সায়ন্তনীর গড়িয়ায় বাস। প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক ও কলকাতা ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর। ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির শখ। কবিতা ও গদ্য দুইই চর্চার বস্তু।ক্লাস সেভেনে প্রথম প্রকাশ সংবাদ প্রতিদিনের শনিবাসরীয় পাতায়'চশমা' ছোট গল্প। তারপর প্রতিদিন, বর্তমান, সুখী গৃহকোণ, আর ছোটদের পত্রিকা সাহানা আর বাংলা দেশের পত্রিকা ভোরের কাগজে লাগাতার লিখে যাওয়া।
প্রচণ্ড রকমের বিরক্তিকর ও হাস্যকর মেলোড্রামার কারণে বইটাকে শূন্য, এমনকি নেগেটিভ রেটিংও দেয়া যেত। কিন্তু দু'টো কারণে সেটা দিচ্ছি না। প্রথমত, বইটার মূল ইস্যু, অর্থাৎ ইলিগ্যাল ড্রাগ টেস্টিং। প্রথম বিশ্বের দেশগুলো যে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়ার নামে দরিদ্র এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর মানুষের উপর বিভিন্ন সাহায্য সংস্থা এবং ক্লিনিকের মাধ্যমে নতুন আবিষ্কৃত এবং এক্সপেরিমেন্টাল ওষুধের হিউম্যান টেস্ট চালায়, এটা এখন মোটামুটি ওপেন সিক্রেট। আফ্রিকা এবং উপমহাদেশ এদের বড় টার্গেট, কারণ অপ্রমাণিত ড্রাগের প্রাথমিক পর্যায়ে হিউম্যান ট্রায়াল ঘোরতর অপরাধ। পশ্চিমাদের অবশ্য 'তৃতীয় বিশ্বের' লোকজনের উপর এটা চালালে আরেক দিকে নজর ফিরিয়ে রাখতে কোন সমস্যা নেই, যত যা-ই হোক কালা আদমীরা তো আর ঠিক উন্নত মানুষ না। কাজেই উন্নত মানবগোষ্ঠীকে সুস্থ-সবল রাখতে তাদের বলি দেয়াই চলে, যেমন চলে তেলের জন্য ইরাক কিংবা ভূরাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের জন্য সিরিয়া-আফগানিস্তানকে গুঁড়িয়ে দেয়া। পশ্চিমারা হিটলারের নাম নিষিদ্ধ করলেও তাদের আচরণ হিটলারের চেয়ে কোনদিকেই ভাল বলে মনে হয় না, তফাৎ এই যে, হিটলার যুদ্ধে হেরে গিয়েছিল। যা-ই হোক, বেআইনি হিউম্যান ট্রায়ালের উপর রালফ ফিয়েনেস আর র্যাশেল ওয়েইজের একটা দুর্দান্ত ম্যুভি আছে ''দ্য কনস্ট্যান্ট গার্ডেনার'' নামে, যদিও দুর্বল নার্ভে হজম হবে না, আমি বেশ কিছুদিন ম্যুভিটা দেখে ডিপ্রেসড ছিলাম। এই বইটারও ইস্যু তাই। বিদেশি এক বিখ্যাত ফার্মা কলকাতার এক নামকরা ক্লিনিকে দেশি ডাক্তার-গবেষকদের মাধ্যমে কুষ্ঠ আর এইচআইভি-এর এক্সপেরিমেন্টাল ড্রাগের পরীক্ষা চালায়, মানুষের উপর। তবে জানিয়ে চালানো সম্ভব না, এমনকি আড়ালে করলেও কেউ নিজে থেকে এসবের সাবজেক্ট হতে চাইবে না, কাজেই ফুটপাথের লোকজনকে ভাল খাবার আর আশ্রয়ের লোভ দেখিয়ে দালালরা ধরে নিয়ে আসে। উপমহাদেশের এক শ্রেণীর লোকজন যে দালালিতে ওস্তাদ সেটা আমরা বেআইনী মানব পাচারের ব্যাপারেও নিয়মিত দেখি; খুবই বাস্তব চিত্র। অনেকের তো সন্দেহ, কোভিডের টিকার নামে আমাদের দেশগুলোতে যা দেয়া হয়েছে, সেগুলোও ট্রায়াল রান। এদিকে এই ওষুধগুলো কুষ্ঠ আর এইচআইভি সারালেও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এত ভয়াভ যে, রোগীর অন্য সব অর্গান ফেইলিউরে সব সাবজেক্টই প্রচণ্ড কষ্ট পেয়ে মারা যায়। এত রোগী পাওয়াও মুশকিল, কাজেই রোগ নেই এমন লোকজনকে এনেও তাদের দেহে জীবাণু ঢুকিয়ে এরপর ওষুধের পরীক্ষা চলে। পুলিশ-প্রশাসন যথারীতি নীরব।
ব্যস, বইটার ভাল ব্যাপার এখানেই খতম। এরপর সস্তা ডায়ালগ, ততোধিক সস্তা প্রেম, আবেগ, শেষে কারো কারো বিবেক জাগ্রত, ট্রাজেডি, শেষে সস্তা প্রতিশোধ, মানে বি-গ্রেড হিন্দি সিনেমার ফর্মুলা। তবে একদম শেষে আরেকটা ব্যাপার দেখিয়েছেন লেখিকা, বাংলাদেশের বাসিন্দা হিসেবে সেটাও আমি নিয়মিত দেখি। হঠাৎ করে হাসপাতালে আগুন লাগে; কোন রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় একটা ফায়ার এক্সটিংগুইশারও কাজ করে না, আগুন ছড়িয়ে পড়তে থাকে, কিন্তু জোর করে আটকে রাখা রোগীরা বাইরে এলে সব ফাঁস হয়ে যাবে এই ভয়ে 'বিগ বস' আদেশ দেয় সবাইকে আন্ডারগ্রাউন্ডে রেখে দরজা আটকে দিতে। গত এক যুগ ধরে বাংলাদেশের নানারকম শিল্পকারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলো যারা অনুসরণ করছেন, তারা জানেন যে এটা খুবই নিয়মিত ঘটনা। বেশিরভাগ ফ্যাক্টরিতেই (এবং হাসপাতাল বা বাণিজ্যিক ভবনগুলোতেও) কোন অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নেই, থাকলেও সেগুলো কাজ করে না, পরিমাণও খুব কম, ফায়ার ড্রিলের তো নামগন্ধও নেই। এদিকে প্রায় সব অগ্নিকাণ্ডেই দেখা গেছে ফ্যাক্টরির সব দরজা তালা মেরে নিরাপত্তারক্ষীরা সরে পড়েছে, এবং সেটা মালিকের আদেশেই। শ্রমিকের জীবনের মূল্যের চেয়ে মাল চুরি হওয়ার ভয় বেশি কিনা! সিঁড়িগুলোও সরু সরু। ওদিকে কোন ফায়ার ড্রিল হয় না বলে মানুষজন এ সময়ে কি করতে হবে তা-ও জানে না, হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে পায়ের তলায় পিষে কিংবা বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাস আটকে অথবা মরিয়া হয়ে উপর থেকে ঝাঁপ দিয়েই মরে বেশিরভাগ। কয়দিন পত্রিকায় একটু লেখালেখি হয়, এরপর মালিকপক্ষের টাকাপয়সা খেয়ে সবাই চুপ, ফ্যাক্টরিও অপারেশনাল। এভাবেই চলছে বছরের পর বছর। বইয়ের মত বাসতবে কোন হিরো নেই, এগুলোও তাই থামার কোন সম্ভাবনা নেই। সব মিলিয়ে, এ দুইটা বিষয়ের জন্য ২ তারা। কারো যদি অসহ্য রকমের সস্তা ডায়ালগওয়ালা বই পড়ার ধৈর্য্য থাকে, তাহলে অন্তত ইস্যু দু'টো বোঝার জন্য বইটা পড়তে পারেন।
পৃথিবীটা আজ অসুস্থ। হাজার জীবানু আর রোগে মানবজাতি বিপর্যস্ত। করোনার ভ্যাকসিনের অপেক্ষায় যখন ঘরে বসে আছি, তখন বিশ্বে অন্য কোথাও আরেকজন কারো শরীরে সেই ভ্যাকসিন পুশ করে চেষ্টা চলছে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন মোক্ষম ওষুধটি আবিষ্কারের। যারা মানবজাতির কল্যাণে শরীরে এই বিষ নিতে রাজি হয়েছে, তাদের পরিণতি কী?
