অন্য সকলের থেকের একটু আলাদাই ছিল তিস্তা।কানপুরের মিশনারি স্কুলে পড়াশোনা,বাবার অভিজ্ঞ,দূরদর্শী পরামর্শ ছোট্টবেলা থেকেই সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলতে শিখেয়ছিল তাকে। বাবাই তিস্তাকে ভর্তি করে দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্সিতে । ইংরেজিতে এম.এ. করে কলেজে পড়াবে। সাহিত্য নিয়ে রিসার্চ করে নামের আগে অরজন করবে ডক্টরেট ডিগ্রি। ইংরেজি সাহিত্য তিস্তার প্রিয় বিষয়।বাবার ইচ্ছের সঙ্গে মিলে গিয়েছিল মেয়ের নিজেরও ইচ্ছা। কিন্তু অন্য সকলের থেকে আলাদা তিস্তার জীবন্টাও যেন হয়ে গেল একেবারে আলাদা রকমের। জীবুনের প্রথম ভুল তিস্তাকে ঠেলে দিল নতুনতর ভুলের দিকে। তিস্তার জীবন যেন ধারাবাহিক ভুলেরেই জীবন। বঞ্চনা ও প্রবঞ্চনার জীবন। কেন এমন হয় ? কেন একটি মেয়েই বারবার হবে সর্বস্বান্ত ? কেন জীবনশুরুর সপ্নের সঙ্গে এত অমিল পরবর্তী জীবনপ্রবাহের ? তিস্তার আশ্চর্য জীবনকাহিনীর মধ্য দিয়ে এমনই নানান আমোঘ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন সমরেস মজুমদার।
Samaresh Majumdar (Bangla: সমরেশ মজুমদার) was a well-known Bengali writer. He spent his childhood years in the tea gardens of Duars, Jalpaiguri, West Bengal, India. He was a student of the Jalpaiguri Zilla School, Jalpaiguri. He completed his bachelors in Bengali from Scottish Church College, Kolkata. His first story appeared in "Desh" in 1967. "Dour" was his first novel, which was published in "Desh" in 1976. Author of novels, short stories and travelogues, Samaresh received the Indian government's coveted Sahitya Akademi award for the second book of the Animesh series, 'Kalbela".
সমরেশ মজুমদার-এর জন্ম ১০ মার্চ ১৯৪৪। শৈশব কেটেছে ডুয়ার্সের চা-বাগানে। জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের ছাত্র। কলকাতায় আসেন ১৯৬০-এ। শিক্ষা: স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে বাংলায় অনার্স, পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এম.এ। প্রথমে গ্রুপ থিয়েটার করতেন। তারপর নাটক লিখতে গিয়ে গল্প লেখা। প্রথম গল্প ‘দেশ’ পত্রিকায়, ১৯৬৭ সালে। প্রথম উপন্যাস ‘দৌড়’, ১৯৭৫-এ ‘দেশ’ পত্রিকায়। গ্রন্থ: দৌড়, এই আমি রেণু, উত্তরাধিকার, বন্দীনিবাস, বড় পাপ হে, উজান গঙ্গা, বাসভূমি, লক্ষ্মীর পাঁচালি, উনিশ বিশ, সওয়ার, কালবেলা, কালপুরুষ এবং আরও অনেক। সম্মান: ১৯৮২ সালের আনন্দ পুরস্কার তাঁর যোগ্যতার স্বীকৃতি। এ ছাড়া ‘দৌড়’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার হিসাবে বি এফ জে এ, দিশারী এবং চলচ্চিত্র প্রসার সমিতির পুরস্কার। ১৯৮৪ সালে ‘কালবেলা’ উপন্যাসের জন্য পেয়েছেন সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার।
