'আমার দাদী বাচ্চা মেয়েটাকে দুপুরে খাইয়ে দাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে নিজেও একটু চোখ বুজেছিলেন। জুলমত চৌধুরীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর বাড়তি একটা সতর্কতার উদ্ভব ঘটেছিল জমিদার বাড়িতে। ভেতর থেকে দরজা আটকেই শুয়েছিলেন দাদী। বিকেলের দিকে আচমকা হই হল্লার আওয়াজে ঘুম ভাঙতেই দেখেন- পাশে বাচ্চাটা নেই। দরজা হা হা করছে। দাদী দৌড়ে উঠোনে যেতেই দেখেন তার নয় বছর বয়সী বাচ্চাটা দিঘির জলে ভাসছে। ছোট্ট হাতে এক গাছি নীল চুড়ি।
ঠিক তখন থেকেই অভিশাপটা পাকাপোক্ত হয়ে বসল আমাদের পরিবারে...' ... প্রায় তিন যুগ আগের এক মৃত্যু রহস্যের সমাধান পেতে মরিয়া জুলফিকার হায়দার চৌধুরী রহস্য সমাধানের দায়িত্ব দিলেন ততোধিক রহস্যময় এক যুবককে। শত বছরের জমিদার পরিবারের ইতিহাস খুঁড়তে হবে, যে পরিবারের সাথে জড়িয়ে আছে এক অভিশাপের গল্প। এটি একটি নিছক রহস্য গল্প হয়েই থাকতে পারত, কিন্তু আফরীন, চন্দ্রিমা আর ভ্যানগগরা গল্পটাকে নিজের করে নেয়। তবুও সব কিছু ছাপিয়ে এইই গল্পটা অভ্র'র, অভ্রত্বের।
অভ্র চরিত্রের সাথে আগেই পরিচয় ঘটেছিল - 'একজন অভ্র এবং জনৈক পিতা' আর 'এই নগরের পথে' উপন্যাস দুটির মাধ্যমে। খুব বেশি আগ্রহ বোধ করিনি; সত্যি বলতে অভ্রকে হিমু চরিত্রের ওভারড্রামাটিক ভার্সন বলে মনে হয়েছিল। পরবর্তিতে অনলাইনে পাওয়া 'অভ্র' সমগ্র পড়ে আগ্রহটা আরো কমে গিয়েছিল।
এবার আসি অভ্রত্ব প্রসঙ্গে। ক্যালিওগ্রাফিক ধাচের শিরোনাম সম্বলিত নীল রঙা প্রচ্ছদটাই মন কেড়ে নিতে যথেষ্ট! সেই অমোঘ আকর্ষণ থেকেই বইটা হাতে তুলে নেয়া। উল্টেপাল্টে দেখতে দেখতে যখন পড়া শুরু করলাম, তখন মনে হলো, বাহ! দারুণ তো!
