অতি গোপনে কঠোর প্রহরায় বিশ্বের ভয়ঙ্করতম যুদ্ধবিমান তৈরি করছে সোভিয়েত ইউনিয়ন-মিগ-৩১। জানে না, সি, আই.এ-র সহযোগিতায় এ-বিমান হাইজ্যাকের প্ল্যান করেছে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা।
কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের ১৯ জুলাই ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম কাজী শামসুদ্দিন আনোয়ার হোসেন। ডাক নাম 'নবাব'। তাঁর পিতা প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, গণিতবিদ ও সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন, মাতা সাজেদা খাতুন। কাজী আনোয়ার হোসেন সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার হিসাবে ষাটের দশকের মধ্যভাগে মাসুদ রানা নামক গুপ্তচর চরিত্রকে সৃষ্টি করেন। এর কিছু আগে কুয়াশা নামক আরেকটি জনপ্রিয় চরিত্র তার হাতেই জন্ম নিয়েছিলো। কাজী আনোয়ার হোসেন ছদ্মনাম হিসেবে বিদ্যুৎ মিত্র নাম ব্যবহার করে থাকেন।
আসল রেটিং ৪.৫। স্পাই থ্রিলার এট ইটস বেস্ট। আদি, অকৃত্রিম, দুর্ধর্ষ স্পাই রানা। একাই মহা শক্তিশালী সোভিয়েত ইউনিয়নের ডিফেন্স সিস্টেমকে ঘোল খাইয়ে দিল। শুধু শেষের দিকে বেশি তাড়াহুড়ো করে হুট করে শেষ করে না দিলে একেবারে পাঁচে পাঁচ দিতাম।
সোভিয়েট তৈরি করেছে মিগ-৩১। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। মিগ-৩১-এর প্রযুক্তি জানতেই হবে। নতুবা পিছিয়ে পড়বে সোভিয়েটের চাইতে। তখন ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা ও সিআইএ ফন্দি আঁটলো যেভাবেই হোক মিগ-৩১ চুরি করে আনতে হবে ইসরাইলে। এই বিমান চুরির পরিকল্পনা জেনে গেল বিসিআই। খোদ বুড়ো ঘুঘু মেজর জেনারেল(অব.) রাহাত খান মিগ চুরির পরিকল্পনা জানালেন কেজিবিকে। কিন্তু বাংলাদেশের মতো একটি রাষ্ট্রের কথায় তারা কান দিলো না। এমনকি রাহাত খানকে ব্যঙ্গ করার সুযোগ ছাড়লেন না কেজিবি চিফ।
রাহাত খান রানাকে বিশেষ আ্যসাইনমেন্ট দিয়ে পাঠালেন সোভিয়েট ইউনিয়নে। ছিনিয়ে আনতে হবে মিগ-৩১!
বিশুদ্ধ থ্রিলার একেই বলে। প্রতিমুহূর্তে অপেক্ষা করছিলাম পরবর্তীতে কী হয় তা নিয়ে। রানা কী সত্যিই পারবে ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েটকে বোকা বানিয়ে মিগ-৩১ নিয়ে বাংলাদেশে ফিরতে? রানা সুপারম্যান। সে পারবে তা সকলেই জানি। কিন্তু এই অসম্ভবকে যেভাবে রানা সম্ভব করেছে তা নিঃসন্দেহে উপভোগ্য।
কেউ রানা সিরিজে ফিরতে চাইলে 'চারিদিকে শত্রু' অবশ্যই ভালো চয়েজ।