কাল্ট বিশেষজ্ঞ লুৎফুল কায়সারের প্রথম মৌলিক আফ্রিতা। কাল্ট, হরর, অতিপ্রাকৃত, লাভক্রাফটিয়ান, আরবান লেজেন্ড নিয়ে কাজ করার কারণে বইয়ের জগতে পরিচিত ও জনপ্রিয় নাম লুৎফুল কায়সার। তার প্রথম মৌলিকও স্বভাবতই হরর। আফ্রিতা বইটা নিয়েই কথা বলি। আফ্রিতা একজন ছয় ফুট উচ্চতার তরুণী। যার কাজ আঁধারের অনুসন্ধান। সোজা বাংলায় বিভিন্ন অতিপ্রাকৃত কেস নিয়ে কাজ করা। আফ্রিতা বইয়ে তিনটি কেসের কথা উঠে এসেছে। প্রথম কেসটা হল একটি ভূতুড়ে ফ্ল্যাট নিয়ে। যেখানকার বাসিন্দারা সব ভয়াবহ অভিজ্ঞতার স্বীকার হয়। দ্বিতীয় কেস এক ধরনের সত্তা নিয়ে যা মানুষকে বিভ্রান্ত করে। আর তৃতীয় কেস দেশের বাইরের প্রেক্ষাপটে। প্রাচীন এক মন্দিরের উদ্ভট এক জানোয়ার নিয়ে। আমার তিনটা কেস-ই ভালো লেগেছে। সবথেকে ভালো লেগেছে প্রথম ও দ্বিতীয় কেস। আর তৃতীয় কেস শুরুর আগে ছোট একটি অভিজ্ঞতা ছিল সেটা। লুৎফুল কায়সারের লেখনশৈলী চমৎকার। বর্ণনাভঙ্গি বেশ রসালো। বোরিং ভাবটা নেই। কথপকথনে ন্যাকামি নেই। এবার কেসগুলোর ব্যাপারে বলি। অনেকসময় হরর গল্পে দেখা যায় লেখক জোর করে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছেন। আফ্রিতায় এরকম হয়নি। ভয়ের দৃশ্যগুলো আসলেই অস্বস্তিকর। শুধু একঘেয়ে ভয়ের দৃশ্যই বর্ণনা করা হয়নি। দারুণভাবে সাসপেন্স ক্রিয়েট করেছেন লেখক। যা বইটাকে পেজ টার্নার-এ রূপান্তর করেছে। প্রত্যেকটা গল্পেই দারুণভাবে আরবান লেজেন্ড এর প্রয়োগ করেছেন লেখক। আফ্রিতা মূলত হরর হলেও পাঠকরা আরবান ফ্যান্টাসির স্বাদও পাবেন। যা সমকালীন মৌলিক ফ্যান্টাসি লেখকদের পাল্লা দেয়ার যোগ্য। এবার কিছু দুর্বলতার কথা বলি। একমাত্র যে দুর্বলতা আমার চোখে পড়েছে সেটা হল প্রথম কেসে। খুব সহজেই অতিপ্রাকৃত সত্তা হার মেনেছে যেখানে। ব্যাপারটা আরেকটু দীর্ঘায়িত হলে ভালো লাগত। যাইহোক, দারুণ বইটাতে এটুকু ওভারলুক করা যায়-ই। যারা সাসপেন্স ও ভয় পেতে চান আফ্রিতা বইটা তাদের জন্যই।
যখন থেকেই টুকিটাকি বইয়ের জগতে বিচরণ শুরু করেছি, 'গা ছমছমে ভূতের গপ্পো' গোছের বইয়ের বিপুল সমাহার চোখে পড়েছে। বিনোদনের অংশ হিসেবে মানুষ বরাবরই ভয় পেতে ভালোবাসে। আর সেই জন্যেই হরর সিনেমা কিংবা বইয়ের এত চাহিদা। কিন্তু সমস্যা হলো, এখন হরর জনরায় আউট অফ দ্য বক্স কিছু নিয়ে আসা খুবই কঠিন। যা প্রকাশিত হয়, বেশিরভাগই চর্বিত চর্বণ। বিনোদনের জায়গায় বিরক্তির উদ্রেক ঘটাতেই সেগুলোর জুড়ি মেলা ভার। এসব কথা বিবেচনায় লুৎফুল ভাইয়ের 'আফ্রিতা'-কে একটি সফল প্রজেক্ট বলা যায়। বইটি যে উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা হয়েছে, তা সফল।
'আফ্রিতা-আঁধারের সন্ধানে' ২৫৬ পৃষ্ঠার বই হলেও পুরোটা একক কোন গল্প নয়। বরং চারটি কেস হিস্ট্রির বিবরণ। প্রোটাগনিস্টের নামেই বইয়ের নাম। ছ ফুট লম্বা, আফ্রিতা। যার কাজ? জ্বি, আঁধারের সন্ধান করা :P । প্রায়শই দেখা যায় মূল গল্পের অবতারণা করতে লেখকেরা খানিকটা সময় নেন। শুরুর দিকে আনুষঙ্গিক বিবরণ থাকে বেশ খানিকটা জুড়ে। তবে লুৎফুল কায়সার ভাই 'ধরো তক্তা, মারো পেরেক' নীতিতে বিশ্বাসী। একদম প্রথম পাতা থেকেই শুরু হয়ে যায় অ্যাকশন। পরিণত লেখনী এবং পর্যাপ্ত মশলাপাতির উপস্থিতির কারণে একটার পর একটা পাতা উল্টে গেছি। আক্ষরিক অর্থেই বইটা পেইজ টার্নার।
সবচেয়ে ভালো লেগেছে একই বইয়ে সাওতালি, জাপানিজ, উপমহাদেশীয় এবং মার্কিন মুল্লুকের বিভিন্ন মিথের ব্যবহার। লেখক যে এসব সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান রাখেন, তা স্পষ্ট। জোর করে ভয় দেখানোর ব্যবস্থা করতে হয়নি তাকে, আপনা থেকেই গা ছমছম করে উঠেছে মাঝেমাঝে। ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে ভালো লেগেছে 'অপদেবতা' এবং 'আকাশ-প্রতীম' এই কেস হিস্ট্রি দু'টি। তবে কিছু কিছু জায়গায় সংলাপের অতি ব্যবহার হয়তো ঋদ্ধ পাঠকের ভ্রূকুটির উদ্রেক ঘটাবে। আরেকটু ডিটেইলিং প্রয়োজন ছিল এসব ক্ষেত্রে।
নাবিল মুহতাসিমের শিপলু, বাপ্পী খানের রফিক শিকদারের পর এবারে এই ধাঁচের প্রোটাগনিস্টের তালিকায় যোগ হলো 'আফ্রিতা'। তাদের হাত ধরে আমাদের অতিপ্রাকৃত ফিকশন এগিয়ে যাক বহুদূর, এই কামনা করছি। অতিপ্রাকৃত পাঠকেরা নির্দ্বিধায় তুলে নিতে পারেন আফ্রিতা।
Horror fiction shows us that the control we believe we have is purely illusory, and that every moment we teeter on chaos and oblivion. - Clive Barker - আফ্রিতা: আঁধারের সন্ধানে - আফ্রিতা: আঁধারের সন্ধানে বইটি মূলত ৪টি হরর গল্পের সমন্বয়ে লেখা একটি অতিপ্রাকৃত সংকলন। আফ্রিতা নামের এক বাঙালি মেয়ের দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় আঁধারের সন্ধান করার উপর ভিত্তি করে বইটি রচিত। লেখক লুৎফুল কায়সারের প্রথম মৌলিক হরর ফিকশন হিসেবে ২০২১ সালে আফসার ব্রাদার্স থেকে আফ্রিতা: আঁধারের সন্ধানে বইটি প্রথম প্রকাশিত হয়। - অপদেবতা: অর্কিড ভিলা, ঢাকা শহরের তুলনামূলক কম কোলাহলপূর্ণ এক এলাকায় নতুন গড়ে ওঠা এক বাড়ি। সে বাড়িতেই নতুন ফ্লাটে ভাড়া নিয়ে উঠেন অক্ষর-ঐশী, ফাহাদ-মুন, শাহানা-আফতাব দম্পতি। কিন্তু সেই বাড়িতে আসার কিছুদিন পর থেকেই বাড়ির বাসিন্দারা নানা ধরনের অতিপ্রাকৃতিক ঘটনা প্রত্যক্ষ করতে থাকেন। প্রথমে কিছু বাসিন্দা এ ব্যাপারে গুরুত্ব না দিলেও সেই বাড়িতে একদিন ঘটে ভয়াবহ অতিপ্রাকৃতিক ঘটনা। এর কিছুদিন পর এক ভক্ত মারফত আফ্রিতা খোঁজ পায় সেই অতিপ্রাকৃতিক বাড়িটির। এর পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ নিয়েই "অপদেবতা" গল্পটি লেখা।
