আমেরিকা, অর্থ আর ক্ষমতার দিক দিয়ে পৃথিবীর সবচাইতে ক্ষমতাধর দেশ, যাদের ক্ষমতার সামনে পৃথিবীর বাকি দেশগুলো কাঁপতে থাকে! সেই আমেরিকার মানুষই অদ্ভুত এক খরগোশ মানবকে ভয় পায়! ভয় পায় হাঁটতে পারা কিছু কাকতাড়ুয়াকে!
আয়ারল্যান্ডের লোকেরা আজও লাল চুলের এক মেয়ের কথা মনে করে শিউরে ওঠে, মেক্সিকোতে শিষ দেওয়া বালকের ভয়ে এখনো অনেকে রাতে বের হয় না! জাপানের মেয়েরা গোসল করতে যাওয়ার আগে আজও অদ্ভুত এক অশরীরি লম্পট বুড়োর কথা মনে করে শিহরিত হয়! আবার আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে, যেখানে একজন মৃত আর্মি অফিসার নাকি এখনো রক্ষা করে চলেছেন তাঁর অঞ্চলকে!
পৃথিবীর সেইসব উন্নত আলো ঝলমলে শহরগুলো যেখানে যাবার স্বপ্ন আমরা প্রতিনিয়তই দেখি, সেইসব শহরগুলোতেও হাজার হাজার বছর ধরে আস্তানা গেড়ে বসে আছে কিছু ‘ভয়’! সেগুলোর মধ্যেই কিছু চরিত্রকে পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো এই “আরবান লেজেন্ডস”-এ।
বইটা যখন বের হয়েছিল, বইটার কনসেপ্ট শুনে খুবই ইউনিক মনে হয়েছিল। কিন্তু বইটা পড়ার পর খুব একটা সন্তুষ্ট না আমি। লেজেন্ড গুলা একত্রিত করেছে এটা খুবই ভালো বিষয়, কিন্তু লেখকের লেখনীর ধরন খুব সন্তোষ জনক না। আমার কাছে খুবই অপরিপক্ব লেগেছে। অনেকটা গুগোল ট্রান্সলেটর এর বেটার ভার্সন এর মত। লেখক আরেকটু যত্ন করে লিখতে পারতো, এই সব লেজেন্ডের মধ্যে শুধু "আসগরের লিফট" গল্পটা উপভোগ্য কিন্তু সেটাও লেখক নিজে লেখেন নি। তানজিম রহমানের লেখা। প্রতিটা গল্প যদি এরকম হতো তাহলে আরও ভালো লাগতো। এটা লেখকের প্রথম বই, আশা করি লেখক আগামী বই গুলো আরও যত্ন করে লিখবেন।
"আরবান লেজেন্ড" এই শব্দটা সবসময়ই আমার আগ্রহের চূড়ায় থাকে। দেশ বিদেশের বিভিন্ন মাইথোলজিক্যাল ক্রিচার, আরবান লেজেন্ডস সম্পর্কে জানতে ইউটিউবই একমাত্র ভরসা ছিল। তবে এই সম্পর্কে কোন বই আছে কিনা, এটা জানার আগ্রহ ছিল সবসময়ই৷ তো একদিন হুট করে ফেসবুকে বইপোকার আড্ডাখানা গ্রুপে পোস্ট করে বসি এই রিলেটেড কোন বইয়ের সন্ধান কেউ দিতে পারবেন কিনা। সেখানে একটা বইয়ের রিকমেন্ডেশন সবচেয়ে বেশি ছিল যার নাম "আরবান লিজেন্ড"। আমি তাৎক্ষণিক অর্ডার করার জন্য দৌড় দি পচ্ছন্দের বুকশপে। কিন্তু দুঃখজনক ভাবে আরবান লেজেন্ড এর প্রথম পার্টটা স্টক আউট। বাধ্য হয়ে শুধু সেকেন্ড পার্টটাই অর্ডার করে দি। আর বই হাতে আসার সাথে সাথে পড়া শুরু করে দি। বইটিতে ছিল বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, হংকং, নেপাল, জাপানের বহু আরবান লিজেন্ড সম্পর্কে। ভালই লাগছিল।
এরপর সব সময় আগ্রহ ছিল এর প্রথম পার্টটাও পড়ার কিন্তু ওইযে স্টক আইট। একদিন তো না পেরে লুৎফুল কায়সার ভাইকে টেক্সট করে জিগ্যেস করে বসি ভাইয়া এটার রিপ্রিন্ট কি করবেন না! ভাইয়া আস্বস্ত করেছিল, Future is unpredictable বলে। তবে আমার ধৈর্য আমার কম। বাধ্য হয়ে পুরাতন বইসেলিং পেজ গুলায় নক করে অবশেষে হাত করতে পারি কাঙ্খিত সেই বইটিকে।
