এক জোড়া মায়াবী চোখ- কখনো বিশ্বাসের, ভরসার। আবার কখনো ভয়ের। পথে-প্রান্তরে অস্বাভাবিক মৃত্যু, প্রমাণহীন খুন! আর পদে পদে বিশ্বাসঘাতকতা। ছায়ার মতো অনুসরণ করছে বিপদ। লাহুর নদীর কাছে ময়লা ভিটাতে পাওয়া গেছে বিড়ালের দুটো কাঠের মূর্তি, বুকে খোদাই করে লেখা-১২১৭ বঙ্গাব্দ!
স্মিতা চৌধুরানি আর রুক্সিনী মুখোমুখি, তাদের সঙ্গে যোগ হয়েছে এক রহস্যময় চরিত্র যার নাম নিলেও বিপদ। জেগে উঠেছে এক আদিম শয়তান... চুগনি। যার শুধু রক্ত দরকার। বাঁশি বাজছে। অদ্ভুত এক সুর চারদিকে... সুর যত তীব্র হচ্ছে বকুলের গন্ধ ততই মিলিয়ে যাচ্ছে বাতাসে। গল্পটা বকুল ফুলের। গল্পটা অনেকের, রহস্যময় জমিদারকন্যা স্মিতা চৌধুরানির; পালিয়ে বেড়ানো প্রবল ক্ষমতাধর নারী রুক্সিনী চৌধুরির।
#বই_রিভিউ #বকুল_ফুল_ট্রিলজি লেখক- Monowarul Islam প্রকাশনী- Anyadhara অন্যধারা পৃষ্ঠা- ৪৩২ মূল্য- ৮৮০ জনরা- অতিপ্রাকৃত ও ভৌতিক রিভিউয়ার: জান্নাত
#ফ্ল্যাপ: এক জোড়া মায়াবী চোখ- কখনো বিশ্বাসের, ভরসার। আবার কখনো ভয়ের। পথে-প্রান্তরে অস্বাভাবিক মৃত্যু, প্রমাণহীন খুন! আর পদে পদে বিশ্বাসঘাতকতা। ছায়ার মতো অনুসরণ করছে বিপদ। লাহুর নদীর কাছে ময়লা ভিটাতে পাওয়া গেছে বিড়ালের দুটো কাঠের মূর্তি, বুকে খোদাই করে লেখা-১২১৭ বঙ্গাব্দ!
স্মিতা চৌধুরানি আর রুক্সিনী মুখোমুখি, তাদের সঙ্গে যোগ হয়েছে এক রহস্যময় চরিত্র যার নাম নিলেও বিপদ। জেগে উঠেছে এক আদিম শয়তান... চুগনি। যার শুধু রক্ত দরকার। বাঁশি বাজছে। অদ্ভুত এক সুর চারদিকে... সুর যত তীব্র হচ্ছে বকুলের গন্ধ ততই মিলিয়ে যাচ্ছে বাতাসে। গল্পটা বকুল ফুলের। গল্পটা অনেকের, রহস্যময় জমিদারকন্যা স্মিতা চৌধুরানির; পালিয়ে বেড়ানো প্রবল ক্ষমতাধর নারী রুক্সিনী চৌধুরির।
#রিভিউ - বইটার কাহিনী পুরোটাই জমিদার বাড়ির ক্ষমতা দখলের অসম লড়াইয়ের। জমিদারের নামের সাথে মিল রেখে গ্রাম্য শহরটার নাম রাখা হয়েছে কৃষ্ণনগর। কৃষ্ণনগরের জমিদার বাড়িটার নাম "স্মিতামহল"। স্মিতামহলের মূল ফটকে শ্বেতপাথরে খোদাই করা নাম ___ স্মিতামহল, ১২১৭ বঙ্গাব্দ।
মূল কাহিনির সূত্রপাত একটা ট্রেন থেকে। বকুলের সুভাস গায়ে মাখা একজন অপরিচিত আকর্ষণীয় নারীর মাধ্যমে। হঠাৎ করে ট্রেন মাঝে ছিঁড়ে যাওয়া, তারপর মেয়েটার সাথে নেশাগ্রস্তের মতো অন্ধকার ঘেরা নীলাসাগরের মাঝে হারিয়ে যাওয়া। সেই শুরু, তারপর একের পর এক কত হাড় হিম করা ঘটনা। প্রথম ঘটলো ধস্তাধস্তির শব্দ দিয়ে, তারপর বাষ্পায়িত গরম রক্তে মাখানো দু-চোখ জ্বলজ্বল করা একটা শিশু মুন্ডু, যেনো চোখ দুটো অক্ষিকোটর থেকে ছিটকে বেরোনোর চেষ্টা করছে। গঙ্গাসাগরের