Jump to ratings and reviews
Rate this book

মহাশূন্যে পরান মাস্টার

Rate this book

54 pages, Unknown Binding

2 people are currently reading
52 people want to read

About the author

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
2 (7%)
4 stars
7 (26%)
3 stars
16 (61%)
2 stars
1 (3%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 7 of 7 reviews
Profile Image for Amit Das.
179 reviews122 followers
May 31, 2021
এই বাংলাদেশের যে-কোনো পল্লিতেই আপনি লক্ষ করে দেখবেন যে, অন্তত একজন দয়াহীন ধনবান ব্যক্তি আছেন, একজন অভিশপ্ত কৃপণ আছেন, একজন সুকণ্ঠ গায়ক ভিক্ষুক আছেন, একজন হতভাগ্য স্কুল শিক্ষক আছেন এবং ঘোর উন্মাদ অথচ নিরীহ একজন ব্যক্তি আছেন; এই পাঁচ ব্যক্তির উপস্থিতি ছাড়া কোনো পল্লিই সম্পূর্ণ নয়।


সায়েন্স ফিকশন হলেও পড়তে গিয়ে কখনো কখনো মনে হতে পারে সামাজিক কোনো উপন্যাসই পড়ছি। কারণ সায়েন্স ফিকশনের মোড়কে সমাজ জীবনের গল্পই বলে গেছেন লেখক। জলেশ্বরীর প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আনসার আলি যিনি পরান মাস্টার নামেই পরিচিত, তাঁর মাধ্যমে দারিদ্র‍্যপীড়িত দেশের ক্ষুধাপীড়িত সমাজ তথা গভীর জীবনবোধের সচিত্র আখ্যানই মূলত উঠে এসেছে মহাশূন্যে পরান মাস্টার উপন্যাসে। সৈয়দ হকের সম্মোহনী গদ্যের জোরেই একটানা পড়ে ফেললাম। আমার তো বেশ লাগল।
Profile Image for Wasee.
Author 58 books809 followers
April 19, 2022
স্কুলের গোবেচারা শিক্ষকের সাথে মহাবিশ্বের উন্নত প্রাণীর দেখা হওয়ার গল্পটা বাংলা সাহিত্যে নতুন কিছু নয়, সেটা শিশুতোষ গল্প অথবা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী যে বেশেই আসুক না কেন। সত্যজিৎ রায়ের গল্পে কাঁকুড়গাছি প্রাইমারি স্কুলের নিরীহ মাস্টারমশাই বঙ্কুবাবুর সাক্ষাত ঘটে ক্রেনিয়াস গ্রহের এ্যাং এর সাথে। হুমায়ূন আহমেদের গল্পে কখনও মতিন উদ্দিন প্রকৃতির ভুলে কিছুক্ষণের জন্য হাজির হন অন্য কোন ছায়াপথে চার আঙুলবিশিষ্ট মানুষদের গ্রহে, আবার কখনও রূপেশ্বর নিউ মডেল হাইস্কুলের সায়েন্স টিচার অমর বাবু নিউটনের সূত্রকে ভুল প্রমাণ করে ভেসে বেড়ান ভরশূন্য হয়ে। লোকে অবশ্য কারো মুখে এসব শুনলে তাকে 'পাগল' উপাধি দিতে কালক্ষেপণ করে না!

তবে সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক যখন এমন একটা গল্প বলতে চান, তার ভাষার সম্মোহনী শক্তির কারণে আপনা-আপনিই তা নতুন রূপ ধারণ করে। 'মহাশূন্যে পরান মাস্টার' তাই পরিচিত কাঠামোতে গড়ে উঠেও ভিন্ন স্বাদের, ভিন্ন মাত্রার উপন্যাসিকা হয়ে আমাদের চোখে ধরা দেয়।

উপন্যাসের মূল কথক লন্ডন থেকে বহুবছর পর নিজের গ্রাম জলেশ্বরীতে ফিরে। তার মতে:

"এই বাংলাদেশের যে-কোনো পল্লিতেই আপনি লক্ষ করে দেখবেন যে, অন্তত একজন দয়াহীন ধনবান ব্যক্তি আছেন, একজন অভিশপ্ত কৃপণ আছেন, একজন সুকণ্ঠ গায়ক ভিক্ষুক আছেন, একজন হতভাগ্য স্কুল শিক্ষক আছেন এবং ঘোর উন্মাদ অথচ নিরীহ একজন ব্যক্তি আছেন; এই পাঁচ ব্যক্তির উপস্থিতি ছাড়া কোনো পল্লিই সম্পূর্ণ নয়।"