কতকটা ভালো, কতকটা চলনসই। মোটের ওপর মন্দ নয়। স্বল্প কলেবরের ছোট উপন্যাস। মূল চরিত্র তিস্তা। মধ্যবিত্ত পরিবারের মেধাবী মেয়ে। আবেগী তবে ব্যক্তিত্বপূর্ণ। এহেন তিস্তার জীবনে লেখক ছকেছেন সহস্র প্রতিকূলতা। স্বার্থকায়েমী, বিকৃতমনষ্ক কিছু সামাজিক বিছের ক্রমাগত দংশন। চলমান জীবনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বারংবার যাদের মুখোমুখি হতে হয় তাকে। কখনো বা এক ছাদের তলায়, কখনো আবার শহরের ব্যস্ত বুকে। ঠিক-বেঠিকের মাশুল গুনে, বইটি তাই তিস্তার বেচে থাকাকে আলিঙ্গন করবার মরিয়া প্রচেষ্টা।
পাঠক হিসেবে অবশ্য এ বই পড়া (বা না পড়া) পুরোটাই আপনার মর্জি। কেবলমাত্র সাহিত্যগুণ বিবেচনা করে দেখলে, গল্পে গভীরতা সেরূপ নেই। থাকলেও নারী-মনের প্রকৃত পরিচয় দেওয়ার বাসনায় লেখক আশ্রয় নিয়েছেন বেশ কিছু চেনা পন্থার, কিছুটা হলেও যা ক্লিশেড এবং নাটকীয়। বিশেষ চোখে লাগে, সংলাপ ও চরিত্রদের ব্যবহারে অহেতুক মেলোড্রামার ছাপ। তবে মাত্র এটুকু অদেখা করলে, এ বই একবার পড়াই যায়। সময়ের নিরিখে হয়তো বা, দু-তিন ঘন্টাই যা লাগবে। তবে, অনেক কিছু সুদে-আসলে ফেরত পাবেন, সেই আশা ত্যাগ করে এগোনোটাই বাঞ্ছনীয়। সেই ক্ষেত্রে হতাশ কম হবেন। যাইহোক, অন্যতম প্রিয় লেখক বলে কথা, আপাতত নাহয় আড়াইটে তারা বরাদ্দ করলাম।
বইঃ দিন যায় রাত যায় লেখকঃ সমরেশ মজুমদার ধরনঃ রোমান্টিক উপন্যাস আমাদের জীবন ভুলে ভরা। ভুল করতে করতে মানুষ জীবনের সঠিক পথ খুজে পায়। জীবনে সঠিক সময়ে যে সঠিক সিধান্ত নিতে পারে সেই সুখী হয়। আর যে সঠিক সময়ে ভুল সিধান্ত নেয় তার জীবন বিষে ভরে যায়। পারিবারিক, সামাজিক সব দিক দিয়ে সে প্রতারনার স্বীকার হয়। সমরেশ মজুমদারের দিন যায় রাত যায় উপন্যাসের প্রধান চরিত্র তিস্তা। অন্য সকলের চেয়ে আলাদা তার জীবন। কানপুরের মিশনারি স্কুলে পড়াশোনা,বাবার অভিজ্ঞ,দূরদর্শী পরামর্শ ছোট্টবেলা থেকেই সাদাকে সাদা, কালো কে কালো বলতে শিখেয়ছিল তাকে। বাবাই তিস্তাকে ভর্তি করে দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্সিতে । ইংরেজিতে এম.