Sharadindu Bandyopadhyay (Bengali: শরদিন্দু বন্দোপাধ্যায়; 30 March 1899 – 22 September 1970) was a well-known literary figure of Bengal. He was also actively involved with Bengali cinema as well as Bollywood. His most famous creation is the fictional detective Byomkesh Bakshi. He wrote different forms of prose: novels, short stories, plays and screenplays. However, his forte was short stories and novels. He wrote historical fiction like Kaler Mandira, GourMollar (initially named as Mouri Nodir Teere), Tumi Sandhyar Megh, Tungabhadrar Teere (all novels), Chuya-Chandan, Maru O Sangha (later made into a Hindi film named Trishangni) and stories of the unnatural with the recurring character Baroda. Besides, he wrote many songs and poems.
Awards: 'Rabindra Puraskar' in 1967 for the novel 'Tungabhadrar Tirey'. 'Sarat Smriti Purashkar' in 1967 by Calcutta University.
১৯৪৮ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমেরিকান সৈন্যরা চলে যাওয়ার সময় অনেক অস্ত্র বোমা স্থানীয় পয়সাওয়ালা মানুষের কাছে বিক্রি করে যায় সেসব অস্ত্র দিয়ে চলে নানা সংঘাত। সরকার তাই সেই অস্ত্র উদ্ধার করায় নেমে পড়ে সেক্ষেত্রে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হলেও পাওয়া যায়নি মূল হোতাদের। এসময় সরকারের হয়ে মূল হোতাদের বের করার দায়িত্ব পড়ে ব্যোমকেশ বক্সীর উপর। ঘটনাচক্রে গ্রামের অমৃত নামের এক যুবকের খুন হয় আর তার সুরাহা করতে জবানবন্দি নেওয়ার সময় ব্যোমকেশের চোখের সামনে গ্রেনেড বিস্ফোরণে মারা যান সদানন্দ সুর। শুরু হয়ে যায় ব্যোমকেশের ইদুর বেড়াল খেলা। কালো ঘোড়া, গভীর জঙ্গলকে সাথে নিয়ে শুরু হয় মূল হোতাদের খুঁজে বের করা।
পটভূমি আমার ভালোই লেগেছিলো কিন্তু প্রেডিক্টেবল মনে হলো।।
অমৃত নামধারী জনৈক যুবককে গাঁয়ের সকলে মিলে ক্ষেপাচ্ছিল। অমৃত গাঁয়ের একটি ভদ্রলোকের অনাথ ভাগিনা, একটু আধ-পাগলা গোছের ছেলে। রোগা তালপাতার সেপাইয়ের মত চেহারা, তড়বড় করে কথা বলে, নিজের সাহস ও বুদ্ধিমত্তা প্রমাণের জন্য সর্বদাই সচেষ্ট। তাই সুযোগ পেলেই সকলেই তাঁকে নিয়ে একটু রঙ্গ-তামাশা করে।
সকালের দিকে একটা ব্যাপার ঘটেছিল। নাদু নামের এক যুবকের সম্প্রতি বিয়ে হয়েছে; তাঁর বৌয়ের নাম পাপিয়া। বৌটি সকালবেলা কলসী নিয়ে পুকুরে জল আনতে যাচ্ছিল, ঘাটে অন্য মেয়েরাও ছিল। অমৃত পুকুরপাড়ে বসে জলের উপর ব্যাঙ-লাফানো খেলতেছিল; নাদুর বৌকে দেখে তাঁর কি মনে হলো, সে পাপিয়ার স্বর অনুসরণ করে ডেকে উঠল—’পিউ পিউ-পিয়া পিয়া পাপিয়া—’
মেয়েরা হেসে উঠল। বৌটি অপমান বোধ করে তখনই বাড়ি ফিরে গেল এবং স্বামীকে জানাল। নাদু রেগে আগুন হয়ে লাঠি হাতে ছুটে আসল। তাঁকে দেখে অমৃত পুকুরপাড়ের একটা নারিকেল গাছে উঠে পড়ল।
গাঁয়ের সবাই ধরলো ‘হ্যাঁরে অমর্ত, তুই এতবড় বীর, নাদুর সঙ্গে লড়ে যেতে পারলি না? নারকেল গাছে উঠলি।’
অমৃত বলল, ‘এহে!, আমি তো ডাব পাড়তে উঠেছিলাম। নেদোকে আমি ভয় পাই না, ওর হাতে যদি লাঠি না থাকত, অ্যায়সা লেঙ্গি মারতাম যে বাছাধনকে বিছানায় পড়ে কো-কোঁ করতে হতো!’