স্বার্থপর হয়ে চিন্তাটা সরিয়ে রাখি। আসুন এক রাজার গল্প শুনাই। রোমের রাজা মিথ্রিডেটিসের বাবাকে বিষ প্রয়োগ করে খুন করা হয়। তারপর থেকেই রাজা প্রতিদিন খাবারের সাথে অল্প করে বিষ খেতে শুরু করেন। হয়ে উঠেন 'বিষ-প্রতিরোধী'। এই পদ্ধতির নাম বিখ্যাত হয়ে যায় 'মিথ্রিডেটিজম' বলে। যে জটিল উপায়ের প্রয়োগ এখনো কোথাও কোথাও চলে।
কলকাতার এক নার্সিংহোমে চলছে অন্য এক বিষপ্রয়োগ। নামেই নার্সিংহোম, আড়ালে স্টারলাইন নামের বিদেশী এক ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সেখানে চালাচ্ছে অবৈধ ড্রাগ ট্রায়াল। ফুটপাত থেকে নাম-পরিচয়হীন মানুষদের ভালো খাবারের লোভ দেখিয়ে তুলে আনছে। শরীরে ঢুকিয়ে দিচ্ছে ভয়ংকর সব বিষ। সাইড এফেক্টে অসহায় মানুষগুলো জ্বলে যাচ্ছে, পঁচে যাচ্ছে। তাদের কাতরধ্বনিতে ডাক্তাররাও কেঁপে উঠছেন, কিন্তু টেলিফোনে হিমশীতল পরিচালকের কণ্ঠস্বর নির্দয়ভাবে বলে যাচ্ছে, ফলাফল চাই.. ডোজ বাড়িয়ে দিন!
কর্ণ বা করণ ডিস্যুজার ফাঁসির আদেশ হয়ে গিয়েছিল। কলকাতার এক টপ টেররকে কারাগার থেকে বের করে আনলো এক ছায়া। কে এই ছায়াময়? জানার আগেই করণ নিজেকে আবিষ্কার করলো আরেক জেলে, স্টারলাইনের নার্সিংহোমে! তাকে ভীষণ প্রয়োজন ওদের, ওষুধগুলোর কার্যকারিতা বোঝার জন্য। করণ যে একজন মিথ্রিডেটিস!
তবে ছায়াময়ের মনে ছিল না, মহাভারতের কর্ণ একজন যোদ্ধা! তাঁকে আটকে রাখা যায় না।
সায়ন্তনী পূততুণ্ড যে মেসেজটি দিতে চেয়েছেন বইয়ে, তা ভাবিয়েছে আমাকে। বইটি পড়তে যদিও বেশ সময় লেগেছে। কিছুটা অতিরিক্ত উপমায় রঞ্জিত দীর্ঘ বর্ণনার জন্য, আর কিছুটা সময় ভাবতে নিয়েছি। ফুটপাতই যাদের ঘর, তাদের জীবনের অর্থ কী? উঁচুতলা থেকে দেখতে গেলে, কিছু ভালো খাবার পেলে ভোলুর মতো রোগীদের জীবন তো ধন্য হবার কথা! কিন্তু কালুর মতো কারো স্বপ্ন তো ঘরবাঁধাও হতে পারে। উন্নত বিশ্বের মানুষদের রোগমুক্তির নিশ্চয়তা দিতে পঁচেগলে মরে যাওয়ার চাইতেও অনেক বেশী দামী কালু-ভোলুর জীবন।
চরিত্রায়ন এবং গল্পের গাঁথুনি ভালো ছিল। বইয়ে মেডিক্যাল টার্মগুলো খুব খটোমটোভাবে ব্যবহার করেছেন লেখিকা। মনোযোগ দিয়ে পড়ে নিতে হয়। সব ধরনের পাঠকের জন্য আরো সহজ করে লিখতে পারতেন। টানটান বই যদি পড়তে চান, তবে এ উপন্যাস হাতে না নেওয়াই ভালো। মেডিকেল থ্রিলার তকমা পেলেও এতে থ্রিল কম, বরং চিকিৎসাবিজ্ঞানের অন্ধকারের উপর একটু আলো ফেলাটাই ছিল উপন্যাসটির মূল উদ্দেশ্য।
মিথ্রিডেটিস কোনো থ্রিলার নয়, করণ - ডরোথির প্রেমকাহিনীও নয়। এ এক হরর গল্প, প্রকৃতির অমোঘ নিয়তির গল্প - যার শেষ কথা 'যে মুহুর্তে বিষমাখা ইঞ্জেকশনটি আপনি তৈরী করলেন কারো জন্য, জানবেন আপনার জন্যও আরেকটি বিষাক্ত সিরিঞ্জ প্রস্তুত হচ্ছে পৃথিবীর কোথাও না কোথাও।'
বাংলা সাহিত্যের থ্রিলার বিভাগে এ এক অনন্য সংযোজন। থ্রিলারের সাথে রোমান্টিসিজমের এক চূড়ান্ত মিশেল। থার্ড ওয়ার্ল্ড দেশগুলিতে যে অবৈধ মেডিক্যাল গবেষণা বা চিকিৎসার নামে মানুষকে গিনিপিগ বানিয়ে নতুন ওষুধ বানানোর যে নোংরা খেলা চলে তারই একটা ছোট্ট অংশ লেখিকা তার বইয়ের মধ্যে ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন। মেডিক্যাল থ্রিলারের সাথে করন আর ডরথির অসম্পূর্ণ ভালোবাসার কাহিনী পাঠককে বইয়ের সাথে বেধে রাখবে শেষ পাতা অবধি। অধিরাজ সিরিজের পর এই বইতেও এক কথায় যাকে বলে "the intense love" অথবা "the madness for love" এই বইতেও বিদ্যমান। করণের ডরোথির প্রতি সেই অমোঘ ভালোবাসা যার পিছনে এক অতীত লুকিয়ে আছে। এই বই সত্যিই প্রশংসনীয়।
বইটা পড়তে বেশ লেগেছিল। তবে ব্যাকস্টোরি আর আবেগের প্রাবল্যে প্লট প্রায় ভেসে যাওয়ার অবস্থা দেখে ভালো লাগেনি। আবার চিকিৎসকীয় বিষয়ের নানা খুঁটিনাটি ঠিকভাবে তুলে ধরতে লেখকের সচেতন প্রয়াস প্রশংসনীয় বলেই মনে হয়েছিল। সব মিলিয়ে এটি বেশ ব্যতিক্রমী লেখা। শুধু লেখক ওই আবেগের ওভারডোজ একটু কমালে ব্যাপারটা আরও উপভোগ্য হত আর কি।
মিথ্রিডেটিস সায়ন্তনী পূততুণ্ড মিত্র ও ঘোষ মম: ২৫০/-
বইটির গল্প মেডিক্যাল থ্রিলার গোত্রীয়। গল্পটির বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের কাছে। বেআইনিভাবে মানুষের ওপর নতুন আবিষ্কৃত ওষুধ তথা ড্রাগ টেস্ট। তৃতীয় বিশ্বের মতো গরীব দেশে এই ড্রাগ টেস্টের স্যাম্পল পাওয়া খুবই সহজলভ্য। বিষয়বস্তু আমার কাছে একেবারে নতুন, তাই বইটি পরে অনেক কিছু জানতে পেরেছি এই ব্যাপারে।
