কয়েকজন বন্ধু আমাকে প্রশ্ন করেছিলেন কর্নেলকে আমি মনে রেখেছি উপন্যাসটির উপজীব্য কী? প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছি, ভালো হয় পড়ে দেখলে৷ তারপরেও বলি এই উপন্যাসে পাবর্ত্য চট্টগ্রামের লৌহ মানব জুম্ম জাতির পিতা মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা কী করে বেড়ে উঠলেন, কি করে শুরু হলো তাঁর আন্দোলন, তাঁর জীবন, ছোট ভাই সন্তু লারমার বেড়ে ওঠা, শান্তিবাহিনী গঠন, সেনাবাহিনীর ভূমিকা এবং শান্তিবাহিনীর এগিয়ে যাওয়ার কথামালাও রয়েছে৷ এছাড়া এই উপন্যাসে পার্বত্য চট্টগ্রামের তরুণদের চাওয়া পাওয়াও প্রতিফলিত হয়েছে৷ স্বাভাবিক ভাবেই চলে এসেছে জনসংহতি সমিতি এবং ইউপিডিএফের সংঘাত৷ এসেছে পাবর্ত্য চট্টগ্রাম চুক্তি পরবর্তী অবস্থার বিভিন্ন কথা৷ রয়েছে সীমান্তবর্তী দেশগুলোর বিভিন্ন গ্রুপকে দেয়া সরকারের আশ্রয় প্রশ্রয়ের নানা কাহিনী৷ সব কাহিনী এক সঙ্গে এক সূতায় গেঁথে জন্ম হয়েছে ‘কর্নেলকে আমি মনে রেখেছি’ নামক উপন্যাসের।
আততায়ী হামলায় নিহত সাংবাদিক দম্পতী সাগর-রুনির কথা আমরা প্রচুর শুনেছি। সাংবাদিক সাগর বই লেখেন জানতাম না। বইটা কোনো গল্পের বই না। পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতিদের সমস্যার কথা ফুটে উঠেছে এই বইয়ে। পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে আমার জ্ঞান ছিলো খুবই সীমিত। এই বইটা পড়ে কিছুটা জানতে পারলাম। জানতে পারলাম পাহাড়ের মানুষদের কষ্টের কথা। ৪৭ এর দেশ বিভাগের পর থেকে তারা চরম নির্যাতিত। কোনো সরকারই তাদের সমস্যা নিয়ে ভাবে না। তারা নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য লড়ে যাচ্ছে। আমরা তাদের জানি সন্ত্রাসী হিসেবে। ৭১ এ তারা অস্ত্র হাতে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়েছিলো স্বাধীন দেশে তাদের অধিকার ফিরে পাবে এই আশায়। কিন্তু কিছুই হয় নি। এতদিন শুধু সন্তু লারমা নাম শুনেছি। বইটাতে তার জীবন কাহিনীর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা আছে। সবশেষে বলবো, এতদিন শুধু অন্যের দ্বারা নিজেদের নির্যাতনের বিবরন পড়েছি, আজ নিজেদের দ্বারা অন্যের নির্যাতিত হওয়ার বিবরন পড়লাম।