ভূমিকা উপন্যাসটি দৈনিক বাংলায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। দৈনিক কাগজে প্রকাশিত উপন্যাস কেউ পড়েন বলে আমার ধারণা ছিল না। কাজেই যা মনে আসত লিখে ফেলতাম। বুধবারে কপি দিতে হয়, আমি শেষ মুহূর্তে (মঙ্গলবার) কাগজ কলম নিয়ে বসতাম-যেভাবেই হোক ন’টি স্লীপ লিখে ফেলতে হবে। কাহিনী কোথায় যাবে এ নিয়ে ভাববার সময় নেই। এক সময় অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম এই উপন্যাসে আমি নিজের কথাই বলতে শুরু করেছি। সব লেখাতেই লেখক খানিকটা ধরা দেন কিন্তু এরকম নির্লজ্জভাবে দেন না। বই আকারে লেখাটি প্রকাশ করবার সময় তাই খানিকটা অস্বস্তি বোধ করছি।
সে-সব পাঠক-পাঠিকা খবরের কাগজে ‘দূরে কোথায়’ প্রথম পড়েছেন তাঁদেরকে বিনীতভাবে বলতে চাই বইয়ের কাহিনী কাগজে প্রকাশিত কাহিনীর চেয়ে অনেকখানিই আলাদা। অনেক অংশই নতুন করে লিখেছি, প্রচুর কাটছাঁট করেছি তবু মনে হচ্ছে আরেকবার যদি গোড়া থেকে লিখতে পারতাম ভাল হত।
Humayun Ahmed (Bengali: হুমায়ূন আহমেদ; 13 November 1948 – 19 July 2012) was a Bangladeshi author, dramatist, screenwriter, playwright and filmmaker. He was the most famous and popular author, dramatist and filmmaker ever to grace the cultural world of Bangladesh since its independence in 1971. Dawn referred to him as the cultural legend of Bangladesh. Humayun started his journey to reach fame with the publication of his novel Nondito Noroke (In Blissful Hell) in 1972, which remains one of his most famous works. He wrote over 250 fiction and non-fiction books, all of which were bestsellers in Bangladesh, most of them were number one bestsellers of their respective years by a wide margin. In recognition to the works of Humayun, Times of India wrote, "Humayun was a custodian of the Bangladeshi literary culture whose contribution single-handedly shifted the capital of Bengali literature from Kolkata to Dhaka without any war or revolution." Ahmed's writing style was characterized as "Magic Realism." Sunil Gangopadhyay described him as the most popular writer in the Bengali language for a century and according to him, Ahmed was even more popular than Sarat Chandra Chattopadhyay. Ahmed's books have been the top sellers at the Ekushey Book Fair during every years of the 1990s and 2000s.
Early life: Humayun Ahmed was born in Mohongonj, Netrokona, but his village home is Kutubpur, Mymensingh, Bangladesh (then East Pakistan). His father, Faizur Rahman Ahmed, a police officer and writer, was killed by Pakistani military during the liberation war of Bangladesh in 1971, and his mother is Ayesha Foyez. Humayun's younger brother, Muhammed Zafar Iqbal, a university professor, is also a very popular author of mostly science fiction genre and Children's Literature. Another brother, Ahsan Habib, the editor of Unmad, a cartoon magazine, and one of the most famous Cartoonist in the country.
Education and Early Career: Ahmed went to schools in Sylhet, Comilla, Chittagong, Dinajpur and Bogra as his father lived in different places upon official assignment. Ahmed passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1965. He stood second in the merit list in Rajshahi Education Board. He passed HSC exam from Dhaka College in 1967. He studied Chemistry in Dhaka University and earned BSc (Honors) and MSc with First Class distinction.
Upon graduation Ahmed joined Bangladesh Agricultural University as a lecturer. After six months he joined Dhaka University as a faculty of the Department of Chemistry. Later he attended North Dakota State University for his PhD studies. He grew his interest in Polymer Chemistry and earned his PhD in that subject. He returned to Bangladesh and resumed his teaching career in Dhaka University. In mid 1990s he left the faculty job to devote all his time to writing, playwright and film production.
Marriages and Personal Life: In 1973, Humayun Ahmed married Gultekin. They had three daughters — Nova, Sheela, Bipasha and one son — Nuhash. In 2003 Humayun divorced Gultekin and married Meher Afroj Shaon in 2005. From the second marriage he had two sons — Nishad and Ninit.