"অপদেবতা" এই বইয়ের সবথেকে বড় গল্প, উপন্যাসিকাও বলা যেতে পারে গল্পটিকে। এক সময়ে এই ধরনের হাউন্টেড হাউস টাইপ হরর স্টোরি অনেক পড়া থাকায় প্লট প্রথমদিকে খুব একটা আকর্ষণ করেনি আমাকে, মাঝামাঝি এসে অবশ্য গল্পে ভালো লাগা শুরু হতে থাকে। কিছু জায়গার আরষ্টতা বাদে গল্পের বর্ণনাভঙ্গি খারাপ না প্রথম লেখা হিসেবে। কয়েক ক্ষেত্রে লেখক ভালোই ভয়ের আবহ সৃষ্টি করতে পেরেছেন, আফ্রিতার প্রথম পরিচতি এবং একটি আরবান মিথকে বেশ ইন্টারেস্টিং অ্যাঙ্গেলে দেখানো হয়েছে।তবে পুরো বইতে যেভাবে অতিপ্রাকৃত সত্তাকে টিজ করা হয়েছে সেদিক থেকে শেষটা "বজ্র আঁটুনি, ফস্কা গেরো" টাইপ মনে হয়েছে। - ছলা-কলা: পুস্পিতা নামের আফ্রিতার বাবার এক বন্ধুর মেয়ে একসময় আফ্রিতার কাছে আসে অদ্ভুত সমস্যা নিয়ে। জানা যায় সেই মেয়েটির আপাতদৃষ্টিতে এক ভ্রমের সৃষ্টি হয়েছে যা কয়েকঘন্টা পর্যন্ত থাকে এবং সেই ভ্রমের মধ্যে কখনো কখনো ঘটতে থাকে নানা ভয়াবহ সব ঘটনা। এখন এই ভ্রমের সুলুকসন্ধান নিয়ে এই গল্পের কাহিনি।
ছলা-কলা এই বইয়ের দ্বিতীয় গল্প। গল্পটির প্রথমদিকের পটভূমি ভালো লাগলো, গল্পের ভ্রমের ব্যাপারগুলো এবং একটি আরবান মিথভিত্তিক অতিপ্রাকৃত সত্তার সাথে আফ্রিতার এনকাউন্টারও। গল্পের মাঝে আফ্রিতার ব্যাকস্টোরি চরিত্রটিকে বুঝতে সাহায্য করেছে। ওভারঅল, খারাপ লাগেনি গল্পটা পড়তে। - আত্মহনন: আফ্রিতার এই কেসটি তার আধাঁরের সন্ধান শুরু করার একেবারে প্রথম দিকের ঘটনা। ইলা নামের এক মেয়ের কাছ থেকে তার হোস্টেলের বন্ধ ঘরে কয়েকজন মেয়ের আত্মহণনের খবর জানতে পারে আফ্রিতা। সেই অ��িশপ্ত ঘরের আসল রহস্য নিয়েই গল্পের পরবর্তী অংশ লেখা।
আত্মহনন গল্পের শুরুটা বেশ ইন্টারেস্টিং ছিলো। অল্প কথায় ভালো সাসপেন্স তৈরি করা গিয়েছে এই গল্পটায়। যদিও মূল প্লট আর ফিনিশিং খুব একটা ভালো লাগেনি, চারটি গল্পের ভেতরে সবথেকে দুর্বল গল্প মনে হলো এটিকে। - আকাশ-প্রতীম: এই গল্পের পটভূমি বিদেশে, আমেরিকার কলোরাডো স্টেটে। সেখানেই আফ্রিতা দেড় বছর আগে এক অতিপ্রাকৃত শক্তিকে খেদিয়ে শহরের বেশিরভাগ মানুষের মন জয় করে নেন। কিন্তু বর্তমানে সেই শহরকে ঘিরে তৈরি হতে থাকে আরো বড় অতিপ্রাকৃত শক্তির আনাগোনা। সে অতিপ্রাকৃতিক শক্তির সাথে আফ্রিতার বোঝাপড়া নিয়েই এই গল্পটির শেষ অংশ লেখা হয়েছে।
বিদেশি পটভূমিতে লেখা হলেও আকাশ-প্রতীম গল্পটি মোটের উপর ভালোই লাগলো। আগের গল্পগুলোর তুলনায় এই গল্পের ভয়াবহতার লেভেল অনেক বেশি লেগেছে। এই গল্পের আরবান মিথ থেকে আসা ক্রিয়েচারটিকেও ভালোভাবে গল্পের সাথে মিক্সচার করা হয়েছে, তবে গল্পের ক্লাইমেক্সটা আরো গুছিয়ে লেখা যেতে পারতো বলে মনে হলো। তাই এই গল্পের মূল ক্লাইমেক্সের চাইতে পোস্ট ক্লাইমেক্সটা ভালো লেগেছে। - "আফ্রিতা: আঁধারের সন্ধানে" বইয়ের কারিগরি দিকে তাকালে বইয়ের বাধাঁই, পেইজ ইত্যাদি নিয়ে আমি বেশ সন্তুষ্ট হলেও সম্পাদনা আরো ভালো হওয়ার দরকার ছিলো। প্রতিটা গল্পের প্রথমে এক ধরনের ট্যাগলাইন দেয়ার ব্যপারটা ভালো লেগেছে। তবে কয়েকটি চরিত্র বিশেষ করে প্রথম গল্পে অক্ষর অনেক সময় হয়ে গেছে ফাহাদ, আবার ফাহাদ অনেক সময় হয়ে গেছে অক্ষর। চরিত্রের কথোপকথনে কখনো ব্যবহার করা হচ্ছে "গিয়েছিলেন না, দেখেছিলেন না", আবার কখনো "যাইনি, দেখিনি"। এছাড়াও নানা জায়গায় শব্দে এ কার, আকার না থাকা আর কোন কোন জায়গায় শব্দে এক্সট্রা এ কার, আ কার যোগ করা আছে লক্ষ্য করলাম। আরো বেশকিছু সিলি প্রিন্টিং মিস্টেক এবং টাইপো ছিলো। বইয়ের ফ্রন্ট কভার মোটামুটি ভালোই লাগলো, যদিও ব্যাক কভারে একটি জেনেরিক ছবি দেয়ার চেয়ে আরো ভালো কাজ করা যেতে পারতো বলে মনে হয়েছে। প্রিন্টিং মিস্টেকের ব্যপারগুলো পরবর্তী সংস্করণে ঠিক করা হবে, এই আশা করছি। - এক কথায়, বাংলা হরর ফিকশন কিংবা আরবান ফ্যান্টাসিতে বেশ অন্যধরনের এক সংযোজন হচ্ছে "আফ্রিতা: আঁধারের সন্ধানে"। ছোট খাটো কিছু ব্যাপার বাদ দিয়ে বইটা মোটামুটি উপভোগই করেছি। লেখক বইতে বেশ কিছু সাবপ্লট এনেও তা অসম্পূর্ণ রেখেছেন, তাই বইটির সিক্যুয়েলে এই ব্যাপারগুলোর মিমাংসা করার অপেক্ষায় রইলাম। যারা বাংলা মৌলিক হরর ফিকশন পড়তে পছন্দ করেন তারা বইটি পড়ে দেখতে পারেন।