গোপাল বলল, ‘শাবাশ! বাড়ি গিয়ে মামার কাছে খুব মার খেয়েছিলি তো?’
অমৃত হাত মুখ নেড়ে বলল, ‘মামা মারেনি, মামা আমাকে ভালবাসে। শুধু মামী কান মলে দিয়ে বলেছিল—তুই একটা গো-ভূত।’
সবাই ওঁর কথা শুনে হাসল। একজন বলল মানুষকে তুই তো ভয় পাস না, আচ্ছা ভূত দেখলে তখন বলতো কী করবি?
অমৃত গম্ভীর মুখে বলে সে ভূত দেখেছে জঙ্গলে। এবং ভূত দেখে একটুও ভয় পায়নি। তাঁদের কৈলে বাছুরটা দড়ি খুলে গোয়ালঘর থেকে পালিয়েছিল। মামা বলল, যা অমরা, জঙ্গলের ধারে দেখে আয়। রাত্তির তখন দশটা; কিন্তু তাঁর তো ভয়-ডর নেই, গেল জঙ্গলে। এদিক ওদিক খুঁজল, কিন্তু কোথায় বাছুর!
চাঁদের আলোয় জঙ্গলের ভেতরটা হিলি-বিলি দেখাচ্ছে–হঠাৎ দেখে একটা ঘোড়া। খুরের শব্দ শুনে ভেবেছিল বুঝি বাছুরটা; ঘাড় ফিরিয়ে দেখে একটা ঘোড়া বনের ভেতর দিয়ে সাঁ করে চলে গেল। কালো কুচকুচে ঘোড়া, নাক দিয়ে আগুন বেরুচ্ছে। সে রামনাম করতে করতে ফিরে এলো। রামনাম জপলে ভূত আর কিছু বলতে পারে না’ গম্ভীর মুখে বলল অমৃত।
সকলে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। ভূতের গল্প বানিয়ে বলতে পারে এত কল্পনাশক্তি অমৃতের নেই। নিশ্চয়ই সে জ্যান্ত ঘোড়া দেখেছিল। কিন্তু জঙ্গলে ঘোড়া আসল কোথা থেকে? গ্রামে কারও ঘোড়া নেই। যুদ্ধের সময় যে মার্কিন সৈন্য জঙ্গলে ছিল তাঁদের সঙ্গেও ঘোড়া ছিল না। ইস্টিশনের গঞ্জে দুই-চারটা ছ্যাকড়া-গাড়ির ঘোড়া আছে বটে। কিন্তু ছ্যাকড়া-গাড়ির ঘোড়া রাত্ৰিবেলা জঙ্গলে ছুটাছুটি করবে কেন? তবে কি অমৃত পলাতক বাছুরটাকেই ঘোড়া বলিয়া ভুল করেছিল?
অবশেষে পটল বলল, ‘বুঝেছি, তুই বাছুর দেখে ঘোড়া-ভূত ভেবেছিলি।’
কিন্তু সবাই তাঁর কথা বিশ্বাস করল না। তাঁকে জোরাজুরি করতে লাগল প্রমাণ দিতে হবে। তাঁকে জিজ্ঞেস করল তাঁর জঙ্গলে যাবার সাহস আছে কী না। অমৃত সরল সোজা সে বলল এখন কেনো যাবে, এখন তো আর বাছুর হারায়নি। তবুও সবাই ধরলো যেতে হবে তাঁকে প্রমাণ দিতে।
পটল তাঁকে ডেকে বলল, ‘শোন, এই খড়ি নে। বেশি দূর তোকে যেতে হবে না, সদানন্দদার বাড়ির পিছনে যে বড় শিমুলগাছটা আছে তার গায়ে খড়ি দিয়ে দাগ কেটে আসবি। তবে বুঝব তুই সত্যি গিয়েছিলি।’
খড়ি নিয়ে ঈষৎ কম্পিত্যকণ্ঠে অমৃত বলল, ‘তোরা এখানে থাকবি তো?’