অভ্রত্বের অভ্র সত্যিই বেশ পরিণত। হিমু'র সাথে তার কিছুটা সাদৃশ্য আছে সত্যি, তবে আমি সেটাকে পজিটিভ সাইড-ই বলব। অভ্রত্ব আক্ষরিক অর্থেই পেইজ টার্নার; হেয়ালি মেশানো কথাবার্তার তালে দানা পাকিয়ে ওঠা রহস্য- পুরোদস্তুর থ্রিলারের স্বাদ দিয়েছে। পুরনো এক 'অভিশপ্ত' জমিদার বংশে, নীল চুড়ি পরা বালিকাদের রহস্যময় মৃত্যু - এসবের সাথে সম্পর্কিত মানবিক দিক আর আধ্যাত্মিকতা; মুগ্ধ করার জন্য যথেষ্ট ছিল। সেই যে হুমায়ূন আহমেদের বইগুলোতে রহস্যের সাথে কেমন একটা জাদুময় ভাব মেশানো থাকত, অপরাধীর মনস্তত্ব জেনে মনের ভেতর খারাপ লাগা অনুভূতি দানা পাকিয়ে উঠত- অনেকদিন পর কোনও বইয়ে আবারও তার পুর্নাঙ্গ স্বাদ পেলাম। তাই বলে আমি 'হূমায়ুনী স্বাদ' পেয়ে বইটাকে ভালো বলছি না। আমি বলছি, প্রিয় লেখকের বই পড়ে যে ভালো লাগার অনুভুতি কাজ করত, মুন্না ভাইয়ের লেখনী সেই পরিচিত অনুভূতির দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছেন। গতানুগতিক থ্রিলারের চেয়ে এধরনের 'মানবিক' 'মনস্তাত্বিক' থ্রিলারের আবেদন আমার কাছে সবসময় বেশি। রহস্য সৃষ্টি, গতি ধরে রাখা, রহস্যের পরিণতি এবং সবশেষে পাঠকের মনে হাহাকার জাগিয়ে তোলা - এই চারের যথাযথ সমন্বয়ে অভ্রত্ব 'পার্ফেক্ট' একটি বই। লেখককে সাধুবাদ এবং অভিনন্দন।
ভালো লাগেনি তারেক ফয়সাল চরিত্রটাকে, প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর ভদ্রলোকের উপস্থিতিটা আমার কাছে কিছুটা অপ্রয়োজনীয় বলে মনে হয়েছে। বাদবাকি সবকিছুই ভালো ছিল।
সামনে অভ্রকে আরো দারুণভাবে দেখব আশা করছি। মুন্না ভাই কিন্তু প্রত্যাশার পারদ পাহাড়সম পর্যায়ে তুলে দিয়েছেন। :)
লেখার ধরণ বিশেষ করে অভ্র চরিত্রটিকে একটুও ভাল লাগেনি। প্রায় বিরক্তির উদ্রেক ঘটাচ্ছিল। কারণ এক ছটাক হিমুর সাথে দুই চামচ অতিনাটুকেপনা ও আরও সস্তা রসিকতা মিশালে যা হয় তাই অভ্র। এবং মেয়েরা বিশেষ করে চন্দ্রিমার মতো মেয়ে কেন এতেই মুগ্ধ হবে তা আমি বুঝতে পারলামনা শেষ পর্যন্ত। মেয়েরা হিউমার পছন্দ করে এ কথা ঠিক। কিন্তু এ সমস্ত সস্তা রসিকতায় মেয়েরা এত সহজে কাবু হয় (ক্লাস ৬-৭ হলে তাও কথা ছিল) এটা মানা যায়না। বরং অভ্রর থেকে তারেক ফয়সাল চরিত্রটা ইন্টারেস্টিং এবং আকর্ষণীয় তার প্রবল ব্যক্তিত্ব ও যুক্তি বিশ্লেষণের জন্য। তবে অভ্রের অনুমান শক্তি ও ঘটনা বিশ্লেষণ বোধ এত জোরদার হওয়া সত্ত্বেও তার উপস্থিতি এ গল্পে প্রয়োজন কেন হলো তাও বুঝলামনা। শেষের দিকে যেভাবে রহস্য ভেদ করলেন অভ্র সাহেব তাতে আর কারো সাহায্য দরকার ছিল বলে মনে