প্রিয় বন্ধু সোহেল জানাল: বিসিআই চিফ চাইছেন মানবিক এক কাজ যেন করে দেয় রানা। সে-দায়িত্ব পালন করে ফ্রান্স থেকে আয়ারল্যাণ্ডে গিয়ে বেধড়ক মা*র খেল ও। খু*ন হয়ে গেল লাস্যময়ী বেলা ওয়েস। আর সেটা ঠেকাতে না পেরে জেদ চেপে গেল রানার মনে- ওর প্রাণ থাকতে ছাড়বে না নৃশংস খু*নিদেরকে! অবশ্য রানা জানে না, জড়িয়ে যাচ্ছে ভয়ঙ্কর জটিল ষড়যন্ত্রের জালে। পদে পদে ওর বিপদ, শিহরন ও মৃ*ত্যুর হাতছানি! বহু যুগ আগে যার শুরু ব্রিটেনে, এবার বোধহয় তার চূড়ান্ত ফয়সালা হবে আমেরিকায়। কিন্তু দুর্ধর্ষ ক'জন প্রাক্তন সামরিক কর্মকর্তা, দুর্নীতিপরায়ণ পুলিশ চিফ ও অসংখ্য দস্যুর বিরুদ্ধে কীভাবে নিজেকে বাঁচাবে আনফিট রানা?
কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের ১৯ জুলাই ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম কাজী শামসুদ্দিন আনোয়ার হোসেন। ডাক নাম 'নবাব'। তাঁর পিতা প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, গণিতবিদ ও সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন, মাতা সাজেদা খাতুন। কাজী আনোয়ার হোসেন সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার হিসাবে ষাটের দশকের মধ্যভাগে মাসুদ রানা নামক গুপ্তচর চরিত্রকে সৃষ্টি করেন। এর কিছু আগে কুয়াশা নামক আরেকটি জনপ্রিয় চরিত্র তার হাতেই জন্ম নিয়েছিলো। কাজী আনোয়ার হোসেন ছদ্মনাম হিসেবে বিদ্যুৎ মিত্র নাম ব্যবহার করে থাকেন।
মাসুদ রানা সিরিজ এবং সেবা প্রকাশনী যার হাত ধরে শুরু হয়েছিল, সেই কাজী আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর মাসুদ রানা সিরিজের দ্বিতীয় বই,'কালবেলা'। আমি অনেকদিন ধরেই এই সিরিজের বইগুলো মাসুদ রানা সিরিজের না ভেবে অনুবাদ বই ভেবেই পড়ি এবং সেই হিসেবে মাসুদ রানা সিরিজের বই হিসেবে এক্সপেকটেশন বেশ কমে যায় কিন্তু অনুবাদ বই হিসেবে পড়তে ভালো লাগে৷ এই বইটাও তেমন। আমার কাছে বইটা ভালো লেগেছে। অন্যান্য ভালো থ্রিলার বইয়ের মতই বইটা পড়ে ভালো লেগেছে। একশন সিকুয়েন্সগুলোও বেশ ভালো লেগেছে। অনেকদিন ধরেই মাসুদ রানার বইগুলো স্কট ম্যারিয়ানির বেন হোপ সিরিজ থেকে এডপ্ট করা হয়। কালবেলা বইটিও বেন হোপের দশম বই "দ্য ফরগটেন হলোকাস্ট" এর ছায়া অবলম্বনে লেখা এবং গুডরিডসে মূল বইয়ের রেটিং ৪.২+।
যেহেতু বইটা মাসুদ রানা সিরিজের, যতই এক্সপেকটেশন জিরো থাক কিছু জিনিস মাথায় থেকেই যায়। এই বইটার ক্ষেত্রে সবথেকে অস্বাভাবিক লেগেছে সেটা হল জেসিকা থমসনের সাথে প্রেমের পর বিয়ের সিদ্ধান্ত এবং সেই বিয়ে ভেঙ্গে দিয়ে জেসিকার অন্য কাউকে বিয়ে করা। এবং সেই কারনে মাসুদ রানার ছ্যাকা খেয়ে ব্যাকা হয়ে যাওয়া। কিন্তু আমরা যারা মাসুদ রানা দীর্ঘদিন ধরে পড়ি তারা জানি 'মাসুদ রানা টানে সবাইকে, কিন্তু বাঁধনে জড়ায় না'। হয়তো মূল বইয়ে ছিলো কিন্তু আমার মনে হয় মাসুদ রানাতে এডপ্ট করার সময় এই অংশটুকু বাদ দিলে খুব একটা ক্ষতি হতনা কারণ বইয়ের আসল কাহিনির সাথে বিয়ে ভাঙ্গার অংশটুকু খুব একটা জরুরি ছিলো না। এসব কারনেই মাসুদ রানা সিরিজ হিসেবে এই অংশটুকু ভালো লাগেনি।
এছাড়া সব মিলিয়ে আমার কাছে বইটা ভালোই লেগেছে। পরবর্তী মাসুদ রানার সাথে অভিযানের অপেক্ষায় রইলাম।
