* সংশয়ীদের ঈশ্বর * ধ্যানের জগৎ জ্ঞানের জগৎ * মানুষের মৃত্যু হলে... * সংস্কৃতি, সামপ্রদায়িকতা ও মনোজগৎ * মধ্যবিত্তের পরিচয়চিহ্ন * বাংলাদেশের মানুষের মন
"সবাই জানেন-প্রশ্ন ছাড়া যুক্তিভিত্তিক সমাজ ও জীবন গড়ে ওঠা অসম্ভব, কিন্তু আমাদের সামাজিক কাঠামোটিই এমন যে, প্রচলিত এবং প্রতিষ্ঠিত ধারণাগুলো নিয়ে প্রশ্ন করাটাকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয় এখানে। এই গ্রন্থভূক্ত প্রবন্ধগুলোতে তেমনই কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন তরুণ প্রজন্মের অন্যতম প্রধান কথাশিল্পী আহমাদ মোস্তফা কামাল। অবশ্য শুধু প্রশ্নেই থেমে থাকেননি তিনি, খুঁজেছেন উত্তরও...."
আহমাদ মোস্তফা কামালের জন্ম মানিকগঞ্জে। তার বাবার নাম মুহাম্মদ আহমাদুল হক এবং মায়ের নাম মেহেরুন্নেসা আহমেদ। পাঁচ ভাই এবং তিন বোনের মধ্যে তিনি সর্বকনিষ্ঠ। মানিকগঞ্জের পাটগ্রাম অনাথ বন্ধু সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৮৬ সালে এসএসসি, ১৯৮৮ সালে ঢাকার নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন আহমাদ মোস্তফা কামাল। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৯৯২ সালে স্নাতক, ১৯৯৩ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন তিনি। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে এম ফিল এবং ২০১০ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। পেশাগত জীবনের শুরু থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। বর্তমানে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন তিনি।
লেখালেখির শুরু '৯০ দশকের গোড়া থেকেই। প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘দ্বিতীয় মানুষ’ প্রকাশিত হয় ১৯৯৮ সালে, এরপর আরো ছ’টি গল্পগ্রন্থ, ছ’টি উপন্যাস ও চারটি প্রবন্ধগ্রন্থ বেরিয়েছে। তাঁর চতুর্থ গল্পগ্রন্থ ‘ঘরভরতি মানুষ অথবা নৈঃশব্দ্য’ ২০০৭ সালে লাভ করেছে মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রথম আলো বর্ষসেরা বই’ পুরস্কার, দ্বিতীয় উপন্যাস ‘অন্ধ জাদুকর’ ভূষিত হয়েছে ‘এইচএসবিসি-কালি ও কলম পুরস্কার ২০০৯’-এ, তাঁর তৃতীয় উপন্যাস ‘কান্নাপর্ব’ ২০১২ সালের শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ হিসেবে লাভ করেছে ‘জেমকন সাহিত্য পুরস্কার ২০১৩’।
প্রবন্ধগুলোর বিষয় নির্বাচন ভালো। তবে আলোচনা খুব গভীর বা চমকপ্রদ নয়। কিছু বিষয়কে অতি সরলীকরণ করে দেখা হয়েছে। আরও কয়েক বছর আগে পড়লে হয়তো বলা লাগত, চিন্তার অনেক দ্বার খুলে দিয়েছে বইটি।
চমৎকার একটি বই। ভিন্ন ধরনের ভাবনার উদ্রেক ঘটাতে সহায়তা করেছে। বইটি পড়েই লেখকের চিন্তাশক্তি ও বিশ্লেষণী প্রতিভা সম্পর্কে জোরালো ধারণা পেলাম। যেকোনো পাঠকের জন্যই রেকমেন্ডেড।
