। “আজ না; পরে বলবো” কিংবা “তুমি এখনো এটা নিয়ে ভাবছো? অন্যদিন বলি, আজ আমরা প্রকৃতি দেখি – ” রফিকের মুখ দিয়ে এসব কালক্ষেপণ আমার কাছে অড লেগেছে। সোজা কথায় – রফিক আর মায়া শুধু কথাবার্তাই বলছে; তাদের মাঝেও কোন রহস্য হতে পারতো, ইনভেস্টিগেশন হতে পারতো। এসব অবশ্য লেখকের সৃষ্টির ব্যাপার। কিন্তু আমার কাছে অন্তত মনে হয়েছে এমনটা হওয়া অস্বাভাবিক বোধহয়। মানে আমি মায়ার জায়গায় হলে শুরুতেই বলতাম, “বলবি না মানে? তোর ঐ কোন আলবু ন্যাড়া ... ব্লা ব্লা ব্লা..! আমার কাছে কি লুকাতে ..... ব্লা ব্লা ব্লা...... এখনি বল! নাইলে কালকেই রিলেশন শেষ!.......ব্লা ব্লা ব্লা...” আমার কাছে কালক্ষেপনের চেয়ে এটাই বেশি স্বাভাবিক মনে হয়। :/ ২। বাংলা বইতে বানান ভুল থাকে অনেক। কিন্তু চোখে লাগার মতো বানান ভুল বেশি ছিল এই বইতে। ৩। ১০০, ১০১ নাম্বার পৃষ্ঠা আর ১২২, ১২৩ নাম্বার পৃষ্ঠায় একই লেখা। এটা মনে হয় সব কপিতে ঘটেছে। পেইজ রিপিটেশন ছিলো না। লেখার রিপিটেশন ছিলো। পৃষ্ঠা নাম্বার আলাদা ছিলো। যেটার মানে প্লেটও এভাবেই হয়ে গিয়েছে ভুলে। ব্যাপারটা আমি আরেকজন পাঠক কিনেছে এমন একজনের সাথেও কনফার্ম করেছি। তবে ১২২, ১২৩ এ আলাদা কিছু লিখা থাকার কথাছিলো কিনা জানি না। রফিক আর মায়ার কথোপকথন বলে তেমন পাত্তা দেইনি। তবে অতীত রহস্যের পৃষ্ঠা হলে বিপাকে পড়ে যেতাম। ৪। কিছুক্ষণ পরপর ইতালীয় ভাষায় কথাবার্তা ছিলো – যেটা খুব বিরক্ত লেগেছে। কি বলছে কিছুই বুঝতে পারছিলাম না – কারণ, অর্থ দেয়া নেই বেশিরভাগ জায়গায়। একটা দুইটা জায়গায়ও না যে গুগল করতে পারবো। আন্দাজে কাজ চালিয়েছি। তবে যেসব জায়গায় কাজ চালাতে পারিনি আশা করেছি গুরুত্বপূর্ণ কিছু বলেনি। :(
তবে আমি বইটিকে ভালো রেটিং দেবো, মূলত রহস্য আর লেখকের লেখনির জন্যই। চরিত্রগুলোর নিখুঁত একটা উপস্থাপনা করতে পেরেছেন লেখক। বাস্তবতার চাপে ভীতুর মতো আটকে থাকা সিদ্ধান্তহীনতায় আক্রান্ত রফিক, রহস্য আর মায়া-ভালোবাসায় ঘেরা নান্না, অপরিচিত একটা সন্দেহের আবেশে সৃষ্ট পিনো কিংবা তৃতীয় রহস্যময় ছায়া – আর সবশেষে প্রবল গোপনীয়তায় পরিপূর্ণ আলবা – যে খুঁজে ফিরতো নির্ভরযোগ্য বন্ধু; প্রত্যেকেই সার্থক। শেষদিকে রফিকের শাস্তিও আমার ভালো লেগেছে। বলা যায় পৈচাশিক আনন্দ পেয়েছি। ভীতুদের এরকম ধাক্কাই খাওয়া উচিৎ। (স্যাডিস্ট মোড অন)
সবশেষে বলবো - অবিশ্বাসের শেকলে বন্দী থেকে অন্যের মাঝে দানব খুঁজতে খুঁজতে এক সময় নিজের মাঝেই প্রকাশ পেয়ে যেতে পারে সেই দানব। মানুষ অন্যের মাঝে প্রকৃতপক্ষে নিজেরই প্রতিচ্ছবি দেখতে পায়।
ইতালির মিলান শহরে স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে সুখের সংসার রফিকের। ঝামেলাবিহীন ভাবেই সব কিছু চলছিল। কিন্তু একদিন সব কিছু ওলটপালট করে দিল যখন রফিক জানালা দিয়ে এক জেপসি মেয়ের দেখা পেল। মনের গভীরে চাপা দেওয়া স্মৃতি যেন নাড়া চাড়া দিয়ে উঠল তার এত দিন পর।
উপন্যাসের কাহিনী দুইটা সময়ে সমান্তরালে এগিয়েছে। এক অধ্যায় বর্তমানে এক অধ্যায় ২০ বছর আগে রফিক আর আলবা নামক এক বাপ মা মরা জেপসীর মেয়ের সাথে ঘটে যাওয়া কাহিনী বর্ননা করে এগিয়েছে যে কিনা বাস করত তার নানীর সাথে, যার দৃঢ় বিশ্বাস তার নানী কালো জাদুতে বিশ্বাসী আর প্রেত সাধক। কিন্তু এক জেপসী মেয়েকে দেখে কেনই বা মনে পরবে এত বছর আগের কাহিনী?