এ. করে কলেজে পড়াবে। সাহিত্য নিয়ে রিসার্চ করে নামের আগে অর্জন করবে ডক্টরেট ডিগ্রি। ইংরেজি সাহিত্য তিস্তার প্রিয় বিষয়। বাবার ইচ্ছের সঙ্গে মিলে গিয়েছিল মেয়ের নিজেরও ইচ্ছা। কিন্তু প্রেসিডেন্সিতে পড়তে এসে তার জীবন অন্য সকলের চেয়ে হয়ে গেল আলাদা। একটা ভুল সিধান্তে সে হারিয়ে ফেললো জীবনের অনেক কিছু। তবু সে বেঁচে থাকার আশা ত্যাগ করেনি। সব প্রতিকুলতাকে সে সহ্য করে সে টিকে থাকে। জীবনের প্রথম ভুল তিস্তাকে ঠেলে দিল নতুনতর ভুলের দিকে। তিস্তার জীবন যেন ধারাবাহিক ভুলেরই জীবন। বঞ্চনা ও প্রবঞ্চনার জীবন। জীবনে প্রথম ভুলে সে সুমিত নামে একটা ছেলেকে বিয়ে করে। বিয়ের পরের জীবনকে তিস্তা রঙিন সময় মনে করলেও কিছুদিন পর জানতে পারে এটা তার জীবনের চরম অন্ধকারে ডুবে যাবার সময়। স্বামী শাশুড়ী আর পারিপার্শ্বিক পরিবেশ তাকে কুঁড়ে কুঁড়ে শেষ করে দেয়। সে এ নরক যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পেতে চায়। সে কি পারবে নরকময় জীবন থেকে বেরিয়ে এসে সুখের আলোয় ভাসতে?? কিন্তু নিয়তি পথ ছাড়ে না। নিয়তির ছোবলে তিস্তা অরিত্র নামে আর একজনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এই বিয়ের সিধান্ত ও তাকে ভুল পথে চালনা করে। তিস্তার জীবন কি সত্যি ভুলে ভরা? কেন বার বার সে প্রতারিত হতে থাকে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের কাছে। সে কি মেয়ে বলেই সবাই তাকে লাঞ্চনা করে। কেন এমন হয়? জানেনা তিস্তা। ভুল কি শুধু ওর একারই ছিলো? নাকি সে মেয়ে এই অপরাধে শাস্তি পেতে হলো সারাজীবন? এরও কোন উত্তর জানা নেই তিস্তার...!!! কেন একটি মেয়েই বারবার হবে সর্বস্বান্ত ? কেন জীবনশুরুর সপ্নের সঙ্গে এত অমিল পরবর্তী জীবনপ্রবাহের? তিস্তার আশ্চর্য জীবনকাহিনীর মধ্য দিয়ে এমনই নানান আমোঘ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন সমরেশ মজুমদার। অবশেষে কি হয়? তিস্তা এখন কোন পথে হাটবে? অরিত্র,সুমিত না বাবা কার কাছে যাবে সে? নাকি কারো করুনা ছাড়াই সে আগামীকালের জন্য আজ বেঁচে থাকবে?? জানতে হলে পড়তে হবে সমরেশ মজুমদারের রোমান্টিক এই উপন্যাস দিন যায় রাত যায়।
তিস্তার ভুল হয়েছিলো!!! আমার মনে হয় না। আমি মনে করি, তিস্তার সাথে যা হয়েছে, তার দায় তিস্তার নয়। বরং, যারা তাকে জটিল সমীকরণের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে বারংবার, তারাই দায়ী। এই দায় কিংবা দোষ-ত্রুটি-স্খলন নিয়ে তর্ক হতে পারে। আমি সবসময় বরং তিস্তার পাশেই দাঁড়াতে চাইবো। নদীর মতো বয়ে যাওয়া তিস্তা সুখী হোক।
কত কিছু পড়লাম জীবনে... তবে তিস্তার জন্য যত কষ্ট হয়েছিল খুব কম চরিত্রের জন্যই তা হয়। এতো দুঃখ ও পেতে হয়? বিশেষ করে, তিস্তার প্রথম স্বামী আর শ্বশুরবাড়ির উপর খুব রাগ হয়েছিল। পরিশেষে এটাই বোঝা যায়, বাবা-মার অমতে যেয়ে কিছু করলে তার পরিনাম কখনো সুখের হয়না৷ ভালো থাকুক তিস্তারা।