বইটিতে ছিল সর্বমোট ৭৮ টি আরবান লেজেন্ড সম্পর্কে। তবে সেকেন্ড পার্টে ভাইয়া অনেক গোছিয়ে রিপ্রেজেন্ট করেছিলেন যেটা প্রথম পার্টটায় অনুপস্থিত ছিল। লেখার ধরন, উপস্থাপন আহামরি ভাল লাগছিল না যেমনটা সেকেন্ড পার্ট পাওয়ার সময় লেগেছিল। একদিক থেকে ভালো, ভাইয়া প্রথম পার্টের তুলনায় সেকেন্ড পার্টের লেখায় যথেষ্ট উন্নতি করেছিলেন। কিন্তু আমি রিভার্সে পড়ার কারণে সেটা অনুভূতি উল্টা হচ্ছিল।
ভাইয়ের প্রতি অনুরোধ থাকবে, এর পার্ট ৩ ও নিয়ে আসার জন্য।
আগাগোড়া ফিকশনাল বিষয় নিয়ে নন-ফিকশান ঢং এ লেখাই এই বইয়ের সবচেয়ে বড় ড্র ব্যাক। লেখায় দায়সারা ভাব ভীষণভাবে প্রকট ছিল। প্রচ্ছদও আহামরি কিছু মনে হয়নি। অথচ চাইলেই (ইচ্ছা এবং সক্ষমতা থাকলে), পুরো বইটা ভীষণ সুখপাঠ্য হতে পারতো নন-ফিকশান হয়েও। কোন এক ঋভ্যু তে পড়েছিলাম, গুগল ট্রান্সলেটরের বেটার ভার্সন। বই পড়ার পর, ঋভ্যু দাতার সাথে সহমত না হয়ে পারিনি।
তবে, খাটা-খাটনি করে এতসব গল্প/মিথ/তথ্য জোগাড় করার অধ্যবসায়টুকুকে ছোট করে দেখার অবকাশ নেই। এ পরিশ্রমের জন্য সাধুবাদ জানাই।
বেশি কিছু বলার নাই আসলে। অনেক আশাবাদি আর এক্সাইটেড ছিলাম বইটা নিয়ে। কিন্তু সব উত্তেজনায় জল ঢেলে দিলো বইটা। কয়েকটা বাদে বেশিরভাগ লেজেন্ডস অতি সাধারণ আর শিশুতোষ ছিলো । তবে আসগরের লিফট লেজেন্ডটা প্রশংসার দাবিদার।
মিথ আর লেজেন্ডসের ফ্যান আমি অনেক আগে থেকেই। বই এর লেখক কোন একটা বই গ্রুপে এই লেজেন্ডসগুলো ধারাবাহিকভাবে লিখেছিলেন। যতদূর মনে পড়ে এই বই এর বেশ কয়েকটা লেজেন্ডস আমি তখনই পড়েছিলাম এবং কমেন্টও করেছিলাম। কিন্তু তারপর কবে লেজেন্ডস গুলো নিয়ে বই বেরিয়ে গিয়েছে তা জানি ই না। যাই হোক, আবারো বইটই এর কল্যানে পড়ে ফেলার সুযোগ হলো!
এটা একটা হরর নন-ফিকশন জন্রার বই। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বেশ কিছু আরবান লেজেন্ডসকে অনুবাদ করে গল্পগুলো লিখেছেন লেখক। লেজেন্ডস তো ইন্টারনেট ঘাটলে পড়াই যায় কিন্তু এভাবে একটা সংকলন পেলে পড়তে অবশ্যই ভালো লাগার কথা। আর সেই সংকলনটা যদি হয় নিজের ভাষায় তাহলে তো আর কথাই নেই। কম বেশি সবগুলো লেজেন্ডসই ভালো লেগেছে। বাংলাদেশেরও দুই তিনটি লেজেন্ডস আছে এই বই এ। তার মধ্যে 'আসগরের লিফ্ট' ভালো লেগেছে! 'ব্লাডি ম্যারি' আর 'লা ইয়ুরোনা' এর কাহিনী আগেই জানা ছিলো। আর জাপানী দুই একটা লেজেন্ডসও আগে পড়েছিলাম। আমেরিকান লেজেন্ডসগুলো বেস্ট। তবে সর্বশেষ যে লেজেন্ডটা, যার নাম কি না 'দ্য রেইক', লেখক বলেছেন এই লেজেন্ড ইউরোপ আমেরিকার, আমাদের ভয় পাওয়ার কিছুই নেই। আসলেই কি তাই? আমেরিকাতে বসেই যে বইটা পড়লাম!
