দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন হলোকাস্ট কেমনে একটি সুচারু এডমিনিস্ট্রেটিভ প্রসেস ছিল, তাই এই বইয়ের শুরুর প্রতিপাদ্য। ইহুদী লিস্ট বানানো থেকে শুরু করে রেল ট্রান্সপোর্ট, কন্সেন্ট্রেশন ক্যাম্প, Ghetto, গ্যাসচেম্বার, এমনকী যুদ্ধ পরবর্তী ডিনাজিফিকেশন এসবের সাথে লেখক প্রশাসনের যোগসূত্র খুঁজেছেন।
ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুবাদে এই বইয়ের মেইন আকর্ষণ খুঁজে পাওয়া গেছে ভন ব্রাউন সাগায়। এই ভন ব্রাউনের টিম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির বিখ্যাত V-2 রকেট উৎপাদনের সাথে জড়িত ছিল, যাদেরকে যুদ্ধের পর USA গোপনে রিক্রুট করে এবং এ টিমই বিখ্যাত এপোলো-১১ উৎক্ষেপণকারী রকেট ডেভেলপ করে। এছাড়া ১৯৮৬ সালে স্পেস শাটল চ্যালেঞ্জার ডিজাস্টারের পেছনে লেখক এডমিনিস্ট্রেটিভ প্রক্রিয়াকে দায়ী করেছেন। (প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে চেরনোবিল সিরিজটা যারা দেখেছেন, তারা কিছুটা উপলদ্ধি করতে পারেন এই এডমিনিস্ট্রেটিভ ডিসিশনগুলো কীভাবে খুবই প্রলয়ংকরী হতে পারে)।
এ বিষয়গুলোই বইয়ে চিহ্নিত হয়েছে এডমিনিস্ট্রেটিভ ইভিল হিসেবে। perspective, language, shrewd terminology ইত্যাদি ব্যবহার করে এই ইভিল প্রসেসগুলো জাস্টিফাই করা হয়। এবং এখানে অপরাধী বা দায়ী ব্যক্তিদের দিকে আংগুল তুলা দুরূহ ব্যাপার, কারণ সবগুলোই জটিল পেপারওয়ার্কের মাধ্যমে হালাল করা। হিটলার প্রশাসনেও আইখম্যান, এলবার্ট স্পিয়ার, আর্থার রুডলফ, গোয়েবলস আইরনিক্যালি এরা সবাইই ছিল খুব ইফেক্টিভ, ক্রিয়েটিভ এবং ইনোভেটিভ প্রশাসক। অথচ তাদের বানানো এফিসিয়েন্ট প্রসেসের ব্যবহার হয়েছে জেনোসাইডের কাজে।
তাছাড়া মিলগ্রাম এক্সপেরিমেন্ট, স্টানফোর্ড প্রিজন এক্সপেরিমেন্টের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে so called আমজনতা কীভাবে সুযোগ পেলে অত্যাচারী হয়ে উঠে। তাছাড়া এডমিনিস্ট্রেটিভ ইভিল সুযোগ পায় পলিসিমেকারদের অসৎ উদ্দেশ্যের কারণেই। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, পলিসিমেকার এবং এক্টিভ সিটিজেনশিপকে লেখক টোটকা হিসেবে হাজির করেছেন।
অতএব দেখা যাচ্ছে প্রশাসন এমন একটা ফিল্ড যেখানে ভাল-মন্দের সিলভার লাইনিং, গ্রেটার গুড, গ্রে এরিয়ার ডেফিনিশনগুলা জানা থাকা জরুরি।