Jump to ratings and reviews
Rate this book
Rate this book
ফ্ল্যাপে লিখা কথা
‘আমার রাতের ট্রেন
মা বলিলেন,
ঘুমো তুই! ডেকে দেব সময়ের আগে’।
বহুদিন কেটে গেছে এখনো সময়ের আগে
আমাকে সবাই কেন ডাকে?

ভূমিকা
ট্রেন দেখলেই আমার ট্রেনে চড়তে ইচ্ছা করে। ঢাকা শহরে অনেকগুলি রেল ক্রসিং। গাড়ি নিয়ে প্রায়ই দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। চোখের সামনে দিয়ে ট্রেন যায় আর দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে ভারি ট্রেনের যাত্রীরা কি সুখেই না আছে।

আমার এই উপন্যাসটা ট্রেনের কামরায় শুরু, সেখানেই শেষ। কাহিনী শেষ হয়ে গেছে-ট্রেন চলছেই। মনে হচ্ছে এই ট্রেনের শেষ গন্তব্য অপূর্ব লীলাময় অলৌকিক কোনো ভুবন। উপন্যাসের নাম ‘কিছুক্ষণ’ ধার করা নাম। ধার করেছি আমার প্রিয় একজন লেখক বনফুলের (বলাই চাঁদ মুখোপা্ধ্যায়) কাছ থেকে।

হুমায়ূন আহমেদ
৭-২-২০০৭

88 pages, Hardcover

First published February 1, 2007

34 people are currently reading
327 people want to read

About the author

Humayun Ahmed

456 books2,978 followers
Humayun Ahmed (Bengali: হুমায়ূন আহমেদ; 13 November 1948 – 19 July 2012) was a Bangladeshi author, dramatist, screenwriter, playwright and filmmaker. He was the most famous and popular author, dramatist and filmmaker ever to grace the cultural world of Bangladesh since its independence in 1971. Dawn referred to him as the cultural legend of Bangladesh. Humayun started his journey to reach fame with the publication of his novel Nondito Noroke (In Blissful Hell) in 1972, which remains one of his most famous works. He wrote over 250 fiction and non-fiction books, all of which were bestsellers in Bangladesh, most of them were number one bestsellers of their respective years by a wide margin. In recognition to the works of Humayun, Times of India wrote, "Humayun was a custodian of the Bangladeshi literary culture whose contribution single-handedly shifted the capital of Bengali literature from Kolkata to Dhaka without any war or revolution." Ahmed's writing style was characterized as "Magic Realism." Sunil Gangopadhyay described him as the most popular writer in the Bengali language for a century and according to him, Ahmed was even more popular than Sarat Chandra Chattopadhyay. Ahmed's books have been the top sellers at the Ekushey Book Fair during every years of the 1990s and 2000s.

Early life:
Humayun Ahmed was born in Mohongonj, Netrokona, but his village home is Kutubpur, Mymensingh, Bangladesh (then East Pakistan). His father, Faizur Rahman Ahmed, a police officer and writer, was killed by Pakistani military during the liberation war of Bangladesh in 1971, and his mother is Ayesha Foyez. Humayun's younger brother, Muhammed Zafar Iqbal, a university professor, is also a very popular author of mostly science fiction genre and Children's Literature. Another brother, Ahsan Habib, the editor of Unmad, a cartoon magazine, and one of the most famous Cartoonist in the country.

Education and Early Career:
Ahmed went to schools in Sylhet, Comilla, Chittagong, Dinajpur and Bogra as his father lived in different places upon official assignment. Ahmed passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1965. He stood second in the merit list in Rajshahi Education Board. He passed HSC exam from Dhaka College in 1967. He studied Chemistry in Dhaka University and earned BSc (Honors) and MSc with First Class distinction.

Upon graduation Ahmed joined Bangladesh Agricultural University as a lecturer. After six months he joined Dhaka University as a faculty of the Department of Chemistry. Later he attended North Dakota State University for his PhD studies. He grew his interest in Polymer Chemistry and earned his PhD in that subject. He returned to Bangladesh and resumed his teaching career in Dhaka University. In mid 1990s he left the faculty job to devote all his time to writing, playwright and film production.

Marriages and Personal Life:
In 1973, Humayun Ahmed married Gultekin. They had three daughters — Nova, Sheela, Bipasha and one son — Nuhash. In 2003 Humayun divorced Gultekin and married Meher Afroj Shaon in 2005. From the second marriage he had two sons — Nishad and Ninit.

Death:
In 2011 Ahmed had been diagnosed with colorectal cancer. He died on 19 July 2012 at 11.20 PM BST at Bellevue Hospital in New York City. He was buried in Nuhash Palli, his farm house.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
188 (16%)
4 stars
422 (37%)
3 stars
394 (35%)
2 stars
96 (8%)
1 star
22 (1%)
Displaying 1 - 30 of 131 reviews
Profile Image for Ësrât .
519 reviews85 followers
April 3, 2021
যাতায়াত সুবিধার উন্নতির এই যুগে বাস ট্রেন রিকশা প্লেন লঞ্চের মধ‍্যে রিকশা,আর দূরের যাত্রায় সঙ্গী হিসেবে ট্রেনের সাথে সখ‍্যতা আমার ছোটবেলা থেকেই,একটা লম্বা গাড়ি সাপের মত এঁকেবেঁকে যাচ্ছে শহর থেকে গ্ৰামে,নগর থেকে জঙ্গলে,কুউউউউ ঝুকঝুক শব্দ নিয়ে,যেন একটা গানের ছন্দের তালে ক্লান্তিকর যাত্রা সুললিত না হলেও বিরক্তিতে থেকে যে মুক্তি দিচ্ছে তাই বা কম কি!

ট্রেন নিয়ে আমার অভিজ্ঞতার ঝুলি এতটাই সমৃদ্ধ যে বলতে শুরু করলে আরব‍্য রজনীর এক হাজার এক রাত্রি পার না হলেও বেশ কিছুটা সময় অন্তত আরামসে চোখ বন্ধ করে কেটেই যাবে।

তো হুমায়ুন সাহেব সেই স্মৃতির চোরাগলির অজস্রভীড়ের থেকে ঠিক যে ঘটনাটা মনে করিয়ে দিলেন তা হলো চেইন টেনে নেমে যাওয়ার,চেইন টেনেনামতে হয়নি,তবে উঠার জন্য থামাতে হয়েছে অবশ্য, দীর্ঘ যাত্রার মাঝে ঈশ্বরদীতে আধঘন্টার জন্য যাত্রাবিরতি তে ট্রেন থেকে নেমে ঘুরতে ঘুরতে যে কখন সময় হাতের ফাঁক গলে বের হয়ে গেছে তা তো বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে গিয়েছিল ,সে বার ট্রেন টাও ছুটে যেত যদি না জননী দয়াপরবশ হয়ে চেইন টেনে না থামাতেন, পুরস্কার স্বরূপ যে উত্তম মধ্যম এবং পানীয় রূপে তিরস্কারের মাত্রাটা উল্লেখ করা নিস্প্রয়োজন 😑একটি গ্লাস ভাঙলে বা দুটো পয়সা হারালেই যেখানে বাঙালি মাতৃসমাজ চোখের দৃষ্টি দিয়ে ভস্মীভূত করে দেওয়ার অলৌকিক ক্ষমতা রাখেন , সেখানে তো এ গুরুপাপ,লঘুদন্ড আশা করাই দিবাস্বপ্ন।

হুমায়ূন আহমেদ কে নিয়ে আর কি বলবো!হ‍্যামিলনের বাঁশিওয়ালার বাঁশির সুর নিয়ে কি কখনো সন্দেহ থাকে?