সবাই অভয় দিয়ে বলল থাকবে। এবং সত্যিই অপেক্ষা করতে লাগল। কিন্তু অমৃতের দেরি হচ্ছে, সে আর ফেরে না। খুঁজতে বের হলো সবাই।
সদানন্দ সুরের বাড়ির খিড়কি থেকে বিশ-পাঁচশ গজ দূরে শিমুলগাছ। সেখানে জ্যোৎস্না-বিদ্ধ অন্ধকারে সাদা রঙের কি একটা পড়ে আছে। সকলে কাছে গিয়ে দেখল-অমৃত।
একজন দেশলাই জ্বালাল। অমৃত চিৎ হয়ে পড়ে আছে, তাঁর বুকের জামা রক্তে ভিজে উঠেছে।
আশ্চর্যজনক ভাবে অমৃত ভূতের ভয়ে মরে নাই, বন্দুকের গুলিতে তাঁর র মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু গুলির শব্দ তো কেউ শুনল না!!
ব্যোমকেশ অজিতকে নিয়ে ওখানে গিয়েছিল বলা যায় সরকারি কাজে। এবং সেখানে গিয়ে বাংলোতে থাকাকালীন সেই অমৃতের গাঁয়ের লোক এসে ধরলো একদিন ব্যোমকেশকে। পটল ছিল তাঁদের মধ্যে সে বলল বন্দুক দিয়ে খুন হয়েছে আমাদের এক বন্ধু অমৃত। কে খুন করেছে তা কেউ জানে না। ব্যোমকেশবাবু্, অমরার মৃত্যুর জন্য আমরাও খানিকটা দায়ী, ঠাট্টা-তামাশা করতে গিয়ে এই সর্বনাশ হয়েছে। তাই আমরা আপনার কাছে এসেছি। সুখময় দারোগার দ্বারা কিছু হবে না, আপনি দয়া করে খুঁজে বার করুন কে খুন করেছে। আমরা আপনার কাছে চিরঋণী হয়ে থাকব।’
এবার অমৃতের মৃত্যু রহস্য উন্মোচন করতে ব্যোমকেশের কী পদক্ষেপ সেটা হয়তো আরেকটু গভীরে গিয়ে জানতে হবে। ওই জঙ্গলে কী আসলেই ঘোড়া ভূত আছে!
//পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ
ব্যোমকেশ সিরিজের "অমৃতের মৃত্যু" আমার অন্যতম পছন্দের গল্প। এবং মূল কারণ ওই ঘোড়া ভূত । শুরু থেকেই রহস্য কাজ করেছে মনে।
এই গল্পটার টুইস্ট কিন্তু সাদামাটা। শেষটায় গেলে কিছু পাঠক হতাশ হবেন হয়তো যে এ আর কী এমন আহামরি গল্প। এর থেকে ঢেড় ভালো গল্প ব্যোমকেশের ঝুলিতে আছে।
কিন্তু জঙ্গলের আবহ থাকায় আমার নিজের ব্যক্তিগত ভাবে বেশ ভালো লেগেছে। এবং অমৃতের মৃত্যু রহস্য উন্মোচনে ব্যোমকেশের সাথে প্রতি পদক্ষেপে আমিও এগিয়ে গিয়েছিলাম বলা যায়।
ব্যোমকেশ সিরিজের অন্য গল্পগুলোর মত জানি না অতটা টুইস্ট কেউ পাবেন কী না তবে ঘোড়া ভূত শব্দটা মাথায় নিয়ে পড়লে বোধহয় ভালো লাগবে।
রহস্যের শেষ পর্যন্ত যাওয়া তো ব্যোমকেশের কাজ। এখানেও শেষটা মন্দ নয়। সবমিলিয়ে বেশ ভালো। এবং শেষে ঘোড়া ভূতের কী হলো জানতে পড়ুন অবশ্যই।
বইয়ের নামঃ "অমৃতের মৃত্যু" লেখকঃ শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৪.৩/৫
অমৃতের মৃত্য গল্পটা বোমকেশ সিরিজের একটা ঝটিকা গল্প । ঝটিকা বলতে আপনি একটা বড় মগ কফি নিবেন হাতে , আস্তে আস্তে পাতা উল্টাবেন , চুমুক দিবেন কফিতে । লাস্ট পাতাতে যখন আসবেন , দেখবেন কফিও শেষ ।