হয়না। তবে যে যাই বলুক শেষটা বড় চমৎকার। রহস্যটাও বড় মন টানে। যথেষ্ট গতিময়তা থাকার পরেও প্রথম অংশ অনেকটাই অপ্রয়োজনীয় ঠেকেছে। যদি চরিত্রগুলোকে আরও খানিকটা যত্নে, একটু অন্যরকমভাবে গড়া হতো আমার ধারণা অনেক বেশি ভাল লাগতো, অন্তত আমার লাগতো। এই যেমন এখন এ ধরনের আরও রহস্য ও তার সমাধান জানবার জন্য এই সিরিজের বাকি বই পড়তে ইচ্ছে করলেও অভ্র সাহেবের ছ্যাবলামি আবার সহ্য করতে হবে ভেবে হাতে নিতে ইচ্ছে করছেনা।
প্রথমেই আসি বইটির #জনরা বা ধাঁচ বা ক্যাটাগরি নিয়ে। লেখক যদিও বইটিকে সামাজিক উপন্যাস বলে থাকেন, এবং বলেন রহস্যের কিছু আমেজ মিশ্রিত আছে। তবে আমি বইটিকে — সামাজিক/রোমান্টিক/মনস্তাত্ত্বিক/রহস্য/রম্য/অতিপ্রাকৃত – সবগুলোরই মিশেল বলবো।
মাল্টি-জনরা/কম্বো/কমপ্লেক্স জনরার বই অনেক দেখেছি, তবে এক বইয়ে এতোকিছুর পারফেক্ট মিশেল আমি আগে কখনো দেখিনি।
ব্যাখ্যা করি– বইটির মূল ও প্রধান জনরা সামাজিক। তবে কাহিনীর প্লট ঘুরেছে একটা রহস্যকে কেন্দ্র করে, রহস্যটার মধ্যে অতিপ্রাকৃত এলিমেন্ট আবার আষ্ঠেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে। প্রধান চরিত্র আর তার ফিমেইল কাউন্টারপার্ট (উপযুক্ত বিশেষণ এটাই মাথায় আসছে) এর মধ্যে পুরো বই জুড়েই ছিলো অসম্ভব অদ্ভুত এক প্রেমময় সম্পর্কের গল্প– যাতে নেই অতিরঞ্জিত ভাবাবেগ, কিংবা ছিলো না প্রণয়-পরিণতি নিয়ে কোনো চিন্তাভাবনা, শুধুই অদ্ভুত আধো-গোপন পরোক্ষ ভালোবাসার প্রকাশ। কেন্দ্রীয় চরিত্রের ভাইটাল স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যের ফলে, বইয়ের হিউজ একটা অংশে রম্যরস ছিলো টইটম্বুর। এসবেরই ভীড়ে পরতে পরতে জড়িয়ে ছিলো সুক্ষ্ম কিছু দর্শন আর মনস্তাত্ত্বিক চিন্তাধারার ব্যাপার স্যাপার।
#কিন্তু গল্পটা মোটেই হিজিবিজি কিংবা কনফিউজিং নয়। পড়ার সময় এরকম ভিন্ন জনরার এলিমেন্ট বা মিশেলের ফলে পাঠকের বিন্দুমাত্র সমস্যা হবে না। কারণ কাহিনীটা এতোই স্মুউউউদ, যে আপনি স্রেফ স্রোতের মতো ভেসে ভেসে এগিয়ে যাবেন পাতার পর পাতায়, অধ্যায়ের পর অধ্যায়ে, সমাপ্তি পর্যন্ত। আপনি টেরই পাবেন না কখন কোথায় কী জনরা পড়লেন। আদতে কাহিনীর প্রয়োজনে যেই স্থানে যেই জিনিসের যতটুকু প্রয়োজন, লেখক ঠিক সেভাবেই সেই জিনিস এনেছেন। প্রতিটা জেনেরিক-সাব জেনেরিক এলিমেন্ট পারফেক্টলি ব্লেন্ড হয়ে মিশে গিয়ে দাঁড় করিয়েছে এমন এক ভিন্ন, নতুন, অনন্য ধারা- যেই ধারার জন্য "অভ্রত্ব" এর চেয়ে পারফেক্ট কোনো শব্দ বোধহয় হয়না।
