Books can be attributed to "Anonymous" for several reasons:
* They are officially published under that name * They are traditional stories not attributed to a specific author * They are religious texts not generally attributed to a specific author
Books whose authorship is merely uncertain should be attributed to Unknown.
গ্রিকদের বীর যেমন একিলিস তেমনি রোমানদের বীরের নাম বেউলফ। এঙ্গেল-স্যাক্সন যুগের অমর সৃষ্টি এই মহাকাব্য! অাসলে এটি মহাকাব্য কিনা তা নিয়ে সমালোচনার অন্ত নেই। কিন্তু হাজার বছর ধরে মানুষের মুখে মুখে চলে অাসা এই মহা কাহিনীর মহা-বীর হলেন বেউলফ। অানুমানিক সাতশত পঁচিশ সালের দিকে নাম না জানা এক মুনসীর রচিত এই মহা বীরত্বগাঁথা।
মহাকাব্যের পটভূমি স্ক্যান্ডিনেভিয়া অথ্যাৎ অধুনা সুইডেনের গোটল্যান্ড। তৎকালীন সময়ের রাজা হ্রথগার হেওরট নামে এক বিশাল প্রাসাদ নির্মাণ করেন। এই প্রাসাদটি মূলত রাজার অানন্দ প্রমোদের জন্য ব্যবহার করা হত। কিন্তু গান বাজনার উচ্চ আওয়াজে গ্রেন্ডেল নামে এক দৈত্য বিরক্ত হলেন। গ্রেন্ডেল ছিল বাইবেলের চরিত্র কেইনের বংশধর। গ্রেন্ডেল প্রাসাদে আক্রমণ করে এবং হ্রথগারের ঘুমন্ত যোদ্ধাদের সহ অনেককে হত্যা করে।
হ্রথগার যখন গ্রেন্ডেলকে পরাজিত করতে ব্যর্থ হন তখন গেটল্যান্ডের রাজার কাছে সাহায্য চাইলেন। গেটল্যান্ডের তরুণ যোদ্ধা বেউলফ হ্রথগারের সমস্যার কথা শুনে তাকে সাহায্য করতে এলেন। বেউলফ তার মহা পরাক্রমশালী ১৪ জন সেনা নিয়ে হ্রথগারের প্রাসাদে অবস্থান করলেন। ঠিক সেই সময়ে গ্রান্ডাল হেওরটে অাক্রমণ করে বসে। বেউলফ এবং তাঁর যোদ্ধাদের সাথে গ্রেন্ডেলের প্রচন্ড যুদ্ধ শুরু হয়। অনেক যোদ্ধাকে হত্যা করে গ্রিন্ডাল। যুদ্ধের এক পর্যায়ে বেউলফ এবং গ্রেন্ডেলের মাঝে যুদ্ধ শুরু হয়। সে এক ভিষণ যুদ্ধ। কোন অস্ত্র দিয়ে তাকে হত্যা করা যাচ্ছে না। যুদ্ধের এক পর্যায়ে বেউলফ গ্রেন্ডেলের কাঁধের কাছ থেকে হাত ছিঁড়ে ফেলেন। গ্রেন্ডেল সেই যন্ত্রণায় আস্তে আস্তে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ে।
কিন্তু এই যুদ্ধ এখানেই শেষ নয়। পরদিন যখন হেওরটে বিজয় উৎসব করে সবাই ঘুমিয়ে পড়লেন তখন সেখানে হানা দেয় গ্রেন্ডেলের মা মেরিউল৷ পুত্রের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে সে হয়ে উঠে অারো ভয়ানক। একে একে হত্যা করে নিরিহ অনেক মানুষদের। সে হ্রথগারের সবচেয়ে বিশ্বস্ত যোদ্ধা ইসচেরকেও হত্যা করল। এই বিশাল হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়ে মেরিউল ফিরে গেলেন সমুদ্র গভীরে তার নিজের অাস্তানায়। গ্রেন্ডেলের মায়ের আস্তানার সন্ধান মিলল। বেউলফ যুদ্ধের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করল। আনফার্থ নামে এক যোদ্ধা বেউলফকে তাকে হ্রান্টিং নামে একটি তরবারি উপহার দিয়ে শুভেচ্ছা জানালেন। এরপর বেউলফ সমুদ্রে