বই : আফ্রিতা লেখক : লুৎফুল কায়সার পৃষ্ঠা : ২৫৬ রেটিং : ৪.৮/৫ ধরন: ভৌতিক উপন্যাস সার-সংক্ষেপ : 'আফ্রিতা' এ উপন্যাসের মূল চরিত্র। যে কিনা একজন এক্সোরসিস্ট । তবে অন্যসব ভৌতিক উপন্যাসের তুলনায় আফ্রিতা কিছুটা ভিন্ন । তাকে ঘিরেই আছে এক বিশাল অজানা । তবে তা কি রহস্য নাকি অতিপ্রাকৃত কিছু । মূলত ৪টি ঘটনা বা কেস আছে - অপদেবতা, ছলাকলা, আত্মহনন, আকাশ প্রতিম । অপদেবতা - 'অর্কিড ভিলা' আর পাঁচটা সাধারণ পরিত্যক্ত জায়গায় সদ্য গড়ে উঠা নতুন একটি বাড়ি। বাড়ির নতুন বাসিন্দা তিনটি পরিবার আর বাড়ির কেয়ারটেকার হাবীব মিয়া। তবে বাড়িটি যে আলাদা তা সবাই কিছুদিনের মধ্যেই টের পেল। ঘটে যেতে লাগলো একের পর এক ঘটনা যার সাথে জড়িয়ে আছে এক অপদেবতা। এই অপদেবতার থেকে বাড়িটিকে মুক্ত করলো আফ্রিতা। ছোটো এক বিড়ালের মাঝে প্রেতাত্মার বাস। কেনই এই প্রেতাত্মা পুষ্পিতার বাবার মধ্যে ভর করেছিল। কিভাবেই বা আফ্রিতা এর থেকে মুক্ত করলো তা নিয়ে 'ছলাকলা'। এর মাঝে অবশ্য আফ্রিতার কিছু নিজস্ব বিষয়ও প্রকাশ পায়। 'আত্মহনন' -হোস্টেলে এক অতৃপ্ত প্রেত লুকান্ডার বাস। যাদের কাজ হচ্ছে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করা। তখন সদ্য এক্সসোরসিজম জানা আফ্রিতার কিভাবে মুক্ত হলো সেই ভয়ানক রাতে তা নিয়ে আত্মহনন । শেষ গল্প 'আকাশ প্রতিম' কলোরেডো অঙ্গরাজ্যের ছোটো শহর কেস্টভিল জুড়ে হঠাৎ এক পিশাচের আতঙ্ক । কেউ পিশাচটাকে জীবিত করতে চাচ্ছে নাকি পিশাচটাই কাউকে ব্যবহার করছে । এ অতিপ্রাকৃতের সমাধান করে আফ্রিতা তবে সে নিজেই এক রহস্যের উদ্রেক ঘটায়। 'আকাশ প্রতিম' এক ঈশ্বর কিন্তু কেনই বা তিনি আফ্রিতার স্বপ্নে আসতেন, কেনই বা সে সবার চেয়ে আলাদা , কি ক্ষমতাই সে পেলো।
পাঠপ্রতিক্রিয়া: ২৫৬ পৃষ্ঠার বইটি পড়তে প্রায় ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিটের মতন লেগেছিল। এক বসাতেই শেষ করে ফেলেছি। গল্পের ফ্লো, চরিত্র সব বেশ ভালোই তাই বেশ তাড়াতাড়ি পড়তে পেরেছি। প্রতি গল্পের প্রেত, দানবের বর্ণনা গা শিউরে ওঠার মত। ব্যাক্তিগতভাবে প্রতিটি প্রেত, দানবের পূর্ব কথন গুলো বেশ ভালো লেগেছে। গল্পের শেষ দিকে এসে যা মনে হলো হয়তো বা এই গল্প এখানেই শেষ নয়। আফ্রিতার আঁধারের সন্ধান আরো বাকি আছে।
আফ্রিতা পড়ে আমার সবার আগে যে প্রশ্নটা মাথায় আসছে তা হলো শেষ কবে এরকম আপাদমস্তক ভয়ে মুড়ানো একটা বাংলাদেশি বই পড়েছিলাম? সম্ভবত অক্টারিনের পরে এত satisfying অনুভূতি আর কখনো কাজ করেনি আমার মধ্যে। তারমানে অন্তত আট বছর পর আমি একটা মনের মতো হরর বই পেলাম। 😍😍
আফ্রিতা বইয়ে একটা উপন্যাস আর তিনটা উপন্যাসিকা আছে। বইয়ের প্রথমেই 'অপদেবতা' উপন্যাসটা জুড়ে আছে ৩০৪ পৃষ্ঠার বইয়ের অর্ধেক জুড়ে। আর উপন্যাসিকাগুলো হলো 'ছলা কলা', আত্মহনন ও আকাশপ্রতীম।
এবার আসা যাক পাঠ প্রতিক্রিয়ায়। বইয়ের সবচেয়ে প্রিয় কাজ হচ্ছে 'অপদেবতা'। এই উপন্যাসটা এতটা দারুন যে আমি গত রাত দুইটা পর্যন্ত পড়ে তারপর ঘুমাতে গিয়েছি কারন এটার হরর ভাইব আমাকে রীতিমতো জাদু করে রেখেছিলো। বইয়ের দ্বিতীয় পছন্দের কাজ হচ্ছে 'ছলা কলা'। আত্মহনন আর আকাশপ্রতীম প্রথম দুটোর লেভেলে যায়নি, তবে খারাপ না।
এবং এই বইয়ের একটা কথা না বললেই নয়, সেটা হচ্ছে ইলাস্ট্রেশন। আমি সূচীপত্রে অনেক খুঁজলাম কিন্তু অঙ্কনশিল্পীর কোন নাম নেই, খুবই unfair. যিনিই এঁকেছেন, খুব দারুন কাজ করেছেন। কোন বিকট বিশ্রী রাক্ষসের ছবি নয়। খুব সাধারন ছবি, যেমন একটা বাড়ি তার উপরের আকাশ থেকে চেয়ে আছে বড় বড় এক জোড়া চোখ... ছবিগুলো ঠিক গায়ে জ্বর আনার মতো ভয়াবহ না, কিন্তু একটা eerie ভাইব দেয়। এই জিনিসগুলোই আমার ভালো লাগে। বইয়ের উপন্যাসগুলোও তাই। আপাতদৃষ্টিতে সাধারন মনে হলেও লুৎফুল কায়সারের অসাধারণ গদ্যে তা হয়েছে অসাধারণ।
মোট কথা, আফ্রিতা ও তার আঁধারের সন্ধান এককথায় দারুন একটা বই। যারা ভৌতিক এবং অকাল্ট কাহিনী ভালোবাসেন, কোন এক ঝুম বৃষ্টির রাতে বইটা নিয়ে বসবেন। এবং আমি গ্যারান্টি দিতে পারি বই শেষে আপনারাও আমার মতো তৃপ্তির ঢেকুর তুলবেন।
আফ্রিতা সিরিজের পরবর্তী বইয়ের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় রইলাম।
শেষ কবে এত ভাল ভৌতিক গল্প পড়েছিলাম মনে নাই। এর আগে বইটার অনেক রিভিউ দেখেছিলাম তাই, গতকালকে কোন expectation ছাড়াই বইটা পড়া শুরু করি, বইটার প্রথম গল্প অপদেবতার কয়েক পেজ পড়েই বুঝতে পারলাম বইটা আসলেই সেরা কিছু। আমার কাছে প্রতিটা গল্পও অসাধারন লেগেছে, তার সাথে লেখকের বর্ণনা-ভঙ্গি দারুণ ছিল, একবারও মনে হয়নি গল্পকে কোথাও টেনে বড় করা হয়েছে। বইটা শেষ করার পরে আজকে খুব মন খারাপ হয়ে যায় এত দারুণ বইটা এত দ্রুত শেষ হয়ে গেল! অবশ্যই আফ্রিতা সিরিজের দ্বিতীয় বইটি, বের হবার সাথে সাথেই কিনব ইন শাহ আল্লাহ।
বেশ ভালো একটা বই। আফ্রিতা ৪ টি অতিপ্রাকৃত কেস নিয়ে বইটা। দুটো গল্প বেশ বড়। উপন্যাসিকা বলা যায় আর বাকি দুটো ছোট। ৪টাতেই অতিপ্রাকৃত সত্ত্বাগুলো ব্যাতিক্রমী ছিল। প্রথমে ভেবেছিলাম চেনা জানা দানব পিশাচ পাব কিন্তু না! বইটা বেশ চমৎকৃত করেছে আমাকে।
'আফ্রিতা: আঁধারের সন্ধানে' বইটিতে চারটি ভৌতিক গল্প আছে। আর প্রতিটি গল্পে আঁধারের সন্ধান করে একজন বাঙালি মেয়ে আফ্রিতা। যার বিভিন্ন আধিভৌতিক অভিযানের গল্প উঠে এসেছে বইটিতে।
