খুন হয়ে গেলেন জেনেটিক্স বিজ্ঞানী আহসান মোবারক। এবার খুন হবে তাঁর মেয়ে মোনা? বোমা বিস্ফোরণে উড়ে গেল বিজ্ঞানীর বাড়ি! ইউএন অফিসে কে বা কারা দিল ভাইরাস মাখা চিঠি? এ কোন্ কাল্ট, লড়ছে ধর্মের বিরুদ্ধে? দুবাইয়ের বুর্জ আল আরব হোটেলের বলরুমে রানার সঙ্গে বেধে গেল মরণপণ লড়াই! সত্যিই কি অমৃত তৈরি করছিল বাপ-বেটিতে মিলে? মস্ত ঝুঁকি নিয়ে খুঁজতে গেল ও উত্তপ্ত মরুভূমিতে।..... তারপর? মোনাকে উদ্ধার করতে গিয়ে ইরানের পরিত্যক্ত এক দ্বীপে রানা দেখা পেল ভয়ঙ্কর এক শত্রুর! কণ্ঠে অকৃত্রিম ঘৃণা নিয়ে সে বলল : 'এবার পারলে বাঁচতে চেষ্টা করো দেখি, বাঙালি গুপ্তচর!' বুঝল রানা, সত্যিই আজ বেজে গেছে ওর মৃত্যুঘন্টা!
কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের ১৯ জুলাই ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম কাজী শামসুদ্দিন আনোয়ার হোসেন। ডাক নাম 'নবাব'। তাঁর পিতা প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, গণিতবিদ ও সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন, মাতা সাজেদা খাতুন। কাজী আনোয়ার হোসেন সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার হিসাবে ষাটের দশকের মধ্যভাগে মাসুদ রানা নামক গুপ্তচর চরিত্রকে সৃষ্টি করেন। এর কিছু আগে কুয়াশা নামক আরেকটি জনপ্রিয় চরিত্র তার হাতেই জন্ম নিয়েছিলো। কাজী আনোয়ার হোসেন ছদ্মনাম হিসেবে বিদ্যুৎ মিত্র নাম ব্যবহার করে থাকেন।
আফ্রিকায় (দংশন) লুচা রানার লগে দেখা হইছিল, জমায়া ঘোরাঘুরিও হইছিল, সেই মাস আষ্টেক আগে। কিন্তু আফ্রিকা টুর শেষে বেচারার মনটা খুব খারাপ হয়া গেছিল (আমারও)। তাই কোথাও আর বেড়াইতে যায় নাই বেচারা, মিশনেও আমিও মনমরা হয়া গেছিলাম। বাড়িতে বইসা বইসা আর কোনো কাজ-কাম না পায়া জম্পেশ কইরা রানার ছোটবেলার কাহিনি শুনছিলাম। তারপর অনেকদিন আর কোনো কন্টাক্ট নাই। শেষমেশ, গত হপ্তায় দুঃখ-টুঃখ বাদ দিয়া একটু ঘুরতে বারাইলাম নিউ ইয়র্কে ইউএন অফিসে। কিন্তু বিধি বাম! গিয়া দেখি অফিস-টফিস বন্ধ কইরা বইসা আছে। কী হইল, কী হইল? গোপন সূত্রে খবর পাইলাম, কোন কুলাঙ্গার জানি ইউএন অফিসে ভাইরাস মাখায়া চিঠি পাঠাইছে, একজন কূটনীতিক অসুস্থ হয়া পড়ছেন —ডরে কাঁপাকাঁপি শুরু কইরা দিছে সবাই।
কী আর করা! মন-টন খারাপ কইরা গেলামগা ক্রোয়েশিয়া। ডুবরোভ্নিকে গিয়া তো দিল খুশ! কারণ? কারণ লুচা রানা যে আলাদীনের দৈত্যের মতন যে হাজির! আমারে দেইখা লম্বা কইরা সালাম দিয়া কইল, 'ওস্তাদ চলেন, নয়া একটা মিশন পাইছি।' কী আর কমু! রওনা দিলাম বেচারার লগে, নাইলে মন খারাপ করব। রানার কাছে সাহায্য চাইছে বাঙালি বিজ্ঞানী আহসান মোবারক, কী নাকি ভীষণ বিপদ। কী আর করা! গেলাম প্যারিস, বেচারারে বাঁচাইতে। কিন্তু মানুষটা মইরাই গেল। রানা গেল খেইপা।
তারপর হাজির এলেনা রবার্টস। এলেনা গেল লেবানন, আমরা দৌড়াইলাম দুবাই, বিজ্ঞানীর কইন্যা, মোনারে বাঁচাইতে। আহা মধু মধু! এ যে এক মালী, দুই ফুল!
Spoiler ... ইরান আমেরিকার শত্রু দেশ হতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশের সাথে তো সম্পর্ক ভাল। এত রিক্স না নিয়ে সীমান্ত পার হওয়ার কি দরকার রানার। সোজা কথা বললেই তো হয়।