তিন গোয়েন্দা বাংলাদেশে ঘুরতে এসেছে। আরও স্পষ্ট করে বললে ঢাকায় এসেছে। তারা যখন এই ঢাকার মাটিতে পা রেখেছে, সেখানে পায়ে পায়ে রহস্য আসবে না, তা কি হয়? কিশোর পাশার অনুসন্ধিৎসু মন, সবসময় চোখকান খোলা রেখে চলে। কোনো কিছুই তার নজর এড়ায় না। কানের বাইরে যায় না।
আত্মীয়ের বাসায় থেকে কিশোর জানতে পারে এক রহস্যের কথা। ঢাকার রাস্তায় না-কি গাড়ির উইন্ডশিল ভাঙা পাওয়া যায়। নিতান্তই বিচ্ছিন্ন ঘটনা? না-কি কেউ পরিকল্পিতভাবে এমন কান্ড ঘটাচ্ছে?
নিতান্তই ছুটিতে ঘুরতে এসেছে তিন গোয়েন্দা। তাই বলে তো হাত পা গুটিয়ে বসে থাকা যায় না। ঘুরে বেড়াতে হবে, সেই সাথে রহস্যজনক কিছু পেলে তাতেও ঝাপিয়ে পড়তে হবে। হয়তো ছুটির এই সময়টা আরো বেশি উপভোগ্য হয়ে উঠবে। আর যদি জানা যায়, প্রাচীন কোনো মুদ্রা এতে চুরি হয়েছে! তাহলে তো কথাই নেই।
আমেরিকার রকি বিচের পটভূমিতে যতটা জনপ্রিয় তিন গোয়েন্দা, দেশীয় গল্পে থিম ততটাই ফিকে। আমি তো গোয়েন্দাকে বাংলাদেশে যতগুলো অভিযানে দেখেছি, সেই অনুভূতি দিতে পারেনি। “ঢাকায় তিন গোয়েন্দা” তেমনই অবস্থানে শেষ হয়েছে।
এখানে রহস্য থাকলেই তিন গোয়েন্দার যে নিবেদন, তা কোথাও একটা অনুপস্থিত। কিশোরের ক্ষুরধার মস্তিষ্কের খেলা এখানে অবশ্যই ছিল। তবে সেই রকমের থ্রিল বা সাসপেন্স পাওয়া যায়নি। বরং এর বাইরে গিয়ে আশি বা নব্বই দশকের ঢাকার চিত্র এখানে ফুটে উঠেছে।
সেই সময় উত্তরাকে ঢাকার বাইরের একটা অঞ্চল হিসেবে ধরা হতো। এর আশেপাশে গ্রামীণ পরিবেশ ছিল। সেই গ্রামীণ পরিবেশের কিঞ্চিৎ অবস্থান লেখক ব্যক্ত করেছেন। শীতের রাতে খেজুর রস, দেশীয় মানুষদের আন্তরিকতার প্রতিফলন এখানে ছিল।
রকিব হাসানের তিন গোয়েন্দা এক ধরনের আবেগ। যদিও এই গল্পে তেমন টানটান উত্তেজনা পাওয়া যায়নি, তারপরও খুব যে খারাপ লেগেছে এমন না। লেখকের স্বাভাবিক গল্প বলার ধরন, বাচনভঙ্গি, গল্পের গতি, কিশোর পাঠকদের ধরে রাখার সমস্ত উপাদান ছিল। এই গল্পটা আরো একটু কম বয়সে পড়লে বেশি উপভোগ করতে পারতাম।
শেষের দিকে যেভাবে চমক তিন গোয়েন্দায় উপস্থাপিত হয়, তেমনটি ছিল। চরিত্রগুলোও ঠিকঠাক নিজেদের প্রতি সুবিচার করতে পেরেছিল। তবে আবারও কিশোর শো। বুদ্ধিতে বাজিমাত করে এক নয়, দুটি রহস্যের সমাধানে করেছে। একই সাথে আরো একবার ভূত থেকে ভূতের মাধ্যমে রহস্য সমাধানের চেষ্টা।
এই ভূত থেকে ভূতের অনেক ভালো দিক থাকলেও একটা খারাপ দিকও আছে। যে তথ্য সংগ্রহের জন্য কিশোরের এই আবিষ্কার, ভুলক্রমে শত্রুপক্ষের কানেও ঘটনা চলে যেতে পারে। ফলে নির্দিষ্ট লক্ষ্য বাঁধা প্রাপ্ত হয়।
তিন গোয়েন্দা আমি যতবার পড়ি, নিজের বয়স ভুলে গিয়ে কিশোর হয়ে উঠি। বারবার কিশোর, মুসা, রবিনের সাথে যেকোনো রহস্যে হারিয়ে যাই। এবার ঢাকায় গাড়ি ভাঙা ও মুদ্রা চুরি রহস্যের সমাধান হলো। পরেরবার অন্য কোনো জায়গায়, অন্য কোনো রহস্যের কেন্দ্রে দেখা হবে।
▪️বই : ঢাকায় তিন গোয়েন্দা
▪️লেখক : রকিব হাসান
▪️ব্যক্তিগত রেটিং : ৩.৫/৫