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ সবার রিভিউএ দেখছিলাম যে সবাই বলছে যে এই বইয়ের টুইস্ট আগে থেকে বোঝা যায় না, রহস্য শেষ পর্যন্ত না পড়লে বোঝা যায় না ইত্যাদি। আমি যখন শেষের দিকে যাচ্ছিলাম তখন মনে হচ্ছিল এ আর এমন কি। আমি ত বুঝেই ফেলছি ঝামেলা কার মাঝে। কিন্তু শেষ দুই পাতা!!! ডবল টুইস্ট xD
সাইড নোটঃ এত বেশী ইতালি ভাষার ব্যবহার মিথ্যা বলবনা খুবই বিরক্তিকর লেগেছে। হয়ত অনেকে বলতে পারে ইতালিতে কাহিনী ঘটেছে তাই ইতালিয়ান ভাষা ব্যবহার করাই স্বাভাবিক। কিন্তু আলবা এবং তার নানীর কথা বার্তা যদি ট্রান্সলেট ভাবে থেকে কোন সমস্যা না হয় তবে বাকি গুলোও সমস্যা হবার কথা নয়। এক্ষেত্রে হয়ত লেখিকার ইতালি থাকা দায়ি হতে পারে, কিংবা পুরোটাই ইনটেনশনাল। কে জানে?
প্রবাসী লেখিকা তানিয়া সুলতানার প্রথমদিকের উপন্যাসগুলো পড়া না হলেও শুনেছি সেগুলো গ্রামীণ প্রেক্ষাপট নিয়ে লেখা। এরপর তিনি লিখলেন 'আলবা নেরা'। ইতালির মিলান ও ভেল্লেত্রি শহরকে ঘিরে সুন্দর প্লট ও চমৎকার গল্পের বুননে থ্রিলারের পাশাপাশি জীবনধর্মী এক উপন্যাস হয়ে উঠেছে এটি।
এক কথায় বলব-অসাধারণ! মিলানে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে সুখেই দিন কাটাচ্ছিল রফিক। হঠাৎ করেই ঘনিয়ে আসে কালো মেঘ। ঝড়ো হাওয়া কবর থেকে তুলে আনে এতকাল ধরে রফিকের সযত্নে লুকিয়ে রাখা অতীতের এক অধ্যায়। রহস্যের আবহে এগিয়ে চলা সামাজিক থৃলার ধর্মী এই উপন্যাসটি অন্য মাত্রা লাভ করেছে লেখকের চমৎকার লেখনশৈলীর কারণে। মুগ্ধ হয়ে পড়ে গেছি কালো সূর্যোদয়ের এই গল্প।
ইতালির মিলানে পরিবার নিয়ে সুখে শান্তিতে বসবাস করছিল বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রফিক। হঠাৎ করেই আলেস নামক এক জিপসি বিভিন্ন জায়গায় দেখা দিতে লাগল রফিককে। কে এই জিপসি মেয়ে?