একটি ট্রেন ,ভিন্ন পেশার বিভিন্ন মানুষ,টুকরো কিছু ঘটনা যেখানে শিশু ভুমিষ্ঠ হওয়া থেকে ম‍্যাথমেটিসিয়ানের ম‍্যাজিশিয়ান বনে যাওয়া,ক্ষমতাধর মন্ত্রী থেকে ক্ষমতাহীন হয়ে পুনরায় ক্ষমতাসীন হওয়া,প‍্যারানয়েড মাতার বাধ‍্য সন্তান আশহাবের সাথে চিত্রার বাক‍্যালাপ,সবই যেন মাপমতো এক এক খাপে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে

যাত্রাটা কিছুক্ষণের ছিল কিন্তু এর আবেশ বহুদিন মনে রইবে

রেটিং:🌠🌠🌠🌠
Profile Image for Mehjabeen Choity.
18 reviews23 followers
May 3, 2017
গতোকাল বেশ মন খারাপ ছিলো। কোনকিছু করেই শান্তি পাচ্ছি না, কোথাও মন লাগছে না। মন ভালো করতে আশ্রয় খুঁজছি পিডিএফ এর দ্বারে দ্বারে। বাকি সকল সময়ের মতোই হুমায়ুন আহমেদের বইয়ের পাতায় মুখ গুঁজে তবেই শান্তি মিললো। অথচ, লোকে কতোকিছু বলে! "তাঁর লেখায় কোন প্লট থাকে না, মিডল ক্লাস সেন্টিমেন্ট নিয়ে লেখা, আগা নাই, মাথা নাই।" আরে মার গুলি তোর প্লটকে! যে বইয়ে মুখ ডুবালে কয়েক মিনিটে মন ভালো হয়ে যায়, সে বই আমি মাথায় তুলে রাখি। সেই লেখককে আমার অন্তরে জায়গা দেই। তোমার ভারী ভারী প্লট ওয়ালা লেখকের বইয়ে ধুলো জমুক।
Profile Image for Mubtasim  Fuad.
376 reviews54 followers
October 14, 2025
গতবছর মার্চের শেষের দিকে অনেকটা তাড়াহুড়োর মধ্য দিয়ে "কিছুক্ষণ" উপন্যাসটা পড়ে শেষ করেছিলাম। ভালই লেগেছিল।
এরপর কেটে গেল দীর্ঘ এক বছর। অলমোস্ট ভুলেই গেছিলাম কাহিনি। শুধু এতটুকু মনে ছিল গল্পটা একটা ট্রেন ভ্রমণকে ঘিরে। সে যাইহোক, একটু আগে ফেসবুকে দেখলাম তানিম নূর হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসের উপর ভিওি করে ফিল্ম বানাবেন। আর সেই উপন্যাসটা হচ্ছে, "কিছুক্ষণ"। তখন হুট করে মনে পড়ল, আরে এই বইটা তো পড়েছি আমি। কিন্তু কাহিনি যেহেতু ভাসা ভাসা মনে ছিল তাই, জোহরের নামাজ পড়েই আবার বসে গেলাম পড়তে। এক বসায় পড়ে কভার করলাম ৮৮ পৃষ্টার ছোট্ট এই উপন্যাসটি।

ট্রেন ভ্রমণ আমার কাছে সবসময় একটা ফ্যাসিনেশনের মতন। ট্রেনে জানালার পাশে বসে ট্রাভেল করে যে মজা, তা কী অন্য কিছুতে আছে?! আমার ট্রেনে ঘোরার প্রতি আগ্রহের অন্যতম বড় একটা কারণ হচ্ছে এখন অব্দি তেমন ট্রেনে ঘোরার সুযোগ হয় নাই আমার। তিন বার মাত্র ট্রেন ভ্রমণ হয়েছে, এই ২৩ বছরের জীবনে। আর মানুষের যা নাই তার প্রতি সবসময় আগ্রহ বেশি থাকে, ইতিহাস সাক্ষী আমারো তাই। যদি রিপিটেডলি ট্রেনে ঘুরতাম তবে হয়ত এই ফ্যাসিনেশনটা সেভাবে থাকত না।
যাইহোক, ট্রেন ভ্রমণ রিলেটেড সবকিছুই তাই আমার ভাল লাগে। হোক গল্প/উপন্যাস কিংবা নাটক/মুভি।

যদি উপন্যাসের কথা বলি, আহামরি কিছু না। বরং খুবই সাধারণ একটা টিপিক্যাল হুমায়ূন লেখনী। হুমায়ূন আহমেদের লেখা টপ ৫০ এর মধ্যে হয়ত শেষের দিকে রাখলেও রাখা যেতে পারে এমন ধরণের। হুমায়ূন আহমেদের স্টোরি টেলিং এলগরিদম একবার কারো নলেজে এসে গেলে তার কাছে আসলে বাকি সব সেমই লাগতে শুরু করে, আমার অবস্থা হইছে এখন তেমনই।
একটা ট্রেন ভ্রমণ, আছে অতিরূপবতী এক মেয়ে (চিত্রা), একজন জ্ঞানী গুণী বয়স্ক যার উদ্ভট সব কাজ কারবার, একজন গোবেচারা ডাক্তার যে গল্পের শেষে গিয়ে হুট করে ইস্মার্ট হয়ে যায়, একজন মাওলানা যে আবার ধর্ম নিয়ে সাংঘাতিক সিরিয়াস, একজন মন্ত্রী আর তার পত্নী, যারা আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের পারফেক্টভাবে রিপ্রেজেন্ট করে। এই তো, এই হচ্ছে গল্প। সিম্পিল, নাথিং স্পেশাল। একবার পড়বেন, এরপর সাজিয়ে বুকশেলফে রেখে দিবেন আর ঘন্টাখানেক পর ভুলেও যাবেন এই টাইপের অনেকটা।
বেশি নেগেটিভ বলে ফেললাম বুঝি?!