কাহিনীটা আমার কাছে মোটাদাগে ৩ ভাগে বিভক্ত মনে হয়েছে। যার #প্রথম বড় একটা অংশ জুড়ে ছিলো রম্য। তার মাঝেই ছিলো কিছু মনস্তত্ত্ব, এবং একটা অংশে ছিলো রহস্যের অবতরণিকা আর রহস্যের একটা প্রাথমিক ছোট্ট অংশের সমাধান। #২য়_অংশে ছিলো রহস্যের ক্রমিক পরিস্ফুটন, ঘনীভবন, অভ্রর অদৃশ্য তদন্ত, হালকা সাসপেন্স, ট্যুইস্ট আর ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যা। আর একেবারে #শেষাংশে, যখন রহস্যটি ব্যাখ্যাত হয়ে যায়, তখন রয়েছে দর্শন, উপলব্ধি, ব্যথা, মায়া আর আবেগের এক উচ্ছ্বসিত জোয়ার।
কিন্তু এখানেই শেষ নয়। বইয়ের একেবারে শেষ পৃষ্টায় রয়েছে ছোট্ট একটা নিউক্লিয়ার বিস্ফোরণ।
বইটা গতরাত ২:৩০ টায় শেষ করে স্রেফ #ঝিম মেরে গেছিলাম। ঝাড়া ৩০/৪০ মিনিট আমি শুধু ঝিম ধরেই বসেছিলাম। একটা হার্ডকোর থ্রিলার পড়েও আমি কখনো এতোটা ঝিম ধরা খাইনি।
একজন লেখক হিসেবে মুন্না ভাইয়ের জন্য এখন অভ্রত্বের রিভিউ তেমন আহামরি প্রয়োজনীয় না। উনার নতুন বই #অভ্র_নিরুদ্দেশ পড়ে সেটার রিভিউ লেখবো ভাবছিলাম। কিন্তু অভ্রত্ব আমাকে এতোটাই নাড়িয়ে দিয়েছে যে, প্রথম সুযোগেই রিভিউটা না লিখে বসে থাকতে পারলাম।
আমি #রেটিং দিতে জানি না, আমার কাছে হয় বই ভালো লাগে, নয়তো লাগে না। আর ভালো লাগার ক্ষেত্রে কোনোটা মোটামুটি, কোনোটা স্বাভাবিক ভালো, কোনো বেশি ভালো আর কোনোটা অনেক বেশি ভালো লাগে। আমার কাছে বইটা #অসম্ভব_ভালো লেগেছে।
আর মাত্র ১৬০ পৃষ্ঠার মধ্যে ভাই কীভাবে এরকম একটা গল্পকে পূর্ণাঙ্গ ও পারফেক্টভাবে সাজালেন, আর কীভাবে এতো চমকপ্রদ সুন্দর ভাবেই বা সাজালেন, তা আমার মাথায় ধরে না। বাহ্যিক ভাবে বইটার কলেবর ছোট। কিন্তু পড়তে গিয়ে মনে হলো সুদীর্ঘ একটা বই শেষ করলাম। বিষয়টা অবাক করার মতো।
ভালো কথা, বইটাতে #বানান ভুল সম্ভবত ছিলোই না। থেকে থাকলেও হয়তো এতোই কম ছিলো যে চোখেই পড়েনি। এইটা খুব ভালো লেগেছে।
মুন্না ভাইয়ের অভ্র সিরিজের লিখনশৈলীতে খুবই চরমমাত্রায় #হুমায়ূনীয় স্টাইল পাবেন। কারণ অভ্রকে উনি লিখেছেন কাইন্ডফ হিমুকে রিপ্রেজেন্ট করে। তাই অভ্রতে হিমুর কিংবা হুমায়ূন আহমেদের স্টাইলের বহুল সাদৃশ্য পাবেন। কিন্তু আল্টিমেটলি ভাইয়ের সৃজনশীলতার কারণে অভ্র প্রকাশ পেয়েছে ততোধিক স্বাতন্ত্র্য, নতুনত্ব ও মৌলিকত্ব নিয়ে।
শুরুতে জনরা নিয়ে কথাবার্তা বলছিলাম। বলেছিলাম অভ্র-র যে নিজস্ব ভাব ও ভাষা দাঁড়িয়েছে, তার নাম অভ্রত্ব-ই হওয়া উচিত। তবে লেখক উনার এই সিরিজে পাঠকদের একটা কথা বলে থাকেন - "অভ্র'র মায়াময় জগতে স্বাগতম" বা "অভ্র'র মায়াময় জগতে আমন্ত্রণ"। এখন যেন মনে হচ্ছে, অভ্র সিরিজের জনরাকে #মায়াসাহিত্য-ও বলা যেতে পারে।
