Jump to ratings and reviews
Rate this book

বৃষ্টির ঘ্রাণ

Rate this book
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের অন্যতম সেরা সামাজিক জীবনমুখী উপন্যাস।

220 pages, Hardcover

First published January 1, 1985

8 people are currently reading
216 people want to read

About the author

Shirshendu Mukhopadhyay

405 books936 followers
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় একজন ভারতীয় বাঙালি সাহিত্যিক।

তিনি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্গত ময়মনসিংহে (বর্তমানে বাংলাদেশের অংশ) জন্মগ্রহণ করেন—যেখানে তাঁর জীবনের প্রথম এগারো বছর কাটে। ভারত বিভাজনের সময় তাঁর পরিবার কলকাতা চলে আসে। এই সময় রেলওয়েতে চাকুরিরত পিতার সঙ্গে তিনি অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের বিভিন্ন স্থানে তাঁর জীবন অতিবাহিত করেন। তিনি কোচবিহারের ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। শীর্ষেন্দু একজন বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি আনন্দবাজার পত্রিকা ও দেশ পত্রিকার সঙ্গে জড়িত।

তাঁর প্রথম গল্প জলতরঙ্গ শিরোনামে ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সাত বছর পরে সেই একই পত্রিকার পূজাবার্ষিকীতে তাঁর প্রথম উপন্যাস ঘুণ পোকা প্রকাশিত হয়। ছোটদের জন্য লেখা তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
27 (19%)
4 stars
55 (38%)
3 stars
52 (36%)
2 stars
6 (4%)
1 star
2 (1%)
Displaying 1 - 17 of 17 reviews
Profile Image for Rizwan Khalil.
377 reviews600 followers
September 5, 2021
মঞ্জু:
মুখ টিপে হাসি। বলি-এত রোগা হয়ে গেছেন কেন?
-ও এমনিই।
আর কিছু বলে না। আমিও বলি না। দুজনের মধ্যে একটা নিস্তব্ধতার বলয় তৈরি হয়। মানুষে মানুষে কতরকমের সম্পর্ক তৈরি হয়। ভালবাসার, ঘেন্নার, প্রতিশোধের। এসবের বাইরেও বোধহয় আর একরকমের সম্পর্ক আছে। সেটা কেমন তা স্পষ্ট বোঝা যায় না। কিন্তু আছে। আমি টের পাই।
কেউ কোন কথা বলি না। এত ভীড় মানুষ কাছ ঘেঁষে যাচ্ছে, আসছে। তার মধ্যেই কয়েক মুহুর্তের মুখোমুখি দাড়িয়ে থেকে আমি সম্পর্কটা অনুভব করি। অন্যমনে মুখ টিপে হাসি। নেন্টু একপলক আমার মুখ দেখে। চোখ নামিয়ে নেয় । তারপর মৃদু হাসে।

সোমসুন্দর:
বৃষ্টি মনের আনন্দে পড়ছে তো পড়ছেই। জলে মাটিতে গভীর ভালবাসার শব্দ হয়।
একটা অন্ধকার শো-কেসের পাশে লম্বা একজন ছেলে দাঁড়িয়ে আছে। চমকে উঠি। নীতু না?
না নীতু নয়। আমি আবার হাঁটি। আপনমনে হাসি। ভয় কি নেন্টু? এ তো জানা কথা যে, আবার পুলিশ আসবে। বার বার সার্চ করবে বাড়ি। তোমাকে নিয়ে যাবে হয়তো বা। বাবু নেই, দিলীপ রয়েছে। তার দলবল ঘুরছে কলকাতায়। নীতুর গুলি ফসকেছে। কিন্তু সেও আসবে। চারিদিকে কোথাও তোমার জন্য কোনো নিরাপদ জায়গা নেই। খোলা রাস্তায় তোমাকে বেরুতে হবেই। তাতে ভয় কি নেন্টু? এসব তো ঘটেই। এরকম তো হয়।
হয়। জীবন এরকমও হয়। আবার অন্যরকমও হয়। নানা রকমের। আমি আমারটা যাপন করছি। ভয় কি?
চারিদিকে বৃষ্টির ঘেরাটোপ। বোধহয় রাত বারোটা বেজে গেছে। লোকজন নেই, গাড়ি নেই। জলে কলকাতার প্রতিবিম্ব ভেঙ্গে ছড়িয়ে যাচ্ছে। ঠান্ডা হয়ে আসে মাটি। আমার শীত করে। বর্ষাতিটার সব বোতাম নেই। ভিজে যাচ্ছে গা। হু-হু হাওয়া দিচ্ছে। তবু হাঁটতে থাকি। হাঁটতে তো হবেই।

বৃষ্টির ঘ্রাণ, লেখক: শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। প্রায় সব পাঠকই শীর্ষেন্দু'র লেখা সবচেয়ে প্রিয় উপন্যাস বলতে পার্থিব, বা দূরবীন, বা মানবজমিন, বা যাও পাখি, অথবা অন্য কোনো বইয়ের নাম বলেন... আমার কাছে সবসময়ই বৃষ্টির ঘ্রাণ বইটি তার লেখা সবচেয়ে প্রিয়, সর্বাধিক পঠিত উপন্যাস। এই উপন্যাসের গল্পকথন, লেখনি, চরিত্রায়ণ-এর মতো এত গভীর ভাবে শীর্ষেন্দু'র আর বই আমাকে নাড়া দিতে পারেনি (পার্থিব আর যাও পাখিও অবশ্য এই ব্যাপারে অনেকাংশে সফল)। কাহিনিবিন্যাস হয়তো 'দূরবীন' বা 'পার্থিব'-এর মতো এতো সুদূরপ্রসারী ও উচ্চাভিলাষী নয়, তবে এতে যা আছে তা হলো সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মি দুটি চরিত্রের নিখূঁত চরিত্র চিত্রায়ণ, সম্পূর্ণ বিপরীত দৃষ্টিভঙ্গি কিভাবে ঘটনাপ্রবাহে শেষে একই বিন্দুতে মিলিত হয় সেই আলেখ্য... আর ঘটনানির্ভর গল্পের তুলনায় চরিত্রনির্ভর গল্প আমি চিরকাল বেশি পছন্দ করি। মূল চরিত্র সোমসুন্দর ওরফে 'নেন্টু' যে আমার পড়া বাংলা উপন্যাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও শক্তিময় পুরুষ চরিত্র এটা আমার কাছে সন্দেহাতীত।