Death: In 2011 Ahmed had been diagnosed with colorectal cancer. He died on 19 July 2012 at 11.20 PM BST at Bellevue Hospital in New York City. He was buried in Nuhash Palli, his farm house.
Living is easy with eyes closed, misunderstanding all you see. - John Lennon উপরের কথাটি সম্পূর্ণ প্রযোজ্য ওসমান সাহেরবের স্ত্রী রেণুর ক্ষেত্রে। রেণু হলো সেসব মানুষের মতো যারা তার চারপাশের কিছু মানুষকে খুব ভালোবাসলেও সহজে তাদের ভালোবাসা দিতে জানেন না, সহজে মানুষের ভালোবাসা নিতে জানেন না, যারা নিজেরই তৈরি একটা অদৃশ্য দেয়াল তৈরি করেন নিজের চারদিকে যে দেয়াল ভেদ করে তাকে ভালবাসতে গেলে বার বার ফিরে আসতে হয়, কষ্ট পেতে হয়, সে ও এই দেয়ালের প্রাচীর ভেদ করে তার ভালোভাসা প্রকাশ করতে পারেন না।
পড়ার সময় বারবার মনে হয়েছে, ওসমান সাহেবের মাঝে কি লেখক নিজেকে আঁকার চেষ্টা করেছেন? হয়তো করেছেন অথবা করেন নি অথবা আংশিক করেছেন। করুক বা না করুক পাঠক হিসেবে সেটা আমার বা আপনার জন্য খুব একটা জরুরী বিষয় নয়। গল্পের ওসমান সাহেব একজন প্রতিষ্ঠিত লেখক যিনি রাইটার্স ব্লক এ আছেন। কোন কিছুই লিখতে পারছেন না। খুবই যৌক্তিক মানুষ ওসমান সাহেব; সহজে রাগেন না বা উত্তেজিত হন না, জীবনের সুখ দুঃখ সবকিছুকে অতিরিক্ত উৎসাহ ছাড়া সাদামাটাভাবে গ্রহণ করার একটা স্বাভাবিক স্বভাব তার রয়েছে। নিজের আবেগকে খুব বেশি প্রশ্রয় দেন না অথবা দেওয়ার চেষ্টা করেন না, চারপাশের মানুষের আবেগকে খুব ভালো বোঝেন কিন্তু সেই আবেগগুলোর যথাযথ মূল্যায়ন তিনি করেন না অথবা করতে চান কিন্তু কোন কারনে করা হয় না অথবা নিজের আবেগের মূল্যায়ন না দিতে দিতে অন্য সকলের আবেগকে মূল্যায়ন দিতে তিনি ভুলে যান অথবা ভুলে না গিয়ে থাকলেও অনিচ্ছায় দেওয়া হয় না। নিজের একাকীত্বকে ভোগ করার একটা চমৎকার গুণ ওসমান সাহেরবের আছে যা বেশিরভাগ মানুষের মাঝেই পাওয়া যায় না। ওসমান সাহেরবের চরিত্রটা আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে কারণ আমার নিজের সাথে ওসমান সাহেবের অনেক কিছু মিলে যাচ্ছিলো।
গল্পের একটা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র মিলি। কথায় কথায় মিথ্যা বলার একটি বিরক্তিকর স্বভাব সে রপ্ত করে ফেলেছে। মিথ্যা বলতে পারাটা একটা শিল্প, যেসকল মানুষ মিথ্যা বলতে পারে কিন্তু অন্য মানুষ তাদের মিথ্যা ধরতে পারেন না তারা খুব উঁচু মানের শিল্পি বলে আমার বিশ্বাস। মিথ্যা নিয়ে Friedrich Nietzsche এর একটা চমৎকার কোট আছেঃ I'm not upset that you lied to me, I'm upset that from now on I can't believe you. কথাটি সম্পুর্ণ প্রযোজ্য মিলির ক্ষেত্রে। তাকে কেউ বিশ্বাস করেনা, কারন সবাই জানে সে মিথ্যা বলে। মানুষ মিথ্যা বলে কেন? আমি নিজে নিজেকে এই কথা অনেকবার জিজ্ঞেস করেছি। মানুষের মিথ্যা বোঝার পর চিন্তা করেছি, অবশেষে তিনটা কারণ খুঁজে পেয়েছি।