“শহর হলো চরিত্রহীনা সন্দরী নারীর মতো, আর গ্রাম হলো সতীসাবিত্রী আটপৌরে স্ত্রী। চরিত্রহীনাকে সবাই দুই চারটা করে গালি দিলেও সৌন্দর্যের আকর্ষণ এড়াতে পারে না। যদিও মনে প্রাণে ওই আটপৌরে স্ত্রী কামনা করে। ”
হুমায়ূন আহমেদ মারা গেছেন। তার সাথে মারা গেছে হিমু আর মিসির আলি। তারা আর ফিরবে না এটা ভক্তদের মেনে নেওয়া একটু কষ্টের।
এখন যদি অন্য কোন লেখক তার লেখার ক্ষমতা দিয়ে তাদের ফিরিয়ে আনতে চান তাতে দোষের কিছু নেই।
হিমু আর মিসির আলিকে চুরি করে লেখা অভ্র সিরিজ এমনটাই শুনে ছিলাম। কিন্তু আমার কাছে তা মনে হয়নি। ফেন ফিকশন বলা যেতে পারে অভ্রত্বকে।
অভ্র ঠিক হিমুর মতো মহাপুরুষ নয়। তারা বাবা তাকে মহাপুরুষ করার স্কুলও খুলেনি। অভ্রের বাবা, মা এবং বোন আছে। তবে কিছুটা বাউন্ডুলে আর হিমুর মতো সস্থা রসিকতা করে। মানুষকে একটু বিভ্রান্ত করে ফেলে।
হুমায়ূন আহমেদ যেভাবে হিমুকে নিয়ে লেখেছিলেন এই বই এর লেখক ঠিক সেভাবে অভ্রকে লেখেছেন। তাই হিমু হিমু একটা ভাব চলে এসেছে। চলে এসেছে কুকুর। সেই কুকুর যেটা মধ্য রাতে হিমুর পেছন পেছন আসত। অভ্র কুকুরের নাম দিয়েছে ভ্যানগগ!
বইটা আমি তিন ভাগে ভাগ করেছি। সেই তিন ভাগেই রিভিউ লেখার চেষ্টা করব। ঠিক রিভিউ না পাঠপ্রতিক্রিয়া বলা যেতে পারে।
প্রথম অংশে দেখা যায় অভ্র পুলিশের সাথে রসিকতা করে এরেস্ট হয়েছে। তাকে ভ্যানে তোলার পর সে আবিষ্কার করে অপূর্ব সুন্দরী এক মেয়ে বসে আছে সেখানে! তারা, মানে অভ্র আর মেয়েটি যার নাম চন্দ্রিমা থানা থেকে পালায়। গভীর রাতে তারা রাস্তায় হাটতে থাকে। পেছনে ভ্যানগগ। হাটতে হাটতে জানতে পারে মেয়েটির গল্প। কোন আত্মহত্যা করতে চেয়েছিল? আত্মহত্যা করতে গিয়েই সে এরেস্ট হয়ে ছিল। এর পেছনের কারণ কি সেটা নিয়েই গল্প করতে লাগলো হাটতে হাটতে। অভ্র মাঝেমধ্যে রসিককাও করতে লাগল। মেয়েটির গল্পটা না হয় পড়ে নিবেন বইতে।
দ্বিতীয় ভাগ কে দুই অংশে ভাগ করা যাক। প্রথম ভাগে দেখা যায় অভ্র বিশাল বড় লোক একজনের থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়েছে একটা কাজ করে দেয়ার জন্য। টাকাটা অভ্র এক গরীব অসুস্থকে দিয়ে দিয়েছে। এখন তার আর সেই কাজ করতে ইচ্ছে করছে না। তাই তিন দিন ধরে সে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। কাজটা কি সেটা নিয়ে তৃতীয় অংশে আলোচনা করব।
