Moinul Ahsan Saber (Bangla: মঈনুল আহসান সাবের; born 1958) is a fiction writer of Bangladesh. He is the executive editor of popular weekly magazine Saptahik 2000 (সাপ্তাহিক ২০০০), published from Dhaka.
His father, Ahsan Habib, was one of the main modern poets of Bangladesh and Saber emerged as a writer and gained fame with the publication of his first novel Porasto Sahish (পরাস্ত সহিস) in 1982.
জৈবিক চাহিদা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। একটি নির্দিষ্ট বয়সে মানুষের সেই তাড়না সৃষ্টি হয় এবং সেটা পূরণ করতে আগ্রহী হয়। জৈবিক চাহিদা পূরণের সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি হলো বিবাহ। কিন্তু দেখা যায়, এই তাড়নায় মানুষ অনেক সময় রীতিবিরুদ্ধ কাজেও লিপ্ত হয়ে পড়ে। তাড়নার বশে নেওয়া সিদ্ধান্ত পরবর্তীতে তাকে ভোগায়।
বিয়ের এক বছর হতে না হতেই সানোয়ারের চাকরি গেল। চাকরিটা স্থায়ী ছিল না। অবশ্য চাকরি যাওয়াতে সানোয়ারের তেমন চিন্তা নেই। তবে স্ত্রী ইয়াসমিনের ত চোখের ঘুম উধাও। সামনের দিনগুলো কীভাবে চলবে? সানোয়ার তখন ব্যবসা করার জন্য ফন্দিফিকির করছে কিন্তু কোথাও জুত করে উঠতে পারছে না। খরুচে আয়ে আর কুলাতে না পেরে ইয়াসমিনকে সানোয়ারের মা আলতাফুন্নেচ্ছার কাছে রেখে আসতে হলো। বাড়িতে দুইটা ঘর। দুই ঘরে দুই শ্বাশুড়ি বউ থাকে আর কাজের জন্য গ্রাম থেকে আনা হয়েছিল আফজলকে। বিএ ক্লাস পর্যন্ত পড়ে গ্রামে মারামারি করে চলে এসেছিল। সানোয়ার উঠে গেল মেসে। সেখানে বসেই চাকরি ও ব্যবসার জোগাড়ের চেষ্টা চালিয়ে যায়। এদিকে মাঝেমধ্যে সানোয়ার ইয়াসমিনের কাছে আসলেও সারাদিন ইয়াসমিন চিঠির অপেক্ষা করে, আরো অপেক্ষা করে একান্তভাবে পাওয়ার জন্য। শরীরের গল্পটাই এখানে উঠে আসে ইয়াসমিনের মাধ্যমে।
সেলিনা থাকে ঢাকায় অথচ রাশেদকে অফিস করতে হয় মফস্বলে। সপ্তাহান্তে আসলেও সেলিনা সবসময় আশায় ছিল কবে প্রমোশন পেয়ে ঢাকার হেড অফিসে আসবে। তখন অষ্টপ্রহর স্বামীকে কাছে পাওয়া যাবে। অবশেষে রাশেদের প্রমোশন হলো এবং মোকাররম বাসা থেকে হলে গিয়ে উঠলো। মোকাররম রাশেদের চাচাতো ভাই। সেলিনাকে এক প্রকার পাহারা দেওয়ার জন্যেই তাকে বাসায় এনে রেখেছিল রাশেদ। চারপাশে কি হয় না হয় তার জন্যই এমন ব্যবস্থা। কিন্তু সেলিনা সবসময় ভয়ে থাকতো মোকাররম বাসায় থাকাতে। বাসার মধ্যে এমন একজন পুরুষ মানুষ থাকলে যে কারোরই ভয় পাওয়ার কথা কিন্তু সেলিনার ভয়টা অন্য জায়গায়।
আকবর উদার মনের মানুষ। কোনো মেয়েকেই মানা করতে পারে না। আজ সোহিলী তো কাল মিলিকে নিয়ে ঘোরে। ঘোরাঘুরির পরে একান্তে সময় কাটাতে আশ্রয় খোঁজে জেসমিন ভাবীর কাছে। জেসমিন ভাবীর স্বামী কবিরুল চাকরির জন্য সারাদিনই বাইরে থাকে। আর এই সময়ে জেসমিনকে পটিয়ে জায়গা নেয় আকবর। প্রায়ই দেখা যায় কোনো না কোনো মেয়েকে নিয়ে আকবর আসছে সময় কাটাতে। জেসমিন অবাক হয়ে যায় আকবরের মেয়ে পটানোর গুণ দেখে নাকি মেয়েগুলোই অল্পতে গলে যায়! তবে জেসমিন ভাবীর মনের মধ্যেও খেদ রয়েছে যা বুঝতে পারে নি আকবর।
বিয়ের ১০ দিন পরেই বিদেশ চলে গিয়েছিল সৈকত। তুতুল প্রতিটা সময় শুধু সৈকতের কথাই ভেবেছে। সৈকত দেড় বছর পরে বাড়ি ফিরলে সব হিসাব সুদে আসলে উশুলের কথা বলে তুতুল। সৈকতও প্রিয়তমা স্ত্রীর আবদার পূরণ করতে চায়। নতুন ব্যবসা করবে সৈকত তার বন্ধু আকবরের সাথে। এতদিন আকবরই সৈকতের পরিবারের দেখাশোনা করেছে। এই একাকীত্বের সময়ে আকবরকে সে কীভাবেই দেখেছে? কখনো কি আবেগের বশবর্তী হয় নি?