ইতোমধ্যে বইটি আমার অসংখ্যবার পড়া হয়েছে, ভবিষ্যতে আরো অসংখ্যবার পড়া হবে। এমন অনন্যসাধারণ অথচ স্বল্পপরিচিত শীর্ষেন্দুর অন্যতম কিঞ্চিতদীর্ঘ উপন্যাসটিকে পড়ার প্রতি যদি কয়েকজনকেও উৎসাহিত করতে পারি এবং তাঁরা যদি পড়ে আমার কিয়দংশও আনন্দ উপভোগ করতে পারেন তাতেই আমার পরিতৃপ্তি।
মানুষের আছে স্বস্তিকর বিস্মৃতি। ...পৃথিবীতে ঘটনাগুলির গভীরতা কত কম! সময়ের দমকা হাওয়া আসে, ধুলোবালির মতো সব উড়ে যায়। ভুলোমন মানুষের মত পৃথিবী ঘুরে চলে।
Profile Image for কিশোর ইমন.
Author 40 books735 followers
March 16, 2021
বন্ধু সালমান বলেছিল, "কেপি, তোমাকে এই বইটা পড়তেই হবে। এর যে প্রধান চরিত্র, তার ব্যাপারে পড়তে গিয়ে আমার বার বার তোমার কথা মনে পড়েছে।"

এমন প্রলোভন এড়ানো যায় না। প্রথম সুযোগেই কিনে ফেললাম। একেবারে খাপে খাপ। নেনটু চরিত্রটা যেন আমাকে ভেবেই লেখা। সালমানের চমকে ওঠার ব্যাপারটা বুঝলাম। নিজেও চমকালাম।

কাহিনী সংক্ষেপ এমন - নেনটু জানে তার দাদা ছিলো একজন খুনে। নেনটুর বাবা মনে করে এক জেনারেশন গ্যাপ দিয়ে, ঠিক থার্ড জেনারেশনে পূর্বপুরুষের সবটা এসে পড়ে। তাই সন্তানদের নিয়ে তার চিন্তার অন্ত নেই। বাবাটির ছেলে তিনজন। বড়জন ধাড়ি বয়সে এসে রাজনীতির দিকে বেশ মনোযোগী হয়ে উঠলো। ফলাফল হিসেবে তাকে ইউনিয়ন থেকে তো বের করে দিলোই, মারার জন্য ঘুরে বেড়াতে লাগলো নানা লোক। এ নিয়ে আছে দুশ্চিন্তা। এদিকে মেজো ভাই বিয়ে করতে যাচ্ছে পাড়ার এক মেয়েকে, যার সাথে একসময় নেনটুর নিজেরই ভাব হচ্ছিলো।

নেনটু একজন পেশাদার বক্সার ছিলো আগে। এখন বক্সিং থেকে রিটায়ার করেছে। তবে লড়াই থেকে নয়। রিংয়ের বাইরে কাউকে ঘুষি মারা হচ্ছে না বলে সে নিজের ওপর অত্যাচার ডেকে আনে মাঝে মাঝে। অযথা একটা শোরগোল তোলে যখনই তার মনে হয় পরিপাটি আর বড়লোকেরা কিছু একটায় সুযোগ নিচ্ছে বেশি। এই যে তার মধ্যে একটা বিপ্লবী চেতনা, তার সাথে নিজের অপ্রাপ্তি আর জীবনদর্শন মিলিয়ে এমন এক জগাখিচুরি হলো, তা নিয়েই গল্প।

অদ্রির ফিয়ান্সে মঞ্জুর প্রতি তার একটা আলাদা টানও আমরা দেখি। সংসারের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয়গুলো তার মধ্যে আবার তেমন প্রভাব ফেলে না। সে যেন বড় একটা লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য কিংবা বড় কিছুর জন্য বাঁচার জন্য ব্যাকুল, অথচ পৃথিবী আর সময় কি তাকে সেই সুযোগ দেবে? এই টানপোড়ন নিয়ে গল্পটা বেশ দারুণভাবে এগিয়েছে। যথারীতি আছে পিস্তল, মারামারি, ছুরি এবং গুলি, পুলিশ ও হাঙ্গামা, সমাজ ও পরকীয়া, প্রভৃতি।

সুখপাঠ্য। নেনটুর মাঝে আসলেই নিজেকে খুঁজে পেলাম।
সালমানকে ধন্যবাদ।

*** বাকিদের রেটিং দেখে বুঝতে পারছি তারা আসলে এই বইটার এসেন্সই ধরতে পারেনি :D এমনটা স্বাভাবিক। দশটা সাধারণ লোক এই বইকে স্পর্শ করতে পারবে না। দাঁতই ফুটবে না তাদের। নেনটুর জীবন বোঝার জন্য যতখানি ঘোরচক্করে জীবন দরকার ততখানি হাঙ্গামা অধিকাংশ বাঙালির জীবনে নেই।
Profile Image for Harun Ahmed.
1,671 reviews442 followers
July 2, 2023
এ গল্প নেনটু বা সোমসুন্দরের। যার "নিজের বা কারো সর্বনাশ করে যেতে ইচ্ছে করে।" যে ভাবে "পৃথিবীতে আমার আঁচড় কামড়ের কোনো দাগ বসে না।আমি বড় দুর্বল।" যার প্রবল আক্রোশ আসলে কার প্রতি সে নিজেই জানে না।

