Shankar's real name is Mani Shankar Mukherjee. Sankar is a very popular writer in the Bengali language. He grew up in Howrah district of West Bengal, India. Shankar's father died while Shankar was still a teenager, as a result of which Shankar became a clerk to the last British barrister of the Calcutta High Court, Noel Frederick Barwell. The experience of working under Mr. Barwell provided the material for his first book Koto Ojanare (কত অজানারে), translated as The Great Unknown. During 1962, Shankar conceived the idea of writing the novel Chowringhee on a rainy day at the waterlogged crossing of Central Avenue and Dalhousie - a busy business district in the heart of Kolkata. Many of Shankar's works have been made into films. Some notable ones are - Chowringhee, Jana Aranya (জন-অরণ্য, translated as The Middleman) and Seemabaddha (সীমাবদ্ধ, out of which the last two were directed by Satyajit Ray.
শংকরের লেখা পড়ে আগেও বলেছি, আবারও বলি (নেহায়েত মজা করে বলা, সিরিয়াস কিছু না) আচ্ছা, জেমস ক্যামেরুন কি শংকর পড়তেন? জেমস ক্যামেরুনের জগৎবিখ্যাত কাজ টাইটানিকে উনি দেখিয়েছেন কীভাবে একটা “বহুল প্রচলিত জাহাজডুবি”র কাহিনীকে অমর চলচ্চিত্রে রূপ দিতে হয় তার সাথে হৃদয়হারী একটা প্রেমকাহিনী জুড়ে দিয়ে। অন্যদিকে শংকরের বই যতই পড়ি, ততই দেখি সিমিলার প্যাটার্ন। সেই ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত এই আশা-আকাঙ্ক্ষাতেও তিনি কী চমৎকারভাবেই না জুড়ে দিয়েছেন আপাত বিপরীত কতগুলো বিষয়কে। রসায়ন শাস্ত্র, বিজ্ঞানীদের নিজস্ব জগত, ইউরিয়া সারের উৎপাদন, কারখানা নির্মাণের সাথে কীভাবে দেশপ্রেম, পতীপ্রেম, সংসার, নারী আর সদ্যবিবাহিত একযুগলের ভালোবাসার গল্প জুড়ে দেয়ার কথা আর কে-ই বা ভাবতে পারে?
গল্পের শুরু হয় এক ট্রেনের কামরায়, নায়ক ছুটে চলেছেন রেলে চড়ে। অথচ তার বিয়ে হয়েছে এই কয়েক প্রহর আগে, মানব জীবনের পরম আকাঙ্ক্ষিত ফুলশয্যার রাত ছিল হয়ত এক রাত আগেই! সেসব ছেড়ে সে ছুটে চলেছে এক ট্রেনের কামরায় বসে, জরুরী, অতীব জরুরী এক টেলিগ্রাম এসেছে তার কর্মস্থল থেকে। হিন্দুস্থান এগ্রো-কেমিক্যালস বা এইচসি-র নামকরা বৈজ্ঞানিক কমলেশ রায়চৌধুরি আর তার সদ্যবিবাহিতা স্ত্রী চন্দ্রমল্লিকাকে ঘিরেই পুরো উপন্যাসের মূল কলেবর। তবে সেখানে আরও আছেন কমলেশের শ্রদ্ধাভাজন দিগম্বর ব্যানার্জি। পৌঢ় এই বিজ্ঞানী আদতে কমলেশের বস হলেও, উপমহাদেশের “জ্বি স্যার জ্বি স্যার” কালচার ভাঙতে যিনি বদ্ধ পরিকর। এই ডিরেক্টরের মতে বিজ্ঞানীদের মূল কাজ বিজ্ঞান সাধনা, অতিরিক্ত আমলাতন্ত্র কিংবা প্রশাসন চালাতে গেলে বিজ্ঞানীরা তাদের আসল কাজ করবেন কখন? উপমহাদেশের প্রেক্ষাপটে কোন উপন্যাসই মেবি একজন কুটনি নারী চরিত্র ছাড়া সম্পন্ন হয় না :p সে চরিত্রও আছে এখানে, মল্লিকার মামাতো বোন কনকলতা। কনকলতার স্বামীও সায়েনটিস্ট কিন্তু সে কাজ করে বিদেশী কোম্পানিতে, সুযোগ সুবিধা, বেতন বোনাস সবই বেশি। প্রথমদিকে তাতে মল্লিকার খুব একটা না বাঁধলেও বোনের পরোক্ষ কুটনামীতে একসময় সেটাই বিশাল কিছু হয়ে উঠতে শুরু করে। আর আছে কমলেশের কুমারী সেক্রেটারি সুজাতা দাসের গল্প। বড় একটা সময় তাকে “সাইড ক্যারেক্টার” মনে হলেও শেষদিকে সে-ই নিজে পুরো গল্পের আলো নিজের দিকে টেনে নেয়, তাও সম্পূর্ণ সময় আঁধারে থাকা আরেক চরিত্রকে সঙ্গে করে!