দিন যায় রাত যায় সমরেশ মজুমদার ------------------------------------ একটা ভুলই হয়ে যেতে পারে সারাজীবনের আফসোস : --------------------------------------------------------------- এই যে কলকাতার শ্যামবাজার, বাগবাজার, শোভাবাজার, আর আহেরিটোলা, এসব জায়াগায় যারা থাকে তারা অনেক পুরোন দিনের মানুষ। এককালে টাকা ছিল , প্রতিপত্তি ছিল। শুনেছি তখন বালীগঞ্জ নিউ আলিপুর হয়নি। এসব বাবুদের কেউ কেউ যাতে এদিকে টের না পায় তাই বালীগঞ্জে বাড়ি বানিয়ে মেয়েছেলে রাখতেন। তাদের নামে বাড়ি লিখে দিতেন। এ দিকের যারা ওসব করত না তারা বাগানবাড়ি যেত। পয়সা যখন কমে এল তখন গ্রাম থেকে মেয়েছেলে তুলে আনা হল। বারো বছর বয়স হলেই একএকজন খোকাবাবুর সেবা করার জন্য একএকজন ঝি রাখা হত। মাইনে কম, পয়সা বেশি লাগছে না, আবার যৌবনে পড়ে খোকাবাবু বাইরে রাত কাটাবে না, ঝি -এর টানে ঘরেই ফিরবে। বাপের কাছে টাকা চেয়ে ঝামেলা করবে না। বিয়ের পরও কেউ কেউ ঝি -কে ছাড়ল না। এসবের সাথে তোমার সম্পর্ক কি? আশ্চর্য হয়ে জানতে চায় তিস্তা! আগের সুরে মঙ্গলা বলে যায়! তার মা ছিল এমনিই এক শোভাবাজারের মহিলা, খুব নাম যশ ছিল, আমি জন্মালাম, নামে মাত্র এক বাপ ছিল, ও বাড়িতে বড় হতে হতেই ন'বাবুর দায়িত্ব পড়ল। তখন ওর বয়স দশ, আমার বারো। দশ বছরের ছেলেকে ন্যাংটো করে গোছল ���রিয়ে দিতে হত, এরপর ঘুম পাড়ানি, বুঝতেই পারছ এরপর কি হবে! আমার নাকি খুব নাম হয়েছিল, অন্য অনেক ন'বাবু চাইত তাদের ঝি হিসেবে রাখা হোক আমাকে । এরপর আমার বিয়ে হয়েছিল কিন্তু শহরের আরাম আয়েশ ছেড়ে স্বামীর ঘরে থাকতে পারিনি। চলে এসেছিলাম আবার সেই সাহেবদের বাড়িতেই। আমার ছেলেও হয়ে ছিল কিন্তু সে বড়লোকদের ভাড়া করা মেয়ে বলে আমাকে তাড়িয়ে দিয়েছিল তদ্দিন থেকে আমি এই সেনদের কাছেই আছি। এসব শুনে তব্দা মেরে যায় তিস্তা। এসব কি শুনছে? মনে হচ্ছে পুরো জগত নির্লজ্জতার কাছে নিজেদেরকে বিক্রি করে দিয়েছে । ইংরেজিতে অনার্স করতে কানপুর থেকে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে এসেছিল। নিজে না চায়লেও সুমিত ওকে প্রেমের বাধনে ফেলে দেয়। কতশত ভালোবাসার বুলি উড়ায়, যেগুলোর ওর নিজের কাছেই এখন কোন দাম নেই। দাম থাকবেই বা কিভাবে? বাড়ির ঝি মঙ্গলার ভাষ্যমতে কর্ত্তার নাকি একসময় অসুখ ছিল। খারাপ পাড়ায় যাওয়ার অসুখ। আর তাদেরই কারো সন্তান সুমিত। এ বাড়ির গিন্নির নয়। তাই কি