এ গল্প মঞ্জুর। যে ভাবে, "একটা কিছু, একজন কাউকে খুঁজে বেড়ানো আমার খুব দরকার। আমি যে সব পেয়ে যাচ্ছি! কিছুই খুঁজতে হচ্ছে না।" সবকিছু সহজে পেতে পেতে যে কোনোকিছুতেই আকর্ষণ বোধ করে না।
এ গল্পটা দুই বিপরীত মেরুর মানুষের, তাদের মিলে যাওয়া বা না মিলে যাওয়ার গল্প।
এ গল্প নেনটুর ফেরারী বড়ভাই, রাণু, মালা, সুনু, নীতু, অদ্রি, মনোতোষ, নেনটুর অসহায় বাবার; এ গল্প এক অস্থির সময়ের, এ গল্প আমাদের সবার। নেনটুর ক্ষোভ, রাণুর অসহায়ত্ব, মঞ্জুর নিঃসঙ্গতা ভীষণ জীবন্তভাবে ধরা দেয় আমাদের কাছে। এ উপন্যাসের সবাইকে খুব আপন মনে হয়।
পুরো উপন্যাসজুড়ে খরা, তীব্র খরা, প্রখর রোদ চরিত্রগুলোর অন্তর্জগৎ ও বহির্জগৎ ঝলসে দেয়।এরা অপেক্ষায় থাকে বৃষ্টির, অপেক্ষায় থাকে বৃষ্টির ঘ্রাণ নিয়ে বেঁচে থাকার।

(৬ জুন, ২০২১)
Profile Image for Shuk Pakhi.
515 reviews318 followers
January 30, 2016
বইয়ের প্রধান নারী চরিত্র মঞ্জু এবং প্রধান পুরুষ চরিত্র সোমসুন্দর ওরফে নেনটু বাহ্যিকভাবে তারা দুইজন দুই দুনিয়ার মানুষ।কিন্তু মনোগতভাবে তারা যেন একজন আরেকজনের প্রতিবিম্ব।মেয়েটি যা কিছু চেয়েছে, সবই পেয়েছে। তার জীবন খুব সহজ অংক কিন্তু সে কিছু জটিলতা চায়, চায় সে কোন অন্যায় করলে অন্যরা সেটা হাসিমুখে মেনে না নিয়ে তাকে খুব বকা দিক, রাগ করুক তার উপরে, তার কাজে বাধা দিক।আর ছেলেটির একসময়কার ভালোবাসারজন কি অবলিলায় চলে গিয়ে অন্য কারো হাত ধরছে, কি অবহেলে তাকে ভুলে যাচ্ছে, ছেলেটি রাগ করে মেয়েটি কোন প্রতিক্রিয়া দেখায় না, আহ এওকি সহ্য করা যায়! নেনটুর বড়দা হারিয়ে গেছেন।তাকে পরিবারের লোকজন খুঁজছে, পুলিশ খুঁজছে, বন্ধুরা খুঁজছে….আমার কাছে মনে হয়েছে এবইয়ের প্রতিটি চরিত্রই যেন আসলে হারিয়ে গেছে, তারা প্রত্যেকে নিজেকেই খুঁজে বেড়াচ্ছে।পরিবারে ও সমাজে নিজের অবস্থান খুঁজে ফিরছে। দারুন একটা বই।
Profile Image for NaYeeM.
229 reviews66 followers
March 16, 2022
"পৃথিবীতে কিছুই দাগ কাটে না। কতকিছু ঘটে আবার মুছে যায়৷ একখানা স্লেটের মতো"


গল্পের মানুষগুলো বৃষ্টির অপেক্ষাতে ছিল। অনেকদিন বৃষ্টি আসছিল না বলে খরা দেখা দিলো, গ্রামের মানুষ শহরে আসলো, মিছিল বের হলো, আরো কত কি....
শেষে বৃষ্টি এলো......

কিন্তু আসলো না একটা মানুষ।।
তার ঘরের সবাই চিন্তিত ছিল কবে ফিরবেন।
এই মানুষটা ঘর থেকে চলে যাওয়ার পর আমি অপেক্ষায় ছিলাম উনি কবে ফিরবেন, কবে ফিরবেন.....
অপেক্ষা যে কতটা কষ্টকর তা এই কিছু পৃষ্ঠার বই পড়ে বুঝতে পেরেছি!! বইয়ের শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত অপেক্ষায় ছিলাম মানুষটা ফিরবে।

মনটা কেমন ভার হয়ে আছে উনি ফিরলেন না বলে। শীর্ষেন্দু বাবু কি এক কষ্ট চাপিয়ে দিলেন!! কেমন এক আশাহত অপেক্ষমাণ কাকের মতো মনে হচ্ছে নিজকে


আর গল্প সাজানো, লেখার স্টাইল সবকিছু ছিল topnotch! গল্পের চরিত্রগুলো মনে হচ্ছিল জীবন্ত! সবকিছু চোখের সামনে ভাসছিল.....
খুব ভাল লাগলো বইটা, তবে ঐ যে বললাম??
একটা আক্ষেপ, একটা মনভার করা কষ্ট থেকে গেলো মানুষটা ফিরলো না বলে