নিচে ট্রেন ভর্তি মানুষের লাশ, তারপর অস্থি থেকে মাংস খসে পরা, নিষ্প্রাণ হয়ে আসা শীতের ঝড়াপাতার মতো বিবর্ন চুল, চোখের কোটরে সাদা সাদা পোকার উল্লাস, নখ খসে পরা নাক মুখ কানের গহ্বরে কীটের রাজ্যের দাঁতহীন একটা মৃত মানুষের কবরে কথকের গোসল ই বলা চলে। জায়গাটা নীলাসাগরের সবথেকে পুরাতন কবরস্থান। নীলাসাগর, কৃষ্ণনগর, স্মিতামহল, লম্বা ভিটা, ময়লা ভিটা, লাহুর নদী, পুরো বই জুড়ে আগমন করা আরো নানা চরিত্র এসেবের সাথে কোথায় একটা মিল রয়েছে জমিদার বাড়ির ক্ষমতা নিয়ে। পার্থিব অপার্থিব বাস্তব অবাস্তব জগতের এক অসম লড়াই। রুক্মিণী চৌধুরি আর স্মিতা চৌধুরানীর এক গোপণ লড়াই। সবার চাওয়া এক। একজনের চাওয়া বেদখল, আরেকজনের অধিকার ধরে রাখার। সব কিছুর জন্য প্রয়োজন একটা আংটির। এই এক আংটির পিছনে কত শত মানুষ, কত শত ঘটনা। এতো সব ভয়ঙ্কর ঘটনার সাথে ভয়ঙ্কর সব মানুষের মেলবন্ধন, কিভাবে শেষ অবধি সমাধান হলো এই লড়াইয়ের জানতে হলে অবশ্যই পড়তে হবে বকুল ফুল ট্রিলজি। একটা ঘটনাই অন্য ঘটনার কাছে পাঠক কে টেনে নিয়ে যাবে। পয়সা উসুল করা বই। যারা হরর পছন্দ করেন তাদের জন্য বইটা পারফেক্ট।
#আলোচনা - এই ট্রিলজি টা ❝বকুল ফুল, বিড়ালাক্ষী, বাঁশি ❞ এই তিন বইয়ের মিলিত একটা বই। লেখক যথার্থই বলেন, এটা হলো " #ভয়_যুক্ত_বই "। বইটার নামের মতো পুরো ট্রিলজি টাতেই বকুল ফুলের মোহনীয় গন্ধ তাড়া করে একদম শেষ পৃষ্ঠায় এনে দাঁড় করিয়েছে। বইটার প্রধাণ চরিত্র স্মিতা চৌধুরানী হলেও লেখক প্রতিটা চরিত্রকে সমান গুরুত্ব দিয়েছেন। পীতবর্ণের বিড়ালের মতো মায়াময় চক্ষুযুগল দেখে যে শুধু কথক ই মোহাবিষ্ট হয়েছেন তাই নয়, পাঠকের ও হৃদয় কেড়েছে পুরো বই জুড়ে তার বর্ণনা। বইটার সবথেকে আকর্ষণীয় অংশ হলো ময়লাভিটার ঘটনাগুলো। আর স্মিতা চৌধুরানীর পাশাপাশি আমার শাতু চরিত্রটা বেশ লেগেছে।
মনোয়ারুল ইসলামের আর কোনো বই না পড়লেও এই বইটা পড়া উচিত। মশাই আর স্মিতার কেমিস্ট্রি খুব ভালো লাগছে। মনোয়ারুল ইসলাম এই বইটার প্রমোশনের বেলায় প্রায়ই বলেন "ভয় যুক্ত বই" তিনি সত্যিই বলেন। বিশেষ করে ময়লা ভিটায় ঘটে যাওয়া কাহিনিগুলো এত সুন্দর আর ভয়ঙ্করভাবে লেখক ফুটিয়ে তুলেছেন যে এই একটা মাত্র বই (সিরিজ) পড়েই লেখকের ফ্যান হয়ে গেছি।
স্মিতার প্রেমে পড়ে গেলাম। লেখকের সবচেয়ে বড় গুণ তিনি প্রতিটা চরিত্রকে সমান গুরুত্ব দেন। স্মিতাকে এই গল্পের প্রধান চরিত্র ভাবার অবকাশ নেই। উপন্যাসজুড়ে মশাই, স্মিতা, রুক্সিনী চৌধুরীর সাথে সমান প্রভাব রেখেছে রহিম চাচা, রমা, শাতুসহ আরো অনেকে। বেশ উপভোগ্য আর টানটাম হরর পড়লাম।