মনের টান বড় নাকি শরীরের টান বড়? স্বামী স্ত্রীর মাঝে দূরত্ব থাকলে কি শরীরের টান পথভ্রষ্ট করতে পারে? এমনটা থেকেই কিন্তু পরকীয়ার জন্ম। আবার মনের দূরত্বও এমন ঘটনা ঘটাতে পারে। তবে লেখক বলতে চেয়েছেন শরীরের ক্ষুধাই মানুষকে অন্য পথে নিয়ে যায়। সবগুলো গল্পের চরিত্রায়ণ ঘটনাপ্রবাহ একই। তবুও একঘেয়েমি লাগে না। গল্পগুলোতে শরীরের তাড়না আছে, স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কের মধুরতা আছে, আছে শারীরিক সুখের ফিরিস্তি। তবে মুখ্য হয়ে উঠেছে নারী শরীরের চাহিদা। একই ধাঁচের তবু যেন ভিন্ন কিছু গল্পের সমাহার 'শরীরের গল্প'। হ্যাপি রিডিং।
সবগুলো গল্পই একই ধাঁচের, পড়ে মোটামুটি লাগলো। ৬টা গল্পেই ঘুরেফিরে পরকীয়া দেখা যায়। গল্প-উপন্যাসে বড়াই করে বলা "মনের টানই সবচেয়ে বড় টান", এটাকে কাঁচকলা দেখিয়ে বোঝানো হয়েছে যে শরীরের ক্ষুধাই আসল ক্ষুধা। এসবের সাথে একমত না যদিও, তবে গল্পগুলো একইধরনের না হলে আর ভালো হতো।
ছয়টা গল্প, সবই শরীরের গল্প। মানে শরীরের আকাঙখার গল্প। স্ত্রীর গল্প। সবগুলো গল্পের সেটাপ একই। বর্ণনা একই। চরিত্রায়ণও একই। কিন্তু তারপর কিভাবে যেন পড়া হয়ে যায়। প্রতিটি গল্পেই স্বামী স্ত্রীর মাঝে তুমুল ভালোবাসা থাকে, নিজেদের মাঝে সঙ্গম সুখ থাকে, সাথে থাকে শারীরিক দূরত্ব। ফলে দুজনের মাঝেই আকাঙখা থাকে। এদিকে স্ত্রীর কাছে থাকে কোনো এক পুরুষ, স্বামীর সম্মতিতেই। যে ওই নারীকে বিভিন্ন সময়ে সাহায্য করে। সেই পুরুষ আর এই স্ত্রীর মাঝে একটা সেক্সুয়াল টেনশন তৈরি হয়। এরপর স্বামী ফিরে আসে। তারপর শেষে গিয়ে প্রকাশ পায় কিছু হতে গিয়েও না হওয়া, স্ত্রীর মৌন আকাঙখা- যেটা হয়তো পরিস্থিতির চাপেই। স্বামীকে কাছে পাওয়ার পর সেসব মাথায় আসে। কোনো ক্ষেত্রেই কিছু হয়না। কেবল ভাবা পর্যন্তই। কিন্তু এই ভাবনাই বা আসে কেন- স্ত্রীকে কি দোষ দেয়া যায়- ইত্যাদি ইত্যাদি প্রশ্ন থাকে গল্প শেষে।
ছ'টি অণুগল্প নিয়ে মঈনুল আহসান সাবেরের সংকলন - শরীরের গল্প। গল্পগুলো এক ধারার কিন্তু একঘেঁয়ে না। মানুষের জীবনে, বিশেষত মেয়েদের জীবনে, প্রেমে, বিবাহিত জীবনে, পরকীয়ার ইচ্ছায়, তা বাস্তবে ঘটুক বা নাই, তাই নিয়ে এই গল্পগুচ্ছের সমাহার। ছয়টি গল্পেই আমরা শরীরের 'টান' অনুভব করি। রাবিন্দ্রিক বা প্ল্যাটোনিক ধারায় বিশ্বাসীদের হয়তো নাক সিটকাতে ইচ্ছা করবে কিন্তু বাস্তব জীবনে শরীরের ভূমিকা, তার ক্ষুধার চরিত্র উড়িয়ে দেয় শুধুই 'রোমান্টিক আদর্শিক', যার কোন মূল্য নেই আমাদের জীবনে। পরের বউয়ের সুডোউল বক্ষ কেন তবে টানে আমাদের? পরপুরুষের পৌরুষই বা কেন টানে নারীকে? গল্পগুলোতে বুদ্ধদেবের 'রাত ভ'রে বৃষ্টি'-র ছিটেফোঁটা আঁচ টের পাওয়া যায়। বেশ উপভোগ্য এই সংকলন।
ভাল হয়েছে। দৈনন্দিন জীবনের ছোট গল্প। বড় বড় উপন্যাস পড়া শেষ হলে ছোটগল্প ভিন্ন স্বাদ এনে দিতে পারে। বলা যায় খাওয়া শেষে মিষ্টি জাতীয় জিনিস খাওয়ার মতো।