সিনেমা দেখতে যাচ্ছিল সোহানাকে নিয়ে, সাহায্য চাইল যুদ্ধক্ষেত্রে পরিচিত এক সহচর। বিপদের কথা চিন্তা না করেই কথা দিয়ে দিল রানা, সাহায্য করবে। সহকারী সোহানা।
তারপরই শুরু হয়ে গেল ভয়ঙ্কর সব ঘটনা। বন্ধু বেশে ঘুরছে শত্রু আশেপাশেই। চেনা যায় না তাদের। কখন বসাবে বিষাক্ত ছোবল বোঝার উপায় নেই।
কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের ১৯ জুলাই ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম কাজী শামসুদ্দিন আনোয়ার হোসেন। ডাক নাম 'নবাব'। তাঁর পিতা প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, গণিতবিদ ও সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন, মাতা সাজেদা খাতুন। কাজী আনোয়ার হোসেন সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার হিসাবে ষাটের দশকের মধ্যভাগে মাসুদ রানা নামক গুপ্তচর চরিত্রকে সৃষ্টি করেন। এর কিছু আগে কুয়াশা নামক আরেকটি জনপ্রিয় চরিত্র তার হাতেই জন্ম নিয়েছিলো। কাজী আনোয়ার হোসেন ছদ্মনাম হিসেবে বিদ্যুৎ মিত্র নাম ব্যবহার করে থাকেন।
আমাকে ভাবায় ১৯৭২ সালের ঢাকা বা বাংলাদেশ, তার নাগরিকেরা আর আজকের ঢাকা বা বাংলাদেশ এবং তার নাগরিকেরা - এই দুইয়ের মধ্যে কী বিপুল পার্থক্য! এই পার্থক্য শুধু ফিজিক্যাল ফ্যাসিলিটিজ আর টেকনোলজির পার্থক্য না, জীবনাচরণের পার্থক্য না। এখানে মানুষের জীবনদর্শন, নৈতিকতার সীমা, মূল্যবোধ - সবই আমূল পালটে গেছে। এই উপন্যাসটা নিছক একটা গোয়েন্দা গল্প নয়। একটু চোখ মেলে দেখলে মুক্তিযুদ্ধের ঠিক পর পর বাংলাদেশের নাগরিক জীবনের চিত্রটাও বোঝা যাবে যা দিয়ে তুলনা করা যাবে আজকের বাংলাদেশ আর তার নাগরিকদের সাথে। গোয়েন্দা উপন্যাস হিসাবে একটু দুর্বল হলেও কথাশিল্পী কাজী আনোয়ার হোসেনের মুন্শীয়ানা গুণে এই কালচিত্রটি উল্লেখযোগ্য হয়ে থাকবে।
নাহ, রানা গোয়েন্দা হলে একটুও মন্দ হতো না, বরং মনে হচ্ছে ভালোই হতো। প্রমাণ কই-তে চিরচেনা রানাকে স্পাইগিরির পরিবর্তে গোয়েন্দাগিরি করতে দেখা গেছে। এবং আবারও ধামাকা। অর্থাৎ কাজীদা'র আরও একটি মৌলিক রচনা।