শংকর বোধহয় কোথায় লিখেছিলেন, জন-অরণ্য, সীমাবদ্ধ আর এই আশা-আকাঙ্খা মোটামুটি একটা ট্রিলজির মতন। হ্যা, কোন বইয়েই ঘটনা কিংবা চরিত্রের কন্টিনিউয়েশন নেই, কিন্তু পড়তে নিলে, ঘটনার মধ্যে একটু ঢুকলেই বোঝা যায় কোথায় যেন একটা মিল রয়েছে। জন-অরণ্যের কাহিনী এক বেকার যুবক আর সদ্য স্বাধীন ভারতবর্ষে বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে, সীমাবদ্ধ আবর্তিত হয় হাইলি ট্যালেন্টেড ও এডুকেটেড একজন বাঙালি যুবক যার কিনা কোম্পানির স্বার্থে দেশ ও মানুষের বিরুদ্ধে বিরাট স্যাবোটেজ করতেও বাধে না। আর আশা-আকাঙ্ক্ষার কাহিনী সীমাবদ্ধের পুরো উল্টো, দেশপ্রেমের উদাহরণ দেখাতে গিয়ে কেউ একজন নিজের জীবন, সংসার উজার করতেও যে পিছপা হয় না। ইনফ্যক্ট, সীমাবদ্ধের কাহিনী দেখে কিছুতা ক্ষুব্ধ হয়েই কেউ একজন শংকরকে চিঠি লিখেছিলেন, যে চিঠি পড়েই শংকরের মাথায় আশা-আকাঙ্ক্ষা লিখবার আইডিয়া এসেছিল!
সব মিলিয়ে শংকরের অন্যান্য লেখার মতই আশা-আকাঙ্ক্ষা-ও একটি ঝরঝরে লেখা, এক বসায় পড়ে ফেলা যায়। আলগা বা অতিরিক্ত কোন বর্ণনা নেই যেখানে যতটুকু দরকার ঠিক ততটুকুই আছে। লেখার মধ্য যতটুকু দরকার যৌণতা আছে, কোথাও নোংরামি নেই, কোথাওই সীমা ছাড়িয়ে যায়নি, লেখক ঠিক ঠিক জানেন কোথায় থেমে যেতে হবে। এ পর্যন্ত শংকরের যতগুলো বই পড়েছি তার মধ্যে আশা-আকাঙ্ক্ষা বরং “একটু কমই” ভালো লেগেছে, তবুও অসাধারণই লেগেছে!