পুনশ্চঃ বই এর প্রত্যেকটা গল্পের সাথে একটা করে ভয়ংকর ছবি যুক্ত করা আছে। আর এই কারনেই যেই আমি রাত ১২টার আগে হরর গল্প পড়িনা, সেই আমিই সবগুলো গল্প দিনের বেলা পড়েছি। রাতে যে চেষ্টা করিনি তা না। তবে ছবিগুলো দেখে ভয় পাচ্ছিলাম বলেই পড়িনি।
বইটাকে সাড়ে চার তারা দিলাম।
বই টা কিনেছি 'বইটই' অ্যাপ থেকে। তবে যতদূর জানি রকমারি থেকেও বইটি কেনা যাবে।
বইটি আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। প্রতিটা গল্প পড়ে বেশ মজা পেয়েছি। বইটিতে প্রায় ৭৯টি, ইউরোপ, আমেরিকা, জাপান, জার্মানি, স্পেন সহ বিভিন্ন দেশের আরবান লেজেন্ডস এর ঘটনা রয়েছে।
প্রথমে মজা লাগছিলো, তারপর বি রক্ত। পড়তে পড়তে মনে হলো আমাদের দেশের আরবান মিথগুলো নেই কেন। একদম শেষ এর দিকে এসে কয়েকটা পেলাম।কিন্তু মনে হলো আমাদের দেশের মিথগুলো নিয়ে লিখলেই বেশি ভালো হতো!
আমাদের চারপাশে অনেক প্রচলিত মিথ আছে, যা কিছু ভিত্তিহীন, কিছুর ভিত্তি আছে। কিছু ব্যখ্যা করা যায়, কিছু যাবে না। এরকম বেশ অনেকগুলো চেনা অচেনা লেজেন্ডস নিয়ে বইটা। কী কী আছে সেই আলোচনা থাক, কারণ এই লেজেন্ডসগুলো জানতে হলে, বইটা পড়তে হবে। মোটামুটি লেগেছে, লেখাগুলো খুব কৃত্রিম ধাঁচের। ছোটবেলায় নিউজ পেপারে পড়া, জানা অজানা অপশনে যেমন লাগত, ওরকম। কিন্তু বই, নিউজ পেপার বা অনলাইন পোর্টালে লেখার মধ্যে কিছু পার্থক্য আছেই, থাকবে। সম্ভবত ক্রিপি পাস্তা বইটা পড়ার সময়ও বলেছিলাম, এই লেখাগুলো আরো আকর্ষনীয় করে লেখা যেত। আর প্রচ্ছদ! মনে হল ট্রাম লাইনের লাইট। বইটা যত আগ্রহ নিয়ে কেনা, বছর দু'এক আগে। যত আগ্রহ নিয়ে শুরু করা তত পানি পড়ল। আর প্রথমেই আশা ছিল, প্রথম থেকেই, আমাদের দেশের লেজেন্ডস নিয়ে কথা হবে। কিন্তু কই? এখন দেখি দ্বিতীয় বইতে কী পাই। আরো যেটা ক্রিপি পাস্তাতেও বলেছি, ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট ছবি দেয়ার দরকার ছিল না, দিলেও সিম্বলিক কিছু দেয়া উচিত ছিল। সব বই সবার ভালো লাগবে তা না, আমার লাগে নি। অনেকের লাগতেই পারে। আমার মতামত আমি দিলাম, আশা করি, পরবর্তী নন ফিকশনে লেখক এই ব্যাপারগুলো নজরে রাখবেন। উনার অনুবাদ আর এই নন ফিকশন লেখায় আকাশ পাতাল তফাত।
ভূমিপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত পড়া বই এটিই প্রথম। প্রথম নজরে পড়েছিল ফেবুর বইয়ের কোনও এক গ্রুপে পোস্টে। মার্ক করে রেখেছিলাম কিনবো বলে কিন্তু কাজের চাপে ভুলেই গিয়েছিলাম বইয়ের কথা একসময়। বহুদিন পর রকমারি ঘাঁটতে ঘাঁটতে আবার নামটা মনে পড়ে গেলো। এবার সাথে সাথে অর্ডার দিয়ে কিনে ফেলেছি অন্য একটা ফেবু বইয়ের দোকান থেকে। রকমারিতে দামটা একটু বেশি ছিল তাই। তবে অন্য কোথাও পাওয়া না গেলে কিন্তু রকমারিকেই দরকার পড়ে।
গুনতে ভুল না হলে মোট ৭৮টি গল্প/কাহিনী আছে বইয়ে। লেখক/অনুবাদক বেশ পরিশ্রম করেছেন বোঝাই যায়। ইন্টারনেট ব্রাউজ করা, তথ্য টুকে রাখা, সাজানো সব মিলিয়ে আর কি। সবই অতিপ্রাকৃত কাহিনী তবে পৃথিবীর ঝাঁ চকচকে উন্নত দেশগুলোতে যে এখনও এসব প্রচলিত আছে সেটা আসলেই অবিশ্বাস্য। তবুও তারা ভয় পায়, এখনও সাবধানে থাকে, যদি ফিরে আসে, আক্রমণ করে!