বইতে অনেক মেডিক্যাল টার্ম ব্যবহার করা হয়েছে, বেশিরভাগ আমার কাছে অজানা। তবে এই ব্যাপারে যে গবেষণা করে বইটি লেখা সেটা বোঝা যায়।
মিথ্রিডেটিস কথাটার পূর্ব ইতিহাস এই বই পড়েই জানলাম, যা আমার কাছে চাঞ্চল্যকর।
শুধু মাঝে-মধ্যে কিছু জায়গায় অপ্রয়োজনীয় (আমার মতে) ইমোশন, প্রেমালাপ ৮০-৯০s হিন্দি সিনেমার গ্যাংস্টার হিরো আর নিষ্পাপ হিরোইন এর ড্রামাটিক স্ক্রিপ্ট মনে করিয়ে দিচ্ছিলো।
"আসলে প্রথম বিশ্বের হিতার্থে তৃতীয় বিশ্ব পুড়ছে। প্রতিবারই 'ফিটেস্ট' -দের টিকিয়ে রাখার জন্য বিশ্বের স্বার্থে পুড়ে যেতে হয় তাকে। কিছু মূল্যবান মানুষকে দীর্ঘায়ু করার জন্য হাজারে হাজারে ভিখিরিকে মরতেই হয়। এটাই নিয়ম! এটাই অতীত এবং এটাই ভবিষ্যত্! এর ব্যতিক্রম নেই"। উক্ত অংশটি আলোচ্য উপন্যাসটি থেকে উদ্ধৃত। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর একটি জ্বলন্ত সমস্যার ওপরেই এই Medical Thriller টি। এই দেশের ফুটপাত বা বস্তি বাসী অসংখ্য মানুষকে গিনিপিগ বানিয়ে চলে বিভিন্ন pharmaceutical company এর অবৈধ ট্রায়াল যার অধিকাংশই প্রাণ কেড়ে নেয় বহু মানুষের যাদের কোনো হিসেব থাকে না। সেই অগন্তি মানুষের প্রাণ শুধু এক একটি সাবজেক্ট বই আর কিছু না।
আলোচ্য উপন্যাসে লেখিকা একজন কুখ্যাত গ্যাংস্টার করন ডিসুজা (যিনিই মিথ্রিডেটিস) কে কেন্দ্র করে ঘটে চলা এমনই এক বেআইনি HIV ড্রাগ ট্রায়াল এর ঘটনার অবতারনা করেছেন। করন আর ডরোথির অসম্পূর্ণ ভালোবাসার সাথে মিলেমিশে গেছে চিকিৎসা বিজ্ঞানের সব থেকে অন্ধকারাচ্ছন্ন এক জগৎ। চিকিৎসাশাস্ত্রের খুঁটিনাটি যেভাবে এই কাহিনীতে ব্যবহৃত হয়েছে তা সত্যি প্রশংসনীয়। এই বিষয়ে লেখিকার অধ্যবসায় কেও কুর্নিশ।
এবার আসি মিথ্রিডেটিস প্রসঙ্গে। 120BC তে Pontus এর সম্রাট ছিলেন ষষ্ঠ মিথ্রিডেটিস যিনি অল্প বয়স থেকেই নানাবিধ বিষের exposure এ একটু একটু করে হয়ে উঠেছিলেন Poison-proof; যার ফলে একটা বয়সের পর কোনো প্রকার বিষেই তার কোনো ক্ষতি হওয়া সম্ভব ছিল না (scientifically যদিও এটা সম্পূর্ণ সত্য নয়)। এখানে গল্পের protagonist 'করন', কিভাবে হয়ে উঠলো একজন মিথ্রিডেটিস তা জানতে অবশ্যই কাহিনীটি পড়তে হবে... এরকম একজন মানুষকে যদি ড্রাগ ট্রায়ালের সাবজেক্ট হিসেবে পাওয়া যায় তবে তা যে ওই সংস্থাগুলোর কাছে রীতিমতো জ্যাকপট একথা বলাই বাহুল্য। এই ব্যাপারটাকেই কাহিনীর মোড়কে সুচারু লেখনীর সাহায্যে তুলে ধরেছেন লেখিকা। যদিও লেখনীর গুনে শুরু থেকে শেষ অবধি পড়তে ভালোই লেগেছে তবুও কোথাও যেনও কাহিনী, আবেগ আর নাটকীয়তার প্রাবল্যে বাস্তবের থেকে একটু দুরে সরে গিয়েছে। সেটুকু control এ রেখে যদি লেখিকা আর একটু আঁটোসাঁটো ভাবে এই কাহিনীটি উপস্থাপিত করতেন তবে নিঃসন্দেহে বাংলা সাহিত্যের একটি অমূল্য সম্পদ হিসেবে স্থান করে নিত এই বইটি। এই বিষয়ে বাংলায় এখনও খুব বেশি বই নেই। লেখক ইন্দ্রনীল স্যাণ্যাল ছাড়া আর কোনো লেখকের লেখা মেডিক্যাল থ্রিলার এর সন্ধান, আমি অন্তত এখনও অবধি পাইনি। তা সত্ত্বেও বলবো অধিরাজ সিরিজ এর একটি বই পড়ার পর এই বইটি পড়লাম। এনার বাকি বইগুলো পড়বার জন্যও আরো উদগ্রীব হয়ে পড়েছি। দুর্দান্ত লেখনী। বইটি অবশ্য পাঠ্য।
"মিথ্রিডেটিস" শব্দ টির অর্থ হলো পয়জন প্রুফ।করণ ডিস্যুজা, কলকাতার একজন নামকরা গ্যাংস্টার, যাকে পুলিশ হন্যে হয়ে খুঁজছে। সেই করণ ছোটবেলা থেকে নিজের অজান্তেই তার বাবা উইলিয়াম ডিস্যুজার দেওয়া বিষের মিশ্রণ খেতে খেতে হয়ে উঠেছিল মিথ্রিডেটিস। অর্থাৎ সাধারণ কোনো বিষ শরীরে ঢুকলেও কোনো ক্ষতি তার হবে না। অপরদিকে স্টারলাইন নামক কলকাতার এক বিখ্যাত নার্সিংহোমে লোকচক্ষুর আড়ালে হয়ে চলেছে "ইললিগাল মেডিক্যাল ট্রায়াল"। ফুটপাথবাসী বুভুক্ষু মানুষদের খাবারের লোভ দেখিয়ে তাদের সামান্য কিছু রোগ নিরাময়ের জন্য তুলে নিয়ে যাচ্ছে সেই নার্সিংহোমে কিছু তথাকথিত এজেন্টরা। যে মানুষগুলোর কাছে দু' বেলা দু'মুঠো খেতে পাওয়াই অনেক বড় ব্যাপার। তারপর লেপ্রসি, এইচ আই ভি নামক ভয়ঙ্কর রোগের স্টেইন তাদের শরীরে প্রবেশ করিয়ে দেখা হচ্ছে সেই ড্রাগ রোগকে নিরাময় করতে পারে কিনা। কিন্তু ফল হচ্ছে হিতে বিপরীত, অধিকাংশ মানুষ সেই ড্রাগের প্রভাব নিতে না পেরে মারা যাচ্ছে কিংবা শরীরে দেখা দিচ্ছে সেপটোসেমিয়া... ভয়ঙ্কর ঘা তে ভরে যাচ্ছে সারা শরীর। নিরুপায় ডাক্তার, সিস্টার রা কেউই ড্রাগের ডোজ কমাতে পারছেন না কারণ অথরিটির আদেশ। এর মাধ্যমে লেখিকা