অপদেবত: বইয়ের প্রথম এবং সবথেকে বড়ো গল্প । যেখানে উঠে এসেছে ঢাকা শহরের শুনশান এক এলাকার বাড়ি 'অর্কিড ভিলা'য় ঘটে যাওয়া অধিপ্রাকৃত ঘটনা, যেখানে পরবর্তীতে আগমন ঘটে আফ্রিতার। এই গল্পে লেখক কাহিনী যেভাবে গুছিয়ে এনে শেষ করেছেন, তাতে শেষটা আরো নাটকীয় হলে ভালো হতো। তবুও দারুন উপভোগ করেছি।
ছলা-কলা: বইয়ের দ্বিতীয় ছোটোগল্প। আফ্রিতার কাছে এক অদ্ভুত সমস্যা নিয়ে আসে তার বাবার বন্ধুর মেয়ে পুষ্পিতা, পুষ্পিতা বারংবার ভ্রমের স্বীকার হচ্ছে, যার ফলে সম্মুখীন হচ্ছে নানা ভয়াবহ ঘটনার। এই গল্পে লেখক যে অতিপ্রাকৃত কারেক্টারটা তোলে এনেছেন, তার সাথে আমরা অতি পরিচিত, বিশেষ করে গ্রামে যারা থাকেন তারা এমন ঘটনা শুনে থাকবেন। তাই আমার কাছে গল্পটা সাধারণ লেগেছে, তবে উপস্থাপন ভঙ্গি এবং এন্ডিংটা চমৎকার। এই গল্পের মাধ্যমে আফ্রিতার ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে প্রথম ধারনা পাওয়া যায়।
আত্মহনন: বইয়ের তৃতীয় এবং সবথেকে ছোটো গল্প এটি। আফ্রিতার অতিপ্রাকৃত নিয়ে কাজ শুরু করার প্রথমদিকের ঘটনা। ইলা নামে একটা মেয়ের মাধ্যমে জানতে পারে ঢাকার এক ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের আত্মহত্যার কথা। গল্পটা আমার কাছে মোটামোটি লেগেছে।
আকাশ-প্রতীম: বইয়ের শেষ গল্প এটি। বিদেশের পটভূমিতে লেখা, অন্যান্য গল্পের তুলনায় এই গল্পটিই সবথেকে বেশি ভালো লেগেছে। আমেরিকার এক ছোট্টো শহরে একের এক খুন হওয়া শুরু হলো, প্রতিটি লাশকেই ছিড়ে টুকরোটুকরো করে ফেলা হচ্ছে। আর সেই দৃশ্যপটে আবির্ভাব হয় আফ্রিতার। অন্যান্য গল্পের তুলনায় এই গল্পের ভয়াবহতা বেশি। তাছাড়ারা প্রতিটি গল্পের যুক্তিতে মিথের ব্যবহারটা ভালো লেগেছে।
বইটিতে আফসার ব্রাদার্স এর প্রোডাকশন দারুন ছিলো, তবে সম্পাদনায় যতেষ্ট ঘাটতি আছে, বানান ভুল, টাইপিং মিস্টেক চোখে পড়ার মতো ছিলো, তারউপর অনেক লাইনে শব্দ মিসিংও চোখে পড়েছে। তবে সর্বোপরি বইটি চমৎকার। লেখক শেষের দিকে আফ্রিতা সিরিজ হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ইতোমধ্যে আফ্রিতা সিরিজের দ্বিতীয় বইয়ের ঘোষনাও চোখে পরেছে, আশা করি আরো ভালো কিছু পাবো।
রিভিউ লিখতে বসে নিজের কাচ্চি বানানোর গল্প মনে পড়ে গেল। আমি যে একটা রান্না করি তা না, তবে কাচ্চির বিশাল একেকটা রেসিপি দেখে একবার কৌতুহল জাগলো, চেষ্টা করেই দেখি?
শেষপর্যন্ত মাল মশলার গুণে কাচ্চির মাংস খাওয়া গেলেও চাল আবার সেদ্ধ করতে হয়েছিল, কারণ চাল খানিকটা শক্ত ছিল।
আচ্ছা, এই গল্প কেন? বলছি, একটু পরে, আগে আফ্রিতার একটা আন্দাজ দিয়ে নেই।
কোন রিভিউ ছাড়া ফ্ল্যাপের লেখা দেখে বই নিয়ে ফেলার বাজে অভ্যাস আছে আমার, যেই কারণে জানতাম না যে এটা গল্প সংকলন, উপন্যাস না। চারটা গল্প আছে বইটায়, আফ্রিতার প্যারানরমাল অভিযান নিয়ে।
প্রথম গল্পটা এক বিল্ডিং এর যেখানে ভাড়াটিয়ারা কোন একটা অজানা কারণে ভয় পাচ্ছে। এইটাই মনে হয় আমার সবচে ভালো লেগেছে। এইগল্পটা বেশ বড় ছিল পরের দুইটা গল্পের তুলনায়।
পরের দুটো গল্প তুলনামূলকভাবে ছোট। বিশেষ করে ইলার গল্পটায় আমার মনে হয়েছে অনেককিছু ইচ্ছা করেই ব্যাখ্যা করা হয়নি, কেমন একটু মিলে না, খাপছাড়া।
শেষেরটায় আফ্রিতার নিজের কিছু ব্যাপারের ব্যাখা পাওয়া যায় তবে মূল ঘটনা যা ছিল তা বিশেষ মনে রাখার মত লাগেনি।
এখন বলি, রান্নার ব্যাপারটা কেন টেনেছি। অপদেবতা -য়(প্রথম গল্প) যখন গা ছমছমে একটা পরিবেশের দেখা পেয়েছিলাম তবে বাকিগুলোতে ততটা না। লেখক বেশ বৈচিত্র্যময় মিথ টেনে এনেছেন প্রতিটা গল্পে, তাতে আগ্রহ বেড়ে যায় সত্যি, কিন্তু শেষপর্যন্ত দুর্বল লেখনীর জন্যে গল্পের জোর খুব একটা টের পাওয়া যায় না। মিথ টেনে আনার পর ওইটুকু দিয়ে পুরো প্লটটা বিশ্লেষণ করা হয় ঠিকই কিন্তু লুপহোল থেকে যায়। আর এক দৃশ্য থেকে হুট করে কোন বিরতি ছাড়াই আরেক দৃশ্যে চলে যাওয়াটা বিরক্তিকর ছিল।
তবে একবসায় শেষ করার বই এটা, আর আফ্রিতা চরিত্রটার পটেনশিয়াল আছে বলে মনে করি। আশা করি একটু ভালভাবে তার দেখা আবার পাবো। এমন বৃষ্টির দিনে পড়ার জন্যে এই বইগুলো দরকার আছে।
অতিপ্রাকৃত বা আদিভৌতিক কোনো টপিকস নিয়ে আমার পড়তে বেশ লাগে।Horror movies দেখার সাহস যদিও তেমন একটা নেই কিন্তু ভালো কোনো ভৌতিক বই দেখলে সাথে সাথে নিয়ে নিই। আমি কোনো বইয়েরই রিভিউ লিখি না মানে যেটাকে মানুষ আদর্শ রিভিউ ভাবে ওই টাইপের আরকি।আমি শুধু আমার মনের কথা গুলো বলি এই যা। আফ্রিতা বইটা হলো আফ্রিতা নামের একটা মেয়েকে নিয়ে যে ভৌতিক জিনিসপত্র নিয়ে গবেষণা করে।বইটিতে ৪টি গল্প রয়েছে এবং সবগুলো গল্পই মোটামুটি ভালো। বইটার যে দিকটা সবচেয়ে ভালো লেগেছে তা হলো আফ্রিতার সবকিছু নিয়ে ব্যাখ্যা আর ভৌতিক শক্তিটাকে হারানো। It was a good read
বেশ অনেকদিন পর এমন অদ্ভূতুড়ে কিছু পড়লাম! আমি হরর বই তেমন পড়ি না কারণ একদমই ভয় পাই না,গা ছমছমে অনুভূতিটা হয় না! কিন্তু এই বই পড়ে গা ছমছমে অনুভূতিটা বেশ ভালো রকমই হয়েছে!সেরা একটা বই!
