Banaful/Banaphool (Bengali: বনফুল) (literally meaning The Wild Flower in Bengali) is the pen name of the Bengali author, playwright and poet, Balai Chand Mukhopadhyay (Bengali: বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়).
He was born in Manihari village of Purnia district (now Katihar District), Bihar on 19 July 1899. He was the son of Satyacharan Mukhopadhyay, a practicing physician at the village and Mrinalini Devi. He was admitted to the Sahebgunge Railway school in the year 1914. Mukhopādhyāy started a hand-written magazine named "Bikash" where his writings of the first few days were published. When one of his poem was published in a well- known magazine named Malancha, he was warned by the then head-master of the school as he feared that Balāi Chānd's literary work may spoil his education. So, Balāi adopted his pen name Banaful (the wild flower in Bengali) to hide his work from his tutor. He passed Matriculation examination in 1918 and completed his study at Hazaribag College. Then he was admitted in the Medical College and Hospital, Kolkata. During this time, he was married to Lilavati, who was studying I.A. at Bethune College, Calcutta. But before completing his medical education in Calcutta, he was transferred to Patna Medical College and Hospital due to an issued Government order. Here he was emoployed as a physician after completion of his medical education. Then he worked as a physician at Azimgaunge Hospital. He practiced Pathology at Bhagalpur. In 1968, he sold his house at Bhagalpur and settled at Salt Lake, Calcutta. This great writer took his last breath on 9 February 1979.
অগ্নীশ্বর মশাইয়ের সাথে পেশাগত দিক হতে মিল থাকলেও প্রকৃতিগত ভাবে আমি বড়োই ভীতু, আকৃতিতে ছোট খাটো, স্বভাবে মেঘ রোদ বৃষ্টির মতো ক্ষনে ক্ষনে পরিবর্তনশীল।
তবুও কেন অগ্নীশ্বরকে ভালো না বেসে পারিনি? নারীকে নির্জীব জ্ঞানে নিগৃহীতা রূপে কখনোই দেখেননি তিনি। আদর্শের সাথে আপোসহীন ক্ষ্যাপাটে ষাঁড়ের মত মুক্ত অপ্রতিরোধ্য অননুমেয় কর্মকাণ্ডের কান্ডারীকে মনে না রেখে উপায় আছে কি!!!
ছোটগল্প পড়ে বনফুলের ভক্ত আগেই হয়ে ছিলাম। এউপন্যাসটাও চমৎচার লাগল।
ডা. অগ্নীশ্বর মুখোপাধ্যায়ের নাম তার চরিত্রের সাথে একেবারে মিলে গেছে। আগুনের মতই তিনি সব সময় জ্বলছেন আর তার আশ-পাশের সব অন্যায়কে জ্বালিয়ে ছাই করতে চাইছেন যেন। তার লেখা বেশকিছু চিঠি আছে এখানে আর আছে একখানা খাতা। যেটা পড়ে অনেকক্ষণ ঝিম ধরে থেকেছি....