তুলে ধরেছেন এক নৃশংসতা, ইললিগাল মেডিক্যাল ট্রায়াল যা এক অনেক বড় ক্রাইম। এই সময়ই নার্সিংহোমে নিয়ে আসা হয় মিথ্রিডেটিস করণ কে। যার উপর দেওয়া হয় সেই ড্রাগের ডোজ এবং ফলস্বরূপ দেখা যায় সে অবিচল। বিষাক্ত ড্রাগের কোনো প্রভাবই তার উপর পড়ে না। এখানেই করণ খুঁজে পায় সিস্টার ডরোথি কে, যার সঙ্গে গড়ে ওঠে তার সুমধুর প্রেমের সম্পর্ক। শেষপর্যন্ত কি হয়? কেন্দ্রীয় চরিত্র করণ কি পারে এই নৃশংসতা বন্ধ করতে নাকি সমস্ত রোগীরাই ধীরে ধীরে ঢলে পড়ে মৃত্যুর কোলে? কেই বা আছে এই ক্রাইমের পিছনে! এবং সর্বোপরি করণ-ডরোথি র সম্পর্ক ও কি পূর্ণতা পায়? তা জানতে হলে অবশ্যই পড়তে হবে "মিথ্রিডেটিস"😌 মেডিক্যাল সায়েন্সের বিভিন্ন খটমট নামসহ সব ঘটনার বর্ণনা লেখিকা এক অসাধারণ দক্ষতায় ফুটিয়ে তুলেছেন এই বইতে ❤️
নামকরণ পর্যালোচনাঃ বইটির ভিন্নতার প্রতি আকর্ষণের আলোকবিন্দু বর্ষিত হয় নামকরণ থেকেই। প্রচ্ছদের উপর কৃষ্ণ অক্ষরে জ্বলজ্বল করতে থাকা নামটি পাঠকের শুধু দৃষ্টি নয়, মস্তিষ্কে যেন সাময়িক আলোড়ন তোলে, “কি এর মানে! কি আছে এ দু মলাটের ভিতরের পাতা জুড়ে?” ষষ্ঠ মিথ্রিডেটিস ছিলেন প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্য পন্তুস এর রাজা। তার বাবার মৃত্যু হয়েছিল বিষ প্রয়োগে। মা কে বিষদায়িণী হিসেবে সন্দেহে, আত্নরক্ষার এক অভিনব পদ্ধিতি অবলম্বন করলেন রাজা মিথ্রিডেটিস। শরীরে গড়ে তুললেন এক অদ্ভুত প্রতিরোধ শক্তি। তিনি নিজেই সহনীয় মাত্রায় শরীরে অল্প অল্প করে বিষ নিতে শুরু করলেন। শরীরে তৈরি হল বিষ প্রতিরোধী ইমিউন সিস্টেম। ফলে তিনি হয়ে গেলেন পয়জন রেসিস্ট্যান্ট। সাধারণ বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হওয়া সম্ভব নয়। মিথ্রিডেটিস এর নাম অনুসারে এ পদ্ধতির নাম মিথ্রিডেটিজম। কথিত আছে, চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ও এ পদ্ধতি অবলম্বন করেছিলেন। এ কাহিনীর কেন্দ্রীয় চরিত্র একজন মিথ্রিডেটিসকে ঘিরেই, তাকে নিয়েই এর রোমাঞ্চকর আখ্যান; যে নিজেকে পয়জন প্রুফ করে তুলেছিল একসময় নিজের অজান্তেই। সমাজের সাদা চোখে যার পরিচয় শুধুই একজন ক্রিমিনাল হিসেবেই, সে শুধু দৈহিক ভাবেই মিথ্রিডেটিস ছিল না, বরং সমাজের বিষাক্ত দেহ কেও প্রতিরোধের পথ দেখাতে বদ্ধপরিকর হল। তাই চরিত্রের সার্বিক চিত্রণকে মুখ্য করে উপন্যাসের নাম ‘মিথ্রিডেটিস’।
অবতরণিকাঃ কাহিনী চিত্রণের প্রারম্ভে আলংকারিক ভূমিকার মাধ্যমে পাঠক মনে রহস্য রোমাঞ্চের অবতারণা উপন্যাসটির প্রেক্ষাপট কে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। প্রথম দিকের কিছু অংশ এমন— “মনে মনে গোটা কলকাতাই অন্ধকারের জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল। এখন সেখানে শুধু ছায়া ছায়া কাল রঙের আঁকিবুঁকি ছাড়া আর কিছু নেই। মৃত্যুর অপর নাম নৈঃশব্দ্য! মৃত্যুর আরেক নাম অন্ধকার...।” মূল কাহিনীর গভীরতায় প্রবেশের পূর্বে রূপকের আশ্রয়ে জীবনের নির্মোহ বাস্তবতার চিত্রণ। এ অন্ধকার যেন শুধু আলোকের বিপরীত অবস্থা নয়, যেন নিগূঢ় অর্থবাহী।
কাহিনী ব্যবচ্ছেদঃ কলকাতার এক বিখ্যাত নার্সিংহোমের ভূগর্ভস্থ অংশে চলছে অবৈধ ভাবে মেডিকেল ট্রায়াল এর নামে নরমেধযজ্ঞ। প্রভূত অর্থের লোভে বিদেশি ওষুধ কোম্পানির ওষুধের ফলাফল নির্ণয়ের কাজে তৃতীয় বিশ্বের সেই নার্সিংহোমের কতিপয় চিকিৎসক রয়েছে এর নেপথ্যে। এ হতদরিদ্র দেশের আনাচে কানাচে দেখা মেলে হাভাতে বেওয়ারিশ ফুটপাথবাসীর। বৃহত্তর স্বার্থে ইল্লিগাল ড্রাগ ট্রায়ালের সাবজেক্ট হিসেবে তাই এরাই হয়ে উঠলো উপযুক্ত হাতিয়ার, আধুনিক সভ্যতার গিনিপিগ! এসব সর্বহারাদের শরীরে ইচ্ছেমত মাত্রায় নতুন ড্রাগের প্রয়োগ করে তাদের ঠেলে দিতে লাগলো ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও অঙ্গবিকলের দরুন যন্ত্রণাময় মৃত্যুর অন্ধকূপে। দুমুঠো অন্ন ও আরামদায়ক জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে ধরে আনা এসব বেওয়ারিশ বস্তিবাসী মানুষের নির্বিচার বলি চলছিল বিজ্ঞানের হাঁড়িকাঠে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতি কল্পে সমাজের এসব ‘জঞ্জাল’ কে ব্যবহার করা যেন সমাজ সেবারই অন্য নাম! যাদের সুস্থ ভাবে বাঁচার উপায় হয় নি কখনো, তাদের যেন এ পৃথিবীতে থাকারই অধিকার নেই। অলক্ষ্যে এ মারণযজ্ঞের গুপ্তসংঘের বজ্র আঁটুনির মধ্যেও কোথাও আবার জেগে উঠছিল মুক্তির সুপ্ত চারা। এভাবে চলতে