কিন্তু একি! এত গভীর প্রেম, পরস্পরকে যখন কিছু আদেয় থাকল না, এই সময় রাকার জীবন থেকে শিপলু কিভাবে হারিয়ে যেতে পারে। রাকা বুঝতে পারে না - ও কি শোকে পাগল হবে, নাকি হতাশায়? সুখ ও প্রাচুর্যের সম্ভার নিয়ে ওর জন্য অপেক্ষা করছেন সালমান সিদ্দিকী। বেপরোয়া ভাব-ভঙ্গি নিয়ে হাজির হলো আরেক তরুণ, রফিক চৌধুরী। তারপর এল অখিল। সবাই তারা রঙিন স্বপ্ন দেখাচ্ছে তাকে। ওদের মধ্যে মাত্র একজনই রাকার বিষণ্ণতার কারণ আবিষ্কার করতে পারল। এবং?
শেখ আবদুল হাকিম জন্ম ১৯৪৬, পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায়। ৪ বছর বয়সে বাংলাদেশে আসেন। অসংখ্য গোয়েন্দা উপন্যাস লিখেছেন ও অনুবাদ করেছেন। কর্মজীবনের প্রায় পুরোটাই সেবা প্রকাশনীতে লেখালেখির কাজে ব্যয় করেছেন। মাসিক রহস্য পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ছিলেন বহু বছর। নিজের রচনা আর অনুবাদ মিলিয়ে বইয়ের সংখ্যা কয়েক শ।
দুই ঘন্টায় শেষ করে ফেললাম। সুতরাং বোঝাই যায় কোথাও ঝুলে যায় নি বইটা। এটাই আমার পড়া প্রথম সেবা রোমান্টিক। সেবার এই সিরিজটা সম্পর্কে 'লুতুপুতু কিছু হবে' টাইপ ধারনা ছিলো। আমি ভুল প্রমানিত হয়েছি।
বইটা খুবই ফার্স্ট পেজড। বস আব্দুল হাকিমের এডাপ্টেশন। ভালো হবেই,স্বাভাবিক। তবে বইটা এডাপ্টেশনে ছোট করাতেই বোধহয় গল্পের মাঝখানটা সামান্য অগোছালো লাগছিলো। মূল চরিত্র রাকাকে কনফিউজড মনে হচ্ছিলো। আর যে-ই দেখে সে-ই রাকাকে(নায়িকা) দেখে ফিদা হয়ে যায়;এরকম বাংলা সিনেমার আবহটা একটু বিরক্তিকর লেগেছে। তাছাড়া ক্যারেক্টার ডেভেলপম্যান্টেও কিছু ভুল ছিলো। রফিককে প্রথমে নেগেটিভ চরিত্র মনে হবে,হুট করেই আবার তাকে পাঠকের চোখে অতি ভালো করে দেখানোর প্রচেষ্টা! এর কারন আগেই বলেছি, এডাপ্টেশনে সংক্ষেপনের কারন সম্ভবত। আর শিপলুর অন্তর্ধানের রহস্য সমাধানটা দুর্বল ঠেকেছে।
এছাড়া সবদিক থেকেই দারুন ছিলো বইটা। হাতে দু ঘন্টা সময় থাকলে নিয়ে বসতে পারেন। আমি অনেকদিনপর এরকম এক বসায় বই শেষ করলাম। তাও ঘুম বাদ দিয়ে, রাত ১ থেকে ৩.২০ পর্যন্ত!