লুৎফুল কায়সার আমার অত্যন্ত প্রিয় সমকালীন লেখকদের একজন। অনুবাদক হিসেবে তিনি দুই বাংলাতেই অত্যন্ত জনপ্রিয়। তবে তাঁর মৌলিক গল্প-সংকলনটি প্রায় গোগ্রাসে গেলার পর থেকেই ইচ্ছে ছিল এই মৌলিক লেখাটি পড়ার। অরণ্যমন থেকে প্রকাশিত এই সুমুদ্রিত হার্ডকভারটি গত রাতে শেষ করার পর মনে হল, নিজের পাঠানুভূতিটি প্রকাশ করা একান্তই প্রয়োজন। সূচিপত্র-বিহীন এই বইটি আসলে একটি পূর্বাভাস, একটি ���পন্যাস, একটি বড়োগল্প এবং ছোটোগল্পের সংকলন। তারা হল~ * সে এক অদ্ভুত স্বপ্ন; ১. অপদেবতা (উপন্যাস); ২. ছলা-কলা (গল্প); ৩. আত্মহনন (গল্প); ৪. আকাশ-প্রতিম (বড়োগল্প)। শেষ লেখাটির মধ্যেই সুস্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে যে অন্ধকারের সন্ধান করা আফ্রিতা আবার ফিরবে। লেখাগুলো কেমন? অলৌকিক সাহিত্যে কিছু পরিচিত ট্রোপ থাকে। লেখক তাদের সুচারু ব্যবহার করেছে এই লেখাগুলোতে। কিন্তু তিনটি কারণে লেখাগুলো 'র্যামসে ব্রাদার্স লাইট ভার্শন' বা বিদেশি গল্পের গোদা আত্তীকরণ না হয়ে অন্যরকম কিছু হয়েছে। সেগুলো হল~ প্রথমত, গল্পগুলোর মধ্যে একটা অদ্ভুত নিজস্বতা আছে। সেটা সম্ভব হয়েছে বাস্তবানুগ চরিত্রচিত্রণ আর পটভূমি-নির্মাণের ফলে। অলৌকিক লেখালেখির ক্ষেত্রে এটা অত্যন্ত ব্যতিক্রমী। দ্বিতীয়ত, লেখা অত্যন্ত সহজ ও গতিময়। লেখকের মধ্যে কোনো জ্ঞানদা ভাব নেই; বরং তাঁর লেখনী থেকে মনে হয়, তিনি যেন আমাদের মধ্যেই বসে গল্পটা বলছেন। তৃতীয়ত, আফ্রিতা চরিত্রটি আর পাঁচজন অকাল্ট ডিটেকটিভের থেকে একেবারেই অন্যরকম। সে অনেক কিছু জানে। কিন্তু সে যে এখনও আরও জানার চেষ্টায়, কিছুটা ভয়ে, কিছুটা আশা নিয়ে এই অন্ধকার পথ ধরে হেঁটে চলেছে, তা-ও স্পষ্ট হয় লেখাগুলো থেকে। সব মিলিয়ে ফার্স্ট ক্লাস লাগল গল্পগুলো। বইটাতে কোনো সূচিপত্র এবং অলংকরণ নেই দেখে পিত্তি চটকে গেল। তবে অলৌকিক সাহিত্যের অনুরাগীদের জন্য এই বই কনটেন্টের বিচারে ফাইভ-স্টারের কিছুমাত্র কম নয়। সুযোগ পেলেই পড়ে ফেলুন।
আফ্রিতার সাথে অক্টারিন এর আনিমা (বা এনিমা,ঠিক মনে নাই) এর বেশ মিল আছে। আফ্রিতার সলভ করা চারটি ভয়ংকর ঘটনার বর্ণনা আছে বইটিতে,ফাঁক ফোকর দিয়ে আফ্রিতা সম্পর্কে,তার ব্যক্তিগত-পারিবারিক জীবন সম্পর্কে নানা তথ্য ও দিয়েছেন লেখক।তবে পুরোপুরি দেননি,কিছু "আঁধার" রেখে দিয়েছেন পরবর্তী বইয়ের জন্যে।সেগুলোর সন্ধান যে কবে করবো,ঠিক বোঝা যাচ্ছেনা। চারটা ঘটনা মোটামোটি ভালোই। আমার বেশি ভালো লেগেছে অপদেবতা।প্রতিটা গল্পেই কিছু না কিছু এলিমেন্ট আছে যা ভয় ধরাবেই। তবে "তিনি যান নি, খান নি,পান নি" এইসবের বদলে তিনি গিয়েছিলেন না,খেয়েছিলেন না ইত্যাদি ইত্যাদি ব্যবহার খুব কিম্ভুত লেগেছে।এ কেমন বাক্য গঠন?
লুৎফুল কায়সারের প্রথম মৌলিক "আফ্রিতা"। পড়ে বেশ মজা পেয়েছি। ঠিক যেরকম গা ছমছমে অতিপ্রাকৃত গল্প আমরা চাই, সেরকমই! এরমাঝে অপদেবতা আর দারিন্দা'র কেস দুটো একদম গা শিউরানো! অন্যদিকে ছলা-কলা কেসটায় হিউমার ছিল ভাল। তবে বইতে বানান ভুল ছিল প্রচুর। অনেক জায়গায় অক্ষরকে ফাহাদ, ফাহাদকে অক্ষর বলা হয়েছে। আবার ইরফানকে আরিফ, আরিফকে ইরফান বলা হয়েছে। এজন্য পড়তে গিয়ে কিঞ্চিৎ কনফিউশনের উদ্রেক হয়েছে। লেখকের জন্য শুভকামনা! ❤️
বানান ভুল, জায়গায় জায়গায় নাম বসে গিয়েছে একটার জায়গায় আরেকটা, সংলাপের বাড়তি ব্যবহার, এই জিনিসগুলি কিছু সময় বিরক্তির উদ্রেক ঘটালেও শেষ পাতা অব্দি চলে গিয়েছি কারণ 'আফ্রিতা' আমার আগ্রহ শেষ অব্দি ধরে রেখেছিল। কিছু প্রশ্ন বা জানার ইচ্ছা থেকে গিয়েছিল, সেগুলির উত্তর হয়তো মিলবে পরবর্তীতে। বইয়ের শেষ কেইসটা যদি না থাকতো তাহলে হয়তো বলতাম, প্রথম মৌলিক গল্পে লেখক ভালো ইফোর্ট দিয়েছেন। কিন্তু শেষ কেইসটা পড়ার পর মনে হয়েছে, চাইলেই লেখক পারতেন বাকিগুলোতেও আরও একটুখানি বেশি কিছু দিতে। 😅 হরর বলতেই ভুত এলো, দুই একজন অজ্ঞান হলো, জোর করে একটু ভয় পাইয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হলো এমন কিছু এই বই না। প্রতিটা কেইসের সাথেই আছে বেশ ইন্টারেস্টিং কিছু মিথ, সাথে ইন্টারেস্টিং প্রোটাগনিস্ট, যার নামেই মূলত বইয়ের নামকরণ। সবমিলিয়ে, খারাপ ছিল না। সময়টা ভালো কেটেছে। নামের গন্ডগোলজনিত বিষয়টা না থাকলে আরও ভালো লাগতো।
The stories was very diverse and enjoyable. Really looking forward to next adventure of Afrita. If I were to complain about something it would be that sometimes the narration felt disjointed. Other than that I would say it's an excellent book.