"মানুষে মানুষে কত রকমের সম্পর্ক তৈরি হয়। ভালবাসার, ঘেন্নার, প্রতিশোধের। এ সবের বাইরেও বোধহয় আর এক রকমের সম্পর্ক আছে। সেটা কেমন তা স্পষ্ট বোঝা যায় না। কিন্তু আছে। আমি টের পাই"
This entire review has been hidden because of spoilers.
Profile Image for Ësrât .
516 reviews86 followers
June 7, 2021
কলকাতার ক্ষয়াটে সমাজের স্থির চিত্র কালের আবর্তে ঘুরপাক খেয়ে একইবিন্দুতে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে ত্রৈধবিন্দুর মতো সে গত কয়েক সময় শতক বা শতাব্দী ধরে। বিপ্লব এখানে আসে নীরবে কিন্তু তার ছাপ ছেড়ে যায় সরবে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে।

যেখানে গা বাঁচিয়ে পাশ কাটিয়ে চলার রুটিনমাফিক জীবনে নিত‍্যসুন্দর,অদ্রি, সুধাংশু দের জয়জয়কারে মাঝে চাপা পড়ে যায় বা দীর্ঘদিনের ক্ষোভ খেয়াল নিয়ে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে সত‍্যসুন্দর ,নীতুরা।

এর মাঝে কুমুদবন্ধুর তৃতীয় প্রজন্মের পাগলা ঘোড়া নেনটু ওরফে সোমসুন্দরের গল্প ঐ তীব্র তাপদাহে পুড়ে ছারখার হয়ে যাওয়া সে উষর মাঠের মতো যা পানির অভাবে হয়ে গেছে ধূসর ধোয়াটে বিবর্ণ। যেখানে সমাজের এপার ওপার বাস করে ও মনোজাগতিক প্রতিবিম্বে মিলেমিশে একাকার মঞ্জু নেনটু।

মায়ানগরীর মরীচিকাতে থেকেও কোথাও যেন সুরকাটা গানের একঘেয়ে তালে চক্রাকারে ঘুরতে থাকে মঞ্জু,যে জীবনে তার আছে অফুরন্ত ভালোবাসা,অপরকে অনুকম্পা করার সুযোগ,আকাশ সমান অপরাধে ও আছে অপরিসীম ক্ষমা আর ছাড়।তবুও সে একা স্থবির এক বিমুঢ় ছবি যে মুখ ফিরিয়ে নিতে চায় এই নিশ্চিত নিয়তি থেকে,যে খুঁজে নিতে চায় অপ্রত্যাশিত অপ্রতিরোধ্য কোনো পরাবাস্তবের মাঝে অবাস্তবতাকে।যেখানে নেই অদ্রির বাহুবন্ধনে বন্দি থাকার অলিখিত কোনো চুক্তি,রাস্তার মোড়ে একঝাঁক চোখের একরাশ স্তুতি উপভোগের কোনো আসক্তি।

আরেকদিকে নেনটুর নিরাসক্ত কিন্তু বিবাদ পূর্ন জীবনে জলে ভাসা পদ্মের মতো হারিয়ে গেছে বক্সার হওয়ার স্বপ্ন,মালা চলে গেছে ছোড়দার কাছে কিংবা ছোড়দা মালা এসেছে কাছাকাছি গানের গল্পে।

এক নিরানন্দ জীবনে তার সব ছেড়ে গেছে একটু আগে বা পরে,শিব রাত্রির সলতে বলে যে প্রতিশোধ স্পৃহায় প্রজ্বলিত থেকে প্রস্ফুটিত থাকার সম্ভাবনা বা দুর্ভাবনায় বাবা কদমসুন্দর স্বাস্তায়ানে স্বস্তি খুঁজতে চেয়েছেন, বিধাতা পুরুষ বরদানে বলিদানে চলে গেছে নেনটুর সেই কোটরগত প্রেতচক্ষুর তেজ।

তীব্র খরার পর বাঁধভাঙা বন‍্যায় ভেসে গেছে সব।

অনেকেই শীষেন্দুর দূরবীন মানবজমিন বা যাও পাখিরসাথে বৃষ্টির ঘ্রাণ নিয়ে করেছেন উচ্ছসিত প্রশংসা কিন্তু দিনশেষে আর কয়েকটা সাদামাটা গল্পের কাতার থেকে আলাদা করে প্রশস্তি করার মতো উপকরণ এই অধমের চোখে পড়েনি। কিছু জায়গা পড়ে মুগ্ধ হয়েছি গৎবাঁধা শীর্ষেন্দু সরসবাকে‍্য কিন্তু সেই পার্থিব বা অন্যান্য লেখার মতো যে শিহরণ পেয়েছিলাম তা অনুভবের অন্দরমহলের চৌকাঠে ঘুরেছে মাড়িয়ে আর ঢুকতে পারেনি।

রেটিং: 🌠🌠🌠.৭০
7/06/21
Profile Image for Shuvo.
84 reviews3 followers
July 2, 2023
কলকাতার ইতিহাসের কোনো এক উত্তাল সময়। যখন শহরের ঘাসের বুকে ফসফরাসের মতো জ্বলতে থাকা রোদেরা, দিনের পর দিন আসতে থাকে পোড়া গন্ধকের ঘ্রাণ নিয়ে। বৃষ্টি তো দূর, আকাশে কোনো মেঘের চিহ্নও দেখা যায় না, ধীরে ধীরে মানুষ ভুলে যেতে থাকে বৃষ্টির ঘ্রাণ।

এরকমই টালমাটাল, অস্থির, শুষ্ক আবহাওয়ার উপকন্ঠে, ক্রোধ,অপমান, হতাশায় বালির বস্তায় ঘুষি মারতে থাকা সোমসুন্দরকে দেখতে পেলাম । যে কখনও কখনও চিন্তা করে, তার 'বেঁচে থাকা বুঝি কেবল কয়েকটা প্রতিশোধের জন্যই!' কিন্তু আবার আক্ষেপে তার গলা কাঁপে যখন দেখে কোথাও তার আঁচড় কিংবা কামড়ের দাগ বসছে না । অনুভব করে সে বড় দূর্বল, খুব আলগাভাবে লেগে আছে পৃথিবীতে। আবার ক্ষণে ক্ষণে রাগে গায়ে শুয়োপোকার মতো রোঁয়া দাঁড়িয়ে যায়। থির থির করে শরীর কাঁপতে থাকে। অথচ সে ভেবে পায় না, কিসে এতো ক্ষোভ তার অথবা সে আসলে কি চায়?