১। মানুষ ভয়ে মিথ্যা বলে। বড় বা ছোট সবাই ভয়ে মিথ্যা বলে বা প্রয়োজন বোধ করে। ২। মানুষ ভালোবাসা পাওয়ার জন্য মিথ্যা বলে। বাচ্চারা এটা করে বেশিরভাগ সময়। কিছু কিছু মানুষের মাঝে ভালোবাসা পাওয়ার একটা তীব্র ইচ্ছা বড় হওয়ার পরও রয়ে যায়, তখনও তারা মিথ্যা বলে, মিথ্যা বলে ভালোবাসা পেতে চায়। ৩। আরেক শ্রেণীর মানুষ আছে যারা এমনি এমনি মিথ্যা বলে, কোন কারণ নেই। স্বভাবে এসে গেছে তাই মিথ্যা বলে, কেন বলে তারা নিজেরাও জানেন না।
গল্পের মিলি হলো দ্বিতীয় শ্রেণীর মিথ্যুক। ছোটবেলায় মা মারা যাওয়ার পর কঠিন স্বভাবের বাবার কাছ থেকে খুব বেশি ভালোবাসা সে পায়নি। বড় ভাই ওসমান সাহবের কথা আগেই বলা হয়েছে, যিনি তার চারপাশের মানুষের আবেগ অনুভূতিকে খুব বেশি প্রশ্রয় দেন না। তিনি মিলির আবেগকেও প্রশ্রয় দেন নি। ফলে মিলি বড়ো হয়েছে শূন্যতায়, মিলি বড়ো হয়েছে অভালোবাসায়। আর তাই ভালোবাসা পাওয়ার তাগিদে, ভালোবাসার কাঙ্গাল হয়ে সে মিথ্যা বলার পথ বেছে নেয়। কিন্তু মিথ্যা বলার জন্য যতটা বুদ্ধিমতী আর চালাক হওয়া প্রয়োজন হয় মিলি ততটা বুদ্ধিমতী নন, ফলে তার মিথ্যা সবাই ধরে ফেলে এবং এটা হয়ে দাঁড়ায় ভালোবাসা না পাওয়ার আরেকটি কারণ।
বেচে থাকার কারণ হিসেবে একেক মানুষ একেক ধরণের জিনিস আঁকড়ে ধরে, কেউ কাউকে ভালোবাসার মাঝে জীবনের অর্থ খুঁজে পান, কেউ কারো ভালোবাসা পাওয়ার মাঝে জীবনের অর্থ খুঁজে পান, কেউ তার কোন কাজের মাঝে জীবনের অর্থ খুঁজে পান, কেউ কেউ কখনো জীবনের অর্থ খোঁজার অবসর পান না, জীবনকে টিকিয়ে রাখতে রাখতে কখনো তাদের মনে এই প্রশ্ন আসে না যে, জীবনের কোন অর্থ আছে বা অর্থ থাকার প্রয়োজন আছে। মিলি হলো সেসব মানুষের মতো যারা জীবনের অর্থ খুঁজে পান ভালোবাসা পাওয়ার মাঝে। এ ধরণের মানুষেরা ভালোবাসা না পেলে জীবনের প্রয়োজন হাড়িয়ে ফেলেন, মিলিও হাড়িয়ে ফেলেছিলো।
আরও বলা যায় অপলার কথা। তরল ভালোবাসায় পূর্ণ এক যুবতী। আমার মনে হয় পৃথিবীতে যদি বিশুদ্ধ প্রেম বলতে কিছু থাকে তাহলে সেটা একমাত্র টিনেজ মেয়েদের মনে থাকে। ওসমান সাহেবের শালী অপলা ওসমান সাহেবের প্রেমে পড়েন। বিশুদ্ধ প্রেম। এ প্রেমের সমাপ্তি বিচ্ছেদে, তবুও এ প্রেম সুন্দর। হয়তো পৃথিবীর সমস্ত বিচ্ছেদের প্রেমই সুন্দর। হুমায়ূন আহমেদেরই কোন বইএ মনে হয় পড়েছিলাম, টিনেজ মেয়েদের প্রথম প্রেম বেশিরভাগ সময়ই ভুল প্রেম হয়। অপলার ক্ষেত্রেও তাই হলো।
বইয়ের কিছু ভালো লাগা লাইনঃ
“যেখানে নিজের মনকে কখনো জানা যায় না, সেখানে অন্যের মন জানার প্রশ্নই ওঠে না।”
“শহুরে জোছনা পুরোনো দুঃখের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়।”
“কিছু কিছু মানুষ সারাজীবন ভুল করার জন্য জন্মায়।”
“মানুষের জীবন বাধা পরবার নয় কিন্তু এ জীবনকে বাধার জন্যই মানুষের অনেক আয়োজন।”