তানিম নূর ভাইয়ের, "উৎসব" আমার কাছে এততততত এততত ভাল লাগছিল, বহু দিন পর একটা বাংলা সিনেমা দেখে মন শান্তি পেয়েছিল। তার উপর যখন লেভেল ফাইভের "তুমি" বেজেঁ উঠে তখন তো 😭।
স্বাভাবিক ভাবে তার প্রেজেন্টেশনের প্রতি আমার এক্সপেক্টেশন বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে... স্টোরী হিসাবে কিছুক্ষণ না নিয়ে, অন্য কিছুও নেওয়া যেতে পারত। হুমায়ূন আহমেদ বিশাল এক সমুদ্র খনন করে রেখে গেছেন, এখানে জলের অভাব নেই। তবুও লেখক যেহেতু এটাই চয়েজ করেছেন তখন কী আর করার, কী আর বলার। আশা থাকবে, প্রত্যাশা থাকবে বাদবাকি যতটা তারা ডেলিভার দিতে পারে। ২০২৬ এর ঈদুল ফিতরে আসতে চলেছে। এবারো একটা Bangla Band music এ্যাড করে দিকক সেই রিকুয়েষ্ট থাকবে।
yeah that's it...!
Profile Image for Jishan Bin Jamal.
39 reviews13 followers
January 18, 2026
এই রোজার ঈদে নতুন মুভি আসতেছে নাম "বনলতা এক্সপ্রেস" যেটা এই উপন্যাস থেকেই বানানো হবে। তাই আগ্রহ করে পড়ে ফেলছি। এবং পড়ার পর মনে হইতেছে এত সুন্দর একটা বই তবে এটা নিয়ে তেমন আলোচনা নাই, কেন?

পড়ার সময় একটা অনুমান করছিলাম যে মন্ত্রী মশাই তার মন্ত্রীত্ব ট্রেনে থাকা অবস্থায় আবার ফিরে পাবে এবং সবার ব্যবহার তখনই বদলে যাবে হইছেও তাই। ক্ষমতার অপব্যবহার করে দেখে বাংলাদেশের নেতাদের কেউ দেখতে পারে না, এবং জনগণ বাগে পাইলে যে এদের কি অবস্থা করতে পারে তা বুঝায় দেওয়া হইছে ছোট্ট একটা ঘটনার মাধ্যমে।
Profile Image for musarboijatra  .
297 reviews386 followers
March 27, 2026
সিনেমা দেখার আগে উপন্যাসটা খুলেছিলাম পড়বো বলে। তারপরে রাত পেরিয়ে ভোর হলো কখন, টেরই পাইনি। ট্রেন তার গন্তব্যে পৌঁছে গেছে, কিন্তু আমি যেন এখনো সেই প্ল্যাটফর্মেই দাঁড়িয়ে আছি আপনাদের সাথে বইটা নিয়ে দুটো কথা বলার জন্য। বইটার নাম 'কিছুক্ষণ', আর এই বইট�� থেকে ২০২৬ ঈদুল ফিতরে তামিম নূর বানিয়েছেন তাঁর সিনেমা 'বনলতা এক্সপ্রেস'।

হুমায়ূন আহমেদের এই ছোট উপন্যাসটা মাত্র ৮৫ পাতার। পুরো কাহিনীটা এক রাতের—রাত শুরু হওয়ার পর থেকে ভোর হওয়ার আগ পর্যন্ত। কিন্তু এইটুকু সময়ের মধ্যে তিনি প্রায় ১৬টা চরিত্রকে যেভাবে স্ক্রিন টাইম দিয়েছেন, সেটা আদ্রুণ। ১৬ জন মানুষ, ১৬ রকম জীবনগল্প, আর তাদের এই যে ট্রেনের ভেতরে মিথস্ক্রিয়া—এটাই এই উপন্যাসের প্রাণ।

গল্পের শুরুতে আমরা দেখি চিত্রাকে। একলা একটা মেয়ে, কোথায় যাচ্ছে কেন যাচ্ছে আমরা জানি না। তার কামরায় দেখা যায় রশিদ সাহেবকে। বিরক্তিকর বুড়া চরিত্র। আছে ম্যাজিক দেখানো ডাক্তার আহাব আর তার মা সাজাদা বেগম। ছেলেকে কোনোভাবেই কাছছাড়া করেন না সাজেদা, পারলে আঁচলের নিচে বাঁচান সারাক্ষণ। এক মৌলবী তার সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে নিয়ে রওনা করেছেন ট্রেনে, নিজেও কামরা ছাড়ছেন না, কামরায় আর কারো প্রবেশাধিকারের প্রশ্নই আসে না। একই ট্রেনে আছে সম্পূর্ণ অন্য এক দুনিয়া—পুরো সেলুন কার ভাড়া করে সপরিবারে যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল খায়ের খান। সাথে স্ত্রী, শালী, ভায়রা, ব্যান্ড পার্টি, পার্সোনাল ক্যামেরাম্যান—ফুল প্যাকেজ। একই ট্রেন, ভিন্ন জীবন। এছাড়াও ট্রেনে উঠেছে একটা লাশ। কফিনে বন্দী। সঙ্গে তার পরিবারের দু'জন।

এত এত ভিন্নধারার চরিত্রকে এক জায়গায় এনে, এক রাতের গল্পে জীবনের এক ঝলক দেখালেন গল্পের জাদুকর। হুমায়ূন আহমেদের গল্পের একটা সিগনেচার স্টাইল হলো, তিনি ড্রামা তৈরী করেন না—বরং জীবন যেভাবে চলে, স্লাইস অফ লাইফ—তিনি ঠিক সেভাবেই গল্পটা বলেন। উপন্যাসটা শুরু হয়েছিল ট্রেনযাত্রার মাঝে থেকে, আর শেষে গিয়ে মনে হলো, লেখক নিজে কোনো এক স্টেশনে নেমে গেছেন আর ট্রেনটা চলে গেছে তাকে রেখে। যেভাবে জীবন এগিয়ে যায়। কেবল ক্ষণিকের গল্প না শুধু, কিছু চরিত্রের ব্যাকগ্রাউন্ড পড়তে পারি আমরা... যদিও তা সামান্য পরিমাণেই। সব শেষে গল্পের চরিত্রদের জীবনে আহামরি কোনো পরিবর্তন-ও ঘটে না, কিন্তু ওই এক রাতের জার্নিটা আপনার মনের ভেতরে ফেলে যাবে গভীর একটা ছাপ।