একে একে দেখা মেলে মঞ্জু, নীতু, সত্য, মনোতোষসহ আরো অনেকের। সবার জীবন, জীবনের জটিলতা, আশা-হতাশা,প্রেম সবকিছুকে দুমড়ে মুচড়ে শীর্ষেন্দুবাবু একজায়গায় আটকে দিয়েছেন। ফলে বইয়ের চরিত্রগুলোকে রক্তমাংসের চরিত্র কল্পনা করতে খুব একটা বেগ পেতে হয় নি।

প্রায় একশ পৃষ্ঠার উপন্যাস পড়ে ফেললাম এক টানায়। কোথাও কোনো ক্লান্তি ভর করে নি। ঘটনা কিংবা বাক্যের কোনো বাহুল্য খুঁজে পাই নি। যেন, যে লাইন, যে শব্দ যেখানে বসার কথা সেখানেই খুব সুন্দর করে বসানো আছে। পড়তেও আরাম লাগে।


এর পরবর্তীতে শীর্ষেন্দুর আর যেকোনো উপন্যাসই পড়ি না কেন, 'বৃষ্টির ঘ্রাণে'র মতো মৌলিক স্বাদ আর পাবো বলে মনে হয় না।


...


"মানুষে মানুষে কত রকমের সম্পর্ক তৈরি হয়। ভালবাসার, ঘেন্নার, প্রতিশোধের। এ-সবের বাইরেও বোধহয় আর-এক রকমের সম্পর���ক আছে। সেটা কেমন তা স্পষ্ট বোঝা যায় না। কিন্তু আছে। আমি টের পাই"

"একটা নিস্তব্ধ পুকুরে হঠাৎ ঢিল পড়লে ঢেউ ভাঙে ঠিকই, আবার সময় নিয়ে নিস্তরঙ্গ হয়ে যায় জল। মানুষের সমাজ ওই রকম। মানুষের আছে স্বস্তিকর বিস্মৃতি"

...

বিকেলের ঘ্রাণ
- শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

পার্সোনাল রেটিং: ⭐⭐⭐⭐ (4 /5)
Profile Image for Ratika Khandoker.
311 reviews35 followers
March 26, 2022
প্রি-প্রফ এর আগে ইহাই আমার শেষ বই,এর মধ্যে নতুন বই ধরলে আমি নেন্টুর ঘুষির দাবীদার।আগামী কয়েকদিন শুধু নেন্টুর ছোড়দার মতো পড়াশোনা করবো।
তো আমার বইখানাতে দু'টি উপন্যাস ছিলো।
১.শূণ্যের উদ্যান ৩/৫ তারকা
২.বৃষ্টির ঘ্রাণ ৪/৫ তারকা
দুটি ভিন্ন উপন্যাস হলেও এদের মধ্যে কি জানি একটা মিল ছিলো। ভেবে বের করলাম,দুই উপন্যাসেই একটা খরা ভাব প্রবল।
শূণ্যের উদ্যানে খরা ভাব ছিল গৌরার মনে,জীবনে,ভাগ্যে আর তার পোলিওর কবলে পড়া রুখা শুখা হাত পা খানায়। বইখানা শেষ করে বেশ একটা ঝিম ভাব হলো।
ওদিকে বৃষ্টির ঘ্রাণ এর বর্ণিত কলকাতা-বাংলাদেশ তখন খরার শুষ্কতায় কেমন তেতে আছে।আবার ওই যে মানুষগুলো,কেউ কেউ সব পেয়েও কেমন রিক্ত,কেউ কেউ স্বজন হারিয়ে রিক্ত,কেউ বা মনে জ্বালা অনুভব করে কিন্তু কিসের জন্যে,কোন প্রতিশোধের দাবদাহে,তা তারা ভেবে পায়না।
লেখনী নিয়ে আর কি বলবো নতুন করে?!
মনভার করে দেয়া সহজ,সুন্দর ক্লাসিক শীর্ষেন্দু।
Profile Image for Sneha.
56 reviews96 followers
September 4, 2021
বৃষ্টির ঘ্রাণ একটা সামাজিক জীবনমুখী উপন্যাস। এই উপন্যাসটি দুটো চরিত্রের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন লেখক। এই উপন্যাসের প্রধান পুরুষ চরিত্র সোমসুন্দর ডাকনাম নেনটু আর নারী চরিত্র মঞ্জু, মঞ্জুর জীবন টা সহজ, জীবনে যা চেয়েছে সব পেয়েছে,কেও তার দোষ ধরে না, কেও তাকে শাসন করে না,তার জীবনে কোনো জটিলতা নেই। কিন্তু মঞ্জু তাতে সুখী নয় সে চায় তার জীবনে সব কিছু হাতের কাছে না থাকুক, কিছু একটা, কাওকে একজনকে খুঁজে বের করুক। কেও তার দোষ ধরুক তাকে শাসন করুক। তার জীবনে জটিলতা আসুক। অপরদিকে নেনটু, তার উদ্দেশ্যহীন জীবন, মাঝে মাঝেই মাথা গরম হয়ে যায়,মাথা গরম করে জীবনে অনেকের কাছে প্রতিশোধ নিতে চায়, কেনো চায় তার কোনো আসল কারণ কখনো খুঁজতে চায় না। সে প্রতিশোধ এর কথা কিছুতেই ভুলতে পারে না, শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে নিয়ে যেতে চায় কিন্তু একটা পর্যায়ে এসে বুঝতে পারে সবাই তার রিংয়ের অনেক বাইরে চলে গেছে। প্রতিশোধ এর বিষয় টা এখন ছেলেমানুষি! তার রাগ, অভিমান, প্রতিশোধ এসবের কোনো মূল্য অন্যজনের কাছে নেই। নেনটুর কথায়, "এই অবহেলায়, উপেক্ষায় আমার শরীর আবার কেঁপে ওঠে। অসহায়ভাবে বুঝতে পারি, পৃথিবীতে আমার আঁচড়-কামড়ের কোন দাগ বসে না। আমি বড় দুর্বল। " কোথায় যেন বাস্তবতার একটা রুপ তুলে ধরেছে লেখক। গল্পের একটা পর্যায়ে নেনটুর বড় ভাই হারিয়ে যায়। গল্প এগিয়ে যেতে থাকে, একটা সময় মনে হয় গল্পের চরিত্রগুলো সবাই যেন হারিয়ে যাচ্ছে নিজের মধ্যে, খুঁজে চলেছে নিজেকে।
নেনটু এবং মঞ্জু দুটো মানুষের কথার ধরন চরিত্রায়ন আলাদা হলেও কীভাবে যে মিলে যাচ্ছে সেটা পাঠক কে ভাবাবে, ছোট্ট একটা উপন্যাসে প্রেম দুর্ভিক্ষ, রাজনীতি সব কিছুই আছে। দুটো অগোছালো জীবনকে সুন্দর করে গুছিয়ে বর্ণনা করে বাস্তবতার চাদরে মুড়িয়ে দিয়েছেন লেখক।
এ গল্প বাস্তবমুখী গল্প, আমাদের সবার গল্প।
গল্পের শেষটা- "জীবন এরকমও হয়।আবার অন্যরকমও হয়। নানা রকমের। আমি আমারটা যাপন করছি। ভয় কি? "