বিষয়বস্তুগুলো এমন ছিল যে সেগুলো নিয়ে দিনের পর দিন আলোচনা হতে পারে, বইয়ের পর বই পড়ে যাওয়া যেতে পারে। এবং আলোচনা বা বিতর্কগুলো শেষ হওয়ার নয়। সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে যে অধ্যায় ছিল সেটা সবচেয়ে আগ্রহ নিয়ে পড়তে গিয়ে একটু হতাশ হয়েছি। কিছু কিছু ব্যাপার মনে হয়েছে একটু বেশি সরলীকৃত। লেখাগুলো মূলত ২০০২-২০০৪ সময়কালের। ২০১৮ তে দাঁড়িয়ে লেখক এই আলোচনাগুলোতে কি ধরনের পরিবর্তন/পরিবর্ধন করতে চাইতে পারেন সে বিষয়ে কৌতূহল রইল।
সুখ পাঠ্য। পড়েছিলাম অনেক বছর হলো, ২০১৩ সালে। কিছু লিখেছিলামও পাঠপ্রতিক্রিয়ার ফেসবুকের কোন কোনায় কানায় - মূলত দ্বিমত থেকে। আমার ধারণা লেখক তার পুরনো চিন্তাভাবনা থেকে সরে গিয়েছেন এতো দিনে।
অতীতের লেখার কপি-পেস্ট দ্বিমত করার অংশটুকু হচ্ছে,
"দু একটি জায়গায় ঠিক ঠিক ‘সংশয়ী’ থেকে বেশ খানিকটা বিচ্যুত হয়ে কিছুটা ‘অসংশয়ী’র দিকে চলে গিয়েছে। ব্যাপারটা হয়তো এভাবে বলা উচিৎ হচ্ছে না তবু মনে হচ্ছে আস্তিকতা-নাস্তিকতার মধ্যকার দোদুল্যমান অবস্থা থেকে কিছুটা প্রচলিত বিশ্বাসের দিকে চলে গিয়েছে, ‘সবকিছু মহাপরিকল্পনার অংশ’ কপন্সেপ্টটার দিকে। যেমন শেষ প্রবন্ধটি কয়েকটা লাইন এইরকম- “একটি নির্দিষ্ট সময়কালে, একটি নির্দিষ্ট দেশে, একটি নির্দিষ্ট আর্থ- সামাজিক- রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একজন মানুষের জন্মগ্রহণের পেছনে নিশ্চয়ই কোন কারণ আছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি ন্যাচারাল সিলেকশনে বিশ্বাস করি। আপনি তো এই দেশে জন্ম না নিয়ে আফ্রিকা আমেরিকা বা ইউরোপ বা আরব দেশেও জন্ম নিতে পারতেন, এই সময়ে জন্ম না নিয়ে একশো বা দুশো বছর আগে বা পরেও জন্মাতে পারতেন। তা না করে, প্রকৃতি আপনার জন্মের জন্য ঠিক এই সময়টিকে বা এই দেশটিকে বেছে নিলো কেন?” সংশয়বাদীদের চিন্তা ভাবনা কি এইরকম? আমি ঠিক শিওর না! এই ধরণের চিন্তাভাবনার সাথে আমার বেশ ভালো মতো দ্বিমত আছে। আমার পরিবেশই আমাকে আমার মতো করে গড়ে তুলছে এই বিশ্বাসে আমি বিশ্বাসী। আমার পরিবেশে অন্য কেও জন্মালে, বেড়ে উঠলে তাকে আমার মতোই হতে হবে। হতেই হবেই না বলে বলা উচিৎ এমন হওয়াটার সম্ভাবনা সবচাইতে বেশি।
আরেকটা ব্যপার "প্রকৃতি আপনার জন্মের জন্য ঠিক এই সময়টিকে বা এই দেশটিকে বেছে নিলো কেন?” এই ধরণের কথা খুব ধোঁয়াশা ময়। হুমায়ূন আহমেদের অনেক উপন্যাসের চরিত্রও এধরণের কথা বলে, আর এতে হয় অনেকে বিভ্রান্ত! পাঠকরা হয়তো এধরণের কথা পছন্দও করে। অন্তত আশপাশের ছেলেপিলেদের দেখে তাই মনে হয়। সাইন্টিফিক ভাবে সম্পূর্ণ ব্যাপারটা তো এই রকম নয়। পুরোটাই randomness এর ব্যাপার! আর ব্যাপারটা তো 'চান্স' - এর!"