কথকের মতের প্রতি সমর্থন জানাতেই যেন হাজির হন জলেশ্বরী প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক মোহাম্মদ আনসার আলি, যিনি সবার কাছে পরান মাস্টার নামে পরিচিত। এককালের শ্রদ্ধেয় পরান মাস্টার এখন গ্রামের ছেলেবুড়োর কাছে তামাশার পাত্র। চায়ের দোকান অথবা জনসম্মুখে তাকে কেউ দেখলেই পাগল সম্বোধন করে হাসাহাসি শুরু করে দেয়। পরান মাস্টার গ্রামের লোকদেরকে একটা গল্প শুনিয়েছিলেন; বীথিপৃ নামের এক ভিনগ্রহে ঘুরে আসার গল্প, সেখানকার বাসিন্দা ষ্যনুমদের সাথে দেখা হবার গল্প। আর তার ফলেই আপামর জনতার কাছে তিনি এখন উন্মাদ।

কথক অবশ্য আগ্রহ নিয়ে পরান মাস্টারের অদ্ভুত গল্প শুনে যান। পরান মাস্টারের জবানীতে শামসুল হকের এই উপাখ্যান বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীকে ছাপিয়ে হয়ে ওঠে সমাজের অসার রীতিনিতি আর রাষ্ট্রের অক্ষমতা প্রতি কটাক্ষের গল্প। কখনও স্যাটায়ারের মোড়কে ফুটিয়ে তোলে গভীর জীবনবোধের গল্প। পরান মাস্টার এক অন্ধকার রাতে কীভাবে ঘর থেকে বেরিয়ে ভিনগ্রহের বাসিন্দাদের নক্ষত্রযানে উঠে পড়েছিলেন সেই বর্ণণাতেও তার দারিদ্র আর ব্যর্থতার কথা জানা যায় এভাবে:

"সন্ধ্যেবেলায় বাতি দেখিয়েই আলো নিভিয়ে ফেলা হয়, তা আজ প্রায় বছর দশেক হয়ে গেল। বাতির তেলের চেয়ে হাড়ির জন্য চাল কেনাটা বেশি দরকার। ভবিষৎ যার অন্ধকার, রাতের অন্ধকার দূর করা না করা তার কাছে সমান কথা। সে যাক। আসল কথা, ভীষণ অন্ধকারে কাউকে না মাড়িয়ে দরোজা খুলে বাইরে যাওয়াটা রীতিমত ম্যাজিক। এ পর্যন্ত একবার বাইরে যাবার সময়, স্টেজে একই খেলা দেখাতে গিয়েও ম্যাজিশিয়ানদের মত প্রতিবারই বুক কেঁপে ওঠে। আজ মনে করলাম, শরীর যে রকম খারাপ বোধ হচ্ছে, কারো ঘাড়ে না পা দিয়ে বসি। একবার ভাবলাম সাড়া দিয়ে বেরোই; কিন্তু চান বড়ুর মুখখানা মনে করে মায়া হলো—সারাদিন পরে নিশ্চয়ই অঘোরে ঘুমুচ্ছে, যতক্ষণ ঘুমিয়ে আছে ততক্ষণই জ্বালা নেই, যন্ত্রণা নেই, ক্ষুধার বোধশক্তিও নেই। থাক..."

পৃথিবীর বাইরে অন্য কোন ছায়াপথে ঠিক একইরকম একটা গ্রহে আবার মানুষের মতো একইরকম প্রাণীর অস্তিত্ব কেন রইলো, সেই ব্যাপারে পরান মাস্টারের ধারণা:

"মহা প্রকৃতির মত এত ক্লান্তিকরভাবে পুনরাবৃত্তিকারক আর কেউ নয়। শিশু যেমন একবার বাংলা অক্ষর দ এর পা টেনে লম্বা করে পাখি আঁকা যায় এটা আবিষ্কার করতে পারলে ঘরের যাবতীয় খাতাপত্তর, মেঝে, দেয়াল, উঠোন জুড়ে সেই পাখিই আঁকে, মহাপ্রকৃতির ব্যাপারটাও ঠিক সেই রকম।"