“কোন একটা বিশেষ কিছুর জন্য মানুষ দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে পারে না। মানুষ প্রতিবারই নতুন কিছুর জন্য প্রতীক্ষা করে।”
“অক্ষমতা স্বীকার না করাটাও একটা অহংকার।”
“কোন মানুষই তার প্রতিভার বাইরে যেতে পারে না।”
“পুরুষদের আহত করার কৌশল মেয়েরা খুব তাড়াতাড়ি শিখে ফেলে এবং তা ব্যবহারও করে খুব চমৎকারভাবে।”
“কোন প্রিয়জন হঠাৎ করে অনেক দূরে চলে গেলে তার কথা বারবার মনে পড়ে।”
“মনের কথা প্রায় কোনো সময় বলা যায় না। বলা গেলে সংসারের জটিলতা কমত। কিন্তু সংসার জটিলতা পছন্দ করে।”
“সুখের উপকরণ চারদিকে ছড়ানো থাকে। আমরা প্রায় সময়ই তা বুঝতে পারি না! হঠাৎ এক সময় তার দেখা পাই এবং অভিভূত হয়ে পড়ি।”
“গাছের যৌবন বার বার ফিরে আসে, কিন্তু মানুষের যৌবন মাত্র একবার।”
“মাঝে মাঝে খুব কাছের মানুষও খুব অস্পষ্ট হয়ে যায়।”
“জীবজগতে মানুষ হচ্ছে একমাত্র প্রণী যে একা থাকতে পারে। অন্য কোনো প্রাণী পারে না। তাদের সঙ্গী বা সঙ্গীনী প্রয়োজন, তবে মানুষ অসাধারণ কল্পনা শক্তির অধিকারী বলেই সে নিঃসঙ্গ সময়টায় সঙ্গী কল্পনা করে নেয় এবং এক সময় একা থাকাটা তার অভ্যাস হয়ে যায়।”
“একজন মানুষ সমগ্র জীবনে অল্প কয়েকজন ভালো মানুষের সাক্ষাৎ পায় যারা তার উপর অসাধারণ প্রভাব ফেলে।”
“তীব্র ও তীক্ষ্ণ আনন্দের মুহূর্ত একজন মানুষের জীবনে বার বার আসে না।”
বই পড়ে আমার নিজের কিছু অনুভূতি তৈরি হয়েছেঃ “এ পৃথিবীতে সুন্দরতম জিনিষগুলোর মাঝে একটা হলো প্রেমে পড়া কিশোরীর চোখ।”
“প্রেমে পড়া কিশোরীরা সব সময় পৃথিবীর সব কিছুর প্রতি একটা চাপা অভিমান বুকে নিয়ে ঘুরে।”
“মাঝে মাঝে আমরা অসম্ভব সুন্দর কিছু জিনিস দেখি, যেগুলো দেখার পর সেগুলো বাস্তব বলে মেনে নিতে কষ্ট হয়, মনে হয় যেনো কোন স্বপ্ন দেখছি, মনে হয় যেনো সব কল্পনা; চোখ খুললেই সব হাড়িয়ে যাবে, চোখ খুললেই সব মিথ্যা হয়ে যাবে, চোখ খুললেই সব কিছু ফিরে আসবে-জীবনের অসুন্দর সব কিছু।”
এই গল্পটি এক লেখক চরিত্রের যাকে বারবার ওসমান সাহেব বলে সম্বোধন করা হয়েছে যার ফলে উনার সঠিক বয়সটা আমি আন্দাজ করতে পারি নি। এনার স্ত্রীর নাম রানু, বয়স ২১। এই তরুণীর রূপের ব্যাপারে সবিস্তারে কিছু বলা হয়েছে কিনা মনে পড়ছে না (অমনোযোগী পাঠক ¬_¬) আর বাদ বাকি সবাই যেমনঃ ওসমান সাহেবের বোন মিলি, রানুর দূর সম্পর্কের বোন অপলা, ওসমান সাহেবের বাবা ফয়সাল সাহেবের সেক্রেটারি বীথি এরা সবাই-ই অপরূপা, সুন্দরী।
তেমন কোনো গাঢ় কাহিনী নেই। শুরুতেই দেখা যায় ওসমান সাহেব আর রানুর মধ্যে সেপারেশনের তোড়জোড় চলছে, কাগজপত্র জমা দেয়া হয়েছে এবং এনারা আলাদা বাসায় থাকেন। এই দম্পতির একটা বাচ্চা ছেলে আছে নাম টগর, টগর বাবাকেই একটু বেশি পছন্দ করে।
এবার মিলির ব্যাপারে বলি৷ সে বড়ই সেন্টিমেন্টাল মেয়ে। কথায় কথায় মিথ্যা বলে বেশ। সে দুইটা দুইটা করে ঘুমের বড়ি কিনে একটা কৌটোয় জমা করে রাখে, এগুলো খেয়ে একদিন মরে যাবে। তার আরেকটা বিশেষত্ব হচ্ছে বাচ্চাটাকে রেখেই সে হরদম হই হই করে ঘুরে বেড়ায় আর মিথ্যা বলে, কিসের দুঃখে যেন শুধু শুধুই কাঁদে।