চলতেই নার্সিংহোমের প্রয়োজন পড়ল একজন মিথ্রিডেটিস এর। যার শরীর বিষ প্রতিরোধী, সে অধিক মাত্রায় সহ্য করতে পারবে এই আপাত প্রাণনাশিনী ড্রাগ। ফলে মেডিসিনের ডোজ এবং ডিউরেশন ট্রায়ালের এর ক্ষেত্রে আর একধাপ অগ্রসর হওয়া যাবে। কিন্তু মিথ্রিডেটিস হিসেবে যাকে আনা হল সমাজের সাদা চোখে সে একজন বেপরোয়া সিরিয়াল কিলার। অবশেষে সে কি নিজেই এ নরবলি যজ্ঞের শিকার হল? নাকি মাবনবতা কে দেখাল উত্তরণের পথ? হতে পারে সে ক্রিমিনাল, কিন্তু সে যে মিথ্রিডেটিস! তার সে পরিচয় শুধু কি দেহের খাঁচায় সীমাবদ্ধ ছিল? নাকি মানুষের বিকৃত রুচির অন্ধকারে যে বিষাক্ত চেতনার প্রবাহ অন্তঃসলিলা হয়ে সমাজে বিষ ছড়াচ্ছে তার বিরুদ্ধেও রুখে দাঁড়ালো? বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাপেক্ষে মানবতার কাঠগড়ায় উত্থাপিত সেই জিজ্ঞাসার উত্তর রয়েছে ব্যতিক্রমী এ উপন্যাসে।
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ কাহিনীর শেষ দিকে এক জায়গায় আছে এক নির্মোহ অনুধাবন—“আসলে প্রথম বিশ্বের হিতার্থে তৃতীয় বিশ্ব পুড়ছে!” পুরো কাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করেছে এ উপলদ্ধি। অধুনা ভারতীয় ক্রাইম থ্রিলার জগতে ডঃ ইন্দ্রনীল স্যানাল কে যদি মেডিকেল থ্রিলার সম্রাট ধরা হয়, তবে সায়ন্তনী পূততুণ্ড নিঃসন্দেহে সাইকোলজিকাল থ্রিলার সম্রাজ্ঞীর আসনে আসীন। কিন্তু তিনি যে মেডিকেল থ্রিলারেও সিদ্ধহস্ত এ উপন্যাস তারই সালংকারা সাড়ম্বরের সুনিপুণ এক স্বাক্ষর।
🍂📖উপন্যাসের নাম - মিথ্রিডেটিস📖🍂 ✍️লেখিকা - সায়ন্তনী পুততুন্ড 📇প্রকাশক - মিত্র ও ঘোষ 📑পৃষ্ঠা সংখ্যা - ২৩৫
🎀🎭মৃত্যুর রঙ কী ? অনেকেই বলে নীল । কেউ বলে কালো । কিন্তু বাস্তবটা জানা নেই ! মহাপুরুষদের কাছে মৃত্যু জ্যোতির্ময় । কবি তাকে কখনও প্রেমিকের রূপে দেখেছেন , কখনও বলেছেন ‘ শান্তিপারাবার ’ । উর্দু কবিরা আবার বলেন , ‘ মৃত্যু কেমন দেখতে তা জানি না । তবে নিশ্চয়ই অপূর্ব সুন্দর হবে । কারণ যারা একবার তাকে দেখেছে , তারা বাঁচাই ছেড়ে দিয়েছে ! ’ সব মিলিয়ে মৃত্যুকে ভীষণ রহস্যময় বলে মনে হয় ।🎭🎀
📍("মিথ্রিডেটিস" শব্দ টির অর্থ হলো পয়জন প্রুফ) এ কাহিনীর কেন্দ্রীয় চরিত্র একজন মিথ্রিডেটিসকে ঘিরেই, তাকে নিয়েই এর রোমাঞ্চকর আখ্যান; যে নিজেকে পয়জন প্রুফ করে তুলেছিল একসময় নিজের অজান্তেই। সমাজের সাদা চোখে যার প��িচয় শুধুই একজন ক্রিমিনাল হিসেবেই, সে শুধু দৈহিক ভাবেই মিথ্রিডেটিস ছিল না, বরং সমাজের বিষাক্ত দেহ কেও প্রতিরোধের পথ দেখাতে বদ্ধপরিকর হল। তাই চরিত্রের সার্বিক চিত্রণকে মুখ্য করে উপন্যাসের নাম ‘মিথ্রিডেটিস’।📌
🍂🌼শিক্ষিত তরুণ ঘটনাচক্রে হয়ে উঠেছিল দাগী মস্তান । পিতৃদত্ত বিষ - প্রতিষেধক নিয়মিত খেয়ে সে পেয়ে গিয়েছিল সব বিষ জয় করার ক্ষমতা । বিষ দিয়ে তাকে গুপ্তহত্যার আশঙ্কা সে জয় করেছিল । কিন্তু সে পড়ে গেল বহুগুণ নৃশংস , বিদেশী কোম্পানির দালাল , এক দল ডাক্তার বিজ্ঞানীদের হাতে । যারা বিদেশী কোম্পানির মারণ ঔষধের ফলাফল নির্ণয় করে আমাদের দেশের গরীব মানুষদের ওপর প্রয়োগ ক'রে , গিনিপিগের মতো । খাবার লোভ দেখিয়ে , টাকার লোভ দেখিয়ে এই সব হতভাগ্য মানুষদের তারা সংগ্রহ করে রাস্তা থেকে , বস্তি থেকে । কিন্তু তাদের ভুল হয়েছিল ফাঁসির আসামী করণকে তাদের কর্মশালায় নেওয়া । সে তার অমিত বুদ্ধি ও পেশিশক্তির সাহায্যে কয়েকজন রোগীকে নিয়ে বেরিয়ে এল , ওপরের ঝাঁ চক্চকে নার্সিংহোমের নিচের গোপন তলের নরমেধ - যজ্ঞের কর্মশালা থেকে । সমস্ত গুপ্ত ঘটনা সে ফাঁস করে দিল বাইরের জগতে । এইসব চরম উত্তেজক ঘটনার সঙ্গে অন্তঃসলিলা এক রোমান্স উপন্যাসের কাহিনীকে পাঠকের কাছে তুঙ্গস্পর্শী করে তুলেছে ।🌼🍂
কলকাতার এক নার্সিংহোমে চলছে ইললিগ্যাল মেডিকেল ট্রায়াল। তাতে গিনিপিগের মতো পরীক্ষায়, একে একে প্রাণ হারাচ্ছে তৃতীয় বিশ্বের হতদরিদ্র মানুষজন। সেই ট্রায়ালের সাবজেক্ট হিসাবে আনা হল, গল্পের হিরো এক মিথ্রিডেটিসকে। যে পয়জন প্রুফ। তারপর গল্প এগোয় চেনা ছকে। আমি সায়ন্তনীর লেখার অন্ধভক্ত। এবং স্মরণজিতেরও। বন্ধুরা এই নিয়ে আমাকে ঠাট্টাও কম করে না। কিন্তু, এই মিথ্রিডেটিস আমার মনে দাগ কাটল কই! সায়ন্তনীর অন্যান্য থ্রিলারের মতো এই গল্পে থ্রিল পেলাম না। বইয়ের অর্ধেক পড়া হয়ে যাচ্ছে, তবু মনে হচ্ছে--- এটা থ্রিলার পড়ছি নাকি! বইয়ের ছত্রে ছত্রে কাঠখোট্টা মেডিক্যাল টার্ম, পড়ার গতি এমনিতেই