এত এত মানুষ থাকতে, পরান মাস্টারকেই কেন বীথিপৃ গ্রহের ষ্যনুমরা ধরে নিয়ে গেলো? উত্তরটা পাওয়া যায় কিছুক্ষণের মাঝেই। পৃথিবীতে যেমন অসংখ্য নেতা, রাষ্ট্রভেদে অগণিত ক্ষমতাশীল শাসক, বীথিপৃতে কিন্তু তেমন নয়। সেখানে শাসক একজনই, তানেহাম। সেই পরাক্রমশালী নেতার আদেশেই পরান মাস্টারকে হাজির করা হয় নতুন এক জগতে। পরান মাস্টার তার সম্মুখীন হয়ে আবিষ্কার করেন, নির্বিকারভাবে একটা লেবেনচুষ হাতে বসে আছেন মহাক্ষমতাধর নেতা। তার মুখে ব্যাখ্যা শোনা যায়:

"আপনাকে এই কাঠি লেবেনচুষের ব্যাখ্যা দিই। মানুষ হোক, ষ্যনুম হোক বা ব্রহ্মাণ্ডের যে কোনো সূর্যের যে কোনো গ্রহেরই কোনো উন্নত প্রাণী হোক, সে যখন ক্ষমতার চূড়ান্ত শিখরে পৌছায়, তখন তার ইচ্ছা কাজে পরিণত হতে শুধু উচ্চারণের অপেক্ষা মাত্র। যখন যুদ্ধ, গণহত্যা, পারমাণবিক ধ্বংসলীলাও আর মোটেই উত্তেজনাকর নয়, তখন আমাদের জন্য আবার সেই শৈশবেরই দ্বারস্থ হতে হয়; শৈশবে তো আর ফিরে যাওয়া যায় না, ফিরে যাবার অভিনয় করতে হয়, তাই লক্ষ্য করে দেখবেন, আপনাদের পৃথিবীতে বড় বড় শক্তিমানেরা মিলে নার্সারী খেলাঘর বানায়, যার নাম জাতিসংঘ, আমাদের গ্রহে আমি একাই শক্তিমান বলে অগত্যা কাঠি লেবেনচুষ চুষি।"

সকল ক্রিয়ার যেমন প্রতিক্রিয়া থাকে, ঠিক তেমনই থাকে কোন না কোন উদ্দেশ্য। তানেহামও একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে পরান মাস্টারকে নিজের গ্রহে হাজির করিয়েছিলেন। বিনিময়ে দিয়েছিলেন এমন এক পুরস্কার, যার অস্তিত্বের সাথে পৃথিবীর যে কোনকিছুর জুড়ি মেলা ভার।

সর্বোপরি মহাশূন্যে পরান মাস্টার নামের ছোট্ট এই কাল্পনিক উপন্যাসিকাটি পাঠককে তিক্ত বাস্তবতার সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়। নতুন ভাবনার খোরাক যোগায়।

লেখক নিজের এই সৃষ্টিকর্মের পেছনের গল্পটা ব্যক্ত করেছিলেন। সেই স্মৃতিচারণ দিয়েই শেষ করছি:

" ‘মহাশূন্যে পরাণ মাস্টার' উপন্যাসের নাম এবং এর বীজ ভাবনাটি আমি পেয়ে যাই প্রয়াত ফজলে লোহানীর কাছ থেকে। তাঁর টেলিভিশন অনুষ্ঠানমালার জনপ্রিয়তার কারণে এবং সাহিত্য থেকে বহু আগেই তাঁর সরে দাঁড়াবার কারণে তো বটেই— আমরা এখন ভুলে গেছি কী শক্তিমান লেখক ছিলেন তিনি একদা। পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝি একদিন এক সন্ধ্যায় পানাহার কালে তিনি বলছিলেন— কেমন হয়, যদি পর���ন মাস্টার নামে গ্রামের এক সাধারণ প্রাইমারি শিক্ষক হঠাৎ পৌঁছে যান অন্য কোনো গ্রহে, যেখানে আছে উন্নত সভ্যতা ?– এই বীজটিকে তিনি পরবর্তীকালে কোথাও ব্যবহার করেন নি, স্মরণ করিয়ে দিয়েছি বহুবার— তিনি হেসে বলেছেন, কী হবে লিখে?"
Profile Image for নাহিদ  ধ্রুব .
147 reviews27 followers
April 11, 2022
স্কাইডাইভিং করলে অনেকগুলো সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে... কখন প্যারাস্যুট খুলবে, অঙ্গভঙ্গি কেমন হবে... যদি এসব ইন্সট্র্যাকশন ঠিকমতো ফলো না করা হয় তাহলে কী হবে এমন অনেক সম্ভাবনা তৈরি হলে ব্যাকরণ প্রসঙ্গে আমরা হয়ে উঠি সচেতন। এই উপন্যাসে সৈয়দ হক এমন অনেক সম্ভাবনার দিকে তীর ছুঁড়েছেন বটে তবে শেষপর্যন্ত পাঠক আমার মনে তৈরি করতে পারেননি ইল্যুশন। ফলে, সমাজের তৈরি করা বক্সের মধ্যেই ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত হয়েছি আমি। ঘুরেফিরে মনে পড়েছে অভাব, অভাব এবং অভাবের কথা। সৈয়দ হক বলেছেন সে'ই সমাজব্যবস্থার কথা যার দিকে রক্তচক্ষু মেলে তাকিয়ে থাকে অভাব, সে'ই সমাজব্যবস্থার কথাই বলেছে পরান মাস্টার, যেখানে পাগলামিই মূলত স্বাভাবিকতা।
Profile Image for Shadin Pranto.
1,502 reviews583 followers
October 1, 2019
চমৎকার এক সায়েন্স ফিকশন। যা অনেকটাই সামাজিক উপন্যাসের আদলে।

