ভারতবিভাগ (১৯৪৭, আগস্ট) এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ট্র্যাজেডি হিসাবে বিবেচিত। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এ ইতিহাস এক বিরল রক্তাক্ত ঘটনা। এ ট্র্যাজেডি ও তার নায়কদের নিয়ে বিচারি-বিশ্লেষণ কম হয়নি ভারত, পাকিস্তান ও পশ্চিমা বিদগ্ধজনের হাতে। সে প্রক্রিয়া এখনো চলছে। তবে বাংলাদেশের গবেষক ও ইতিহাসবিদগণের মধ্যে এ বিষয়ে আগ্রহ তুলনামূলক ভাবে কম। দেশভাগ শুধু সম্প্রদায়গত বিভাজনেই নয়, স্বাধীনতা ও মানবিক চেতনা বিভাজনেরও এক অমানবিক ইতিহাস। দেশবিভাগের উত্তরপ্রভাব তেমন পরিচয়ও রেখেছে। তাই সে ইতিহাস জানা ও বোঝা ত্রিধাবিভক্ত ভারতীয় উপমহাদেশের রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য, জনগণের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সে ইতিহাসের অতিসংক্ষেপিত বিবরণসহ বিভাজনের ঠিক-বেঠিক, যৌক্তিকতা ও সঙ্গতি-অসঙ্গতি নিয়ে মুল্যায়নধর্মী গ্রন্থ দেশবিভাগ : ফিরে দেখা এবং তা মূলত একুশ শতকের চিন্তাভাবনা ও বিবেচনায়। এখানে রয়েছে একটি বড় প্রশ্ন : দেশভাগ কতটা অনিবার্য ছিল? পাঠক এ রচনায় দেশভাগের কিছু ভিন্নমাত্রিক বিচার-ব্যাখ্যা দেখতে পাবেন। সেখানেই গ্রন্থটির বৈশিষ্ট্য।
Ahmed Rafiq (born 12 September 1929) is a Bangladeshi language movement activist, writer and researcher on Rabindranath Tagore and his literature. He achieved Ekushey Padak in 1995 by the Government of Bangladesh. Tagore Research Institute in Kolkata conferred the Rabindratattacharya title on him in 2011.
দেশভাগ নিয়ে লেখা এরকম একটা বই খুঁজছিলাম অনেক দিন ধরে, যেখানে শুধু একপক্ষের দোষ না ধরে সবাইকে নিয়ে আলোচনা হবে । আহমদ রফিকের এই বইয়ে শুধু জিন্নাহ বা কংগ্রেস দায়ী না , এই দুই পক্ষ তো বটেই, তার সাথে ব্রিটিশ, ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কেও তিনি দোষী করেছেন । মুসলিম লীগ বা কংগ্রেসের মধ্যে যারা কিছুটা ছাড় দিয়ে হলেও দেশভাগ বন্ধ করতে চেয়েছেন, কোন না কোন ভাবে তারা নিজেরাই দৃশ্যপট থেকে দূরে সরে গেছেন । এমন একটা অবস্থা ছিল , ভাগ্যে ছিল দেশভাগ হবেই এবং তা হয়েছে ।
তবে এই বইয়ে বামপন্থার প্রতি লেখকের দুর্বলতা চোখে পড়ার মত । তার মতে গান্ধী আর কংগ্রেসের কারনে কোন অহিংস আন্দোলনই সহিংস হয়ে ব্রিটিশদেরকে ফেলে দিতে পারে নি । নাহলে আরও আগেই স্বাধীনতা এসে যায় । বইটা ধারাবাহিক সময় অনুযায়ী লেখা হয় নি । একারণে একই জিনিস যেমন কয়েকবার এসেছে , তেমনি পরের ঘটনাও অনেক সময় আগে চলে এসেছে ।
২০১৫ সালে পড়া। ভালো লেগেছিল। তখনকার স্মৃতি থেকেই স্মরণ করছি, দেশ ভাগ নিয়ে লেখা সহজ ব্যাপার না। অবচেতন মনে সম্প্রদায়গত পক্ষপাতিত্ব চলে আসে। তাতে মুহূর্তেই লেখার মান বিনষ্ট হয়। গবেষক আহমদ রফিক সেক্যুলার চিন্তাধারার মানুষ। তাঁর চিন্তার ছাপ লেখনীতে বিদ্যমান। দেশভাগের সাথে জড়িত পক্ষগুলোর দোষ-ত্রুটি তুলে ধরেছেন সুন্দর করে। মোটামুটি নিরপেক্ষ ধাঁচে লেখা। বইটি প্রথম আলো বর্ষসেরা গ্রন্থের পুরস্কার পেয়েছিল।