এতো সুন্দর,এতো সুন্দর একখানা বই।
Profile Image for Kashfia .
38 reviews1 follower
November 21, 2025
কলকাতার এক খরার সময় লেখা বই তাই বই এর নাম বৃষ্টির ঘ্রাণ , কি সুন্দর নামকরণ ।
Profile Image for Supriya Bandyopadhyay.
2 reviews1 follower
December 8, 2025
বৃষ্টির ঘ্রাণ শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের এমন একটি উপন্যাস যা 70 এর দশকের উত্তাল সময়ের তৈরি হয়ে ওঠাকে ধরতে চায়, যেখানে ঘরে ঘরে ছেলেরা পাল্টে যাচ্ছে, ছড়িয়ে পড়ছে গ্রামে গঞ্জে। তাদের হৃদয়ে আগুন, চোখে বদল আনার স্বপ্ন আর পকেটে অস্ত্র। এমন ই সেই সময়কে কয়েকটি বিশেষ চরিত্রে কি নিপুন ভাবে বুনে চলেন এই লেখক, তা আমরা প্রত্যক্ষ করি এই উপন্যাসের পাতায় পাতায়। একদা বক্সার হতে চাওয়া সোমসুন্দর যার ডাক নাম নেন্টু, যার চোখে আছে একটা ঠান্ডা রাগ, যে আপাত সুখী , নির্বিকার মানুষগুলো র ওপর হঠাৎ হঠাৎ রেগে যায়, আর তার হাত নিশপিশ করে ওঠে, এই উপন্যাসের মূল চরিত্র। অথচ তার বুকে ভালোবাসা তিরতির করে। দাদা, বৌদি তাদের ছোটো ছোটো দুটি ছেলেমেয়ে, ছোড়দ ,বৃদ্ধ বাবা, মা এদের প্রতি আছে ভালোবাসা। দাদা সত্য হঠাৎ একদিন ঘর ছাড়া হয়‌।

সংসারের মানুষগুলোর প্রতি মমতা আর ভালোবাসা র ছোঁয়া শীর্ষেন্দু তার প্রতি টা উপন্যাসে যেন রাখতে চান। অথচ সেই ভালোবাসা র টান অগ্রাহ্য করে আরো কোনো বিশেষ আবেগে ঘর ছাড়ে বড়ো ভাই সত্য । তার ভেতরে কি এক তাগিদ কাজ করে, সে গ্রামেগঞ্জে ঘুরতে থাকে। চোখে থাকে স্বপ্ন।

পাশের বাড়ি র মালাকে দেখলে নেন্টুর বুকে ভালোবাসা পাক খায়। কিন্তু মালাকে সে ছুঁতে পারেনা। অধরা থেকে যায় সে। মন্জুর সঙ্গে হঠাৎ দেখা হয় বিয়েবাড়িতে, যে মঞ্জু তার সৌন্দর্য নিয়ে, পারিবারিক বৈভব নিয়ে বাগদত্তা অদ্রির কাছে, কিন্তু এক ভয়ঙ্কর অপরিপূর্ণতা তাকে কুরে কুরে খায়। সব থাকার ,সব পেয়ে যাবার পরে যে অসহ্য অস্থিরতা তাকে বিমর্ষ , বিষণ্ণ করে তোলে, খর দুপুরের রূপোলী প্রখর সূর্যের তাপে যখন শহর কলকাতা ঝলসে যায়, তখন সে তার অস্থিরতার জ্বালা অনুভব করে। অথচ নেন্টুর চোখে এক ঠান্ডা চাহনি আর দৃঢ়তা, ক্লিষ্ট মানুষের সেবা করতে নামা সুখী মানুষের ট্রাককে যখন আটকে দেয় নেন্টু আর তার দল, তখন সে ট্রাকে বসে রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতে গাইতে অবাক চোখে তা দেখে। তার ভাবী স্বামী অদ্রির সৌন্দর্য, ঝকঝকে চাকরি, বহুদিনের মেনে নেওয়া সম্পর্কে র ভারে ঈষৎ ক্লান্ত মঞ্জু কি যেন খোঁজে অনবরত‌।