উপন্যাসের কথক এসেছেন লন্ডন থেকে। ফিরেছেন নিজ গাঁ জলেশ্বরীতে। দেখা পেলেন জলেশ্বরী প্রাইমারি স্কুলের হেডমাস্টার পরানের সাথে। সবাইকে মহাশূন্যে বীথৃবি নামক গৃহে ভ্রমণের কাহিনি শোনায় পরান মাস্টার। তাই সকলে পাগল বলে পরান মাস্টারকে।

পরান মাস্টার তার মহাশূন্যে পরিভ্রমণের কাহিনি শোনাতে থাকে উপন্যাসের কথককে। অদ্ভুত এক পরিস্থিতি তৈরি হয়। কথক নিজেও যেন পরান মাস্টারের সাথে চলে যান বীথৃবিতে। যেখানে তানহোতা নামক সম্রাট শাসন করছে। বাস করছে ষ্যনুস নামক প্রাণি। এ কি বিভ্রম নাকী বাস্তব?

দরিদ্র স্কুল শিক্ষক পরানের মতাদর্শ হিসেবে কিছু কথা পাঠকের উদ্দেশে লিখেছেন সৈয়দ শামসুল হক। তাতে তিনি কটাক্ষ করেছেন শোষণ, আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী আর ধর্মীয় গোঁড়ামির।

ভাষা সুন্দর। পিউর সায়েন্স ফিকশন একে বলা যায় কীনা সন্দেহ আছে। সামাজিক উপন্যাস হিসেবেও চলনসই।
Profile Image for Zihad Saem.
127 reviews9 followers
August 31, 2024
'মহাশূন্যে পরান মাষ্টার' সৈয়দ হকের অনেকটা সামাজিক উপন্যাসের আদলে লেখা একটি সায়েন্স ফিকশন।
উপন্যাসটির কথক লন্ডন থেকে নিজের গ্রামের বাড়ি জ্বলেশ্বরীতে আসেন বেড়াতে। একদিন হঠাৎ তার সঙ্গে দেখা হয় জ্বলেশ্বরী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হেডমাস্টার পরান মাষ্টারের সঙ্গে। যাকে কি না গ্রামের মানুষ পরান পাগলা হিসেবে জানে। কিন্তু পরান মাষ্টার কথককে শোনায় এক অন্য ঘটনা। মহাশূন্যে বীথৃবি নামক গৃহে ভ্রমণের কাহিনী।
সায়েন্স ফিকশন হিসেবে হিসেবে পড়তে গেলে বারবার সামাজিক উপন্যাস বলে বোধ হবে। খুব ছোট্ট একটা কাহিনী। কিন্তু সৈয়দ হকের ভাষার ক্লাসিকতা এবং নিরীক্ষার জন্যে মহাশূন্যে পরান মাষ্টার বেশ ভালো লাগছে।
Profile Image for Yeasin Reza.
529 reviews95 followers
July 29, 2018
গল্পটি এক অদ্ভুত গ্রাম্য মাস্টারকে নিয়ে যে কোন রহস্যময়ী প্রাণীদের সাথে কথা বলে। অদ্ভুত এই গল্পের মাঝে লেখক গভীর জীবনবোধ ব্যক্ত করেছেন। ভালো লেগেছে বেশ
Displaying 1 - 7 of 7 reviews