দীনেশচন্দ্র সেনের "বৃহৎ বঙ্গ" বঙ্গসংস্কৃতির মহাকোষ। অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত বাঙালির কৃষ্টির এমন সর্বাঙ্গীন সর্বেক্ষণ আর দ্বিতীয়টি নেই। এদেশে দীনেশচন্দ্রই প্রথম যিনি কেবলমাত্র রাজন্যবর্গের বংশপরিচয় ও অভিজাতবর্গের জীবনযাপন অবলম্বন করে ইতিহাস সংকলন করেননি। সাধারণ মানুষের ক্রিয়া-কর্ম-আচার-বিশ্বাস-সংস্কার মিলিয়ে রচনা করে তুলতে চেয়েছিলেন বাঙালিজীবনের এক অখণ্ড চালচিত্র। বঙ্গসংস্কৃতির প্রাচীন ও মধ্যযুগের চর্চায় এই গ্রন্থ অপরিহার্য।
Rai Bahadur Dinesh Chandra Sen (Bengali: দীনেশ চন্দ্র সেন) was a Bengali writer, educationist and researcher of Bengali folklore. He was the founding faculty member and the Ramtanu Lahiri Research Fellow of the Department of Bengali Language and Literature of the University of Calcutta.
In 1882, he passed his University Entrance examination from Jagannath University in Dhaka. In 1885, he passed his F.A. examination from Dhaka College. He passed his B.A. examination with Honours in English literature in 1889 as a private student. In 1891, he became the headmaster of the Victoria School in Comilla. During 1909-13, he was a Reader in the newly founded Department of Bengali Language and Literature of the University of Calcutta. In 1913, he became the Ramtanu Lahiri Research Fellow in the same Department. In 1921, the University of Calcutta conferred on him the Doctorate of Literature in recognition of his work. In 1931, he received the Jagattarini gold medal for his contribution to the Bengali literature. He retired from service in 1932.
He worked on collection and compilation of Bengal folklore. Along with Chandra Kumar De, he published Mymensingh Gitika (Ballads of Mymensingh), a collection of 21 ballads.
একটিই ইতিহাস বইয়ে এক বিস্তৃত ভূখণ্ডের সুদূর অতীত থেকে বর্তমান অবধি শাসক তথা জনজীবন, সংস্কৃতি ও ভাষার বিবরণ ধারণ করার কথা ভাবলে চমকে উঠতে হয়। অথচ আজ থেকে শতবর্ষ আগে সেই কাজটিই করে গেছিলেন দীনেশচন্দ্র সেন। তাঁর 'প্রাচীন বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' নামক মহাগ্রন্থটি ছাড়া বাংলার ভাষা ও সাহিত্য অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। তবে প্রায় একইরকম সম্মান ও গুরুত্বের সঙ্গে তাঁর এই কাজটিও বিচার্য। তথাকথিত আর্য উপনিবেশ স্থাপন থেকে পলাশির যুদ্ধ অবধি সময়কাল এই বইয়ের উপজীব্য হলেও প্রথাগত ইতিহাসের মতো করে এই বইটি লেখা হয়নি। প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদানের পরিবর্তে মহাকাব্য এবং পুরাকথা ও কিংবদন্তিকে ঐতিহাসিক উপাদান হিসেবে বেশি গুরুত্ব দেওয়া, সামাজিক তথা ধর্মীয় জীবনের নানা উত্থান-পতন, সর্বোপরি বাংলার ভৌগোলিক সীমা অতিক্রম করে বঙ্গীয় সংস্কৃতির প্রভাব নিয়ে আলোচনার জন্যই বইটি বিশিষ্ট হয়ে আছে। তারই সঙ্গে থেকেছে আঞ্চলিক ইতিহাসের অংশ হিসেবে প্রায়শ বইপত্রে তথা আলোচনায় উপেক্ষিত থেকে যাওয়া নানা বংশ ও তাদের বৈশিষ্ট্য। ইতিহাস হিসেবে আজ বইটি পড়তে গেলে বেশ অস্বস্তি হয়। এতে আপ্তবাক্যের মতো করে এমন নানা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে যাদের অনুকূলে একটিও প্রমাণ নেই। তবে সাংস্কৃতিক ইতিহাস— বিশেষত সমাজের প্রান্তিক ও পীড়িত অংশের ধর্ম, অর্থ ও মোক্ষের একটি অনুপম চিত্র ফুটে ওঠে এই বইয়ে। আর পাওয়া যায় গর্ব! পরাধীন, লাঞ্ছিত, নানা সমস্যায় দীর্ণ এক জাতি ও সমাজকে তার অতীতের স্বর্ণিম মুহূর্তদের সঙ্গে পরিচিত করিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা হয়েছিল এই বইটি। আজও এটি পড়তে গেলে কিংবদন্তি এবং অজস্র অনুমানের ভিড়ে সেই গর্বকে অনুভব করা যায়। সাল-তারিখ নিয়ে কঠোর আলোচনা বা তৎকালীন শাসনব্যবস্থায় সামন্ততন্ত্রের রূপটি কেমন ছিল সেই নিয়ে বিশ্লেষণের জন্য এই বই নয়। তবে বাঙালির জীবন— এমনকি বঙ্গভাষা বলে কিছু তৈরি হওয়ার আগেও— কেমন ছিল, মূলত সেটি জানার জন্যই বইটি পাঠ্য।
এক কথায়, সে-রকম একটি বই ! যা না পড়লে ব্যক্তিগতভাবে আমার বিরাট একটা অসম্পূর্ণতা থেকে যেতো। ইতিহাস যে কেবল একটি শাসক তালিকা বা ঘটনাপরম্পরা মাত্র নয়, জাতিগত সামাজিক সাহিত্যিক সাংস্কৃতিক রাজনৈতিক দার্শনিক ও কালিক ভ্রমণের মধ্য দিয়ে অভূতপূর্ব সমাজতাত্ত্বিক দর্পণের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে খোঁজার এক মহান প্রয়াস তা এই বইটি পাঠে আবারও প্রমাণ পেলাম। প্রত্যেকটি বাক্যেই যার অসম্ভব শ্রমনিষ্ঠ অধ্যয়ন আর বিরল প্রজ্ঞার ছোাঁয়া। বইটির প্রকাশকাল আজ থেকে আশি বছর আগে। তবু সুপ্রাচীনকাল থেকে বাঙালির সুমহান ঐতিহ্যের এক চিরায়ত বর্ণময় দর্পণ হিসেবে লোক-গবেষক ইতিহাসবিদ ও আরো বিভিন্ন গুণে গুণান্তিত পণ্ডিত ড. দীনেশ চন্দ্র সেন-এর এই সুবিশাল গবেষণা গ্রন্থ 'বৃহৎ বঙ্গ' বাঙালি জাতির এক অমূল্য সাহিত্য দলিল হিসেবেই কেন বিবেচিত হয়ে আসছে তা বইটি পাঠেই যথার্থ উপলব্ধি হয়। বাঙালির সুপ্রাচীন ভৌগোলিক উৎস থেকে তার বিবর্তিত চিন্তাজগতের ব্যক্তিক ও জাতিগত ধারাক্রম খুঁজতে হলে যথার্থ গবেষকদের জন্য বইটি যে কতোটা গুরুত্ব বহন করে তা বোধ করি আর বলার অপেক্ষা রাখে না।