এ যেন অনেকগুলো ভ্যারিয়েবল একটা গামলায় জড়ো হলো, আর সেখানে এক ঝটকায় মুখ ডুবিয়ে এক ঝলকে অনেক গল্প দেখতে পেলেন। তাও খুব টোনড ডাউন পন্থায় বলা, বিশেষ নাড়াঘাঁটা ছাড়া। এমনটা কেবল হুমায়ুন আহমেদ পারেন।
Profile Image for Yeasin Reza.
525 reviews93 followers
November 27, 2023
রফিকুন্নবী'র পেইন্টিং অবলম্বনে বইটির প্রচ্ছদ ভীষণ সুন্দর। পুরো গল্প একটি ট্রেনে। সেই চিরায়ত হুমায়নী ক্যারেকটারর্স, হিউমার, বইপত্রের দারুণ রেফারেন্স আর মানুষ সম্পর্কে গভীর কিন্তু চমকপ্রদ পর্যবেক্ষণ। রি-রিড দিতে গিয়ে বুঝলাম হুমায়ুন পড়তে সবসময় ই ভালো লাগবে আমার।
Profile Image for শাহ্‌ পরাণ.
264 reviews78 followers
March 15, 2023
২.৭৫/৫

গল্পের থিম টা সুন্দর। ভালো লেগেছে। কিছু মানুষের জীবনে ক্ষমতাই সব। ক্ষমতার সাথে জীবনের বাকি সব আসে। ক্ষমতা চলে গেলে বাকি সব কিছুই ক্ষমতার সাথে সাথেও চলে যায়।
এধরনের থিমে সবাই গল্প লিখতে পারে না, হুমায়ূন আহমেদই পারে।
Profile Image for Anjan Das.
441 reviews18 followers
March 19, 2026
শুধুমাত্র বনলতা এক্সপ্রেস মুভি দেখার জন্যই বইটা অনেক আগ্রহ নিয়ে পড়লাম।তবে পড়ে বেশ হতাশ হলাম।তেমন একটা ভালো লাগল না।বুঝতে পারছি না হুমায়ুন আহমেদের এত সুন্দর সুন্দর গল্প থাকতে এটা দিয়ে মুভি বানানো হলো কেন?!একটা ট্রেনের মধ্যে বেশ কিছু চরিত্রের মানুষ এবং এবং নানান রকম তাদের ব্যবহার!মনে হলো লেখক হাসি আসবে না তাও কিছু মানুষের কথোপকথনের মাধ্যমে পাঠকদের বাধ্য হয়ে হাসাতে চাচ্ছে!এরকম নানান রকম চাইল্ডিশ কথোপকথন এ ভরা পুরো বইটা।
দেখা যাক মুভিতে কি রকম চেঞ্জ আনে মেকার্সরা।
Profile Image for Nusrat Faizah.
104 reviews39 followers
October 15, 2025
এত্তদিন পর একটা আইডিয়াল হুমায়ূন আহমেদ লেখা পড়লাম। ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে এরকম হালকা গল্প 'জীবন সুন্দর' অনুভূতি ই দেয়।
Profile Image for Musharrat Zahin.
441 reviews516 followers
March 9, 2026
কদ্দিন আগে 'বনলতা এক্সপ্রেস' এর ট্রেইলার দেখলাম৷ সিনেমাটা এই উপন্যাস অবলম্বনেই। তাই ভাবলাম বইটা একটু রিভাইস দিয়ে আসা যাক।
Profile Image for Md. Rahat Khan.
50 reviews3 followers
August 4, 2025
কোন আগামাথা পেলাম না। কেন লিখছে এসব বই সেটাই জানতে চাই! কিন্তু উত্তর পাওয়া অসম্ভব!
Profile Image for Rubell.
196 reviews23 followers
March 25, 2026
জানতে পারলাম "বনলতা এক্সপ্রেস" নামে একটা ফিল্ম বানানো হয়েছে এই গল্পটা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে। গল্পটা পড়লাম, ফিল্মটা দেখবো না।
Profile Image for Mueed Mahtab.
372 reviews
March 27, 2026
"এইটুকু সময়ে কিভাবে কেউ কারও প্রেমে পড়তে পারে? নট সেটিস্ফাইং!"
- ৩০ আগস্ট ২০২০, ৩:০৮ পিএম। মেট্রিক পরীক্ষা দেয়ার বছর জানিনা তখনও কলেজে ঢুকেছিলাম কিনা, তখন বইটা পড়ার পর লিখেছিলাম এইটা।

প্রায় ছয় বছর পর বইটা আবার পড়লাম কারণ বইটা এখন আবার পরিচিত হয়েছে "বনলতা এক্সপ্রেস" এর সুবাদে। এবার পড়ার পর মনে হচ্ছে, বইটা সুন্দর, এরকম বই হুমায়ুন আহমেদ দ্বারাই লেখা সম্ভব।

হুমায়ুন আহমেদের লেখা বুঝিনা আমি, যে বই একসময় ভালো লাগতো সেই বই আবার পড়লে ভালো লাগেনা আবার যেটা ভালো লাগেনি সেটা ভালো লাগে।

পড়ার সময় ভেবেছিলাম গল্পটা মনে আছে, পড়ে বুঝলাম মনে নাই তারমানে অন্য কোনো গল্পের সাথে গুলিয়ে ফেলেছিলাম। একটি বই।

-২৭ মার্চ ২০২৬, ৭:৫৭ পিএম।
Profile Image for Avishek Bhattacharjee.
379 reviews78 followers
May 4, 2021
Wonderful background of story and a lots of interesting characters. Author was completely abled to hold the whole attention all the time. Just loved it.
Profile Image for Rehnuma.
457 reviews25 followers
Read
March 12, 2026
❛ঝক ঝকা ঝক ট্রেন চলেছে
রাত দুপুরে অই।
ট্রেন চলেছে, ট্রেন চলেছে,
ট্রেনের বাড়ি কই?❜



ট্রেন যাত্রা অন্যতম সুন্দর এবং উপভোগ্য। ঝক ঝক শব্দ আর খোলা জানালার বাইরে হাত বা মাথা একটু বের করে বাতাস খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে চায়ের চুমুক দেয়ার অনুভূতি বলে বোঝানো সম্ভব? তবে ততক্ষণই সেটা আনন্দদায়ক যতক্ষণ বাইরে থেকে অজানা কারো ছুঁড়ে দেয়া ইট বা পাথরের টুকরা এসে মাথায় না লাগছে!

চ��ত্রা বেশ বিরক্ত। ট্রেন থেকে নেমেই পড়বে নাকি ভাবছে। লিলিকে বলেছিল টু সিটার যেখানে কোনো মানুষ থাকবে এটা এমন কামরা দিতে। কিন্তু এসে দেখে এক বয়স্ক লোক লুঙ্গি পরে পায়ের উপর বিচ্ছিরি ভাবে পা তুলে আসন পেতে আছে এখানে। এর সাথে দিনাজপুর পর্যন্ত যাওয়া অসম্ভব!

সাজেদা বেগম পুত্রের সাথে এসেছেন। কিন্তু নানা কথায় পুত্রকে একেবারে নাজেহাল রেখেছেন। পুত্র পেশায় ডাক্তার, নাম আশহাব। সে মায়ের কথার মি সাইল থেকে বাঁচতে বারবার বেরিয়ে যাচ্ছে করিডোরে।

এই ট্রেনে অনেক যাত্রীর মধ্যে সেলুন কারে করে যাচ্ছেন মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়। পরিবার নিয়ে গান বাজনা করে বেশ উৎসব পরিবেশে তিনি ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ যাত্রা করছেন। কিন্তু একটা সংবাদ তার এই যাত্রার শান্তি একেবারে ভেস্তে দিলো।

মাওলানা সাহেব যাচ্ছেন তার স্ত্রীকে নিয়ে। কিন্তু বিপদ যেন ট্রেন যাত্রাতেই এলো। সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর প্রসব বেদনা উঠে গেল। এখন এই ট্রেনে মাওলানা সাহেব মহিলা ডাক্তার পাবেন কই?

ট্রেনে আরও আছে এক মৃ তদেহ। যাকে সঙ্গে নিয়ে চলেছে পরিবার। পৃথিবীর কিছুক্ষণের যাত্রা ঐ ছেলেটার শেষ।

চিত্রার যাত্রা সঙ্গী বৃদ্ধের পরিচয় অবাক করা। লোকটা অদ্ভুত চরিত্রে এসে হাজির হবেন। আশহাব এমন এক পরিস্থিতিতে পড়বে যেটা তার ধারণায় ছিল না।
চিত্রা কিছুক্ষণের এই ট্রেন যাত্রায় এমন অনুভূতির দেখা পাবে তাও হয়তো ভাবেনি।
আর সেলুন কারের সেই মন্ত্রী ছোট্ট এই গণ্ডিতে হয়তো ক্ষমতার আসল রূপ দেখবেন।

কিছুক্ষণের এই যাত্রায় অনেক চরিত্র মুখোমুখি হবে আবার যে যার পথে চলে যাবে। কিন্তু ট্রেন তার আপন গতিতে ছুটতে থাকবে।

❛একটু জিরোয়, ফের ছুটে যায়,
মাঠ পেরুলেই বন।
পুলের ওপর বাজনা বাজে,
ঝন ঝনা ঝন ঝন।❜



পাঠ প্রতিক্রিয়া:


❝কিছুক্ষণ❞ হুমায়ূন আহমেদের ছোট্ট একটা উপন্যাস। যার শুরু ট্রেনে আরও সমাপ্তিও ট্রেনেই।

এই যাত্রার মধ্যে এসেছে কিছু চরিত্র, তাদের জীবনের গল্প আবার সেই গল্প ফুরিয়ে গেছে ট্রেনেই। তাদের নিয়েই ট্রেন তার গন্তব্যে ছুটে চলেছে।

লেখক তার গল্পে খুব সাধারণ ব্যাপারগুলোকে এত অসাধারণভাবে চিত্রায়িত করেন যেটা মুগ্ধ করে।
উপন্যাসে চিত্রার যাত্রা আর যাত্রা শুরুতেই বিড়ম্বনা লেখক বেশ বাস্তবিকভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
ঢাকা-ময়মনসিংহ পথে ট্রেন জার্নি করেছি অনেকবার। তো একা যাত্রা করলে আমার মাথায় সবসময় চিন্তা থাকে পাশে যে বসবে সে কেমন হবে? স্বাভাবিকভাবেই আমরা বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য দেখেই মানুষকে যাচাই করি। তো সেই যাত্রা সঙ্গী যদি পছন্দ না হয় তো তিন চার ঘণ্টার ওই যাত্রা সুবিধার হয় না। চিত্রার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।
আবার আমরা নিজেরাই বলি, Don't judge a book by its cover!
এখানেও তাই হয়েছে। লেখক ওই উষ্কখুষ্ক বৃদ্ধের যে পরিচয় দিয়েছেন অবাক করেছে। তার কথার মধ্যে যে ভালোলাগা ব্যাপার ছিল সেটা গল্পটা পড়তে আরো উৎসাহী করেছে। এমন একজন ব্যক্তির যে অ্যাপিয়ারেন্স ছিল বাঙালি ধাঁচের তাও সত্যিই অনবদ্য লেগেছে।

ট্রেনের একেকটা কামরায় ভিন্ন ভিন্ন গল্পের সূত্রপাত। আর শেষমেশ সেই গল্পগুলো এক সুতায় এসে মিলেছে। বাহ্যিক বেশভূষা সবসময় কারো বিশ্বাসের প্রকাশ হয় না। এই ব্যাপারটা লেখক মাওলানা চরিত্র আর রশীদ চরিত্র দিয়ে বুঝিয়েছেন। আমাদের ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি মানুষভেদে ভিন্ন। তবে সেটাকে ব্যাখ্যা করার ক্ষমতাও ভিন্ন। ঠিক এই সূক্ষ্ম ব্যাপারটাই লেখক নিদারুণ দক্ষতায় প্রকাশ করেছেন।

উপন্যাসের আরেকটি অন্যতম দিক ছিল ক্ষমতার খেল। মন্ত্রী মহোদয়ের পরিবার এবং তার চারপাশের লোকদের আচরণের যে ১৮০° মোড় ছিল শুধু ক্ষমতা নামক শব্দের উপস্থিতি আর অনুপস্থিতিতে সেটা আমাদের বাস্তব জীবনের সাথে শতভাগ সম্পর্কিত।

আবার এটাও সত্যি সাহায্য কখন কোথায় থেকে আসে গায়েবী ভাবে সেটাও ঐ উপরওয়ালা জানেন। তেমনি সাহায্য করে নাম সবসময় সঠিক ব্যক্তি পায় না। আর না পেলেও যে খুব একটা ফারাক হয় তেমন না।

উপন্যাসের শেষটা সুন্দর। চিরাচরিত লেখকের ধারায় উনি এবার আমাদের দুঃখ দেননি। ট্রেনের গন্তব্যের মতো চরিত্রগুলোর গন্তব্য ছুটেছে। গল্প হয়তো এই স্টেশনের জন্য শেষ হয়েছে। আবার নতুন স্টেশনে নতুন গল্প জমে উঠবে।

চরিত্র:

চিত্রাকে বেশ লেগেছে। তার থেকেও ফানি লেগেছে তার বান্ধবী লিলিকে। যদিও সে অনেক আউলফা উল কথা বলেছে তবুও তার মানসিকতা দারুণ ছিল।

আশহাবের অসহায়ত্ব ফুটে উঠেছে নিদারুণভাবে।

সাজেদা বেগমকে মন্দ লাগে নি। চিরাচরিত মাতৃ চরিত্র সাথে একটু ❛প্যারানয়েড❜ ইফেক্ট মন্দ লাগেনি।

আমার কাছে সবথেকে ফানি লেগেছে মাওলানার স্ত্রীকে। তার কথাবার্তা সিরিয়াস মুহূর্তেও বেশ উপভোগ্য ছিল।

মন্ত্রী চরিত্র আর দশটা মন্ত্রীর মতোই।

রশীদ চরিত্রটা আমার খুব পছন্দ হয়েছে।



প্রচ্ছদ:


গল্পের সাথে মিল রেখে করা প্রচ্ছদ দারুণ।

উপন্যাস থেকে নাটক, সিনেমা দেখতে আমার খুব ভালো লাগে। সে ধারাবাহিকতায় এই রোজার ঈদে আসছে লেখকের এই উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি চলচ্চিত্র ❛বনলতা এক্সপ্রেস❜। আশা করি উপভোগ্য হবে। দেখার ইচ্ছা আছে।


❛থামবে হঠাৎ মজার গাড়ি,
একটু কেসে খক।
আমায় নিয়ে ছুটবে আবার,
ঝক ঝকা ঝক ঝক।❜


Profile Image for Klinton Saha.
379 reviews5 followers
March 6, 2026
একটি ট্রেন , কয়েকজন বিশেষ যাত্রীর জীবনের গল্প। আছেন একজন বিখ্যাত গণিতবিদ , একজন ডাক্তার ও ছিটগ্রস্ত মা , মাওলানা ও তার সন্তানসম্ভবা স্ত্রী , স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও দলবল এবং চিত্রা। এদের প্রত্যেকের জীবনের গল্প আলাদা, কিন্তু মিল একটা জায়গায়- প্রত্যেকে একই ট্রেনের যাত্রী। ভালো-মন্দ ঘটনার মাধ্যমে প্রত্যেকে প্রত্যেকের জীবনের সাথে জড়িয়ে পড়েন , আমরাও একটা wholesome গল্প পেয়ে যায়।
অনেকদিন পর হুমায়ূন সাহিত্য পড়লাম।খুব একটা খারাপ না।
Profile Image for Shoumik Hossain.
15 reviews
June 5, 2023
পড়া শুরু করার আগে প্রচ্ছদ এবং ফ্ল্যাপ দেখেই বুঝতে পেরেছিলাম ‘কিছুক্ষণ’ এর গল্প ট্রেনে যাত্রাকারী কিছু মানুষজন নিয়ে।
একটি ট্রেন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, ভিন্ন গন্তব্য, ভিন্ন সংকট নিয়ে তৈরি গল্পের প্লট। যা অসাধারণ ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
গল্পের শুরুটা চিত্রার সিদ্ধান্তহীনতার মধ্য দিয়ে শুরু হলেও এখানে সামনে এসেছে এক মাওলানা সাহেবের ধর্মীয় গোড়ামি; যে তার মুমূর্ষু স্ত্রী'র চিকিৎসা কোনো পুরুষ চিকিৎসক দিয়ে করাতে নারাজ। অথচ তার স্ত্রী মৃত্যুর সাথে লড়াই করছিল। বাস্তব জীবনে কিন্তু এরকম কাণ্ডকারখানার বলি হচ্ছেন অনেকেই।
এছাড়াও সামনে এসেছে মন্ত্রী সাহেবের ক্ষমতার এপিঠ-ওপিঠ। ‘ক্ষমতা থাকলে হিরো, আর না থাকলে জিরো’ ব্যাপারটা এখানে স্পষ্ট ছিল। খারাপ সময়টাতেই সবার আসল রুপ দেখতে পেয়েছেন মন্ত্রী সাহেব। তাই সবার উচিত ক্ষমতার সদ্ব্যবহার করা, কারণ ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়।
গণিতবিদ রশিদ সাহেব, যার কর্মকাণ্ড আপনাকে গল্পের ভেতর বুঁদ করে রাখবে। চিত্রা এবং ডাক্তার আশফাকের দায়িত্বশীলতা প্রশংসনীয়। তাদের প্রণয় হবে কী হবে না; তা নিয়ে পাঠকমনে দ্বিধার সৃষ্টি করে৷ যেটার উত্তর মিলবে গল্পের শেষে। আমরা মানুষ, আর মানুষ মানুষের বিপদে-আপদে পাশে থাকলে সবই সম্ভব।
গল্পের একটি প্রিয় লাইন: "মিথ্যা বলতে আরাম এই জন্যে মানুষ মিথ্যা কথা বলে। সত্যি কথা বলতে বেআরাম।"
‘কিছুক্ষণ’ এর সাথে যাত্রা হয়তো কিছুক্ষণের মধ্যেই শেষ হয়ে আসবে, কিন্তু মনে হবে যাত্রার সময় আরও দীর্ঘ হলেও মন্দ হতো না। সময় সুযোগ করে বইটি পড়তে পারেন৷
Profile Image for Ananna Anjum .
191 reviews11 followers
February 1, 2022
হুমায়ুন আহমেদ লেখা যেকোনো গল্পই হলো এক অসাধারণ মায়ার জগতের হাতছানি। এই বইটি সেটার ব্যতিক্রম নয়। ট্রেনের যাত্রা কমবেশি আমরা সবাই পছন্দ করি। এরকমই ট্রেন যাত্রার মাঝে কিছু মানুষের পরিচয় হয় এবং গল্প এগিয়ে যায়। শেষের দিকে আমাদের সমাজের ভয়াবহ বাস্তবতা ফুটে উঠেছে।
আমার কাছে বইটি অসম্ভব ভালো লেগেছে।
Profile Image for Raihan Ferdous  Bappy.
262 reviews16 followers
December 15, 2025
আচ্ছা এই যে শান্তি শান্তি বইগুলা? এগুলা কেনো মানুষের ভালো লাগে না? এগুলা নিয়ে কেনো অনেক কথা হয় না? খুব বেশিই কি যান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছে সবাই?

রাত বাজে ১২.৩০ টা। বেশ তৃপ্তি নিয়ে শেষ করলাম আমার পছন্দের লেখকের আরো একটা সুন্দর বই 'কিছুক্ষণ'। 'কিছুক্ষণ' বড় কোনো উপন্যাস না, কিন্তু এইটা পড়ার পরে মনে হলো এই ছোট্ট একটা বই-ই অনেককিছু। একটা ট্রেন, বেশ কিছু চরিত্র, ছোট ছোট অনুভূতি, তাদের মধ্যে কথা হচ্ছে, মজা হচ্ছে, ঝামেলাও হচ্ছে আবার নীরবতাও রয়েছে। সবকিছু মিলে বেশ চমৎকার একটা আবহ।

শুরুটা হয় চিত্রাকে দিয়ে। যার ট্রেনের কামরায় জুটেছে এক বুড়ো, যাকে নিয়ে চিত্রা বেশ বিরক্ত। কিন্তু সে জানে না কোন ট্যালেন্টেড লোকের উপর বিরক্ত হচ্ছে সে! যাইহোক, কামরা চেঞ্জ করার সুযোগও চলে আসে চিত্রার। আশহাব নামক এক ডাক্তারের সাথে পরিচয় হবার পরে আশহাব সাহেব চিত্রাকে তার নিজের কামরাটা ছেড়ে দেন। কামরায় রয়েছে আশহাব সাহেবের মা সাজেদা বেগম। চিত্রা সেখানে গিয়ে ওঠে। তারপর কি হয়? তা জানতে হলে তো বইখানা পড়তে হবে বন্ধু। শুধু এরাই না, সামনে আরো অনেকগুলা মজার মজার চরিত্র দেখা যায় বইয়ে। যা আপনার অশান্ত জীবনে একটু শান্তির মুখ দেখাবে।

সত্যি বলতে কি, এই বইয়ে টুইস্ট এ্যান্ড টার্ন নাই। হইচই নাই, নাটক নাই। এসব যদি আপনি চান তাহলে আগেই বলছি শতহাত বা পারলে তার চাইতেও দূরে থাকুন। কিন্তু যারা শান্তি শান্তি লিখা ভালোবাসেন তাদের জন্যে এই বইখানা মাস্টরিড একটা বই। হুমায়ূন আহমেদের লেখার জাদুতে আপনি জড়িয়ে যেতে বাধ্য হবেন।

সবমিলিয়ে, খুব পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিলো হুমায়ূন স্যারের আরো একটি বই। 'কিছুক্ষণ' শুধু একটা বই না, এইটা একটা অনুভূতি। যা দুই কথায় প্রকাশ করা সম্ভব না। অবশ্যই পড়বেন।

শুভরাত্রি!
Profile Image for Habiba♡.
356 reviews23 followers
January 8, 2022
এই তো বছরের প্রথম বই পড়ে শেষ করলুম এই সকাল সকাল। যদিও এই বই প্রথম বই হওয়ার ছিলনা তাও সবার শুরু হুমায়ুন আহমেদের বই দিয়ে করতে মন্দ ছিলনা।
গল্পের শুরু এবং শেষ ট্রেনের এক লম্বা বগিতে। যেখানে এক নতুন প্রেম হয়, নতুন জীবনের সূচনা হয় আবার যেখানে কিছু কিছু সম্পর্কের মাঝে ফাটলও দেখা দেয়। মানুষ বুঝে ক্ষমতায় সব, আবার এই ক্ষমতায় এক সময় অর্থহীন।

হুমায়ুন আহমেদের গল্পের চরিত্র'রা বেশ অদ্ভুত হয়। কেন এমন বলছি? তা আর হবে না কেন, আপনার সাহায্য না করাতে মন্ত্রীর মতো ক্ষমতাধর ব্যক্তিকে মুখের উপর কেউ বলে, তুই গু খা। তিনদিনের বাসি গু!
এত হাসি পেয়েছি যদিও লাইনটা পড়ে।
Profile Image for Yeasmin Nargis.
228 reviews3 followers
March 2, 2026
ঝকঝকা ঝক ট্রেন চলেছে রাত দুপুরে ওই
ট্রেন চলেছে, ট্রেন চলেছে, ট্রেনের বাড়ি কই


আসলেই আমরা জানি না ট্রেনের বাড়ি কই!!
ট্রেন দিয়ে শুরু আবার সেই ট্রেনেই শেষ, আর মাঝখানে ঘটে গেছে চেনা অচেনা কিছু ঘটনা।

এককথায় মিনিমাল গল্প
Profile Image for Beauty Rahman.
36 reviews7 followers
November 2, 2025
পুনর্পাঠ। ভুলেই গেছিলাম প্রায়।
Profile Image for Sajib.
200 reviews26 followers
March 23, 2026
রিডিং ব্লক সারতে বেশ বই। প্রায় বছর তিন পর কোন বাংলা বই শেষ করতে পেরেছি। মুভি নাকি বের হয়েছে এটার? দেখার অপেক্ষায়।
Profile Image for Abid.
140 reviews24 followers
November 4, 2025
'উৎসব' এর তানিম নূরের কল্যাণে গত এক মাস যাবত বইটা বেশ হাইপে আছে। পড়বো কী না ভাবছিলাম। গুডরিডসে রিভিউ পড়তে এসে অবাক হয়ে আবিষ্কার করলাম এ বই গত বছর আমি পড়ে ফেলছি তবে তারচে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো এটাকে আমি ১ স্টার দিয়ে রেখেছিলাম। মোটামুটি বিরল ব্যাপার। একে তো হুমায়ূন আমার প্রিয় তার উপর আমার মতো ট্রেন অবসেসড মানুষ এ বইকে এত অপছন্দ করেছিলো কেনো? হুমায়ূন আহমেদের কোনো বইকে এযাবৎ কালে এক স্টার দিয়েছি বলে মনে পড়েনা। কারণটা বোঝার জন্য আবারো পড়লাম। পড়তে পড়তে কারণটা বুঝলাম। আমার অপছন্দের বেশ কিছু এলিমেন্ট এ বইতে উপস্থিত-

এলিমেন্ট নং ১: নায়কের মা। এই টাইপ টক্সিক মা টাইপ চরিত্র আমার কাছে খুব ডিস্টার্বিং লাগে। বাংলাদেশের পুরুষ জাত যে দুনিয়ার অন্যতম লুথা পুরুষ জাতির একটা তার একটা কারণ হলো ওভার-পসেসিভ মায়েরা। খুবই বিরক্ত লাগে এসব চরিত্রের কাহিনী পড়তে।

এলিমেন্ট ২: 'ধর্ষণ' টপিকের অপপ্রয়োগ। কেন যেনো খুব সহজে, বিনাপরিশ্রমে একটা চরিত্রকে খারাপ দেখানোর জন্য ধর্ষণ টপিকটাকেই বেছে নেওয়া হয়। সাহিত্যিকরা অনায়াসে, অবলীলায় ধর্ষণকে তাদের লেখায় নিয়ে আসেন স্রেফ এটেনশন সীকের জন্য। কেন আর কোনো উপাদান নাই? ওভার অল এ ব্যাপারটা আনইথিকাল তো বটেই, বিরক্তিকরও।

এলিমেন্ট ৩: মাম্মি'স কিড টাইপ নায়ক।
এলিমেন্ট ৪: গল্পের রিপিটেডনেস। একই ধারার কাহিনী, একই টাইপ চরিত্র গুলোকে এক্টু পুনর্বিন্যাস করে কত কত বই যে ভদ্রলোক লিখেছেন তার হিসেব করা কঠিন। গতবছর টানা অনেকগুলো হুমায়ূন পড়ার সময় তাই এ ব্যাপারটা আমাকে বেশি বিরক্ত করেছিলো।


এছাড়া, অনেকগুলো চরিত্রের সম্মেলন ঘটানো কিন্তু কারো চরিত্রকেই পরিপূর্ণতা না দেওয়া- এটাও আরেকটা কারণ। যাহোক, আমার মনে হয় মুভিটা কিছুটা হলেও বইয়ের চেয়ে বেটার হবে। দেখা যাক।
Profile Image for Fatema-tuz    Shammi.
126 reviews22 followers
June 30, 2020
এই বইটা দেখে স্কুল জীবনের কিছু মধুর স্মৃতি মনে পড়ে গেল! আহা কি সময় ছিল। তখনও হয়তো অনেক কিছু নিয়ে দুঃখ বোধ হতো। হয়তো বাজে সময় ও গেছে তারপরও কেমন খার���প লাগা কাজ করে। আসলে হু.আ. এর কথাই ঠিক, "স্মৃতি সে আনন্দের হোক আর বেদনার, স্মৃতি সবসময় বেদনার;"🙂
কোনো একটা ক্লাস হয়নি সম্ভবত সেই টাইমে চট করে গ্রন্থাগারে চলে গেছিলাম। এই বইটা নিয়ে আসি আর স্কুলেই গাছের গুরির উপর যেখানে সবাই আড্ডা দিচ্ছিল সেখানেই বসে শেষ করে ফেলেছিলাম আর মনে আছে ম্যাডাম এর সেই সুক্ষ্মআর তীব্র চাহনির কথাও😄
আহা আজ কত কথা মনে পড়ে 🔴🔵
Profile Image for সম্পা  হালদার.
71 reviews11 followers
November 21, 2021
প্রফের মরশুম চলে,সারাক্ষণ প্রচুর টেনশন মাথায় ঘুরপাক খায়,হোস্টেলে প্রচুর না পড়া নতুন বই কিন্তু বই ধরে পড়ার মতো মানসিক স্টেবিলিটি নাই,একটু রিলাক্স হওয়ার জন্য আজকে এই বইটা অডিওবুকে শোনা,তিনটা পার্টে ছিলো,বলা চলে আমার ব্রেইন রিলাক্স করে দিয়েছে এই বইটা,ভীষণ নির্ভার লাগছে,হালকা লাগছে।ধন্যবাদ স্যার, এমন সরল ভাষায় লিখেও মানুষের মনে দাগ কাটার জন্য।
Profile Image for Samia Rashid.
321 reviews18 followers
March 24, 2026
বইয়ের ভূমিকা পড়ে বইটা পড়ার আগ্রহ জন্মেছিল। বইয়ের পুরো কাহিনী ট্রেন নিয়ে। মোটামুটি লেগেছে, যতটা ভেবেছিলাম ভাল লাগবে ততটা লাগেনি। অল্প সময়ে পড়ার জন্য অবশ্য বইটা খারাপ না। বিশেষ করে ট্রেন জার্নিতে পড়তে পারলে হয়ত অন্যরকম ভাল লাগবে! কল্পনা করলাম আর কি!
Profile Image for Shajedur  Rahman.
69 reviews10 followers
January 24, 2019
একটি চলন্ত ট্রেনে কয়েকজন মানুষ আর তাদের সাথে ঘটতে থাকা সাধারণ কিছু ঘটনার অসাধারণ রূপায়ণ উপন্যাসটি।
Profile Image for Meheran Eshan.
15 reviews
March 25, 2026
ট্রেনের সাথে আমার সখ্যতা বলতে ঐ মেট্রোরেল পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। কলকাতা টু দার্জিলিং ফার্স্টক্লাস এ যাওয়া এবং আসার (৬+৬) ১২ ঘন্টা ব্যতীত উপভোগ্য এই পরিবহনে ভ্রমণের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ বাংলাদেশে আমার আর কখনো হয়নি।

ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার জন্য আমার একবার ট্রেনে চড়ার সুযোগ হয়েছিলো। হুমায়ূন আহমেদ স্যার এর "কিছুক্ষণ" উপন্যাসের মাধ্যমে। কিন্তু ট্রেনে উঠার পূর্ব মূহুর্ত এবং ময়মনসিংহ পৌঁছানোর পরের মুহূর্তের কথা আমার কিছুমাত্র মনে নেই অথবা আদোও আমি ময়মনসিংহ পৌঁছাতে পেরেছিলাম কিনা তা অনিশ্চিত। তবে এই যাত্রায় সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সাথে আমার পরিচয় হয়েছে।

ট্রেনে আমার সহযাত্রী ছিলেন ৬৪৯ জন। এছাড়া ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ যাত্রায় একটি লাশও আমার অথবা আমাদের সহযাত্রী ছিলেন। এই লাশসহ ৬৪৯ নাকি ব্যাতিরেকে ৬৪৯ সেই ব্যাপারেও আমি সন্দিহান।

একজন খোদা ভক্ত মাওলানা সাহেব এবং তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর সাথেও আমার দেখা হয়। চলন্ত ট্রেনে তারা ভয়াবহ বিপদের সম্মুখীন হন এবং মাওলানা সাহেবে সহ তার স্ত্রী একমনে জিকির করতে থাকেন, আল্লাহকে ডাকতে থাকেন। একসময় তাদের জন্য খোদ আমারও কষ্ট হচ্ছিলো। কিন্তু আল্লাহ উত্তম পরিকল্পনাকারী।

এই ট্রেন জার্নিতে আমেরিকার কর্নেল ইউনিভার্সিটির ম্যাথমেটিক্সের প্রফেসর রশীদ সাহেবের সাথেও আমার সাক্ষাত হয়। গণিত নিয়ে তার জ্ঞান মোটামুটি অসীমের পর্যায়ের। তবে তার স্বভাব একটু একসেন্ট্রিক। তার যুক্তিতে প্রভাবিত হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।

আশহাব সাহেব একজন বড় ডাক্তার। ময়মনসিংহ যাত্রায় তার সঙ্গী জনাবা সাজেদা বেগম। তার মা। চিত্রা তার ইন্টারভিউয়ে প্রাথমিক ভাবে ফেইল করলেও চিত্রাকেই তিনি বৌমা ডাকতে শুরু করেন। ওহ! চিত্রা কে? চিত্রা এই ট্রেনের-ই একজন প্যাসেঞ্জার।

এছাড়াও এই ট্রেনযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন স্বয়ং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল খায়ের খান, তার স্ত্রী, সদ্যবিবাহিতা শালিকা এবং তার নতুন বর।

চমৎকার(?) এই ট্রেন যাত্রায় আপনিও আমার সঙ্গী হতে পারেন। তার জন্য যা করতে হবে, "কিছুক্ষণ" উপন্যাস নিয়ে বসে পড়া। (পরিচালক তানিম নূর পরিচালিত "বনলতা এক্সপ্রেস" সিনেমাটিও দেখে ফেলতে পারেন। যা "কিছুক্ষণ" থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই নির্মাণ করা হয়েছে)

পুনশ্চ : আমার কেবল বইটিই পড়া হয়েছে। ছায়াছবিটি এখনো অদেখা। বইটি আমি PDF থেকে পড়েছি, বইছবি সংগৃহীত।

ব্যক্তিগত রেটিং : ৪/৫
Displaying 1 - 30 of 131 reviews