ঝাঁপ দিলেন। খুঁজতে খুঁজতে বেউলফ সহজেই গ্রেন্ডেলের মায়ের সন্ধান পেলেন। যুদ্ধ শুরু হল। একে অপরকে প্রচন্ড অাঘাত করে চলেছে। একদিকে মেরিউলকে হত্যা করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে বেউলফের গায়ে শক্ত বর্ম থাকায় গ্রেন্ডেলের মা তার কোনো ক্ষতি করতে পারছে না। তারপর বেউলফে টেনে নিয়ে গেল হ্রদের একেবারে তলায় যেখানে গুহায় গ্রেন্ডেলের দেহ রাখা ছিল। গ্রেন্ডেলের মা ও বেউলফের মধ্যে ঘোরোতর যুদ্ধ চলছে।
প্রথম দিকে গ্রেন্ডেলের মায়েরই জয় হচ্ছিল। বেউলফ হ্রান্টিং অস্ত্র দিয়ে শত্রুকে বধ করতে পারছে না। তিনি তখন বিকল্প চিন্তা শুরু করলেন। এদিকে মেরিউলকে অাঘাত করে চলেছে। বেউলফের বর্ম তাকে রক্ষা করে চলেছে। তখন বেউলফ মেরিউলের অাস্তানায় খুজে পেলেন জাদুকরী এক তরবারি। এবং সেটি দিয়ে তার মাথা কেটে ফেললেন। আস্তানার আরও গভীরে গিয়ে বেউলফ দেখলেন গ্রেন্ডেলের দেহে তখনও প্রাণ আছে। তিনি গ্রেন্ডেলেরও মাথা কেটে ফেললেন। এবং তরবারী অার কাটা মস্তক নিয়ে ফিরে এলেন। ফিরে এসে তিনি সকলকে শোনাতো লাগলেন সেই যুদ্ধের কাহিনী।
এরপর শুরু হয় মহাকাব্যের দ্বিতীয় অংশ। যেখানে বেউলফ দেশে ফিরে এল এবং পরবর্তীকালে সে স্বজাতির রাজা নির্বাচিত হল। দিকবিদিক জয় করে চলল সে। এমন করে চলল প্রায় ৫০ বছর। সুখে শান্তিতে চলছিল বেশ কিন্তু এক ভবঘুরে বালকের কর্মকাণ্ডে শান্তিতে ঘাটা পড়ল। এক বালক ঢুকে পড়ল ড্রগনের গুহায়। ড্রগনের ঘুমানোর সুযোগ নিয়ে চুরি করল গুপ্তধন। অার তখনি ঘটে মহা বিপদ। ড্রাগন দিকবিদি ছুটে বেড়ায় অার মানুষকে হত্যা করতে থাকে। এক পযায়ে সে বেউলফের রাজ্যে চলে অাসে। অার তখনি শুরু হয় ফায়ার ড্রাগন এবং বেউলফ এর মধ্য মহাযুদ্ধ। তুমুল সেই যুদ্ধ। বেউলফ ড্রাগনকে হত্যা করে কিন্তু মরার অাগে বেউলফের উপর হানে মরণ অাঘাত। এবং সেই অাঘাতের কারণে বীর বেউলফের জীবনের অবসান ঘটে। অার এখানেই বীর বেউলফের অাত্মগাঁথা শেষ হয়। তারপর সমুদ্র থেকে দৃষ্ট এক টিলায় বেউলফের দেহাবশেষের উপর তার সমাধিসৌধ নির্মিত হল।
মূলত জার্মান ভাষায় ৩১৮২ লাইনের রচনা বেউলফ। এঙ্গেলস-স্যাক্সন যুগের জীবন শৈল উঠে এসেছে এই উপখ্যানে। খ্রিস্টীয় ৫ম শতাব্দীর শেষ ভাগে এঙ্গেলস ও স্যাক্সন উপজাতি ইংল্যান্ডে অনুপ্রবেশ শুরু করে। খ্রিস্টীয় ৭ম শতাব্দীর গোড়ার দিকে অ্যাংলো ও স্যাক্সন জাতি অনুপ্রবেশ শুরু করে উত্তর জার্মানি হয়ে স্ক্যান্ডিনেভিয়া ও ইংল্যান্ডে। সেখানে তাঁরা তাদের জার্মানিক স্বজাতীয়দের সাথে নতুন করে বসবাস শুরু করেছিল। এই দুই সময়ের মধ্যবর্তী কোনো এক সময়ের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে বেউলফে। পাণ্ডুলিপিটি সংরক্ষিত অাছে ব্রিটিশ মিউজিয়ামে। ১৭৩১ সালে একটি অগ্নিকাণ্ডে পাণ্ডুলিপিটি অাংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সে যাই হোক, সাহিত্যের ইতিহাসে এই গল্পের মূল্য কিন্তু অপরিসীম!