দ্বিতীয় অংশের ২য় ভাগে রুপাকে টেনে আনতে হয়। নাম তার আফরীন। কলেজ পড়ুয়া মেয়েটি অভ্রর টিউশনির ছাত্রী। রুপাকে এই মেয়ের মধ্যে খুজলে হতাশ হতে হবে। এ অন্য মেরুর মানুষ। আফরীনের কথাবার্তা মনে হবে সে অভ্রর প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে কিন্তু বুঝতে দিতে চাচ্ছে না কিশোরী মেয়েটি। আমি এই মেয়েটির প্রেমে পরে গিয়েছি। পুরো গল্প জুড়ে মেয়েটি শক্ত ভূমিকা পালন করেছে। এই মেয়ে না থাকলে গল্পটা ভালো লাগতো না আমার কাছে।
তৃতীয় অংশ দেখা যায় অভ্রকে মোটা অঙ্কের টাকা লোকটা কি জন্য দিয়েছিল সেটা। তার পরিবার ছিল বিশাল জমিদার। সেখানে এক মেয়ে তাদের পরিবারের উপর অভিশাপ দেয়। সেই অভিশাপ জন্যই কি তার মেয়ে ৬ দিনের দিন মারা গেল? নাকি এর পেছনে অন্য রহস্য আছে। সেটা খুজে বের করার দায়িত্ব দিয়েছে অভ্রকে। অভ্র কোন গোয়েন্দা না। কিন্তু লোকটার মনে হলো সেই পারবে এই রহস্য খুজে বের করতে।
আফরিন কে নিয়ে অভ্র চলে গেল গ্রামের রাজবাড়িতে রহস্যের পেছনের গল্প খুজতে। তারপর জানতে পারে এমন এক সত্য যেটা খুবই জঘণ্য।
রম্য,প্রেম প্রেম ভাব এবং রহস্য নিয়ে অভ্রত্বের জগত। আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। হয়তো আপনারও লাগবে। অভ্রত্বের জগতে আপনাকে স্বাগতম।
প্রচ্ছদটা অ সা ধা র ণ। যদি কারো কাছে অসাধারণ মনে না হয় তবে বইটি পড়ার পর অবশ্যই মনে হবে। প্রচ্ছদেই বইটির রিভিউ দেয়া হয়েছে। তাছাড়া প্রচ্ছদ লেখক নিজেই করেছেন। আমি মনে করি সেসব লেখক খুবই ভাগ্যবান যারা নিজের বই এর প্রচ্ছদ নিজেই করতে পারে।
আমার রেটিং ৪/৫
“আমরা ভাবি অভিমান খুবই মধুর একটা অনূভূতি, আসলে তা না। বেশিভাগ আত্মহত্যার উৎপত্তী আসলে অভিমান থেকে।মানুষ রাগের মাথায় অন্যকে খুন করতে পারে কিন্তু আত্মহত্যা রাগের মাথায় করা যায় না।”
প্রথম ২৫ পেজ পড়ে হিমু আর অভ্রের মাঝে কোন পার্থক্য বোঝা যাচ্ছিল না, তবে তাতে আমার তেমন আপত্তি নেই। পাঠক হিসাবে পড়ে ভালো লাগলেই হলো। কিন্তু এরপর চরিত্রগুলোর ইনকন্সিস্টেন্সি, অপরিণত প্রেম উপাখ্যান বিরক্তির উপক্রম করেছে বেশ। যে রহস্যকে কেন্দ্র করে গল্প এগিয়েছে তা নিতান্তই শিশুসুলভ। উপসংহারেও লেখক আষাড়ে গপ্পের মত দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়েছেন। ভবিষ্যতে আরো ভালো প্লট পাবো আশা করি।
বইয়ের নামঃ অভ্রত্ব বইয়ের ধরণঃ রহস্য উপন্যাস বইয়ের লেখকঃ আবুল ফাতাহ প্রচ্ছদ ও অলংকরণঃ আবুল ফাতাহ প্রকাশকালঃ অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৭ প্রকাশনীঃ রোদেলা প্রকাশনী পৃষ্ঠাঃ ১৬০ মূদ্রিত মূল্যঃ ২২০ টাকা লেখক পরিচিতিঃ লেখক আবুল ফাতাহ’র জন্ম সিরাজগঞ্জে ১৯৯১ সালে। বর্তমানে ঢাকায় থাকেন। শখের বশে লেখালেখি