এই উপন্যাসের সকলেই এক অপূর্ণতার ভারে অস্থির থাকে। শহরের আনাচে কানাচে যখন ঝলসে ওঠে ছুরির ফলা, বারুদের গন্ধে বাতাস ভারী হয়ে থাকে, পুলিশের বুটের শব্দ শোনা যায় গলিতে গলিতে, তখন এই সব চরিত্র রা কিছু খুঁজে বেড়ায়।

একটু একটু করে আমরা এই সব চরিত্রের মধ্যে ঢুকে যেতে থাকি। তাদের অস্থিরতা, ভালোবাসা , মমতা আর অপূর্ণতা আমাদের ভাবায়। অসামান্য গদ্যে শীর্ষেন্দু ষাটের দশকের শহর কলকাতা ও বাংলার ছবি আঁকেন, যেখানে থাকে মনোতোষের মত চরিত্র - ব‌উ সন্তান নিয়ে বেঁচে থাকা রেসের ঘোড়া আর জুয়ার নেশায় মত্ত যার বুকে থাকে ভালোবাসা,নেন্টু র কাছে টাকা ধার করা সেই মনোতোষ অক্লেশে ছুটে যায় গুন্ডাদের ভিড়ে ,নেন্টুকে রক্ষা করতে। জখম হয়ে পড়ে থাকে হাসপাতালে র বিছানায়, তবু সে জীবনকে ভালোবাসে।

এই সব চরিত্রদের মধ্যে মঞ্জু আর সোমসুন্দর এই উপন্যাসের দুই মূল চরিত্র হয়ে কলকাতা শহরের দিনরাত্রি,প্রবল গ্রীষ্মের দাবদাহে ফুটিফাটা উত্তাপের ভেতরে অস্থিরভাবে ঘুরে বেড়ায়। মিলিয়ে যায় সত্য , তার স্ত্রী,সন্তান বাবা মাকে ��েলে- গ্রাম গঞ্জের রাস্তায়। এই সেই সময় যখন মানুষ নিজের ভালোবাসা,নিজেকে ভালোবাসা র পাশাপাশি সমাজ বদলের তাগিদ অনুভব করে।

সমাজ ও মানুষের হৃদয়ের ছবির এমন চিত্রকরকে প্রণাম।


Profile Image for Gain Manik.
365 reviews4 followers
May 8, 2025
গত পরশু পিরোজপুরে দুপুরে ঝুপ করে ঝুম বৃষ্টি নামে —তখন‌ই মনে আসে শীর্ষেন্দুর বৃষ্টির ঘ্রাণের কথা।
নেনটু কে?
থার্ড জেনারেশন হিসেবে বাবার বাবা থেকে উত্তরাধিকারে পাওয়া একগুঁয়েমি আর অত্যধিক রাগ যা তাকে মূলত সর্বস্বান্ত করার দিকেই নিয়ে যাচ্ছে ক্রমশ। নেনটু আগে বক্সার ছিল তাই মারতে হাত সর্বদা নিশপিশ করে কিন্তু মোরালিটি রিং এর বাইরে কাউকে মারতে দেয় না তাই রাগ দমাতে সে নিজেকেই আঘাত করে। প্রিয় বড়ভাই নিরুদ্দেশ হয়েছে —যে কিনা প্রচন্ড সৎ এবং বৈপ্লবিক চিন্তায় বাস্তব থেকে বিচ্যুত —সৎ হবার কারণেই তাকে ইউনিয়ন থেকে বহিষ্কৃত হতে হয়, তার বিরুদ্ধে পুলিশ কেস হয়—ধরা পড়লেই ইউনিয়নের হাতে খুন হতে হবে তাই সর্বদা লুকিয়ে বেড়ায়। অন্যদিকে নেনটুর এককালের প্রেমিকা তার ছোট দাদার সাথে বর্তমানে প্রেম চলছে, শীঘ্রই বিয়ে। আবার বড়ভাইয়ের বিয়েতে যে সুন্দরী মেয়েটিকে(মঞ্জু)দেখে ভাল লাগলো একটু পরেই দেখলো তার বাগদত্তা অদ্রি কত সুন্দর। নেনটুর চেহারা সুন্দর নয় এবং আবেদন সৃষ্টিতে অক্ষম। নেনটু যেন দুঃখের সমুদ্রে নিমজ্জিত —সে এর প্রতিশোধ নিতে চায়। কিন্তু কার ওপর? অদ্রি?নিতু? ভাবী ভ্রাতৃবধূ বা তার সাবেক প্রেমিকা?ক্ষরাক্লিষ্টদের জন্য মিছিল করা এলিট?স্বয়ং? কে তার আঘাতের লক্ষ্য?