অপলা মেয়েটা মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হয়েছে যদিও তার মাধ্যমিক আর উচ্চ মাধ্যমিকের রেজাল্ট ভালো নয়। অপলা আর রানু থাকে সুরমা খালার বাসায়। বিচিত্র একটা কারণে সুরমা খালা রানুকে ভয় পান, তাই বাড়ি ছাড়তে বলতে পারছেন না। অপলা অন্য চাবি দিয়ে ছাদের তালা খুলে ফেলায় সুরমা খালা বড়ই বিস্মিত হয়েছিলেন, এসব হচ্ছে চোরছ্যাঁচড়দের কাজ কিন্তু অপলা এমন পারবে কেন সে তো ভদ্রলোকের মেয়ে!🙄
সেক্রেটারি বীথি মেয়েটার আগেপিছে সম্ভবত কেউ নেই, থাকে ফয়সাল সাহেবদের বাড়িতেই৷ একদিন ফয়সাল সাহেব ছেলে ওসমান সাহেবকে ডেকে বললেন একটা অল্পবয়সী মেয়েকে বিয়ের ইচ্ছা হয়েছে তার ধারণা বাড়িটা লিখে দিলেই যেকোনো তরুণী মেয়েই রাজি হয়ে যাবে। কিন্তু তিনি বিয়ে করেন নি। বীথি মেয়েটাকে তার খুব ভালো লাগতো। এই মেয়েটির হাত ধরেই তিনি এম্বুলেন্সে মারা যান। এবং তিনি বাড়িটা বীথিকেই লিখে দিয়ে যান।
এরপর এক বছর কেটে গেছে। রানু আর ওসমান সাহেবের সেপারেশন হয়ে গেছে। বীথি ঐ বাড়িটায় একটা সমিতি দাঁড় করিয়েছে, ওর মতো আশ্রয়হীন মেয়েদের জন্য। ওদিকে অপলা মনে মনে ওসমান সাহেবকে পছন্দ করে। মিলির পাগলামি বেড়ে চলেছে, তাকে ভারতে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। ঐ সময় ওসমান সাহেব যান তার গ্রামের বাড়িতে। মিলি ভারতে যাওয়ার সময় জমানো ঘুমের ওষুধ সাথে করে নিয়ে যায় এবং আত্নহত্যা করে। ঘুমের ওষুধ খাওয়ার আগে সে রানু ভাবিকে একটি চিঠি লিখে যায়। সেই চিঠি নিয়ে রানু হাজির হয় ওসমান সাহেবের ওখানে। বেশ কিছুদিন হল টগর আর অপলা এখানে এসে পড়ে আছে। অপলার ধারণা রানু একবারেই চলে এসেছে।
বইটির অধিকাংশ পড়েই আমি বিরক্ত হয়েছি। কোনো কাহিনীই নেই যেন, আবার যেন আছে। শোনা যায়, হুমায়ূন আহমেদ বলেছিলেন নিজের জীবনেরই কিছু অংশ এখানে ঢেলে দিয়েছিলেন। বইয়ের একটা জায়গায় লেখা আছে, "ওসমান সাহেব কিছু বললেন না। মনিকা খুব কান্নাকাটি করছে এই দৃশ্যটি তিনি কল্পনা করতে চেষ্টা করলেন। সে চেঁচিয়ে নিশ্চয়ই কাঁদবে না, কিংবা কে জানে হয়ত চেঁচিয়েই কাঁদবে। একটি অত্যন্ত রূপসী মেয়ে কাঁদছে। দৃশ্যটি কল্পনায় চমৎকার কিন্তু বাস্তবে কুৎসিত। বেশ কিছু সুন্দরী মেয়েকে তিনি কাঁদতে দেখেছেন। তার কাছে কখনও ভাল লাগেনি।" এই লেখাটুকুই আমার কাছে কুৎসিত লেগেছে। এই বইয়ের একজনকেই আমার ভাল লেগেছে- মিলি! কিন্তু এই পাগল মেয়েটাকে কেন ভাল লাগলো! এর উপরেই বিরক্ত হচ্ছিলাম বেশি। বইয়ের একটা মেয়ে আত্নহত্যা করে মারা গেছে তার জন্য খুব মন খারাপ করছে, এখন মনে হচ্ছে এটাও একটা কুৎসিত ব্যাপার। খুব বিরক্ত হয়েও চারা তারা দিচ্ছি, এটাও একটা কুৎসিত ব্যাপার ¬_¬
~২৮ জুলাই, ২০২১
This entire review has been hidden because of spoilers.