কমিয়ে দিয়েছিল, তার উপর আবার একই কথা বারবার বলার ফলে পড়তে বিরক্ত লাগে। পাঠক একটা থ্রিলার উপন্যাস পড়তে বসেছে, মেডিক্যাল জার্নাল নয়। কিছু কথোপকথন অত্যন্ত একঘেয়ে। এবং একই কথোপকথন কিছুটা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আবার উপস্থাপন করেছেন লেখক। কিছু কিছু বর্ণনাও এডিট করে ছোট করা যেত। খামোখা অতিকথন দোষে দুষ্ট হয়ে গেছে বইটি। গল্পে প্লটহোলও রয়েছে প্রচুর। করণ চরিত্রটিকে প্রায় সুপার-হিউম্যান গোত্রে তুলে দিয়েছেন। যে গল্পে তিনি মেডিক্যাল ট্রায়ালের মতো নির্মম বাস্তব দেখাচ্ছেন, সেখানে এই চরিত্র-বৈশিষ্ট্য বড়ই অসঙ্গতি সৃষ্টি করে। সায়ন্তনীর কাছ থেকে এমন আশা করাই যায় না। তাঁর কলমে জাদু আছে বলেই আমি মনে করি। নইলে শিশমহল, ছায়াগ্রহ, জিঙ্গলবেল, ক্ষ্যাপা খুঁজে খুঁজে ফেরে-র মতো অপূর্ব সব উপন্যাস পাঠক পেতেন না। কিন্তু মিথ্রিডেটিস আমায় প্রচন্ড হতাশ করল। প্রচন্ডই।
অনেক দিন পর থ্রিলার উপন্যাস পড়লাম। সায়ন্তনী পূততুন্ডের প্রথম বারের মত লেখা পড়লাম। এই উপন্যাসের কাহিনির বিষয়ে বেশ নতুনত্ব রয়েছে। মেডিক্যাল ড্রাগের অবৈধ ট্রায়াল এই উপন্যাসের বিষয়বস্তু। উপন্যাস নাম, উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র করণ ডিসুজার একটা বিশেষ গুণ থেকে নেওয়া। মিথ্রিডেটিস এমন একটা বিষয় যার চর্চা সেই প্রাচীন কাল থেকেই হয়ে আসছে কিন্তু আজ ও খুব কম মানুষই এই পদ্ধতির খবর রাখেন । এই পদ্ধতিতে কিছু বিশেষ মানুষের শরীরে একটি নির্দিষ্ট পরিমানে নিয়মিত বিষ প্রয়োগ করা হয় যার ফলে সেই বিশেষ মানুষ গুলো শরীরে যে কোনো রকমের বিষ কে প্রতিরোধ করার ক্ষমতা গড়ে ওঠে । তখন সেই বিশেষ মানুষদের কে মিথ্রিডেটিস নামে ডাকা হয় । বইটি পড়ে জানতে পারলাম সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত নিজে ছিলেন এমনি একজন মিথ্রিডেটিস। লেখিকা এই মিথ্রিডেটিস বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বর্তমান সমাজের পটভূমিতে এই দুরন্ত থ্রিলার রচনা করেছেন তার সাথে মিশিয়ে দিয়েছেন বর্তমান তৃতীয় বিশ্বের একটি অন্যতম ভয়ংকর সমস্যা ইললিগ্যাল মেডিক্যাল ড্রাগ ট্রায়াল কে। এই উপন্যাসে প্রতিটি পাতায় ফুটে উঠেছে এই এই অনৈতিক ড্রাগ সংক্রান্ত পরীক্ষার ভয়াবহ পরিনতি। খারাপ লাগলো বলতে, উপন্যাসের নায়কে সেই বলিউডের হিরোর মত 'ওয়ান ম্যান আর্মি' সর্বেসর্বা দেখানো হয়েছে। পুরো উপন্যাস জুড়ে নায়কের গুণকীর্তন। বাকি মোটামুটি ঠিকঠাক ছিল। থ্রিলার উপন্যাস হিসাবে বেশ সুন্দর উপন্যাস। উপন্যাসের শেষ পাতা পর্যন্ত থ্রিল ছিল।
ষষ্ঠ মিথ্রিডেটিস ছিলেন পন্তুসের রাজা। তার বাবা পঞ্চম মিথ্রিডেটিস বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করা হয়েছিলো। বাবার পরিণতি যাতে তার না হয় তার জন্য রাজ্য ছেড়ে পালিয়ে যান ও নিজের দেহে এক অদ্ভুত প্রতিরোধ শক্তি হতে তোলেন। মিথ্রিডেটিস নিজেকে বিষ প্রয়োগের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য এক মারাত্মক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন,তিনি নিজেই অল্প অল্প বিষ নিতেশুরু করেন,নিয়মিত অভ্যাসে তার দেহ এমন এক অকল্পনীয় ইমিউনিটি পাওয়ার জন্ম দিল যে সাধারণ বিষ প্রয়োগে কিছুতেই তার মৃত্যু হওয়া সম্ভব ছিল না এমনকি বিষয়ের দিব্যি প্রতিরোধ করতে পারতেন।
এই গেল লেখিকার কথা এবার আসা যাক আমার বইটা পড়ে কেমন লাগলো সত্যি বলতে এটা লেখিকার পড়া আমার প্রথম বই এবং আমি আশাহত হইনি ।এমন টানটান রহস্য উপন্যাস আমি সত্যিই আশা করিনি।
তৃতীয় বিশ্বের একটি খুব বড় সমস্যা লেখিকা এখানে দক্ষতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন, এবং বইতে অনেক মেডিক্যাল টার্ম ব্যবহার করা হয়েছে, বেশিরভাগ আমার কাছে অজানা। তবে এই ব্যাপারে যে গবেষণা করে বইটি লেখা সেটা বোঝা যায়।
মেডিকেল রহস্য থ্রিলার সাথে লেখিকা করণ ডিস্যুজাও সিস্টার ডরোথির যে 80ts এর প্রেম তুলে ধরেছেন সেটা আমার মত হোপলেস রোমান্টিক মানুষের বেশ ভালই লেগেছে।
Story reminds of Hitlers treacherous human experimentation to invent miracle cure in during WW2. As a result, Nuremberg code, Declaration of Helsinki all guidelines are established in medical science. Still some clinical trials do happen in India and they are banned due to not taking any informed consent from patient or subject.