শুরুর আগে:বেউলফ মূলত একটি মহাকাব্য।মনে করা হয় ষষ্ঠ থেকে সপ্তম শতাব্দীর কোনো একসময়ে অজ্ঞাতনামা কোনো লেখকের মহান সৃষ্টি এটি।ধারণা করা হয় পূর্ব অ্যাংলিয়ার রেন্ডেলশ্যামে এই মহাকাব্য রচিত হয়।সম্ভবত গেটিস উপজাতি থেকে উদ্ভূত লোকেরা এই মহাকাব্যটিকে ইংল্যান্ডে নিয়ে আসেন এমন ধারণাও আছে।লেখকের সম্পর্কে তেমন কিছুই জানা যায়না।তবে ধারণা করা হয় এই মহাকাব্যের রচয়িতা কোনো এক অজ্ঞাতনামা অ্যাংলো-স্যাক্সন কবি।গবেষকরা উনাকে ‘বেউলফের কবি’ নামে চিহ্নিত করেন।সম্ভবত এটিই প্রাচীন ইংরেজিতে রচিত সবচেয়ে পুরনো কবিতা যেটি অদ্যাবধি টিকে আছে।এটিকে সাধারণভাবে প্রাচীন ইংরেজি সাহিত্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রচনা বলে অভিহিত করা হয়।
মূল রিভিউ: কাহিনি সংক্ষেপ:নর্দান ডেনমার্কের একটি অন্ধকার গুহায় গোঙাচ্ছে না-মানুষ না-জানোয়ার গ্রেনডেল।অসহ্য আওয়াজ কানে বাজছে ওর।অনিয়ন্ত্রিতভাবে মাথা ঝাকাচ্ছে অপার্থিব এই সৃষ্টি।অথচ আওয়াজ হচ্ছে বহুদূরে।কোনো মানুষের পক্ষে এই শব্দ টের পাওয়া অসম্ভব।
হেয়্যারট।রাজা হ্রথগার তাঁর প্রজাদের দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মহা জাঁকজমকপূর্ণ এই হল রুম বানিয়েছেন বিজয় উদযাপনের জন্য।উৎসবের সব অনুষঙ্গই বিদ্যমান এতে।লম্বা শিকে গেঁথে আস্ত শুয়োর ঝলসানো হচ্ছে আগুনে।যার থেকে বাতাসে ভেসে আসছে লোভনীয় গন্ধ।গামলাভর্তি সুরা যেন অমৃত।যার যার গবলেট ভরে নিচ্ছে লোকজন।রাজা হ্রথগারও আনন্দে ভাসছেন নিজের স্ত্রী উইলথিয়োকে নিয়ে।গল্প শুনাচ্ছেন নিজের ড্রাগন-বধের।হলরুমের প্রতিটা মানুষ সুখী আর ভাবনাহীন।তাদের ধারণাতেও নেই বহুদূরের কোনে এক দৈত্য ছুটে আসছে এই আনন্দের স্বর্গকে মুহূর্তে নরকে পরিণত করতে।গ্রেনডেল আসছে…