গোছানো লেখা। হরর বই তবে জোর করে ভয় দেখানোর প্রবণতা নেই। স্টোরিলাইনটাও বেশ সলিড। সব মিলিয়ে প্যাকড বলা যায়। তবে বইটা অনেক বেশী কনভার্সেশনাল যেটা আমার কাছে বিরক্তিকর লেগেছে, কয়েকবার খেই হারিয়ে ফেলেছি। আর অনেক বেশী অনর্থক প্যারাগ্রাফিং আছে যা চোখে লেগেছে আমার। এ দু'টো দিক বাদ দিলে জোসসস একটা বই।
কাহিনী সংক্ষেপ: চারটি ভিন্ন ভিন্ন ঘটনা,চারটি অজানা নতুন ভয়,চারটি রহস্য, সমাধান একটি বিন্দুতেই এসে মিলে গেলো।সেই সমাধানের নাম আফ্রিতা।
প্রথম গল্প: ঢাকা শহরের বুকে এতটা শান্ত এলাকা আর এতটা কম ভাড়ায় বাসা পাওয়া স্বপ্নের মতোই ব্যপার।তাইতো এত অল্প ভাড়ায় পাওয়া বাসা ছাড়তে রাজি হোননি শাহানা-আফতাব দম্পতি।শাহানা-আফতাব দম্পতির পাশাপাশি আরো দু'টো দম্পতিও এই বাসায় আছে।মুন-ফাহাদ,ঐশী-অক্ষর দম্পতি।ঐশী,মুন আর শাহানার বেশ ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠেছিলো একসাথে থাকতে গিয়ে।হেসে-খেলে দিন চলে যাচ্ছিলো।কিন্তু ছন্দপতন ঘটলো কয়েকদিন পর।অক্ষরের মা শুরু থেকেই বলছিলেন,বাসায় অশুভ কিছু একটা রয়েছে।এই কথার সত্যতা প্রমাণ করতেই কিনা ঘটে গেলো শাহানার রহস্যময় মৃত্যু।
গল্প দুই: প্রাক্তন প্রেমের সব স্মৃতি ভুলতে দেশ ছেড়ে চলে গেলেও অসুস্থ বাবার জন্য দেশে ফিরতে হয় পুষ্পিতাকে।একাই ব্যবসা সামলে বেশ ভালোই চলছিলো তার দিনকাল।হঠাৎ একদিন অফিসে যাবার পথে পুষ্পিতাকে দেখে চমকে উঠলেন তার বাবা বাহার সাহেব।এরপর থেকেই পুষ্পিতা আটকে পড়লো এক অজানা গোলকধাঁধায়।
গল্প তিন: ইলাদের মেসের চারতলায় একটা ঘর আছে,কিন্তু সেই ঘরে এখন আর কেউ থাকেনা।যে ই সাহস করে সে ঘরে থাকতে যায়,পরেরদিন সকালে তার মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া যায় বাসার নিচে।না,কেউ খুন করেনা তাদের।তাহলে কিসের রহস্য?রহস্য হলো,মেয়েগুলো নিজেরাই আত্মহত্যা করে। গল্প চার: কেস্টভিল শহরে হঠাৎ রহস্যজনক এক হত্যাকন্ড ঘটে গিয়েছে।স্কুলপড়ুয়া ড্যানিকে কে বা কারা নৃশংসভাবে হত্যা করেছে।আপাতদৃষ্টে দেখে মনে হয়,কোন স্বাভাবিক মানুষের দ্বারা এই খুন সম্ভব না। জুলিয়ার মন ভালো নেই।একের পর এক রাত সে ভয়াবহ সেই দুঃস্বপ্ন দেখে চলেছে।এদিকে শহরে আবারও সেই ভয়ংকর হত্যাকান্ড ঘটে গেলো।
আফ্রিতার গল্প: এক অদ্ভুত স্বপ্ন দেখে প্রতিবার জেগে ওঠে আফ্রিতা।কেন,কিসের জন্য দেখে সে নিজেও জানেনা।এক অজানা রহস্য নিজের ভেতরে যেন ধারণ করে চলে সে।কেউ একজন স্বপ্নে নিজের অস্ত্বিত্ব জানান দিয়ে যায় আফ্রিতাকে।
ছোটবেলা থেকে নিজের শারীরিক গঠনের জন্য আশেপাশের সবার কাছে হাসির পাত্র হতে হতে একসময় নিজেই যেন আলাদা হয়ে গেলো আফ্রিতা।আর দশজন সাধারণ মানুষের মতো নয় আফ্রিতা।অন্ধকার আর রহস্যের খোঁজে ছুটে চলে সে।সমাধান করে একের পর এক রহস্য।কিন্তু তার নিজের জীবনে যে রহস্য রয়েছে তা কি কোনদিন সমাধান করতে পারবে আফ্রিতা?
আফ্রিতা এক অসাধারণ,অকুতোভয় তরুণীর নাম।আফ্রিতা আঁধারের সন্ধানে ছুটে চলা মানুষের নাম।
পাঠপ্রতিক্রিয়া: আদিকাল থেকেই ভয় মানুষের আদিম অন���ভূতি।আর সেই ভয় যখন হয় অজানা,অদেখা কোনকিছুর প্রতি তখন সেটা অন্য মাত্রা পায়। এই না দেখা,না জানা ভয়ের রুপকে উচ্চমাত্রায় নিয়ে গিয়েছে লভক্রফটিয়ান হরর।আর বাংলাদেশে এই লভক্রফটিয়ান হররকে যারা অন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছেন তাদের মধ্যে তানজীম রহমান সবসময় অতুলনীয়।তার আর্কন,অবয়ব,অক্টারিন পড়লেই সেটা জানা যায়।তানজীম ভাইয়ার পরে কেউ যদি এই জনরাকে অন্য মাত্রা দিয়ে থাকেন তাহ���ে সেটা লুৎফুর কায়সার ভাই। "আফ্রিতা" লভক্রফটিয়ান হরর এবং অকাল্ট থ্রিলার পারফেক্ট কম্বো।প্রতিমুহূর্তে নতুন রহস্য,নতুন গল্পে বুঁদ হয়ে থাকার মতো বই।এছাড়াও আফ্রিতার মাঝে মিথলজিকাল হররের খোঁজও পাবেন আপনি।মানুষের আদিম অনুভূতি ভয়কে নিয়ে আদিকাল থেকে যেসব মিথ প্রচলিত আছে,সেসবকে একত্র করেছেন লেখক আফ্রিতার মাঝে।
আপনি যদি লভক্রফটিয়ান হররের ভক্ত হয়ে থাকেন,অকাল্ট থ্রিলার যদি আপনার পছন্দের জনরা হয় তাহলে আফ্রিতা বইটি আপনার ভালো লাগবে কথা দিলাম।ব্যক্তিগতভাবে আমি ৩ ঘন্টাব্যপী রোলার কোস্টারে চড়ার অনুভূতি পেয়েছি এই বইয়ের মাঝে।এত টানটান উত্তেজনা নিয়ে আমি খুব কম বই ই পড়েছি। ভয়,রোমাঞ্চ,রহস্যভেদের আনন্দ সবকিছুই এক বইয়ের মাঝে পাবেন। আশা করি,লেখক খুব দ্রুত আফ্রিতার দ্বিতীয় খন্ড আমাদের উপহার দিবেন।কারণ,প্রথম খন্ড পড়ে শেষ করার পর দ্বিতীয় খণ্ডের জন্য অপেক্ষা করা আমার মতো অধৈর্য পাঠকের কাছে বেশ কঠিন।
💢 পাঠ প্রতিক্রিয়া 💢 লুৎফুল কায়সারের প্রথম মৌলিক আফ্রিতা। এই বইটাতে ছোট-বড় মিলিয়ে ৪টি ভৌতিক গল্প রয়েছে। লেখক এর আগে ব্ল্যাকআউট, দ্য আন্ডারডোয়েলিং, পাপেট গ্রেভইয়ার্ড, সাওয়ার ক্যান্ডি, দ্য ক্যাসেল অফ অটরান্টো সহ বেশ কয়েকটি হরর, অতিপ্রাকৃত এবং লাভক্রাফটিয়ান গল্প বেশ দক্ষতার সাথে অনুবাদ করেছেন।