ওসমান সাহেব একজন উঁচুদরের বিখ্যাত লেখক এবং একই সাথে ব্যর্থ সংসার জীবনে। বউ তাকে ছেড়ে সেপারেশনে আছে। সেই সাথে ওসমান সাহেবও অনেকদিন হল কিছু লিখতে পারছেন না। তার উপরে আছে দারোগা টাইপের বাপ আর আধাপাগল বোন। সব মিলায়ে হচপচ ব্যাপার। বাবা মারা যাওয়ার পরে সবকিছু ফেলে চলে গেলেন নির্বাসনে, নিজের গ্রামের বাড়ীতে। কারণ কি??? উনি লিখতে পারছেন নাহ। রাইটারস ব্লকে আছেন। ওহ, ওসমান সাহেবের একটা পুত্রসন্তান ও আছে যার প্রতি তার খুব একটা টান আছে কি নাই বুঝা যাচ্ছে নাহ। এখন এইসব মানুষকে নিয়েই গল্পটা বোনা হয়েছে। আমার কাছে ভালই লেগেছে। এর কারণ হিসেবে বলা যায় ওসমান সাহেবের মধ্যে মিসির আলী ভাব আছে। মিসির আলী আমার খুব প্রিয় ক্যারেকটার। লজিকাল রিজনিংগুলা মনে দাগ কেটে যায় অনেক। আরেকটা কথা হচ্ছে লেখক নিজের জীবনের অনেক অভিজ্ঞতার আলোকে বইটা লিখেছেন। নিজের পারশেপ্সনে দেখা জগতটাকে ওসমান সাহেবের মধ্যে তুলে দিয়েছেন। সেক্ষত্রে ওসমান সাহেব যেমন সন্ন্যাসী টাইপ লোক, লেখক কি তাই???? কে জানে।
বইটা নিয়ে হুমায়ূন আহমেদ বলেছেন — " এক সময় অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম এই উপন্যাসে আমি নিজের কথাই বলতে শুরু করেছি "৷ সত্য! পাঠকরা আসলেই বইয়ের নানা জায়গায় লেখকের সাথে মন্তব্যর সাথে একমত হবেন৷ তবে, উপন্যাসে ওসমান সাহেব যেভাবে কিছুই লিখতে পারছিলেন না, আমার মনে হয় হুমায়ূন আহমেদও ওই কিছুই লিখতে না পারার সময়ে এই উপন্যাস লিখেছেন!
I read a quote from a movie...i don't remember the name of the movie... The quote is..."I am reading a very sad book at the moment. Beautiful ...but sad!" This quote amazingly goes with this book! A beautiful sad book indeed !