সেই থেকে শুরু।তারপর গ্রেনডেলের তান্ডবলীলা চলতেই থাকে।তখনকার যুগকে বলা হতো বীরদের যুগ।তবে এমন কোনো বীর নেই যে গ্রেনডেলকে বধ করতে পারে।রাজা হ্রথগারের কপালের ভাঁজ যখন বড় হচ্ছে তখন সাগরে ঝড়ের সাথে লড়ে দৈত্য বধে আসছে বেউলফ এবং তার সঙ্গীরা।উথাল পাতাল সাগরের ঢেউগুলোকে পার হয়ে মাটির দেখা পাবার আশা ক্ষীণ।তবে সবাই জানে এই তিমির হাঁ করা ঢেউ থেকে যদি কেউ বেরুতে পারে সেটা বেউলফ।তাঁর অসাধারণ দক্ষতায় তারা পৌছায় রাজা হ্রথগারের রাজ্যে।
হ্রথগার তখন যেকোন মূল্য গ্রেনডেলের থেকে মুক্তি চাইছেন।বেউলফকে তাই অগাধ সম্পত্তির মালিক করবেন বলে ঘোষণা করেন যদি গ্রেনডেল বধে সমর্থ হয় ও।বেউলফের বীরত্ব দেখানোর পালা এবার।অসীম সাহসী বেউলফ কি পারবে ধুর্ত দৈত্য গ্রেনডেলকে হত্যা করতে?গ্রেনডেলের মায়াবিনী মাকে কিভাবে বধ করা সম্ভব?ওর মায়াজাল থেকে তো কেউই মুক্তি পায়নি।বেউলফ নিজের কামুকতা সামলে নিতে পারবে?
মতামত:পিশাচ,দৈত্য,অতিমানবীয় কাহিনি বরাবরই আমার পছন্দের জনরা।যা পড়ি তাই ভালো লাগে।বেউলফও ব্যতিক্রম নয়।তবে বারবারই মনে হয়েছে কাহিনি দুর্বল।পুরো বইটিতে কেবল বেউলফের বীরত্বই বর্ণিত হয়েছে।যুবক বয়স থেকে প্রৌঢ়ত্ব পর্যন্ত।যদি এই জনরা পছন্দ থাকে তাহলে পড়তে পারেন।বেশ ভালো লাগবে।আর হ্যাঁ কিছু এডাল্ট সীন এবং অনেক রক্তাক্ত সীনের বর্ণনা রয়েছে।সব মিলিয়ে বইখানা আমার ভালো লেগেছে।রিভিউ লেখার মতো ভালো।
অনুবাদ প্রসঙ্গে:ডিউক জনের অনুবাদ নিয়ে অনেক সমালোচনা শুনি।ব্যক্তিগতভাবে উনি আমার প্রিয় একজন অনুবাদক।অসাধারণ অনুবাদ করেছেন।কাহিনি তেমন শক্ত না হলেও শুধু অনুবাদের জোরেই হয়তো বই থেকে চোখ সরানো যাচ্ছিলোনা।
আজ থেকে প্রায় ৯শ-১২শ বছরের পুরোনো কোনো অজ্ঞাত লেখকের লেখা এই কাহিনীটি। সে বিবেচনায়, পুরো বই জুড়ে যে কল্পনার বিস্তার ছিলো তা প্রশংসার দাবি রাখে।
জীবনে ক্ষমতা, বীর্য, সম্পদ,কিংবা যেকোনো জাগতিক চাহিদার তৃপ্তি লাভের পরেও জীবনের ষোলোকলাই অপূর্ণ রয়ে যায়। যে সত্যকে আদর্শ ধরে আমাদের বেঁচে থাকা, তাই যেনো সবচেয়ে বড় মিথ্যে। এই মূলভাবকে প্রতিপাদ্য করেই লেখক 'বেউলফ' চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলেছেন।