শান্তির দ্বীপ ক্যানারি আইল্যান্ডে বেড়াতে এল তিন কিশোর গোয়েন্দা-কিশোর, মুসা ও রবিন। জাহাজ থেকেই বিপদের সূত্রপাত, দ্বীপে নামতেই শুরু হলো একের পর এক দুর্ঘটনা। বোটের তলা ফুটো করে মাঝসাগরে ডুবিয়ে মারা থেকে শুরু করে খাবারে বিষ মিশিয়ে দ্বীপসুদ্ধ মানুষকে খুব করার অপচেষ্টা-কোনোটা থেকেই বিরত হলো না খুনি। গোয়েন্দাপ্রধান কিশোর ধারণা, দলবদ্ধ একটা ভয়ংকর চক্র কাজ করছে এর পেছনে। রহস্য ক্রমেই জটিল হচ্ছে। বাড়ছে বিপদের আশঙ্কা। মৃত্যুভয় অগ্রাহ্য করে উন্মাদ শত্রুর মুখোমুখি হলো কিশোর মুসা রবিন। বাধল সংঘাত।
রকিব হাসান বাংলাদেশের একজন গোয়েন্দা কাহিনী লেখক। তিনি সেবা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত তিন গোয়েন্দা নামক গোয়েন্দা কাহিনীর স্রষ্টা। তিনি মূলত মূল নামে লেখালেখি করলেও জাফর চৌধুরী ছদ্মনামেও সেবা প্রকাশনীর রোমহর্ষক সিরিজ লিখে থাকেন। থ্রিলার এবং গোয়েন্দা গল্প লেখার পূর্বে তিনি অন্যান্য কাজে যুক্ত ছিলেন। তিনি রহস্যপত্রিকার একজন সহকারী সম্পাদক ছিলেন।রকিব হাসান শুধুমাত্র তিন গোয়েন্দারই ১৬০টি বই লিখেছেন। এছাড়া কমপক্ষে ৩০টি বই অনুবাদ করেছেন। তিনি টারজান সিরিজ এবং পুরো আরব্য রজনী অনুবাদ করেছেন। তাঁর প্রথম অনুবাদ গ্রন্থ ড্রাকুলা। রকিব হাসান লিখেছেন নাটকও। তিনি "হিমঘরে হানিমুন" নামে একটি নাটক রচনা করেন, যা টিভিতে সম্প্রচারিত হয়।
ক্যানারি আইল্যান্ড, ছোটখাটো শান্তির একটা দ্বীপ। বড়জোর এক দেড় শ'র মতো মতো মানুষের বাস। ছবির মতো সুন্দর। শহরে বাস করতে করতে অতীষ্ঠ হয়ে যাওয়া মানুষেরা একটুখানি শান্তির আশায় বেড়াতে আসে এ দ্বীপে। অন্যান্য ট্যুরিস্টদের মতো কিশোর মুসা রবিনও আসে বেড়াতে।
গোয়েন্দা মানুষ ওরা। রহস্য না থাকলে কী আর চলে? জাহাজে থেকে নামতে না নামতেই পেল ঝামেলার খোঁজ (না, ঝামেলা ফগ র্যাম্পারকট না আবার 😛) ছোটখাটো সমস্যা প্রকট হয়ে উঠতে লাগলো ধীরে ধীরে। যে দ্বীপে আগে কখনও সামান্য চুরিটুকুও হয়নি সেখানে দেখা দিতে লাগল বড় বড় সমস্যা। একজনের মাছ ধরার ফাঁদ চুরি হয়ে যায় তো আরেকজনের চিংড়ি ধরার ঘের ভেঙ্গে যায়। বাদ পরে না দ্বীপের শেরিফের বোট-ও। আরেকটু হলেও মাছ ধরতে যেয়ে সমুদ্রে ডুবে মরতো রবিন কিশোর আর শেরিফ বাক। শেষ নয় এখানেই, কে বা কারা যেন সড়াইখানার মাছের সাথে মিশিয়ে দেয় বিষ!
গোয়েন্দাদের কী আর হাত পা গুটিয়ে বসে থাকলে চলে? সন্দেহের আওতায় চলে আসে সবাই। প্রতি পদে প্রাণ সংশয়ের ভয়! দমে না যেয়ে তদন্ত শুরু করে জোরেশোরে আর কেঁচো খুঁড়তে বেড়িয়ে আসে সাপ!
কে বা কারা রয়েছে এর পিছনে!
সেবায় রকিব হাসানের লেখার ইতি ঘটার পর থেকে মোটামুটি ছেড়েই দিয়েছিলাম তিন গোয়েন্দা পড়া। খুব পড়তে ইচ্ছা করলে পুরানো বইগুলো তো আছেই রিভিশন দেয়ার জন্য। (নতুন গুলা তো রীতিমতো অখাদ্য) বই কিনতে যেয়ে হঠাৎ চোখে পড়ে রকিব হাসানের তিন গোয়েন্দা। সেবার পেপারব্যাকে নয়, প্রথমা প্রকাশনের ব্যানারে শক্ত মলাটের তিন গোয়েন্দা। কিছুটা ইতস্তত করেই কেনা হলেও ভালো লেগেছে বেশ... সেই আগের তিন গোয়েন্দার স্বাদ.. পড়তে পড়তে সেই আগেরকার মতো গা শিহরণ। ভালো থাকুক তিন গোয়েন্দা, ভালো থাকুক আমার কৈশোরকাল ❤