💥 এই বইয়ে, গল্পের মূল চরিত্র আফ্রিতা, ছয় ফুট উচ্চতা ও কোঁকড়ানো চুলের অধিকারি এক তরুণী। আফ্রিতা একজন প্রোটাগনিস্ট। বিভিন্ন অতিপ্রাকৃত কেস নিয়ে কাজ করে সে। আফ্রিতার মতে সে আঁধারের অনুসন্ধান করে। তার একটি পেজ আছে, ওখানে বিভিন্ন ধরনের অতিপ্রাকৃত বিষয় নিয়ে সাহায্য চায় অনেকেই। সেও এসব কেস সমাধান করে।
💥 'আফ্রিতা-আঁধারের সন্ধানে' বইটি একক কোন গল্প নয়। চারটি কেস হিস্ট্রির কথা উঠে এসেছে। প্রথম ও শেষ গল্পটা আকারে বড়, মাঝের দুটি ছোট। তবে, বইটা শুরু হয় ‘সে এক অদ্ভত স্বপ্ন’ দিয়ে। একটি স্বপ্ন দেখে মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে যায়, যার বিস্তারিত পাওয়া যায় ‘আকাশ-প্রতীম’ ১১নং পার্টে যেয়ে।
📛 প্রথম কেসঃ অপদেবতা 📛 ‘অর্কিড ভিলা’ নামের তিনতলা একটি ভূতুড়ে বাড়ি নিয়ে এই গল্পটি। যেখান তিনটি ফ্লাটে তিন পরিবার বাস করে। এক সময় ফ্লাটের বাসিন্দারা ভয়াবহ অভিজ্ঞতার স্বীকার হয়। ইরফান নামের এক ছেলের মাধ্যমে আফ্রিতা এই বাড়ীর খোঁজ পায় । আফ্রিতা পরবর্তীতে এই বাড়ীর অপদেবতাকে ধংশ করে। বইয়ের এই গল্পটাই আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে।
📛 দ্বিতীয় কেসঃ ছলা-কলা 📛 এই কেসটা ছলাবা নামক এক অপদেবতাকে নিয়ে, সে মানুষকে ধোকা দেয়, বিভ্রান্ত করে। আফ্রিতার বাবার বন্ধু বাহার ও তার মেয়ে পুস্পিতার সাথে কিছু অতিপ্রাকৃত ঘটনা ঘটে এবং আফ্রিতা এসব সমস্যার সমাধান করে দেয়।
📛 তৃতীয় কেসঃ আত্নহনন 📛 এখানে মুলত আফ্রিতা তার মা কে তার একটা কেসের ঘটনা শুনায়। ব্লু হ্যাঁভেন ছাত্রীনিবাসের অতিপ্রাকৃত ঘটনা। এই বইয়ে সবচেয়ে ছোট কেস এইটা।
📛 চতুর্থ কেসঃ আকাশ-প্রতীম 📛 শেষ কেসটি কলোরাডোর ’কেস্টভিল’ শহরের প্রেক্ষাপটে তৈরি। অদ্ভত এক জানোয়ার এবং প্রাচীন একটি মন্দির কে ঘিরে এই গল্পটি। এখানে আফ্রিতা দেশের বাহিরে এসেও কেস/রহস্যের সমাধান করেছে। এইটা একটু বেশি সংলাপ নির্ভর গল্প।
💥 কিছুদিন আগেই আমি লেখক লুৎফুল কায়সারের অনুবাদিত বই ব্ল্যাকআউট, দ্য আন্ডারডোয়েলিং এবং পাপেট গ্রেভইয়ার্ড পড়ে শেষ করেছি। অনুবাদ গুলো পড়ে ভালো লেগেছে। তাই ‘আফ্রিতা’ বইটার জন্য অপেক্ষা করতেছিলাম। সময়ের অভাবে পড়া হয়ে উঠে নাই। আজ শেষ করলাম, লেখকের প্রথম মৌলিক বই হিসাবে খুবই ভালো হয়েছে।
💥 লুৎফুল কায়সারের লেখনী একেবারে টানটান, প্রথম গল্পের ডিটেইলিং খুবই ভালো ছিল। চমৎকার লেখনশৈলী ও সহজ বর্ণনার কারনে শুরুতেই গল্পের ভেতরে ডুকে যেতে পারবেন। আর, এক বসাতেই পড়ে শেষ করা যাবে। আর, গল্পগুলোতে বেশ কিছু সাসপেন্স আছে যার কারনে একঘেয়েমি লাগবে না। তবে, কিছু কিছু জায়গায় অতিরিক্ত সংলাপ ব্যবহার করা হয়েছে, যা হয়তো আপনার ভালো নাও লাগতে পারে।
🆘 বইয়ের শেষ পাতায় সুত্র অনুযায়ী, যেহেতু আফ্রতার আঁধারের সন্ধান চলবেই। আমরা আশা করতে পারি, আফ্রিতার আরো পর্ব পাবো। সেই সাথে হয়তো কেস্টভিলের সেই জ্যাকলিন স্টাইকারের পুরো কাহিনিও জানতে পারবো। নতুন বইয়ের অপেক্ষায় রইলাম। 😁
💟 বইটি পড়ে দেখতে পারেন, যারা অতিপ্রাকৃত গল্প ও সাসপেন্স পছন্দ করেন আশাকরি আফ্রিতা তাদের ভালো লাগবে..😊 * * বই হোক মানুষের পরম বন্ধু.. 📚 বেশি বেশি বই পড়ুন, প্রিয়জনকে বই উপহার দিন.. 🎁
সর্বোপরি সকলের সুস্বাস্থ্য ও সুখী জীবন কামনা করছি। সবাই ভালো থাকুন, নিরাপদে থাকুক.. 🎭
লুৎফুল ভাইয়ের অনুবাদের সাথে আমরা সকলেই পরিচিত। কিন্তু আপনি কি জানেন তিনি দারুণ মৌলিকও লেখেন?
অনেকদিন আগেই নয়া উদ্যোগের থেকে প্রকাশিত লুৎফুল কায়সার ভাইয়ের আফ্রিতার ইলাস্ট্রেটেড এডিশনটা নিয়েছিলাম। পড়ি পড়ি করে ধরা হচ্ছিল না। সম্প্রতি একটা ব্রেক নিয়েছি সবকিছু থেকে। সেই ব্রেকেই পড়ে ফেললাম উনার আফ্রিতা বইটি। বইটি খুব বেশি এক্সপেকটেশান নিয়ে শুরু করিনি (এই কথা বলার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী, লুৎফুল ভাই)। কিন্তু পড়া শুরু করেই অবাক হলাম। বইটি সোজা ভাষায় বলতে গেলে আটকে রাখার মত। শুরু করলে শেষ না করে উঠতে ইচ্ছা করবে না।
কে এই আফ্রিতা। আফ্রিতা আমাদের মতই মানুষ। কিন্তু তার আছে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া এক অদ্ভুত ক্ষমতা। সে দেখতে পায় অতিপ্রাকৃত জগতকে - যে জগৎ আমাদের স্বাভাবিক চর্মচক্ষুর চোখ দেখতে পায় না। এটুকু পরিচয় দিয়েই শুরু হয় গল্প।
গল্পের শুরুতে আমরা দেখতে পাই এক নির্জন এলাকায় অর্ধসমাপ্ত বাড়িতে ভাড়া নেওয়া ৩ টি পরিবারকে সাথে রহস্যময় দুইজন (!!) দারোয়ান। বাড়িতে ওঠার পর কিছুদিন সব ঠিক থাকলেও পরিস্থিতি বদলাতে সময় নেয় না। কি ভাবছেন? টিপিকাল ভুতের গল্প?
আমিও তাই ভেবেছিলাম। কিন্তু পরে গিয়ে দেখলাম এমনটা নয়। ভূতের থেকেও ভয়ানক এক সত্ত্বার বাস সেখানে। প্রথম দিকের একটা বড় অংশ দেখাবে কিভাবে এই তিন পরিবারের জীবন উথাল-পাতাল হয়ে যায় এই বাড়িতে এসে। একেরপর এক দুর্ঘটনা আর মৃত্যু তাদের বাধ্য করে বাড়ি ছাড়তে।
পরবর্তীতে দৃশ্যপটে আসে আফ্রিতা। তার ক্ষমতার জেরে সে বুঝতে পারে আসল ঘটনা। প্রাচীন মিথোলজি সত্য হয়ে ধরা দেয় এই আধুনিক যুগে। কিন্তু আফ্রিতা কী পেরেছিল এই সমস্যার সমাধান করতে?