করেন। সেই সাথে গ্রাফিক্স ডিজাইনের উপরও আগ্রহ আছে তার খুব। আলোচ্য বইয়ের প্রচ্ছদটিও তার নিজের করা। বইয়ের প্রচ্ছদ হিসেবে এটিই তার প্রথম কাজ। এখন পর্যন্ত তার লিখিত বইয়ের সংখ্যা ৫ টি। তাছাড়া অনলাইনে তার অসংখ্য ছোট গল্প, উপন্যাস, উপন্যাসিকা ছড়িয়ে আছে! সার-সংক্ষেপঃ 'আমার দাদী বাচ্চা মেয়েটাকে দুপুরে খাইয়ে দাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে নিজেও একটু চোখ বুজছিলেন। জুলমত চৌধুরির অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর বাড়তি একটা সতর্কতার উদ্ভব ঘটেছিল জমিদার বাড়িতে। ভেতর থেকে দরজা আটকেই শুয়েছিলেন দাদী। বিকেলের দিকে আচমকা হই-হল্লার আওয়াজে ঘুম ভাঙতেই দেখেন, পাশে বাচ্চাটা নেই। দরজা হা হা করছে। দাদী দৌড়ে উঠানে যেতেই দেখেন তার নয় বছর বয়সী বাচ্চাটা দিঘির জলে ভাসছে। ছোট্ট হাতে এক গাছি নীল চুড়ি। ঠিক তখন থেকেই অভিশাপ টা পাকাপোক্ত হয়ে বসলো আমাদের পরিবারে....।' প্রায় তিন যুগ আগের এক মৃত্যু রহস্যের সমাধান পেতে মরিয়া জুলফিকার হায়দার চৌধুরি রহস্য সমাধানের দায়িত্ব দিলেন ততোধিক রহস্যময় যুবক কে। শত বছরের জমিদার পতিবারের ইতিহাস খুঁড়তে হবে,যে পরিবারের সাথে জড়িয়ে আছে এক অভিশাপের গল্প। এটি একটি নিছক রহস্য গল্প হয়েই থাকতে পারতো, কিন্তু আফরীন, চন্দ্রিমা আর ভাগ্যবান রা গল্পটাকে নিজের করে নেয়। তবুও সব কিছু ছাপিয়ে এইই গল্পটা অভ্র'র, অভ্রত্বের। পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ “অভ্রত্ব” একটি রহস্য উপন্যাস। তবে সাধারণ থ্রিলার বই হিসেবে এটিকে ধরা যাবে না। সাধারণ থ্রিলার গল্পের একধরণের ছক থাকে। লেখক সেই ছকের ভেতরে কাজ করেন। কিন্তু আলোচ্য বইটিতে রহস্যের পাশাপাশি হিউমারও ছিল প্রচুর। গল্পের মূল চরিত্রের নাম অভ্র। লেখক এর আগেও এই চরিত্রটিকে নিয়ে বেশ লেখালেখি করেছেন। বিশেষ করে অনলাইনে। গল্প অনুযায়ী “অভ্র” সাধারণ একজন তরুণ। চাল চলনে হাল্কা হিমুভাব আছে। কিন্তু সেই সাথে লজিকও আছে তার ভেতর। আজব আজব ঘটনার সম্মুখিন হয় সে। হিমুর মত তারও কিছু বাঁধা “ভক্ত” আছে। তার অনুমাণ ক্ষমতা ভালো। রহস্যময়ী ও হাল্কা রসিকতা ভরা কথাবার্তা। তবে লেখক তাকে পুরোপুরি “হিমু” বানাননি। তিনি অভ্র’র যাবতীয় কর্মকান্ডের পেছনের লজিকও ব্যাখ্যা করে দিয়েছেন। তাছাড়া চরিত্রটি সম্পর্কে লেখক নিজেই বলেছেন, “অভ্র এমন একট চরিত্র যাকে আসলে পুরোপুরি ছকে ফেলা যায় না!” গল্পে সাবলীলতা ছিল বেশ ভালো লাগার মত। উপন্যাসটি যে কোন ছকে বাঁধা নিয়মে লেখা হয়নি তা পড়লেই বোঝা যায়। চিরায়ত