ছোটবেলায় আলবা নামক মেয়ের সাথে পরিচয় ছিল রফিকের। ভেলেত্রি নামক এক শহরে থাকত ওরা। নানীর সাথে থাকত আলবা। দৃঢ় বিশ্বাস কালো জাদুর। চর্চা করে নানী? সত্যি কি কালোজাদু নাকি মনস্তাত্বিক কিছু? রফিকের সাথে কি সম্পর্ক এসবের।
প্রবাসী লেখিকা তানিয়া সুলতানার উপন্যাস আলবা নেরা প্ৰকাশিত হয় ২০১৮ বইমেলায় বাতিঘর প্রকাশনী থেকে। লেখিকার লেখার সাথে আমার পরিচয় নৃশংসয় উপন্যাসের মাধ্যমে। গ্রামীন প্রেক্ষাপটে লেখা সেটা। কিন্তু আলবা নেরার প্রেক্ষাপট ইতালি। মিলান ও ভেলেত্রি শহর। কাহিনী গড়িয়েছে দুইটি ভিন্ন সময়কালে, দুইটি ভিন্ন সময়ে। বর্তমানে একটি সুখী পরিবার, অতীত স্মৃতিচারণ-এ প্রটাগনিস্টের কৈশর। সরল, সুন্দর ছিমছাম কাহিনী। রকেট গতির থ্রিলার ভাবলে ভুল করবেন। তবে হালকা এডভেঞ্চার ও রহস্য বেশ ভালোই রয়েছে। শয়তান উপাসনা ভিত্তিক দৃশ্য ও রহস্য ভালো লেগেছে। আলবা চরিত্রটাও ভালো। শেষের দিককার রহস্যটা একটু ভূতুড়ে কিন্তু রহস্যের সমাধান সরলভাবে করেছেন। তবে একেবারে শেষ পৃষ্টার ব্যাপারটা চমক হিসেবেই এসেছে। সবমিলিয়ে ভিন্ন স্বাদের সুন্দর একটা বই। যদিও ব্যস্ততা ও ক্লান্তির কারণে একটু সময় লাগল শেষ করতে। তবে মোটামোটি উপভোগ্য-ই ছিল। কাহিনীতে হালকা বিষণ্নতার ছাপ ভালো লেগেছে। তানিয়া সুলতানা আপুর নিজের হাতে অলঙ্কৃত প্রচ্ছদ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আকর্ষণীয় লাগে। একটা ক্যাচি ভাব ছিল।
অনেক অনেকককককককককককক দিন পর একটা মনমতো বই পড়েছি। ২৬৯ পেজের বই দুই দিনে শেষ করেছি (খুব ভালো না লাগলে আমি এতো তাড়াতাড়ি পড়ি না)। বহুদিন পর কোনো বই সত্যিকার অর্থে "এখন থাক...পড়ে পড়ব" এই চিন্তার বদলে "আর একটা অধ্যায় পড়ি...কী হচ্ছে দেখি" এমন অনুভূতি দিলো।
বইটা শেষ করে দুটো অনুভূতি জটলা পাকাচ্ছে। একইসাথে "উচ্ছ্বসিত" এবং "বিষাদগ্রস্ত" হয়ে পড়েছি। উচ্ছ্বাস...মনমতো বই পাবার সুবাদে, বিষাদ...আলবার জন্য। ফিকশন কোনো চরিত্র বহুদিন পর মনে এতোটা প্রভাব ফেলতে পারল।
মিলান শহরের ছিমছাম বাড়িতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বেশ ভালোই দিন কাটছিল রফিকের, তবে হঠাৎ একদিন জানালার বাইরে জিপসি মেয়ের একাকি হেঁটে যাওয়ার দৃশ্য রফিকের অতীতের ক্ষতকে জাগ্রত করল যেন। বন্ধুত্ব, ভালোবাসা, স্মৃতিকাতরতা–মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল নিমিষে। বিশ বছর আগে আলবা নামের এক মেয়ের প্রিয় বন্ধু ছিল রফিক। একাকী আলবার বিষণ্ণতার জগতে এক টুকরো প্রশান্তি য্রন রফিক। কিন্তু সব স্বাভাবিক রইল না, ভীষণ ভয়ে কাটছে আলবার দিনগুলি। সন্দেহ করছে আলবা–প্রতিশোধের মূল্য চুকাতে তাকে শেষ করতে চাচ্ছে কি তার আপন নানি? অতীতের এই গল্পে আছে বিস্ময়কর মোড়, কীভাবে জড়িয়ে পড়েছিল রফিক এতে? বিশ বছর আগের স্মৃতি কেন আজও রফিককে তাড়িয়ে বেড়ায়?