এই উপন্যাসের টাইম ফ্রেমে ড্রটের কথা উল্লেখ আছে —বৃষ্টির জন্য প্রতীক্ষা সবার-সকলে বৃষ্টির ঘ্রাণ নিতে উদগ্রীব। শেষ অধ্যায়ে দেখি রেইনকোট পড়ে নেনটু অদ্রির বোন সুনুর বিয়েতে যায়-বৃষ্টি থামছে না তাই বৃষ্টির মধ্যে‌ই রেইনকোট গায়ে ফিরতি পথ ধরে যদিও অদ্রি তার গাড়িতে লিফট দিতে চেয়েছিলো। এগুলো overt. Covertly, নেনটু আছে অনেক দুঃখে জর্জরিত হয়ে সে এর থেকে পরিত্রাণ পেতে চায় যেমন ক্ষরাক্লিষ্টরা এখন একটু বৃষ্টির ঘ্রাণ শুঁকে দেখতে চায়।
Profile Image for Heaven's  Garden.
29 reviews1 follower
June 2, 2022
অনেক গভীরবোধে ঠাঁসা একখান বই আবার ভীষণ মনোহরও, একবার পড়া শুরু করেছি তারপর পৃষ্ঠাগুলো আমায় টেনে নিয়ে চললো তো চললোই।

বইয়ের প্রধান নারী চরিত্র মঞ্জু এবং প্রধান পুরুষ চরিত্র সোমসুন্দর ওরফে নেনটু, বাহ্যিকভাবে তারা দুইজন দুই দুনিয়ার মানুষ। মূল কাহিনীতে আছে সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী দুটি চরিত্রের নিখুঁত চরিত্রবিন্যাস, সম্পূর্ণ বিপরীত দৃষ্টিভঙ্গি কীভাবে ঘটনাপ্রবাহে শেষে একই বিন্দুতে মিলিত হয় সেই আলেখ্য সুনিপুণভাবে লিখিত হয়েছে। সর্বোপরি মূল চরিত্র সোমসুন্দর ওরফে নেন্টু চরিত্র তারুণ্যকে নতুন মোড়ে এনে দাঁড় করিয়ে দেয়। বইয়ের প্লট, লেখনি, প্রতিটা চরিত্র গভীরভাবে নাড়া দেয় পাঠককে।

আমার বেশ ভালো লেগেছে, যে কেউ বইটি পড়তে পারো অবসরে, আমার মতোই হয়তো তোমাদেরও টেনে নিয়ে যাবে...🌿
Profile Image for Jannatun Naher.
14 reviews3 followers
April 18, 2021
শীর্ষেন্দুর বই আমার কাছে একটু অন্যরকম! তাঁর বেশীরভাগ বই পড়ার সময় আমি মাঝে মাঝে উদাস হয়ে যাই। বই পড়া শেষে কেমন জানি একটা মুগ্ধতা, ভালো লাগার রেশ রয়ে যায় অনেকক্ষণ।
এই গল্পটা যেন খুব ছোট হয়ে গেল! বিশাল একটা উপন্যাস পড়তে চেয়েছিলাম। ছোট গল্প হলেও অসমাপ্ত মনে হয়নি, যেন যাপিত জীবনের ই প্রতিচ্ছবি।
"জীবন এরকমও হয়। আবার অন্যরকমও হয়। নানা রকমের। আমি আমারটা যাপন করছি। ভয় কি?"
Profile Image for Nafisa Anjum.
226 reviews13 followers
November 9, 2023
এ গল্পটা দুই বিপরীত মেরুর মানুষের, তাদের মিলে যাওয়া বা না মিলে যাওয়ার গল্প।

বৃষ্টির ঘ্রাণ একটা সামাজিক জীবনমুখী উপন্যাস। আমার বেশ ভালো লেগেছে। মধ্যবিত্ত জীবনের দ্বন্দ্বসমূহ, অচ্ছেদ্য দুর্বৃত্তচক্র - এমন অজস্র বিষয় ধারণ করা একটা উপন্যাস। দুই জন মানুষের দুটো সমান্তরাল মনোলগ থেকে তাদের মনোজাগতিক বিষয়াবলীই নয়, তাদের পরিপার্শ্বের মননও ফুটে ওঠে।
Profile Image for Jahangir.
Author 2 books35 followers
December 1, 2018
এই উপন্যাসটা আমার পড়া শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের পছন্দের উপন্যাসের তালিকায় রাখবো। ঘুণপোকা, শ্যাওলা, আশ্চর্য ভ্রমণ, ফেরিঘাট ধরনের কিছু ক্ষীণতনু উপন্যাস আমার পছন্দের তালিকায় আছে, এটাও ক্ষীণতনু। আমার ভাবনায় এই প্রকার উপন্যাসগুলোর জন্য শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় স্মরিত হবেন। একটা সময়ের ছবি, একটা প্রজন্মের ছবি, একটা কাল-দর্শনের ছবি। একেবারে নেকুপুষু ধাঁচের প্রেম থেকে শুরু করে দুর্ভিক্ষ, বাম হঠকারী রাজনীতি, নাগরিক মধ্যবিত্ত জীবনের দ্বন্দ্বসমূহ, অচ্ছেদ্য দুর্বৃত্তচক্র - এমন অজস্র বিষয় ধারণ করা একটা উপন্যাস। দুই জন মানুষের দুটো সমান্তরাল মনোলগ থেকে তাদের মনোজাগতিক বিষয়াবলীই নয়, তাদের পরিপার্শ্বের মননও ফুটে ওঠে। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের গদ্যের শক্তি সম্পর্কে সন্দেহের অবকাশ নেই সেই শক্তি জীবনানন্দ দাশের কবিতার মতো আমাদেরকে এক অমোঘ পথে নিয়ে যায়।

কোন এক বিপদের গভীর বিস্ময় আমাদের ডাকে
সেই ডাক শুনে, পিছে পিছে ঢের লোক আসে
Profile Image for Md. Faysal Alam Riyad.
317 reviews26 followers
January 9, 2019
তারুণ্য সবসময় একটু বিপ্লবী হতে চায়, অনেক উচ্চ শিক্ষিত ছেলেরা হঠাৎ করেই সবকিছু ছেড়ে দিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ে। কিন্তু এই বিপ্লব বিপ্লব করে পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কতটা উন্নতি হয়েছে?
Displaying 1 - 17 of 17 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.