লেখক নিজেই বলেছেন যে এই লেখায় তিনি নিজেকে নির্লজ্জভাবে ধরা দিয়েছেন। বই শেষ করে মনে হল ঠিকই বলেছেন। অনেক জায়গায় ই মনে হয়েছে যে এই ঘটনা তার নিজের জীবন থেকে ধার করা।বিষাদ মাখা,মন খারাপ করিয়ে দেয়ার মত করেই ওসমান সাহেবের গল্পটি শেষ হয়। PS. মাওলা ব্রাদার্স এর বই পড়তে গিয়ে আগেও এই সমস্যায় পরেছি। প্রুফ রিডিং ভাল না । একটা ভুল ভাল বানানও আমার পড়ার flow নষ্ট করতে যথেষ্ট আর সেখানে এটা তো ভুলের রাজ্য বলা যায় ।
এই বইটি খুব অবহেলায় রাস্তার পাশ থেকে কেনা। অনেক দিন পর খুঁজেপেতে পড়ে ফেললাম।
হুমায়ূন আহমেদের একদম প্রথম দিকের লেখার একটা ছাপ পাওয়া যায় বইটায়। অল্প কথায় অনেকটুকু না বলাকে প্রকাশ করার যে যাদু হুমায়ূন আহমেদ জানেন, তা-ই বইটা পড়ে নতুন করে বুঝতে পারলাম। খুব বেশি জনপ্রিয় হয়নি যদিও, তাও এটি আমার অন্যতম প্রিয় বইয়ের তালিকায় থাকবে।
তেমন কোনো আহামরি কাহিনী না। খুবই সাধারণ। তবে কিছু কিছু জায়গায় মনের ওপর হালকা চাপ পড়েছে। হুমায়ুন আহমেদের লেখা বলে কথা! চাপ তো একটু পড়বেই। গল্পের মিলির জন্য খুব মায়া লেগেছে। জানি না কেন..
রাত কি সকাল বলবো ঠিক বুঝতে পারছি না,৪টা বাজে,কিছুক্ষণের মধ্যে সকাল হয়ে যাবে।২০১৫-১৬সালের দিকে হুমায়ুন আহমেদের প্রচুর বই পড়া হয়েছে,চুম্বকের মতো আকর্ষণ করতো তার লেখনী।কি চমৎকার ধরনের অনুভূতি! একটা সময় পর তার বইগুলো এড়িয়ে চলা শুরু করলাম,মনে হলো কিশোরীদের হাতেই তার বই দেখতে ভালো লাগে।আজ টানা ৩ দিন ধরে অডিওবুক শুনে বইটি শেষ করলাম।ভালো বই।পড়ার পর মোটামুটি সবগুলো চরিত্রের প্রতি মিক্সড ফিলিং কাজ করতে পারে;যেমন ধরুন,ওসমান সাহেব কি নিজেকে আরো সহজভাবে প্রকাশ করতে পারতো না? রাণুরও কি মনে হয়নি তার এভাবে ছেড়ে আসাটা যুক্তিসঙ্গত না? অথবা অপলা, যে তাকে আশ্রয় দেওয়া বোনের স্বামীর প্রতি আবেগ দেখিয়েছে? মিলি কি তার মেয়ের জন্য হলেও কিছুটা পরিবর্তন হতে পারতো না! অনেক প্রশ্ন,কিন্তু উত্তর একটাই,"Because they were not simple,they were human,the labyrinth of their contradictions,in the torment of their tangled souls made the story alive"
হুমায়ূন আহমেদের "দূরে কোথায়" বইটি লেখকের শুরুর দিককার উপন্যাস তাঁর অনন্য গল্প বলার শৈলীকে তুলে ধরে। দৈনিক পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত এই উপন্যাসটি দৈনন্দিন জীবনের সারমর্মকে ধারণ করে, যেখানে লেখকের ব্যক্তিগত প্রতিফলনও রয়েছে।
বইটির কিছু অংশ চমৎকার হলেও, কিছু অংশ অনেক কমন, প্রায় সব বইতেই পাওয়া যায়। ওসমান সাহেবের প্রতি অপলার প্রেমে পড়াটা যেমন। তবে, হুমায়ূন আহমেদের সহজ অথচ গভীর গল্প বলার ক্ষমতা আমাকে পুরো বইটি পড়তে আগ্রহী রেখেছে।
ওভারঅল বলা যায়, 'দূরে কোথায়' সমসাময়িক বাংলা সাহিত্যের এবং হুমায়ূন আহমেদের অনন্য কণ্ঠস্বরকে যারা পছন্দ করেন তাদের জন্য একটি ভালো পাঠ। এটি হয়তো তাঁর সেরা কাজ নয়, তবে এর মধ্যে একটি বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে।
বইটা পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে বিধায় প্রথমদিকে বোঝা যাচ্ছিলো না লেখক আসলে কীভাবে সাজাতে চাইছেন। কিন্তু বেশ অর্ধেক অংশ পড়ার পর আস্তে আস্তে ভালো লাগা জাগতে শুরু করবে পাঠকদের মনে। উপন্যাসের শেষে গিয়ে প্রচণ্ড মন খারাপ হয়ে যাবে কিন্তু এর কোনো কারণ খুঁজে বের করা হয়তো যাবেনা। আমাদের প্রত্যেকের মনে এমন কিছু লুকায়িত আকাঙ্ক্ষা, কিছু বেদনা আছে যা সবচাইতে কাছের মানুষটাকেও কখনো বলা যায় না।
পড়া শেষ করে বুঝলাম বইটা এর আগেও পড়েছি। ওনার এতো এতো লেখার মাঝে খুব প্রিয় কিছু বই ছাড়া কোনটা যে পড়েছি, আর কোনটা পড়ি নি সেটা আর আলাদা করে মনে রাখা সম্ভব হয় না।কাহিনী খুবই সাধারণ মনে হয়েছে, আর দশটা বইয়ের মতনই। মনে হল ওনার নিজের জীবনের চিত্র উঠে এসেছে কিছু অংশে। এবার হুমায়ূন পড়া থেকে একটু ছুটি নেওয়া দরকার!