“আলবা নেরা” তথা কালো সূর্যোদয়–আগ্রহ জাগানিয়া নামটার জন্যেই বইটা হাতে নিয়েছিলাম। তখনও বুঝিনি এত সুন্দর একটা প্লট অপেক্ষা করছে আমার জন্যে। গতানুগতিক ধারার থ্রিলার থেকে বইটা বেশ আলাদা, বইটাতে সহজ-সরল প্লটকে দারুন এবং অনন্যভাবে উপস্থাপনা করা হয়েছে। দুটো টাইমলাইন সমানতালে সুন্দরভাবে গিয়েছে, সাথে স্মৃতিকাতরতার দৃশ্যগুলো এবং চরিত্রায়ন ছিল পার্ফেক্ট। শুরু দিকে সাদামাটা মনে হতে পারে, কিন্তু যত কাহিনীতে ডুব দিবেন তত রহস্য জট পাকাবে। এত সুন্দর বর্ণনা ছিল যে এক নাগাড়ে পড়ে গেছি, বিশেষ করে দৃশ্যপট সাজানো দুর্দান্ত ছিল। ইটালিয়ান প্রেক্ষাপট মনে ধরেছে বেশ, গল্পের টুইস্টগুলোও অপ্রত্যাশিত ছিল, পদে পদে গল্পের পরিণতি বদলাচ্ছিল যেন। চরিত্রগুলোর মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়ন বেশি থাকায় সাইকোলজিক্যাল ভাইব পেয়েছি। গল্পের মূল শক্তি হচ্ছে চরিত্রায়ন। চরিত্রগুলো সংলাপ আর কার্যক্রম সত্যি আপনাকে তাদের মন থেকে অনুভব করা শেখাবে, প্রচুর আবেগ জাগবে মনে। বিশেষ করে অতীত আর বর্তমানকে সংযুক্তকারী শেষ টুইস্টটা পুরো গল্পকে বদলে দিল মুহূর্তেই, বিষণ্ণতা জেঁকে ছিল শেষটায়। আর্দশ টুইস্ট হয়তো একেই বলে। পরিশেষে, আমার পড়া সেরা মৌলিকগুলোর একটা “আলবা নেরা”। সব ধরনের পাঠককে আমি বইটা সাজেস্ট করব, কিছু বইয়ের পরিণতি আমাদের বাকরুদ্ধ করে, এটাও এমন কিছু। এত সুন্দর একটা গল্প উপহার দেয়ায় লেখিকাকে ধন্যবাদ❤️
গতানুগতিক থ্রিলার থেকে বেশ আলাদা একটা বই। প্রথমেই বলতে হয়, লেখিকার বর্ণনার ভঙ্গি। খুবই দারূণভাবে চারপাশের বর্ণনা দিয়েছেন, যা খুব সহজেই চোখে ভেসেছে। খুব দারূনভাবে গুছিয়ে এনে এমন ভয়াভহ টুইস্ট দিয়েছেন, ভালো না লাগার বিন্দুমাত্র উপায় নেই। গতানুগতিক ধারা থেকে বাইরের যেকোনো প্লট এমনেই টানে বেশি, আর তার মাঝে এমন দারূণ হলে তো কথাই নেই। সুপাঠ্য
I'm glad that i've finished my year 2018 by reading this particular wonderful book.
At first i thought it will be a boring read as the writer is new for me.. But as i continued my reading, i found her writing interesting. And she hooked me through the pages.
And finally i can say that i've spent a wonderful time here. And it was one of the best read bangla book of the year..
নব্বই দশকের শেষ ভাগ। ইতালির ভেল্লেত্রি শহর। সেই শহরের বেড়ে উঠেছে একটি মেয়ে। খুব বেশি বয়স নয়। এই অল্প বয়সেই যেন সবার থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছে সে। তার কোনো বন্ধু নেই। কারো সাথে মিশতে পারে না। বদমেজাজি, জেদি ও একরোখা মেয়েটি মানুষ হচ্ছে নানীর কাছে। অনেক বছর আগেই মা গত হয়েছেন। আর বাবা? ইতালির মতো দেশে জিপসিদের ঠিক মানুষ বলে মনে করা হয় না। সেই জিপসি বাবার মেয়ে হয়ে যেন আরও বেশি হীনমন্যতায় ভুগে মেয়েটি। কিন্তু কোথায় হারিয়েছে সে বাবা, জানে না।
তার জীবনের এই গল্প যেন অনেক বেশি রোমাঞ্চকর। তার ধারণা কেউ তাকে পছন্দ করে না। তার নানীও তেমন। বুড়িটা তক্কে তক্কে থাকে কখন মেয়েটার জীবননাশ করা যায়! এমনই ধারণা মেয়েটির। তাই কিছুটা ভয় আর উৎকণ্ঠায় সময় কাটে। এভাবেই একদিন মেয়েটির জীবনে বন্ধু এলো। রা-ফিক যেন সেই বন্ধুটি, যাকে ভরসা করা যায়। অন্যের মতো রাফিক হয়তো তাকে অবিশ্বাস করবে না। কিন্তু যে অদ্ভুত গল্প ফেঁদেছে মেয়েটি, তা কি বিশ্বাস করার মতো? রাফিক তবুও অবিশ্বাস করে না। কিন্তু যুক্তি দিয়ে পর্যবেক্ষণ করে। তাতেই মেয়েটির আপত্তি! ফলে বন্ধুত্বের সম্পর্কে যে ফাটল দেখা যায়, তা কোনো প্রলেপেই আর সাড়ানো যায় না। কাছের বন্ধুও যখন বিশ্বাস করে না, তখন হয়তো হতাশা ঘিরে ধরে। মেয়েটিকে বিশ্বাস করার অবশ্য আরো একজন আছে। একটি দাঁড়কাক! আচ্ছা দাঁড়কাক কি কখনো কারো বন্ধু হতে পারে?
মেয়েটির জীবনে এমন এক অদ্ভুত অদ্ভুত সময় আসবে কে জানত? পুরো এলোমেলো হয়ে যাওয়া সময়ে সে কি নিজেকে ঠিক রাখতে পারবে? না-কি কোনো এক অদ্ভুত ঘটনার সাক্ষী হয়ে নিজেকেই বিসর্জন দিতে হবে?
