রহস্য উপন্যাস/বড়োগল্প লেখা খুব একটা সহজ কাজ নয়, বিশেষত সেই লেখার উদ্দেশ্য যদি হয় শরদিন্দু বন্দোপাধ্যায়-এর দুটি অবিস্মরণীয় গল্প “পথের কাঁটা” আর “শজারুর কাঁটা”-র উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়া| লেখক বইয়ের নামেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি তাঁর গোয়েন্দা অধিরাজ (এবং তার দুই সঙ্গী অর্ণব ও ডক্টর চ্যাটার্জি)-কে সেই পথে হাঁটাতে চলেছেন যে পথে করে গমন ব্যোমকেশ ইতিমধ্যেই হয়েছেন রহস্যপ্রেমীদের প্রাতঃস্মরণীয়| তাহলে প্রশ্ন একটাই: রহস্য-নির্মাণে তিনি কতটা সফল হলেন?
গভীর রাতে ডানকুনির শুনশান রাস্তায় একের-পর-এক ট্রাক-চালকের মৃত্যু হচ্ছে, আপাতদৃষ্টিতে যাদের মৃত্যুর কারণ অজ্ঞাত| কে, কীভাবে এদের মারছে? অতঃপর প্রবেশ অধিরাজ-এর, এবং নানা টানাপোড়েনের শেষে রহস্যভেদ ও খুনি গ্রেপ্তার| কিন্তু হু-ডান-ইট না হয়ে এটা যেহেতু হাউ-ডান-ইট আকারে লেখা হয়েছে, রহস্যের ফাঁক-ফোকড়গুলো বড়ো বেশি করে ধরা পড়েছে| তাছাড়া রহস্য কাহিনিতে হাস্যরসের যে পরিমিত উপস্থিতি লেখকের অন্যান্য লেখায় ভালো লেগেছে, এখানে সেটা বিরক্তিকর ঠেকেছে| সর্বোপরি, লেখক তাঁর অন্যান্য সবক’টি রহস্যকাহিনির মতো এটিতেও শেষ অবধি এক দোলাচলে ভুগেছেন বলে মনে হয়েছে যে, তিনি বড়োদের জন্যে লিখছেন, না ছোটোদের জন্যে?
শেষ রায়: শীতের আমেজে রহস্য-কাহিনি পড়তে ইচ্ছে হলে বইটা নিঃসন্দেহে পড়তে পারেন, তবে তার তুলনায় লেখকের ফেসবুক টাইমলাইনে গিয়ে গোটা লেখাটাই পড়ে ফেলাটা (যেহেতু প্রকাশকের যাচ্ছেতাই মার্কেটিং-এর ফলে বইটা বিশেষ প্রচারিত না হওয়ায় লেখক এই ‘উপন্যাসিকা’-টিকে সেখানেই শেয়ার করে রেখেছেন, কিস্তিতে-কিস্তিতে) বোধহয় ভালো হবে|