রহস্য গল্পের তদন্ত পদ্ধতি বা মারকাট এতে নেই। এখানে লেখক রহস্যের এক আবহ সৃষ্টি করতে চেয়েছেন। প্রথমে হাল্কা হাল্কা রসিকতা, অদ্ভুত ও মজার পরিবেশ সৃষ্টি, তারপর আস্তে আস্তে এক অদ্ভুত রহস্যে জড়িয়ে যাওয়া, অতঃপর বেশ স্বাভাবিকভাবেই তার সমাধান হওয়া। কোথাও তেমন একটা অতিকথন বা গল্প টেনে লম্বা করা মনে হয়নি। গল্পের আফরীন চরিত্রটিকেও বেশ ভালো লেগেছে। বেশ সুন্দর ও চমৎকার একটি চরিত্র। তদন্তকারীর সাথে থাকলেও “গোয়েন্দা সহকারী” নয় সে। বরং আফরীন পাশের বাড়িতে থাকা সেই সাধারণ মেয়েটিই, যাকে দেখলেই প্রেমে পড়তে ইচ্ছে করে। তবে লেখক তার লেখনীতে কিছুটা “হুমায়ুনীয় মশলা” দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। খুব ব্যর্থ হয়েছেন তাও না। কিন্তু অনেক পাঠকের কাছে ব্যাপারটি ভালো নাও লাগতে পারে। তবে আমার কাছে একেবারে খারাপ লাগেনি। গল্পটি বেশ উপভোগ্য ছিল। বইয়ে বানান তেমন একটা ভুল ছিল না। ১ টা কি ২ টা জায়গায় ছাপার ভুল চোখে পড়েছে। বইয়ের প্রচ্ছদটি বেশ সুন্দর। আলোচ্য উপন্যাসের সাথে বেশ চমৎকারভাবে মানিয়ে গেছে প্রচ্ছদের ছবিটি। সেজন্য লেখককে আরও একবার অভিনন্দন জানাই। এছাড়া বইয়ের দাম, কাগজের মান, বাঁধাই, ছাপা বেশ ভালো ছিল। সবশেষে তাই এটাই বলব, অভ্রত্ব একটি ভিন্ন স্বাদের উপন্যাস। পড়ে দেখুন। ভালো লাগবে!
I think it's a good one. The main character was not any stereotypical *Himu* typed, which I liked the most. The story was good and interesting. The writing was neat. However, this could have been better, I felt. There were some weakness to the plot. Will be looking forward to read more stories of the writer. He looks promising.
হিমুর আদলে গড়া একটা চরিত্র ছাড়া অভ্র'কে বিশেষ কিছু মনে হয়নি। এ বইয়ে মুন্না ভাইয়ের লেখাটাও হুমায়ূন ঘরনার। শব্দচয়ন, বাক্যগঠন সেরকমই। একঘেয়েমি কাটাতে রিফ্রেশমেন্টের জন্য বইটা ভালোই। অন-টাইম রিড বলা যায়।
শুরুর দিকে মনে হচ্ছিলো অভ্র চরিত্রটা যেন হিমুরই প্রতিচ্ছবি। পরবর্তীতে অবশ্য অভ্রকে খানিকটা আলাদা লেগেছে, যে সবসময় হাস্যরসাত্মক কথা বলতে পছন্দ করে। শেষমেশ গোয়েন্দা টাইপ গল্প মনে হলেও আসলে গোয়েন্দা টাইপ গল্প না। একটু মিশ্র ধরণের সহজ সরল গল্প। খুব আহামরি না, আবার একদম ফেলে দেয়ার মতও না।
আবারও আক্ষেপ, প্লট ভালো ছিলো, গল্পকে অনেক বড় করা সম্ভবপর ছিলো। আরেকটু যত্ন এবং সময় নিয়ে গল্পটা বড় করা গেলে ভালো লাগতো। শুরু করতে না করতেই শেষ হয়ে গেছে গল্প!