রফিক খুব ছোটবেলা থেকে ইতালিতে বড়ো হয়েছে। স্কুল জীবন থেকে শুরু করে এখন এক মধ্যবয়স্ক ব্যক্তি। স্ত্রী আছে, সন্তান আছে। তবুও কিছু একটা নেই হয়তো। মাঝেমাঝেই স্মৃতিতে হারিয়ে যাওয়া। পুরনো অনেক ঘটনা মনে পড়া! সেই পুরোনো স্মৃতিকে আরও আঘাত করতেই যেন দৃশ্যপটে একজন জিপসি মেয়ে। কী তার পরিচয়? কেন বারবার তাকে দেখলে অতীতের কোনো সময়ের কথা মনে হয়? কেন সব লুকিয়ে চলেছে স্ত্রীকে? যা বলছে, তার মধ্যে কোনো গোপন কিছু আছে কি? পুরনো স্মৃতিতে সময় কাটানো কঠিন। এই অতীত যখন আবারও সামনে আসে, ঘোর লাগা এক মুহূর্ত এসে ধরা দেয়! নিজের মধ্যেই হারিয়ে যেতে হয়। সব এলোমেলো লাগে। এলোমেলো এই জীবন নিয়ে কি অতীত খুঁজে পাওয়া যায়?
▪️পাঠ প্রতিক্রিয়া :
কিছু কিছু বই শেষ করার পর এক ঘোর লাগা তৃপ্তি কাজ করে। মনের মধ্যে এর রেশ থেকে যায় অনেকক্ষণ। "আলবা নেরা" বইটি ঠিক তেমনই। আমি বর্তমান সময়ে যে কয়েকজন লেখক বা লেখিকার লেখনীতে ভরসা করি, তানিয়া সুলতানা তাদের মধ্যে একজন। "আলবা নেরা" যেন সেই ভরসারই প্রতিদান। দারুণ এক উপাখ্যান। বিষণ্ণ সুন্দর এ গল্প! অদ্ভুত মায়াময় লেখনী। যেন পাঠককে বেঁধে রাখে খুব সহজেই।
খুব সাদামাটাভাবে গল্পের শুরু। কিন্তু সেই শুরুটা গল্পের মধ্যে এমন এক রহস্যে গিয়ে ধরা দিবে, হয়তো আঁচ করতে পারিনি। সবাই বইটিকে থ্রিলার ধাঁচের বললেও আমি সামাজিক উপন্যাস হিসেবেই ধরতে চাই। কেননা আমাদের সমাজে প্রতিটি মানুষের জীবন রহস্যে ঘেরা। এই রহস্য আমাদের সমাজের। সেই রহস্য সমাধানও সমাজকে করতে হয়। এই সমাজের স্রোতে ভেসে যাওয়া মানুষের জীবনের গল্পকে তাই থ্রিলার আখ্যায়িত কেন করতে হবে? সামাজিক উপন্যাস হিসেবে একে অসাধারণ কিছু বললে ভুল হবে না।
লেখিকা তানিয়া সুলতানা ছোটকাল থেকে ইতালিতে মানুষ। তার প্রচেষ্টা ছিল বইটিতে ইতালির এক অবয়ব প্রতিষ্ঠা করা। এক্ষেত্রে তিনি সফল। ইতালির পরিবেশ, আবহাওয়া, চালচলন বা জীবনযাত্রার খণ্ডচিত্র দারুণভাবে তুলে ধরেছেন। লেখিকার মায়াময় লেখায় যেন কিছু সময়ের জন্য ইতালির অলিতে গলিতে ছুটে চলেছি। ভাষাশৈলী, শব্দচয়ন ভালো ছিল। যদিও ইতালিতে থাকার কারণে কিছু জায়গায় ঘাটতি দেখা গিয়েছে। সবচেয়ে মজাদার বিষয় লেগেছে, গল্পের ফাঁকে ফাঁকে লেখিকা কিছু ইতালীয় শব্দের সাথে পরিচিত পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। ধন্যবাদ, দয়া করে, শুভ সকালের শব্দের পাশাপাশি অনেকগুলো শব্দের সাথে পরিচয় ঘটেছে। ভালো লেগেছে বিষয়টা।