আজ বনফুলের জন্মদিন। তাঁর ছোটগল্প অগ্নীশ্বর নিছক বাংলা সাহিত্যের এক ক্লাসিক নয়, বরং এটি এক মানবিক ম্যানিফেস্টো, চিকিৎসকের দায়িত্ববোধ ও আদর্শের এক সংক্ষিপ্ত অথচ অসামান্য মহাকাব্য। এক মফস্বলি ডাক্তারের দৃঢ়তা, করুণা ও অন্তর্জাগতিক জ্বালা কেমন করে সমকাল ও কালাতীত সময়কে একসূত্রে বেঁধে রাখে, তারই উদাহরণ এই গল্প।
ডা. অগ্নীশ্বর মুখোপাধ্যায় নামের মধ্যেই যেন নিহিত তাঁর চরিত্রের বৈদ্যুতিক স্পন্দন—‘অগ্নী’ মানে আগুন, ‘ঈশ্বর’ মানে সর্বময় ক্ষমতা, আর এই দুই মিলেই জন্ম নেয় এক অগ্নিপুরুষ, যিনি একদিকে চিকিৎসাবিদ্যার প্রগতিশীল মুখ, অন্যদিকে সমাজদর্শনের আদর্শবাদী প্রতিনিধি। বনফুল এই চরিত্র নির্মাণে কোনো জটিলতা তৈরি করেন না—তিনি বরং সরল, মিতব্যয়ী ভাষায় এমন একটি চরিত্রের চিত্র আঁকেন, যার প্রত্যেকটি কাজেই নৈতিক দৃঢ়তার ঝলক। অগ্নীশ্বর কোনো জমিদারের তোষামোদ করেন না, কোনো আর্থিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করেন না, এমনকি সমাজের কুসংস্কারের মুখেও অনড় থাকেন। চিকিৎসাকে তিনি বলেন "ধর্ম" ও "ব্রত"—একটা পেশা নয়, আত্মনিবেদনের এক নিঃশর্ত অভিব্যক্তি।
এই দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে সরাসরি তুলে ধরে বিশ্বের অন্যান্য অনন্য সাহিত্যিক ডাক্তার চরিত্রদের পাশে। যেমন আলবার্ট শ্ভাইট্জার—আফ্রিকায় কাজ করতে গিয়ে যিনি চিকিৎসাকে রূপ দিয়েছিলেন এক মানবিক আশ্রমে। তাঁর মতোই অগ্নীশ্বর চিকিৎসা দিয়ে বিশ্বজয় নয়, সমাজ-শুদ্ধির ব্রত নিচ্ছেন। আবার আন্তন চেখভের ডাক্তার চরিত্রদের দিকে তাকালে দেখা যায়, সেখানে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, হতাশা ও ক্লান্তির ছায়া। অগ্নীশ্বর সেখানে সম্পূর্ণ বিপরীত—তিনি দ্বিধাহীন, প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ও স্থিতধী। এক অনড় আদর্শের প্রতিমূর্তি।
ক্যামুর The Plague–এর ডাক্তার বার্নার্ড রিউ যেমন প্লেগে আক্রান্ত শহরের বিপর্যয়ের মধ্যেও ‘common decency’–কে আঁকড়ে ধরে লড়াই চালিয়ে যান, তেমনি অগ্নীশ্বরও তাঁর ছোট্ট গ্রাম্য পরিসরে অসংখ্য সামাজিক প্লেগের বিরুদ্ধে একা যুদ্ধ করেন। তাঁর লড়াই সমাজের বিরুদ্ধে নয়, সমাজের পক্ষেই—তবে সে সমাজকে নির্মাণ করতে হবে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার ভিত্তিতে।
যদিও অ্যাটিকাস ফিঞ্চ (To Kill a Mockingbird) পেশায় আইনজীবী, তবু তাঁর অন্তর্লীন আদর্শ, সামাজিক বিদ্বেষের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস, এবং ব্যক্তিগত বিবেকের প্রতি নিষ্ঠা তাঁকে অগ্নীশ্বরের সঙ্গে এক সারিতে রাখে। দুই চরিত্রই কোনও বাহ্যিক নায়কোচিত নাটকীয়তায় বিশ্বাস করেন না; বরং তাঁরা নীরব, একা, স্থিত, অথচ দুর্দম।
অন্যদিকে র্যাল্ফ এলিসনের Invisible Man–এ ডা. ব্লেডসো নামের একটি চরিত্র রয়েছে, যিনি বিপরীত মেরুর প্রতিনিধি—সুবিধাবাদী, আদর্শচ্যুত। ডা. অগ্নীশ্বর তাঁর ঠিক উল্টো—বস্তুত তিনি এমন একজন যিনি নিজেকে বিক্রি করতে জানেন না, এমনকি নিজের ক্ষতির ঝুঁকিতেও না।