ফুলসজ্জার রাতে কমলেশ অফিস থেকে জরুরি তলব পায়। নতুন বউকে বিরহ-যন্ত্রনায় ফেলে সে চলে আসে চন্দনপুর। অফিসার বস নোয়েল ব্যানার্জী কমলেশের ওপর ভার চাপায় তাদের নতুন প্লান্টের ম্যানেজার দায়িত্বে, কৃষিনগরে। যে কারখানা তৈরী করবে সার, ভারতবর্ষের নিজেদের বিজ্ঞানী, ইঞ্জিনিয়ারদের দ্বারা বানানো।
এরপর কারখানার কাজ চলতে থাকে। কমলেশের বিবাহিত নতুন বউ মল্লিকা কৃষিনগর চলে আসে। অদূরে ধর্মপুরে মল্লিকার মাসতুতো বোন ও জামাইবাবু থাকেন। কৃষিনগরের অবিরাম কাজ, কমলেশের সময়জ্ঞানহীন কারখানায় যাওয়া-আসা, বাড়িতেও ফোনে কাজ-সংক্রান্ত ব্যস্ততায় মল্লিকা অভ্যস্ত আর বিরক্ত হয়ে পড়ে। তার জামাইবাবুও বড়ো অফিসে বড়ো পোস্টে কাজ করেন, কিন্তু তাদের তো সামাজিক জীবন এতো রঙবিহীন নয়। কমলেশ যদিও বলে সে সরকারি চাকরি করে, এই কাজটা তার কাছে কাজের মতো নয়, দেশের স্বার্থ আর উন্নতির পথের কারিগর হিসেবেই সে নিজেকে দেখে।
আপাত দৃষ্টিতে উপন্যাসটিকে এক নব-দম্পতির দুষ্টু-মিষ্টি প্রেম, বিরহ, অভিমান - এসবে মোড়া একটি উপন্যাস ভাবছিলাম। কাহিনী প্রায় শেষের দিকে, আর তখনই গল্পে টুইস্ট, এক নয়, একাধিক। ভুলে গেছিলাম এই উপন্যাসটি কালজয়ী জন-অরণ্য, সীমাবদ্ধ উপন্যাসগুলোর সমগোত্রীয়, এক মলাটের ভিতর।
অতুলনীয় গল্প, সঙ্গে সার তৈরী নিয়ে বৈজ্ঞানিক ও যান্ত্রিক ব্যাখা অসাধারণ।
শঙ্করের লেখা বরাবরই সরল,সহজ ও মসৃণ। খুব সহজেই পড়ে ফেলা যায়, খুব সহজে হজম করা যায় খুব সহজে বুঝাও যায়। আশা-আকাঙ্ক্ষা একটি আশা জাগানিয়া উপন্যাস। এই উপন্যাস পড়তে গেলে ইউরোপের শিল্প বিপ্লব সম্পর্কে জানতে পারব।
উপন্যাসটি পড়তে গেলে খুব ভালোভাবেই বোঝা যাবে যে, অনেক প্রস্তুতি নিয়ে তিনি উপন্যাসটি লিখেছেন। তবে বাংলা তথা ভারতবর্ষের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। এজন্য হয়তো এটি শুধুই উপন্যাস।
বাংলা ভাষায় লেখা অন্যান্য সামাজিক উপন্যাসের মত এই উপন্যাসেও আপনারা কমন কিছু বিষয় পাবেন যেটা অন্য সব সামাজিক উপন্যাসই থাকে।
শংকরের সব বইয়ের মতই এই বইয়েও আছে গতি। উপন্যাসের মূল চরিত্রের বিবাহ দিয়ে গল্পের সূচনা। একদিকে সদ্য বিবাহিত স্ত্রীর দাবি এবং আশা আকাঙ্খা অন্যদিকে কর্মক্ষেত্রের কঠিন লক্ষ্য পূরণের জন্য দিনরাত নিজেকে বিলিয়ে দেয়ার তাগিদ। শেষ পর্যন্ত সে কি পারবে উভয় ক্ষেত্রেই সফল হতে নাকি বিফল হবে, ফলাফল দেখতেই যেন পাঠককে এগিয়ে যেতে হবে গল্পের সাথে। শহরের কোলাহলের বাইরের যেকোনো পরিবেশের গল্পই আমাকে আনন্দ দেয়, এই উপন্যাসও দিয়েছে।
শংকরবাবুর বেশ কিছু বই পড়েছি। সহজ-সাবলীল লেখা। পড়তে কখনই কষ্ট হয় নি। একটা কথা স্বীকার করতেই হবে যে ভদ্রলোক চমৎকার লেখেন। শুধু চমৎকার লেখেন না, চরিত্রদের নিয়ে ভাবনাতেও ডুবিয়ে দেন। 'চৌরঙ্গী' পড়ার পর থেকেই লোকটার লেখার অন্ধ ভক্ত হয়ে গিয়েছিলাম। সুনীল-সমরেশের পরে এই ভদ্রলোক দারুণভাবে আমাকে মুগ্ধ করেছেন তাঁর লেখা দিয়ে!!