এই গল্পটা বন্ধুত্বের। বন্ধুত্বের আবরণে এক ভালোবাসার গল্প। যেই গল্প শেষে পূর্ণতা আসবে কি না সেটা সময়ই বলে দিবে। বন্ধুত্বের পাশাপাশি প্রচুর ঘৃণা ও হিংসাত্মক গল্পের অবতারণা করেছেন লেখিকা। ঘৃণার বশবর্তী হয়েই মানুষ কোনো না কোনো ভুল করে ফেলে। কিংবা অন্যায়! এছাড়াও মানব মনের মনস্তত্ত্ব ফুটে উঠেছে লেখিকার লেখনীতে। ছোটোবেলা থেকে মনের মধ্যে চাপ পড়লে একের পর এক মানসিক অসুস্থতা ঘিরে ধরে। একসময় তা ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
শেষটা সুন্দর। কিছুটা প্রত্যাশিত ছিল। এমন ঘটনা ঘটে পারে আশা করছিলাম। তারপরও যে খারাপ লেগেছে তেমন না। বরং এমন না হলেও খারাপ লাগত। তবে হয়তো কিছুক্ষেত্রে এমন না হলেও পারত। একটি হাসিখুশি সমাপ্তি আশা করেছিলাম। তবে বেশ ভালো লেগেছে! এক ঘোরের মধ্যে থেকে শেষ করেছি যেন।
▪️চরিত্রায়ন :
খুব একটা চরিত্রের বাহার ছিল না। যে সামান্য চরিত্র দিয়ে লেখিকা গল্প ফেঁদেছেন, প্রতিটি চরিত্র ছিল গুরুত্বপূর্ণ। অতীতগুলো শক্তিশালী হয়ে ধরা দিয়েছিল। খুব যত্নে তৈরি করা চরিত্রগুলো। গল্পের মধ্য দিয়ে প্রতিটি চরিত্র যেভাবে ফুটে উঠেছে, যেন খুব আপন মনে হয়েছে।
মায়া, রফিক, আলবা, রামোস, ইসাবেলা, আলিস প্রত্যেকেই গল্পের প্রাণ ছিল। কেউ কেউ গল্পের শুরু থেকে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেছে, কেউ আবার শেষে এসে চমকে দিয়েছে। আবার কেউ থাকে, পেছনে থেকে কলকাঠি নেড়ে ক্ষতি করতেও দ্বিধা করে না। যেই পাত্রে খায়, সেই পাত্রেই ছিদ্র করে।
▪️সম্পাদনা ও প্রোডাকশন :
সম্পাদনা ঠিকঠাক লেগেছে। বাক্য গঠন খুব একটা অসঙ্গতি চোখে পড়েনি। তবে ছাপার ভুল ছিল কিছু। কিছু শব্দ ভুল বানানে লেখা হয়েছিল। এছাড়া ঠিকঠাক।
সাদামাটা প্রচ্ছদ তেমন পছন্দ না হলেও গল্পটিকে দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। পড়তে গেলে ঠিক বোঝা যাবে। বাঁধাই ঠিকঠাক লেগেছে। ছোটো বই হিসেবে কোনো অসুবিধা হয়নি।
▪️পরিশেষে, "আলবা নেরা" খুব সম্ভবত ইতালি শব্দ। এর অর্থ কালো সূর্যোদয়। কিছু কিছু মানুষের জীবনে সূর্যোদয় হয়। কিন্তু জীবনটা আলোকিত হয়ে ওঠে না। পুরো গভীর অন্ধকারে ছেয়ে যায়। সূর্যোদয়ের আলো সেখানে পৌঁছায় না। জীবনের এক অন্ধকার কোণে থেকে হয়তো একসময় হারিয়ে যায়...
কেননা, এই আলোকিত পৃথিবীতেই কত অন্ধকার গল্প থাকে.... কেউ কি জানে?
' তুমি কি কখনও তোমার মেয়ের হাত ধরেছো, রামোস? ' ' সে দেখতে কার মতো হয়েছে, কেমন হয়েছে, খেয়াল করেছো কি?'
এই লাইনগুলো পড়েই কেনো জানি খুব খারাপ লেগেছে। সব বাবা আসলে বাবা হয় না, নামে মাত্র বাবা। . এ মাসে আমার পড়া আরেকটা বেস্ট থ্রিলার। শেষ দিকটা আশাই করি নি! মারাত্মক ভালো ছিলো। লেখিকার বইয়ের প্রচ্ছদ গুলো দারুণ লাগে।
Even though I was expecting the last twist to happen, enjoyed reading through the novel. The pacing was a bit slow at first. But it picks up from the middle section. It's a tragedy through and through.