আমি ভাবতাম , হুমায়ুন আহমেদ ২০০০ সালের পর থেকে প্রকাশকদের চাপে যা-তা লিখতে শুরু করছেন। কিন্তু এই বই পড়ে বুঝলাম আগেও লিখতেন। উনার এক শ্রেষ্ঠ উপন্যাস সংকলনে এই বই দেখে কিনছিলাম। কিন্তু হতাশ করলো
After 12 years, when Ranu went back to her uncle's house and cried...idk why I could relate to her back then...why it felt like someday I'd be like her. So devastatingly alone in a sea of people.
গল্পটিতে লেখক নিজের গল্প বলে ফেলেছেন, ইচ্ছা করে বলতে চেয়েছেন তা নয়, পত্রিকায় এই গল্পটি ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হতো। পরে লেখক আবিষ্কার করেন এই লেখাটি অনেকটা তার জীবনকেই দেখাচ্ছে। গল্পের ওসমান সাহেব একজন লেখক যার বিবাহ বিচ্ছেদ হয় রানুর সাথে। তাদের ছোট একটি ছেলে আছে, টগর নাম। টগর রানুর সাথে থাকে। তাদের সাথে অপলাও(রানুর দূরসম্পর্কের বোন) থাকে। ওসমান সাহেবের ছোট বোন মিলি খুবই মিথ্যা কথা বলে। কিন্তু ওসমান সাহেবকে খুব ভালোবাসে। তার জীবনে হয়তো ভাই ছাড়া আর কেউ নাই। এক পর্যায় মিলিকে পাগল ধরে নেয়া হয়। মিলিও ভাবতে শুরু করে সে পাগল। শেষমেষ তার জমানো ঘুমের ঔষুধ খেয়ে মারা যায় মিলি। ওসমান সাহেব এর বাবা(ফয়সাল সাহেব) মৃত্যুর আগে তার সেক্রেটারি (বীথি) কে তার সমস্ত সম্পত্তি লিখে দিয়ে যান। ধারণা করা হয় ফয়সাল সাহেব বীথিকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। রানু একটা চাকরি করে। আলাদা বাসা নিয়ে অপলা আর টগরকে নিয়ে থাকে। বুধবার ওসমান সাহেব টগরকে দেখতে আসে। টগর প্রতি বুধবার অপেক্ষা করে তার বাবার জন্য। ওসমান সাহেব রাইটার্স ব্লকে ছিলেন। তাই তিনি গ্রামে এসে থাকতে শুরু করলেন। সেই গ্রামে এক এক করে অপলা, টগর আর রানু আসে। সেখানেই লেখক রানুর সাথে ওসমান এর মিল এর আভাস দেন। কিন্তু এদিকে অপলা যে ওসমান সাহেব এর প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে এবং রানুর সাথে ওসমান সাহেবকে আবার দেখে কষ্ট পাচ্ছে তাও বুঝিয়ে দেন। গল্পটি কিছুটা খাপছাড়া মনে হয়েছে। চরিত্রগুলোর কারো সাথে কারোর তেমন কানেকশন নেই। সবাই যা ইচ্ছা করছে। সবাই একই সাথেআবেগী আর অভিমানী। কিছুটা একঘেয়েমি চলে এসেছিলো গল্পের মধ্যে।
This entire review has been hidden because of spoilers.