সে যাকগে , শরদ্বিন্দু আর যাই করুন , মানুষের চরিত্রের ভেতরে অনায়সে ঢুকে যেতে পারেন , যার উদাহরন তাঁর প্রতিটা গল্পে রয়েছে ।
বাঘমারি নামের জঙ্গলঘেরা এক গ্রাম। গ্রামের মাঝ দিয়ে গেছে কাঁটাতার দিয়ে ঘেরা রেলের লাইন। এই রেল লাইনই এই গ্রামের সাথে বাইরের পৃথিবীর যোগাযোগের একমাত্র পথ। এমন গ্রাম থেকেই কেউ বা কারা জরিত অস্ত্রের চোরাকারবারির সাথে। অস্ত্রের এই কারবারিদের ধরতেই অনেক উপরের নির্দেশে বাঘমারি গ্রামের পাশের স্টেশনে ব্যোমকেশের আগমন। ব্যোমকেশ আসতে না আসতেই এক যুবক গুলি খেয়ে মারা পড়ল, আরেক মধ্যবয়স্ক ব্যক্তি বোমায় মরল ব্যোমকেশের প্রায় সামনেই। স্থানীয় থানার দারোগার অসহযোগিতা, বেশ কিছু সন্দেহভাজন ব্যক্তির উপস্থিতির মধ্যে চলল ব্যোমকেশের অভিজান। কিন্তু অস্ত্রের কারবারি আসামি ব্যোমকেশের ফাঁদে এত সহজে ধরা দিল, এটা হজম হল না। তাই ২.৫।
ইংরেজদের রেখে যাওয়া অস্ত্রশস্ত্রের খোঁজে ব্যোমকেশের এবারের অভিযান। জঙ্গলের ভেতর পিস্তলের গুলিতে অমৃতের মৃত্যু হবার পর কাহিনীটা বেশ উপভোগ্য হয়ে উঠেছিলো। ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়েছে, লেখক চাইলে গল্পটা আরেকটু রহস্য ঘনীভূত করতে পারতেন। ব্যোমকেশের শেষের দিকের পদক্ষেপগুলো বেশ স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিলো। যাই হোক, মোটের উপর পড়তে ভালোই লেগেছে।
ব্যোমকেশের এইবারের তদন্ত ইংরেজদের রেখে যাওয়া অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ও সেইসবের চোরাচালানকারীকে খুঁজে বের করা। তার সাথে যোগ হয়েছে ঘোড়া-ভূত ও দু-দুটো মৃত্যদেহ।
ছবির পটভূমি ১৯৪৮ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পরই। আমেরিকান সৈন্যরা চলে যাওয়ার সময় তাদের কিছু অস্ত্রসস্ত্র স্থানীয় কিছু মানুষের কাছে বেচে দিয়ে যায়। সেই অস্ত্র উদ্ধার করার জন্য কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হলেও পাওয়া যায়নি অস্ত্রের খোঁজ। সরকারের হয়ে অস্ত্র খোঁজার দায়িত্ব পড়ে সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ বক্সীর উপরই। কালো ঘোড়া, জঙ্গল, গ্রামের ছেলে অমৃতর খুন, অস্ত্র লেনদেন এই ছোট ছোট হিন্টগুলি নিয়েই এগিয়ে চলে ব্যোমকেশের তদন্ত।
এ হচ্ছে সিনেমা "ব্যোমকেশ পর্ব"-এর আসল উপন্যাস। মুভিতে মূল বিষয় ঠিক রেখে বাকি অনেক কিছুই বদলে দিয়েছে বা মডিফাই করেছে। বদলানোর প্রয়োজন আদৌ ছিলো কিনা আমার বুঝে আসেনি। তবে মুভিতে বিভিন্ন বদলের কারণে বেশ অভিজাত ভাবের পরিবেশ চলে এসেছে যেটা কিনা আবার মূল উপন্যাসে নেই। জানিনা কিছু না বদলালে কেমন হতো।