অতীতকে কখনোই চিরতরে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। হয়তো সাময়িক ভাবে কিছু স্মৃতি ভুলে থাকা যায়, তবুও সহসা সেই স্মৃতি জেগে ওঠে অপ্রত্যাশিত কোনো ঘটনার আগমনে।
মিলানে এমনই এক বিকেলে এক জিপসি মেয়ের আগমন রফিক কে টেনে নিয়ে যায় চাপা পড়া ২০ বছর পুরোনো এক স্মৃতির রোমন্থনে। সুখ-দুঃখ-রহস্য কি নেই সেই স্মৃতিতে যার হুবহু বর্ণন তার সুখী পরিবারের ভবিষ্যৎ কে প্রশ্নবিদ্ধ করতে সক্ষম।
তানিয়া সুলতানার লেখা টুইস্টে ভরপুর অনবদ্য এ সাইকোলজিকাল থ্রিলার বইটি পাঠককে বারে বারে নতুন করে ভাবাতে বধ্য করবে।
I can say confidently that it's a best book among my best books.It's a very different book and arouse a different feeling in me.It's consequences is mysterious and untold feelings.I will say everyone,to read this book.It's just marvelous.😍
বইটা ভাল ছিল। হতে পারে শুরুতে একটু বোরিং লাগবে, কিন্তু কাহিনির ভিতরে ঢুকে গেলে আর বের হওয়া যায় না। আর লাস্ট এর টুইস্ট টা মাইন্ড ব্লোইং ছিল। গল্পটি আলবা নেরা ও তার ছেলেবেলার বন্ধুত্ব ও ভালবাসার সম্পর্ক নিএ।গল্পটি শুধুই একটি কালো সূর্যোদয়ের গল্প।
বই : আলবা নেরা লেখা : তানিয়া সুলতানা প্রকাশনী : বাতিঘর পৃষ্ঠা : ২৭০ মুদ্রিত মূল্য : ২৮০ টাকা ব্যক্তিগত রেটিং : ৩/৫
গল্পবাঁক ------------------ মিলান শহরে ছিমছাম বাড়িতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বেশ ভালো দিন কাটছিলো রফিকের, হঠাৎ একদান জানালার বাইরেএক জিপসি মেয়ের একাকী হেঁটে যাওয়ার দৃশ্য ওলট পালট করে দিল দিল তার জগৎ। ধীরে ধীরে উন্মোচিত হতে থাকলো অতীতের এমন কিছু অধ্যায়, যেখানে মায়া মমতা, আশা হতাশার বুনন ছাড়াও রয়ঃছে রক্তের নোনতা গন্ধ। নিতান্ত অপরিচিত এক জিপসি তরুণীর সঙ্গে কী সম্পর্ক রয়েছে এই উপাখ্যানের? কেনই বা রফিক নিজের স্ত্রীর কাছে সবকিছু লুকোচ্ছে এতগুলো বছর?
বইয়ের ভালো-মন্দ ------------------------------ ● ভালো দিক
ভালো দিকের কথা বলতে গেলে শুরুতেই বলবো বইটির গল্পের কথা। চমৎকার প্লটে এগিয়েছে গল্প। শুরুর দিকে কিছুটা অগোছালো মনে হলেও গল্প কিছুদূর এগিয়েই তার ছন্দ ফিরে পেয়েছে। এছাড়া গল্পের প্রধান চরিত্র আলবাকে লেখিকা বেশ ভালো স্ক্রিনটাইম দেওয়াতে আলবা চরিত্রটি বেশ ভালোভাবে ফুটে উঠেছে। সব মিলিয়ে খুবই সহজ স্বাভাবিক একটা জীবনের গল্পই ভিন্ন আঙ্গিকে তুলে ধরেছেন লেখিকা। বইটির পৃষ্ঠার মান আমার কাছে মোটামুটি মনে হয়েছে। বাঁধাই ঠিকঠাক ই ছিল। বানা ভুল তেমন চোখে পড়েনি। এছাড়া লেখিকার বাক্য গঠন এবং শব্দের প্রায়োগিক দক্ষতা আমার ভালো লেগেছে।
● মন্দ দিক
মন্দ দিকের কথা বলতে গেলে বলবো আলবা এবং রফিককে বেশি স্ক্রিনটাইম দেওয়াতে অন্যান্য মাইনর চরিত্রগুলো যতটুকু ডেভেলপমেন্ট ডিজার্ভ করে তা পায়নি। বিশেষত আলবার নানী ইসাবেল্লা চরিত্রটিকে আরও বাস্তবসম্মত করা যেত। বইয়ের কিছু কিছু অধ্যায় আমার কাছে স্রেফ অদরকারী মনে হয়েছে। অর্ধেক পৃষ্ঠারও অধ্যায় ছিল। মোটকথা বেশকিছু অধ্যায় যেন অকারণে বইয়ের পৃষ্ঠা বাড়ানোর জন্য যোগ করা হয়েছে বলে মনে হল আমার। অথচ বইটাকে কমপ্রেস করে দু'শো সত্তর থেকে কমিয়ে মোটামুটি দু'শো বিশ-ত্রিশ পৃষ্ঠার মাস্টারপিস বানানো যেত। এছাড়া বইটা ইতালির প্রেক্ষাপটে লেখা তাই বেশ কিছু শব্দ এসেছে ইতালির ভাষার। এগুলোর শাব্দিক বাংলা দিলেই বরঞ্চ সেটা ভালো লাগতো। নতুবা টিকা আকারে সেগুলোর অর্থ উল্লেখ করা উচিত ছিল। এতে পাঠকের সুবিধে হত।
শেষের কথা ----------------------- অনেকদিন পরে ব্যতিক্রমধর্মী একটা বই পড়লাম। কিছু ত্রুটি বাদ দিলে 'আলবা নেরা' বেশ সুন্দর ও আকর্ষণীয় একটা বই। বিশেষত প্লটটা ভীষণ সুন্দর। টুইস্টও ছিল পরিমিত। সব মিলিয়ে পাঠক চাইলে পড়ে দেখতে পারেন বইটা। আশা করি ভালো সময় কাটবে।
আলবা নেরা, a book where one of the most promising writers Tania Sultana illustrates her skill to sketch adroitly how can a story should be told.