আহত সিংহ কতটা ভয়ংকর হয় তা তো সবাই জানেন নিশ্চয়ই। এই বইতেও মাসুদ রানা ছিলো সেই আহত সিংহ যে বিরহবেদনায় ভুগছিলো, নিজেকে একাকিত্বের চাদরে মুড়িয়ে নিয়েছিলো। নিজের শরীরকেও করে দিয়েছে দুর্বল বিরহবেদনা ভুলার জন্য নিষিদ্ধ তরল খেয়ে। কিন্তু তখনই বন্ধু সোহেল আর রাহাত খানের দিকে চেয়ে এক কাছের মানুষকে রক্ষা করতে যায় রানা। কিন্তু পরে আসে এক তরুণী যাকে রক্ষা করতে বিফল হয় রানা। আহত হয় সে অনেক। তখনি প্রতিশোধের লেলিহান স্পৃহায় জ্বলে উঠে ওর শরীর। একে একে কেঁচোর আড়ালে লুকিয়ে থাকা সাপদের খুজে বের করতে নামে মরণ যুদ্ধে।
মাসুদ রানার নতুন বই তার উপর ভিন্টেজস্টাইলে অসাধারণ প্রচ্ছদে বইটাকে অ্যাকশনের একটা রোলার কোস্টার বলা যায়। একটু পর পর থ্রিলিং একশন। আয়ারল্যান্ডের মানুষের প্রতি জেনোসাইডটা বড় ধাক্কা দিয়ে যায়। লেডির কথনে সব রহস্য উন্মোচনের পর রানার মতো ঘৃণায় ভরে উঠবে পাঠকেরই মন। পুরো বই জুড়ে ছিলো রানা আর জ্যাকির রুদ্ধশ্বাস যাত্রা। পরে দুইজনে মিলে যখন ক্লাইম্যাক্সে আসে তখন পাঠকের মাঝেও দারুণ উত্তেজনা তৈরী করে। মনে হবে নিজে রানার মতো শিকারে বের হয়েছে। অগ্নিপুরুষের মতো বিধ্বংসী রানাকে দেখে অনেক ভালো লেগেছে। রানার আনফিট থেকে ফিট হবার জায়গা টা আরেকটু বর্ণনা দিলে অনেক ভালো হতো। কারণ প্রথমে রানা একদম মার খেয়ে অবস্থা খারাপ এর পরেই রানা বাঘের মতো থাবা ফেলে। নতুন মাসুদ রানায় আছে ষড়যন্ত্র, লোভ, হিংসা, গোপন সত্যের এক দারুণ মিশেল। আশা করি সবার ভালো লাগবে।
বইটার প্রিন্টের অবস্থা খুবই বাজে। অনেক পাতার লেখা ঝাপসা কিছু জায়গায় লাইন নেই। আশা করি পরের মুদ্রণে ভালো কোনো প্রেসে দিবে সেবা।
শুরুটা ছিল অসাধারণ। যেন বালডাচির কোনো থ্রিলার পড়ছি। এত দারুন ডিটেইলিং, কিন্তু ৩০০ পেজের পর কাহিনী যেন দেশি মৌলিক এর কিছু পরিচিত রাইটারের মত হয়ে গেল। এমন অবস্থা নেক্সট কিছু পেজে যেন শেষ না করতে পারলে অনেক বড় একটা জরিমানা হয়ে যাবে।
ভালোই লাগছে। তবে বইয়ের শুরুর দিকে রানা ছ্যাঁকা খায়া ব্যাঁকা হয়া রইছে, এইটা মানতে কষ্ট হইছে। কারণ সে রানা। সে সবাইকে কাছে টানে, কিন্তু বাঁধনে জড়ায় না। আর রানা বোধহয় স্পাইগিরি ছেড়েই দিছে। সে খালি ওয়ান ম্যান আর্মি স্টাইলে কমান্ডোগিরি কইরা বেড়ায়। অতএব, রানার আগের ইমোশন বাদে পড়তে পারলে এক্কেরে খারাপ লাগব না।
বইয়ের শুরুতেই মেজাজটা খারাপ হয়ে গেছে। রানা এমন ছ্যাকা খাওয়া ধইঞ্চা হল কবে থেকে?? এখন দেখতেছি হাতের কাছে যাই পায় তাই মাসুদ রানায় এডাপ্ট করে ফেলে। গল্পটা রানার সাথে যায় কিনা, যাওয়ার জন্য প্লটে কিছু চেঞ্জ করা দরকার কিনা সেদিকে কোন খেয়াল নাই। যাই হোক, বাকি কাহিনী এভারেজ লেগেছে। শুধু অনুবাদ হিসেবে পড়লে অতটা খারাপ ছিল না।
প্রথম কয়েক পৃষ্ঠায় রানাকে দিয়ে যেভাবে ন্যাকা সাজানো হয়েছে, তা বাদ দিলে বইটা আগাগোড়া উপভোগ্য। আনফিট রানা কীভাবে ফিট হয়ে উঠলো, তা নিয়ে কিছুটা বর্ণনা থাকলে আরেকটু ভালো লাগতো।
পড়তে গিয়েই বুঝছিলাম, কোথায় যেন খেই হারাচ্ছে। পুরনো মাসুদ রানার ধার নেই। সাবলীল প্রকাশভঙ্গী নেই। হোঁচট খেয়েছি মাঝেমধ্যেই। সিরিজের নতুন বই আপাতত কেনার ইচ্ছা রাখি না। দুঃখিত, রানা!