This story is the true example among those banned clinical trials with streetside people. But what happened when a mastermind criminal do enter as a patient who is actually immune (mithreditis) to all disease in this mangy group of crazy physicians? Love story, emotions, Tagore songs and comedy lines did not suit well one con that i felt.
Excellent thriller with a nice little twist at the end.
“বিষে বিষে বিষক্ষয়”। অর্থাৎ বিষ দিয়ে বিষক্রিয়াকে প্রতিহত করা। মানুষের শরীরে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে নিয়মিত বিষ প্রয়োগ করা হয়, যার ফলে সেই বিশেষ মানুষগুলো শরীরে যে কোনো রকমের বিষকে প্রতিরোধ করার ক্ষমতা গড়ে ওঠে। এই বিশেষ ধরণের মানুষদের মিথ্রিডেটিস বলা হয়। এবং এই প্রক্রিয়াকে মিথ্রিডেটিজম বলে। কথিত আছে প্রাচীন ভারতে জন্মাবধি খুঁতযুক্ত কন্যা, যাঁদের বিবাহের সম্ভাবনা জন্মক্ষণেই কোনো কারণবশত নির্মূল হয়ে যেত, তাঁদের শৈশব থেকে এই পদ্ধতিতে এমনভাবে রূপান্তরিত করা হত যে, এঁদের সংস্পর্শে মানুষের মৃত্যু ঘটত। এঁরা 'বিষকন্যা' নামে পরিচিত ছিলেন।
শৈশব থেকে প্রতিদিন অল্প অল্প বিষপানে পালিতা বিষকন্যাদের রাজ্যের গুপ্তবাহিনীতে ব্যবহার করা হত মূলত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র আর গুপ্তহত্যার প্রয়োজনে। লালসার বশে বিষকন্যাদের দুর্নিবার আবেদনে সাড়া দিলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তেন ক্ষমতাবান রাজপুরুষেরা। কিন্তু বিষকন্যারা নিজেরা বিষক্রিয়াহীন ছিলেন। কোনও বিষ এঁদের কোনও ক্ষতি করতে পারত না। এঁদের শরীরে বিষের সহনশীলতা তৈরি হয়ে যেত।
একইভাবে ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন উপকথায় বিষপুরুষদের অস্তিত্বের উল্লেখও পাওয়া যায়। ঐতিহাসিকদের মতে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য একজন বিষপুরুষ ছিলেন। রাজমন্ত্রী চাণক্যের দূরদর্শী চিন্তা ও সহায়তায় তিনি মৌর্যসম্রাজ্য প্রতিষ��ঠা করেছিলেন। রাজাকে সম্পূর্ন নিরাপদ রাখতে তাঁর খাবারে প্রতিদিন গোপনে সামান্য বিষ মিশিয়ে দিতেন চাণক্য। বিষের আক্রমণ থেকে বাঁচতে এ ভাবেই ধীরে ধীরে তৈরি হয়ে উঠেছিল চন্দ্রগুপ্তের শরীর যা বিষের আক্রমণকে প্রতিহত করতে সক্ষম ছিল।
সায়ন্তনী পুততুন্ড লিখিত “মিথ্রিডেটিস” উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র এই ঐতিহাসিক তথ্যের উপর নির্ভর করে কল্পিত। উপন্যাসের সম্পর্কে বলার শুরুতেই লেখিকার গুণমুগ্ধদের একটা বিষয়ে জানা দরকার তা হল এই উপন্যাস লেখিকার সৃষ্ট বিখ্যাত ‘অধিরাজ’ সিরিজের অন্তর্গত নয়। তাই আমার মত যারা অধিরাজের অপর একটি অসাধারণ কীর্তি ভেবে এই বই পড়তে শুরু করবেন তাঁরা নিঃসন্দেহে হতাশ হবেন। এরপরেও যারা এই বই পড়তে চান তাঁদের জন্য রইল বাকি পাঠ প্রতিক্রিয়া।
কর্ণ ওরফে করণ ডিসুজা- কুখ্যাত কিন্তু অসম্ভব ব্যতিক্রমী রকমের সুদর্শন (লেখিকার অন্যান্য সমস্ত কেন্দ্রীয় চরিত্রদের মতই ইনিও একজন ‘গ্রীক গড’!!!) দাগী মস্তান ও ফাঁসির আসামী যাকে তার বাবা শৈশব থেকেই বিষ প্রয়োগে বিষ পুরুষে পরিণত করেছিলেন। ফাঁসিকাঠে ঝোলার আগেই তিনি এক প্রভাবশালীর অনুরোধ বা অনুগ্রহে এক বিশেষ নার্সিংহোমে পৌঁছে যান যেখানে বেআইনিভাবে এডস রোগের নব্য আবিষ্কৃত ওষুধের প্রয়োগ করা হয়। মানে মানুষকে গিনিপিগ-রূপে অকাতরে ব্যবহার করা হয়। পুলিশ প্রশাসন যথারীতি টেবিলের তলায় হাত গরম করে নিশ্চিন্ত নিদ্রায় আছন্ন থাকে। সাধারণত ফুটপাতের থেকে অভাগাদের তুলে এনে এই প্রয়োগ করা হলেও করণবাবুর বিশেষ শারীরিক ক্ষমতার জন্য তাঁর উপরেও এই ওষুধের প্রতিক্রিয়া দেখার দরকার হয়ে পড়ে। অতঃপর সুদর্শন ও কুখ্যাত/বিখ্যাত অপরাধীটি কিভাবে সেই অপরাধের ঘন জাল কেটে বেআইনি চক্রটির ধ্বংস করেন তারই বীর বিক্রম কাহিনী।
সাথে অবশ্যই আছে প্রেম, নাটক, টুইস্ট, নাটকীয় সংলাপের বন্যা, বছরের পর বছর ধরে চলা বাংলা সিরিয়ালের মত সস্তার আবেগ, বিবেকের দংশন, আশির দশকের হিন্দি ছায়াছবির রক্ত ঝরানো প্রতিশোধ এবং চরম ট্র্যাজেডি দিয়ে কাহিনীর পরিসমাপ্তি। গল্প এই টুকুই। কিন্তু তাকেই ফেনিয়ে গেঁজিয়ে টেনে টেনে ২৩৫ পৃষ্ঠায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা দেখলে বাংলা সাহিত্যের ভবিষ্যতের বিষয়ে ভেবে সত্যিই দুঃখ হয়। তবে হিন্দি বি গ্রেড চলচ্চিত্রের অনুকরণে রচিত উপন্যাস পাঠে রুচিশীল পাঠকদের ভালোই লাগবে হয়ত। কারণ এতে আছে অ্যাকশন, কমেডি, ড্রামা, ট্র্যাজেডি, প্রেম, বিচ্ছেদ, প্রতিহিংসা – প্রতিশোধ সহ অন্যান্য যাবতীয় মাল মশলা। কিন্তু সাহিত্যপ্রেমী পাঠক অবশ্যই সাবধান হন। অতিরিক্ত মশলায় চোঁয়া ঢেকুর ওঠা অবশ্যম্ভাবি।