এভাবে দেখতে গেলে অগ্নীশ্বর একটি আর্চেটাইপ—যা বাংলা সাহিত্যের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বসাহিত্যের আদর্শবাদী চরিত্রদের পাশে নিজের জায়গা করে নিতে পারে নির্দ্বিধায়। বনফুল এই গল্পে কোনো মেলোড্রামা তৈরি করেন না, বরং কঠিন বাস্তবতার ভেতর এক প্রজ্ঞাবান, নীতিবান মানুষকে দাঁড় করিয়ে দেন। তাঁর সংক্ষিপ্ত, নিপুণ গদ্যে এই গল্প হয়ে ওঠে এক নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির ম্যানিফেস্টো।
আজকের দিনে, যেখানে চিকিৎসা পেশা প্রায়শই বাজারি বাস্তবতায় জর্জরিত, সেখানে অগ্নীশ্বর আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা, সত্যের প্রতি অনমনীয়তা এবং নৈতিকতার প্রতি নিষ্ঠাই একজন চিকিৎসকের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। এবং সেই মূল্যবোধ, সেই আগুন, আজকের সমাজেও নিভে যায়নি—যতদিন বনফুলের এই অগ্নিপুরুষ পাঠক মনে বেঁচে থাকেন।
বনফুলের লেখা প্রথম কোন বই পড়লাম আর পড়ে অবাক হয়ে গেলাম। পড়ার সময় নোট নিতে নিতে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা ভরে গেল। কিছু বাক্য অসাধারণ লেগেছে। নারীদের প্রতি তাঁর মনোভাব পড়ে আশ্চর্য হয়েছি। যদিও সর্ম্পূণ ভিন্ন বই, তা সত্ত্বেও ' লোটা কম্বল ১' পড়ার কথা মনে হয়েছিল। কিছু কিছু বই থাকে, অন্য কোন জায়গা থেকে পড়ার সময় মনে হয় - ' না, বইটি দেখছি সংগ্রহে রাখতে হবে। ' বইটি পড়ার পর এটাই আমার অভিব্যক্তি ছিল। তো খা - খা খাঁ বাবার ভক্ত হয়ে গেলাম। সেই সাথে খা - খা খাঁ বাবার চরিত্রের সাথে ' লোটা কম্বল ১' এর হরিশঙ্কর চট্টোপাধ্যায়, 'রূপমঞ্জরী' এর রূপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এর চরিত্রের কথা স্মরণ হয়েছিল।
এইমাত্র শেষ করলাম অর্থাৎ আগস্ট ২১ রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ। আজকের দিনে বাংলাদেশে গ্রেনেড হামলা দিবস পালিত হত লীগের স্বৈরশাসন আমলে , একথা বললাম যেহেতু উপন্যাসে পূর্ব পাকিস্তানের উল্লেখ ছিল। এনিওয়ে, পঞ্চকন্যা নিয়ে অগ্নীশ্বরের চিঠিটা ছিল অসাধারণ। আসলে এই বইটি একজন নারীবাদী পুরুষের সংগ্রামকে ফুটিয়ে তুলেছে আর নারীদের বিশ্বস্ততা, কৃচ্ছতা, ভালবাসা লেখা হয়েছে অনপনেয় কালি দিয়ে।
লেখকের ভীমপলশ্রী(যদিও অনুবাদ তবুও নিপুণতার ছাপ, যেমন বিদ্যাসাগরের ভ্রান্তিবিলাস)উপন্যাসটি পড়ে হাসতে হাসতে জীবন শেষ হবার যোগাড়, তার অব্যবহিত পরেই এই উপন্যাস পড়লাম। মিশ্র অনুভূতি!
যত পড়ছিলাম এই ডাক্তার চরিত্রটি ততই ভালো লাগছিলো..কিন্তু কেন জানি এটাও বুঝতে পারছিলাম যে ইটা অবাস্তব..পড়তে খুবই ভালো লাগবে কিন্তু যে অর্থে যোগাযোগ বা গণদেবতা উপন্যাস সেই উপাদান এখানে নেই...তবুও বলবো যে এই চরিত্র আমার বড়ই প্রিয় হয়তো অসম্ভব বলেই