Rafiq present day supershop manager in Italy was happy till he met a teen gypsy girl named Alias . She resembles quite to his teen time buddy Alba. After sharing some of his nostalgia with his wife Maya, she vigorously assimilated it, and wanted to know the full story as she was a writer. This book results present day and recollection of memories side by side or better said chapter by chapter. A alloy of such melancholy pleasantness it tastes at the end is very unique.
However, It is a frequently an assiduous task for me to express my feeling in words after reading books. What should I say for a good book? - That it is a very good/awesome/recommended for everyone that I've read? But does these words do proper justifications or tell those stories authors felt while writing it? -No? na? At least I don't believe it.... But I want to mention that Alba Nera is a book worth reading to.
I enjoyed those small anecdotes between Alba-Rafiq, Rafiq-Maya and Alias-Rafiq. Besides it was also quite fun to know elementary italians (perfavore, scusimi), culture, places environments and people in there. I have read some books written by her, but no other stories grab my attention to write to review of it (as I live in a tight schedule). In conclusion, I want more from the writer on similar environment. As she mentioned, the best suggestion was from publisher/writer Nazim ভাই and obviously should be thanked.
শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বইটি যতো এগিয়েছে, লেখনশৈলী থেকে শুরু করে গল্প বলার ধরন, সাসপেন্স, থ্রিল ততো জোরদার হয়েছে। আর শেষের পর তো অসাধারণ এক রেশ রেখে গেছে। মূল কাহিনী চমৎকার লেগেছে আমার কাছে। দারুণ এক্সিকিউশন ছিল। এই বইয়ের শেষ অংশের কাহিনী একটা অন্যরকম আবেশ ছড়িয়ে রেখেছিল মনের ওপর। সমাপ্তিটুকুও মনের ভেতরে নেড়েচেড়ে গেছে। বইতে একটা ব্যাপারই ভালো লাগেনি — রফিক আর তার স্ত্রীর কনভারসেশন অংশগুলো। ঠিক জমজমাট ছিল না। এই অংশগুলোর জন্যই একে তো ফ্লো কমে গেছে। তাছাড়া খানিক পরপরই এই কনভারসেশনগুলো বিরক্তির উদ্রেক করেছে আমার জন্য। অথচ এই অংশগুলো আরেকটু কমপ্যাক্ট হলেই দারুণ কিছু দাঁড়াতো।
বইটাকে কোন শ্রেণিতে ফেলা যায়,থ্রিলার নাকি রহস্য নাকি সামাজিক প্রেক্ষাপটে রহস্য/থ্রিলার যেইটাতেই পরুক কয়দিন বাতিঘরের বেশ কয়েকটা আবজাব বই পড়ার পরে এই আলবা নেরা পুরাই অমৃতের মত লাগলো, লেখিকার এই বইটা বাদে আরও তিনটা বই পড়া আছে, আমার মতে এখন পরজন্ত উনার সেরা কাজ এইটা,বইয়ের নেগেটিভ সাইড বললে খালি একটাই বলব প্রচুর ইটালিয়ান শব্দের ব্যবহার, এইটা বাদ দিলে অতি সুখপাঠ্য লাগসে বইটা।
ভাবলাম বুঝি আলবার বাবা যে খুনি এটাই হয়তো টুইস্ট ছিলো।এ আর এমন কি! সেটা আগেই বুঝে ফেলেছি। যদিও বুঝেছি 'আলেস'কে নিয়ে কোনো কাহিনী আছে,কিন্তু একদম শেষ মুহূর্তের টুইস্ট কোনোভাবেই আশা করি নি।এক্কেবারেই নাহ। হায় 'আলেস'!!
কোনো বইই যেন ঠিক মতোন হচ্ছিল না। অবশেষে " আলবা নেরা " পড়লাম ❤️ এর আগে হোম বিফোর ডার্ক পড়তে ১৫ দিন লেগে গেলেও এটা বিকালে শুরু করে এই মাত্র শেষ করলাম। সবটুকুই আন্দাজ করতে পারলাম । জানতাম তো এমনটাই হবে। এমনটাই তো হয় সবসময়। তবু...হৃদয় ভাঙা এক থ্রীলার...
শুরু থেকেই গল্পের থ্রিল ধরে রেখেছে লেখিকা।কাহিনি যত এগোতে থাকে ততই এর আকস্মিকতা বাড়তে থাকে।আর শেষ মুহূর্তের সাসপেন্স এর জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না।এক কথায় অসাধারণ প্লট।