শাশুড়ি মা সুমিতকে দেখতে পারে না? ভালোবেসে বিয়ে করে এ কোন গ্যাড়াকলে পড়ল তিস্তা? ছোটবেলা থেকে তার বাবা মা যা শিক্ষা দিয়েছিল তার কাছে কি হেরে যাবে সে? তিস্তা বুঝে সুমিত একটা লম্পট ছাড়া আর কিছুই না! তা না হলে তার কবি বন্ধুর কাছে কি করে তিস্তাকে মডেল হতে বলে? এসবই তার আগের জীবনের কাহিনী, এখন শুধুই স্মৃতি। তাই আর ভাবে না তিস্তা। এখন সে বিজ্ঞাপন অফিসের নিয়ম মেনে চলা এক কর্মী, দিনের অফিসের পর রাতে স্বামী অরিত্রের সাথে সুখের সংসার। কিন্তু তাদের যখন বাচ্চা হল তখনই বাধল বিপত্তি। অরিত্রের আগের স্ত্রী ফোন করে বলে অরিত্রের সঙ্গে তার কোন বিবাহ বিচ্ছেদ হয়নি। চাইলে তাদেরকে মামলা করে কেস ঠুকে দিতে পারে। তিস্তার পৃথিবী যেন আবার দুলে উঠল। অরিত্রও তাকে ধোকা দিয়েছে? সে তার রক্ষিতা ছাড়া আর কিছুই না? তার মেয়ে জারজ সন্তান? ছোটবেলায় বাবার স্বপ্নের সাথে তার স্বপ্ন মিলে যাওয়াই ইংরেজি পড়ার জন্য কলকাতায় এসেছিল, আর এখন দুবার একই ভুলে বাবার সামনে সে মুখ দেখাতে পারবে? পৃথিবীতে কোথাও এতটুকু বিশ্বাসের জমি নেই। পুরুষ যেন নারীকে ছেলেখেলা হিসেবেই দেখে প্রতিনিয়ত। নারী পুরুষের পুতুল ছাড়া আর কিছুই না। তাদের মাতৃত্বের কোনই দাম নেই পুরুষের কাছে! তা না হলে সুমিত ওকে পিটায় কিভাবে? অরিত্রই বা কিভাবে মিথ্যা বলে বিয়ে করতে পারে? অথচ তার ডিভোর্সই হয়নি! নারীই কি তার মর্যাদা বুঝে? তা না হলে পুলিশ কিভাবে সুমিতের নামে অভিযোগ করার সময় বলেছিল বাঙ্গালী বধুরা স্বামীর নরম সুর শুনলেই সুড়সুড় করে মাথা কুটে স্বামীর কাছে! হতভাগী তিস্তা তার মেয়ের কথা ভাবে! পৃথিবীতে এসে আরোও একজনকে লড়ায়ে নামতে হবে যদি না ততদিনে সামাজিক অবস্থা পাল্টায়। এখনও এদেশে মেয়ে মানে প্রতিমুহূর্ত লড়ায়-এর জীবন যদি না সে দাসীবাঁদী হয়ে থাকতে চায়। তিস্তা জানে তার মেয়ে কখনই সেরকম হবে না। কিন্তু সেই সময় আসবে আরো আঠারো কুড়ি বছর পরে । তদ্দিনে কি চেহারাটা বদলাবে না?
না সমাজের চেহারা এখনো বদলায়নি। সমরেশ লিখে গেছেন ১৯৯৩ এ, সমাজ সেই জায়গাতেই পড়ে আছে। এখনো এ দেশে মেয়েদের লড়াই করতে হয় প্রতিনিয়ত। কখনো সুমিতের মত বখাটে, পাষণ্ড ছেলের বিরুদ্ধে কখনো বা অরিত্রের মত ধোঁকাবাজ ছেলের বিরুদ্ধে। তিস্তা যেমন লড়েছিল। এখনো নারী নিরাপদ নয়, তাদের মাতৃত্বের সম্মান সবাই দিতে পারে না। হাতে গুনা কিছু মানুষ ছাড়া পারবেও না।
এক নজরে বই :
বই : #দিন_যায়_রাত_যায় লেখক : সমরেশ মজুমদার প্রকাশক : আনন্দ পাবলিশার্স প্রচ্ছদ : সুব্রত চৌধুরী প্রথম প্রকাশ : ১৯৯৩ পেজ : ১১১ মলাট মূল্য : ২৫.০০