আফ্রিতার সমধান করা এইরকম কয়েকটি ঘটনা নিয়েই মূলত এই বই। এর বেশি কিছু বললে স্পয়লার হয়ে যাবে।
🔰 বইটি কেমন লাগলো আমার?
আগেই বলেছিলাম খুব বেশি এক্সপেকটেশান নিয়ে পড়তে বসি নাই। কিন্তু এই জায়গায় লেখক আমাকে ভুল প্রমাণ করলেন। এবং আমি এর জন্য খুশিই হয়েছি। বইটির গল্পগুলো ছিল ফ্লুয়েন্ট। ছন্দপতন হয়নি। লেখক ভয়াল পরিবেশ সৃষ্টিতে ভালই কারিশমা দেখিয়েছেন। মিথোলজিকাল ক্রিয়েচার এবং অতিপ্রাকৃত সত্ত্বার কম্বিনেশনটা ভালোই লেগেছে।
ইলাস্ট্রেশন সুন্দর ছিল। কিন্তু কেন জানি প্লেসমেন্টটা একটু উল্টোপাল্টা লেগেছে।
ক্যারেকটারগুলো ভালো টাইম পেয়েছে। কিন্তু আফ্রিতার ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে খুব একটা আলোচনা লেখক করেননি। সো হুট করে যখন দেশীয় প্রেক্ষাপট থেকে লেখা বিদেশের প্রেক্ষাপটে চলে গেল একটু অড লেগেছে। বাট এতটাও না। হ্যাঁ, যদি এই বইয়ের দ্বিতীয় কিস্তির জন্য লেখক এগুলো তুলে রাখেন তাহলে আলাদা কথা।
মোটা দাগে আমি এই বইটিকে সুখপাঠ্য বলব। তো আর দেরী কেন? আপনিও আফ্রিতার সাথে লেগে যান আঁধারের সন্ধানে।
আধারের সন্ধান করতে গিয়ে আধারকে চেনা যায়। কারন আধার বড্ড রহস্যময় জিনিস। আধারে অশুভ তার শেকড় ছড়িয়ে আরাম করে আর ব্যঘাত ঘটলে বিষদাত বসায়।
শেষ করলাম সুলেখক লুৎফুল কায়সার সাহেবের লেখা "আফ্রিতা, আধারের সন্ধানে"। বইটি উপহার হিসেবে পাই বেশ অনেকদিন আগে কিন্তু শেলফে পড়ে রয়েছে অনেক দিন। অতঃপর একদিন হাতে নেয়া এবং শেষ করা। বইটি শেষ করবার পরবর্তী ঘোর এখনো কাটেনি, কি এক অদ্ভুত সৃষ্টি আফ্রিতা! আমাকে বারংবার কাছে টেনেছে তার রহস্যময়তা। মোনালিসার মত লাস্যময়ী রহস্যময়ী এক নারী, তবে তাকে কেউ পুরোটা চেনে না।
মূল চরিত্র আফ্রিতার চারিত্রিক গঠন এবং ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট দারুন ছিলো। লেখক পুরো বইটি নিজস্ব স্বেচ্ছাচারিতা ও কাল্পনিকতা নিয়ে চমৎকার ভাবে সাজিয়েছেন। প্রতিটি গল্প যতটা গতানুগতিক লেগেছে, শেষে ততটাই আশ্চর্য হয়েছি। আরবান লেজেন্ডের গল্পগুলোর আমার আগে পড়া হয়নি অতটা তাই বইটি বেশ এঞ্জয় করেছি। লেখনি মন্দ লাগেনি তবে ছোটো ছোট ভাগে অনেক দৃশ্য স্কিপ করে লিখেছেন তবে তা অতটা প্রয়োজনীয় বোধ হয়নি। সেইসব মাইনর ডিটেলিং এর ধার ধারেননি লেখক। তবে গল্পের এলিমেন্টস গুলো যথাযথ বজায় রেখেছেন। এবং শেষের গল্পে পুরোটাই কানেক্টেড হয়ে এসেছে৷ তাই আলাদা গল্প বলবো নাকি আলাদা অধ্যায়, জানা নেই।
সকলেই লুৎফুল ভাইকে সুঅনুবাদক হিসেবেই চিনেন কিন্তু আমার মনে হয় তার কল্পনা শক্তির মধ্যে একটা অন্যরকম ব্যাপার আছে যা তার গল্পগুলোকে বেশ ইউনিক করে তোলে, গতানুগতিক সবাই লেখে বাট তার মৌলিক গুলো অন্যরকম হয়, আমার বেশ ভালো লাগে এই ব্যাপার টা।
সবশেষে আফ্রিতা কে অনেকে অনেক ভাবে দেখবেন, বইটির নানা খুত বের হবে। তবে আমার চোখে যেমনটা ধরা দিয়েছে তেমনটাই লেখা আর জানানো। আফ্রিতার পরবর্তী বইয়ের অপেক্ষায় রইলাম।
৪/৫⭐ বইটা আসলে দারুণ! শুরুর কয়েকটা কাহিনী এতো ভয় পাইয়ে দিবে বুঝতে পারিনি 😂 ভীষণ উপভোগ করেছি ☺️ তবে শেষের কাহিনী টা মোটামুটি রকমের ছিলো। যাকগে, বইয়ে কিছু শব্দের ভুল পাওয়া গেছে প্লাস কিছু এমন ছিলো যে,
*অফিসে গেছিলাম না। (যেটা হয়তো এভাবে লিখলে সুবিধা হয় যে অফিসে যাই নি বা যাওয়া হয়নি)
*এরকম আরো কয়েক জায়গায় দেখা গেছে।
অবশ্য উনি লেখক তাই শব্দের খেলা আমার চেয়ে ভালো জানেন অবশ্যই। পড়তে গিয়ে আমার একটু সমস্যা হয়েছিল তাই উল্লেখ করলাম।
আরেকটা ব্যাপার আমার একটু বিরক্তি লেগেছে যে "বেশ" কথাটা উনি অসংখ্য বার লিখেছেন একটা প্যারায় প্রায় ২/৩ বার বেশ বেশ বেশ লিখা দেখে একটু অন্যমনস্ক হতে বাধ্য হয়েছিলাম। বাকি সব ঠিক ছিলো। আশা করি পার্ট টু আসবে শীঘ্রই ☺️
Personal rating: 4.5/5 অনেকদিন পর একটি ভাল হরর বই হাতে পেলাম। ভয়ের পাশাপাশি মিথলজির মিশ্রন বেশ ভালমতই নিগমবদ্ধ করেছেন লেখক। প্রথম গল্পের "climax face-off" টা মনে হল তুলনামূলক বেশি অকষ্টকল্পিত ছিল কিন্তু পরবর্তী "face-off" গুলো বেশ চিত্তাকর্ষক ছিল। আফ্রিতা চরিত্রটাকে আরও দেখতে চাই সামনে। অপেক্ষায় থাকব।
কথা ছিল শেষ করবো 'অসংজ্ঞায়িত'কিন্তু শেষ করেছি আফ্রিতা।
বইটা নিয়ে আমি একটু ঘোলাটে আছি, কারণ এটাকে গল্প বলবো না উপন্যাস বুঝতেছি না। কারণ কাহিনি শুরু করেছে একটা বাড়ি দিয়ে শেষ করেছে বিদেশের কাহিনি দিয়ে। মেইন ক্যারেক্টর গল্পে ঢুকেছে বইয়ের মাঝামাঝি তে। কেমন যেন এলোমেলো না?
তবুও বলবো বইটা পড়ে মজা পেয়েছি অনেক। বইয়ের প্রথম দিক আর শেষ দিকটা ভালো ছিল বেশি। গল্পে পুরো ডুবে গিয়েছিলাম।