প্রিয় পাঠক, মাসুদ রানার সঙ্গে আরও একবার সুমেরু অভিযানে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি আপনাকে। এবারের গন্তব্য—আর্কটিক সার্কেলের সাড়ে পাঁচশো কিলোমিটার উত্তরের নামহীন এক বরফ-দ্বীপ। দর্শনীয় অনেক কিছুই পাবেন ওখানে। দ্বীপের গভীরে আছে গোপন এক প্রাচীন গবেষণাগার… ভিতরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে অসংখ্য মানুষের লাশ! আরও কিছু চাই? পাবেন। গবেষণাগারের পাশে, জমাট বাঁধা বরফের ভিতরে রয়েছে পঞ্চাশ হাজার বছর ধরে ঘুমিয়ে থাকা একদল হিংস্র, রাক্ষুসে, প্রাগৈতিহাসিক দানব! এবে রওনা দেবার আগে জানিয়ে রাখা ভাল, ভাল করে ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত নিন। দ্বীপের দখল নেবার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে মার্কিন সরকার। খবর পেয়ে সাবমেরিন নিয়ে রাশান এক রিয়ার অ্যাডমিরাল আসছেন ওটাকে নিউক্লিয়ার বোমা মেরে নিশ্চিহ্ন করে দিতে। শুধু তা-ই নয়, শীতনিদ্রা ভেঙে খুব শীঘ্রি জাগতে চলেছে। রাক্ষুসে দানবের দল! ভীষণ খিদে ওদের পেটে। বুঝতেই পারছেন, যেতে হবে নিজ ঝুঁকিতে। রানা অবশ্য থাকছে আপনার সঙ্গে তবে… ওর নিজেরই তো.. ভাল করে ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত নিন।
কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের ১৯ জুলাই ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম কাজী শামসুদ্দিন আনোয়ার হোসেন। ডাক নাম 'নবাব'। তাঁর পিতা প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, গণিতবিদ ও সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন, মাতা সাজেদা খাতুন। কাজী আনোয়ার হোসেন সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার হিসাবে ষাটের দশকের মধ্যভাগে মাসুদ রানা নামক গুপ্তচর চরিত্রকে সৃষ্টি করেন। এর কিছু আগে কুয়াশা নামক আরেকটি জনপ্রিয় চরিত্র তার হাতেই জন্ম নিয়েছিলো। কাজী আনোয়ার হোসেন ছদ্মনাম হিসেবে বিদ্যুৎ মিত্র নাম ব্যবহার করে থাকেন।
বেশ কিছুদিন আগে Ice Hunt পড়েছিলাম। তারই অদলে শুভ্র পিঞ্জর। মেইন বই পড়ার পর এই প্রথম কোনো এডাপটেশন এত দারুন লাগল। সব সময় একটা ফ্যান্টাসি ছিল মাসুদ রানা আর সিগমা ফোর্সের ক্রস অভার নিয়ে। সেই ফ্যান্টাসি যেন বাস্তব হলো শুভ্র পিঞ্জর পড়ে৷
প্রায় ৭০০ পেজের বিশাল কলোবরের ২ খন্ডের শুভ্র পিঞ্জর। দ্বিতীয় খন্ডে পড়ার জন্য বেশি দেরি করব না!
সেই গবেষনাগারের জমাট বাঁধা বরফের নিচেই ঘুমিয়ে আছে প্রাগৈতিহাসিক একদল হিংস্র,রাক্ষুসে দানব!
এই সকল ঘটনার সাথে আষ্ঠেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গেল মাসুদ রানা। তারপর?
রানার এবারের অ্যাডভেঞ্চার আর্কটিকে,তবে কোন অ্যাসাইনমেন্ট নয়। ঘটনাচক্রে জড়িয়ে পড়েছে বেচারা। যেটা তার সাথে প্রায়ই হয়। ছুটি কাটাতে গেলে কিংবা অবসরে থাকলেই নানা বিপদ এসে হাজির হয় ওর সামনে।
যাই হোক,এবার আসি ' শুভ্র পিঞ্জর ' বইয়ের প্রথম খন্ড নিয়ে রিভিউয়ের ব্যাপারে। বইটা পড়া শেষ করে মনে হচ্ছিল–দ্বিতীয় খন্ড খুব দ্রুতই পড়ে শেষ করে ফেলা দরকার। অর্থাৎ,বইটা আমার ভীষন ভালো লেগেছে। ফাস্ট পেসড,দমবন্ধ করা অ্যাকশন অ্যাডভেঞ্চার থ্রিলার বুঝি একেই বলে। অ্যাকশন,থ্রিল,গোপন এক্সপেরিমেন্ট,প্রাগৈতিহাসিক দানব,পাতায় পাতায় শিহরণ আর উত্তেজনা...কি নেই এই বইতে?
বেশ ভালো সময় কাটলো বইটা পড়ে। ' শুভ্র পিঞ্জর ' মূলত অ্যাডাপ্ট করা হয়েছে জেমস রোলিন্সের বই ' আইস হান্ট ' থেকে। রোলিন্সের অন্যান্য বই যেমন হয়, এটাও ঠিক তেমনই। বিশেষ করে ভালো লেগেছে কাহিনীর আর্কটিক সেটিং,স্টোরি টেলিং আর পেসিং। বইয়ের কোথাও বোরিং হবার কোন সুযোগ নেই। শুরু থেকেই একের পর এক ঘটনার মধ্য দিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যেতে থাকে বইয়ের কাহিনী।
তবে প্রথম খন্ডে রানার ভূমিকা বেশ কম বলেই মনে হয়েছে আমার। বইয়ের কাহিনী অনেকটা সময় নিয়ে সেট–আপ করা হয়েছে বলেই খুব সম্ভবত রানাকে সেভাবে পাওয়া যায়নি। তবে আশা করছি,পরের খন্ডে রানার ভূমিকা আরও বেশি থাকবে।
প্রথম খন্ড শেষ হয়েছে রানার স্নেকপিটে আটকে পড়ে গ্রেন্ডেলের মুখোমুখি হওয়ার মধ্য দিয়ে। অনেক প্রশ্ন রেখে গেছে কাহিনীর প্রথম ভাগ...দেখা যাক কাহিনীর শেষভাগে সেসবের উত্তর কি ভাবে পাওয়া যায়!
মোটের ওপর,দ্বিতীয় খন্ডের প্রতি আমার এক্সপেক্টেশন অনেক বেশি। দেখা যাক, আমার প্রত্যাশা কতটুকু পূরণ হয়!