এই যুগের লেখক–লেখিকাদের ভিড়ে সায়ন্তনী পুততুণ্ডকে একজন শক্তিশালী রচনাকার হিসাবেই বলা হয়ে থাকে। খুব অত্যুক্তি যে করা হয়না তা ওনার স্বাহা, অসভ্য চোখ, কৃষ্ণবেণী, জিঙ্গল বেল প্রভৃতি গল্প পড়লে বোঝা যায়। কিন্তু সেখানে এই ধরণের বালখিল্য এবং চরম বিরক্তি উদ্রেককারী গল্প কেন উনি লিখলেন, কিসের চাপে পড়ে লিখলেন তা জানার জন্য অবশ্যই কৌতূহল বোধ করছি। এমন একটি গল্প যা পড়ে যে কোনও সাহিত্য প্রেমী ও সুস্থ মানসিকতার পাঠকের রীতিমত মাথা যন্ত্রণা শুরু হতে বাধ্য।
এই গল্পের মূল বিষয় নতুন আবিষ্কৃত ওষুধের বেআইনি প্রয়োগ ও নিরীক্ষণ অর্থাৎ ইললিগাল ড্রাগ টেস্টিং। প্রথম বিশ্বের দেশ বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার অজুহাতে দরিদ্র দেশের মানুষদের উপর বিভিন্ন সাহায্য সংস্থা এবং ক্লিনিকের মাধ্যমে নতুন আবিষ্কৃত এবং এক্সপেরিমেন্টাল ওষুধের মানবিক প্রয়োগ চালায়। এইরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে উপস্থাপিত করা ছাড়া এই বইয়ে বিশেষ কিছু ভালোলাগার জিনিস নেই।
বরং বলতে বাধ্য হচ্ছি বিখ্যাত এক ইংরাজি সিরিজের একটি পর্বের প্রায় হুবহু নকলে লেখা, চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে অতিরিক্ত অপ্রয়োজনীয় বিস্তারিত কচকচানি, একঘেয়ে কেন্দ্রীয় চরিত্রদের ভগবানের অবতাররূপে দেখানো, অযথা আজেবাজে প্রচুউউউর সংলাপে পৃষ্ঠা ভরানো, বাস্তব ও যুক্তিবোধকে সম্পূর্ণরূপে ভুলিয়ে দিয়ে এবং সমস্ত কিছুই অসম্ভবরকমের অনুমানযোগ্য ভাবে রচিত এই উপন্যাসটি পড়ার পর লেখিকার অন্য লেখা পড়তে বেশ একটা ভয়ই লাগছে – আবার না শরীর খারাপ হয়ে যায়!! ভারতীয় বিশেষ করে বাঙালিদের মধ্যে যে এইরকম গ্রীক গডদের ছড়াছড়ি আছে তা এইসব লেখা না পড়লে পাঠকের অজানাই থেকে যেত। দুর্ভাগ্যক্রমে আমাদের মত সাধারণ পাঠকরাই শুধু তাঁদের বাস্তব জীবনে সশরীরে দেখতে পাননা। বইয়ের প্রচ্ছদ ছবিও তথৈবচ। গল্পের যোগ্য সঙ্গতকারী একেবারে। ছবিটি অর্থহীন হয়ত নয়, গল্পের অর্থহীনতার দ্বারা প্রভাবিত শুধু।
লেখিকাকে বড় বলতে ইচ্ছা করে– ‘সাধারণ চেহারার সাধারণ অবস্থার মানুষরাও বড় বড় কীর্তি করেন। তাঁরাও প্রেম ভালোবাসা পান। তাঁদের নিয়েও কিছু গল্প লিখুন। যাতে থাকবে না কোনও অতি নাটকীয়তা বা অতিবাস্তবের ছোঁয়া। যা হবে বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে যুক্তিবোধের আঙ্গিকে ঘিরে থাকা অতি সাধারণ মানুষের অসাধারণ হয়ে ওঠার গল্প। হাসি-কান্না, বিচ্ছেদ-বেদনা, সুখ দুঃখের আবর্তে রচিত জীবনের জটিল লড়াইয়ে হার – জিতের গল্প। মূর্খ চাটুকারদের চাটুকারিতা বা বিক্রীত সমালোচকদের নির্লজ্জ প্রচার নয়, অন্তত শুভবুদ্ধি সম্পন্ন ও সুস্থ মানসিকতার পাঠক সেই বই পড়ে আপনার জয়গান করুক। আপনার হাত ধরেই বাংলা সাহিত্য বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে নিজের প্রতিষ্ঠা পাক।' তা না হলে এই ধরণের উপন্যাস পাঠকের কাছে বিষ যন্ত্রণারই সামিল হবে। সাথে সাথে লেখিকা প্রকৃত পাঠককে হারাবেন।
বইটি বিশেষতঃ চিকিৎসা বিজ্ঞানের ওপর লেখা একটি কাল্পনিক কাহিনী। কলকাতা শহরের বুকে নামকরা হসপিটালের আন্ডারগ্রাউন্ড-এ একটি বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে চলছে ইলিগ্যাল মেডিসিন ট্রায়াল যেখানে বিদেশি কোম্পানির মেডিসিন গুলো প্রয়োগ করার জন্য ধরে আনা হয় ফুটপাতে থাকা গরীব ও অনাথ শিশুদের প্রলোভন দেখিয়ে, যার সামনে পেছনে কেউ নেই। একদিন ওই আন্ডারগ্রাউন্ড -এ ট্রায়াল এর জন্য আনা হয় করণ কে। যে আসলে এই কাহিনীর মিথ্রিডেটিস। করণ, করণ আসলে কে ? কেন ? ও কিভাবে সে এই আন্ডারগ্রাউন্ড -এ চলমান ইলিগ্যাল মেডিসিন ট্রায়াল এর পর্দা ফাঁস করবে এটাই এই কাহিনীর মূল নিবন্ধ।
বাংলায় লেখা মেডিক্যাল হিউম্যান ট্রায়াল এর ওপর গল্প খুব কম ।। সেখানে এরকম লোমহর্ষক একটা উপন্যাস পড়া ভাগ্যের ব্যাপার।। অসাধারণ একটা বই ।। এই বইয়ের বিশেষত্ব হলো এই উপন্যাসের বিভৎসতা।।