চলতি জীবনের নিখুঁত জলছবি সুচিত্রা ভট্টাচার্যের উপন্যাসের প্রাণ। ‘একা’ উপন্যাসে আছে একটিমেয়ে তোয়া। তোয়ার মা তৃষিতা, বাবা অয়ন। বাউণ্ডুলে স্বভাবের অয়নকে তৃষিতা সহ্য করতে পারেনি বেশিদিন। ডিভোর্সের পর সে বিয়ে করে আর্কিটেক্ট বিপত্নীক সিদ্ধার্থকে। তোয়া থাকে তৃষিতা আর সিদ্ধার্থের সঙ্গে। দিন যায়। সিদ্ধার্থ পেশাগত জীবনে সাফল্য পায় অনেক। তৃষিতা নিজেকে ভাবে সুখী। মামার বাড়িতে বড় হওয়া ছেলে লালটুকে একদিন নিয়ে এল সিদ্ধার্থ। লালটু ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পড়বে। তোয়া মানতেই পারছিল না বাড়ির নতুন সদস্যটিকে। একদিন লালটুর মাউথ অরগ্যান বাজনা শুনে তোয়া নরম হয়ে গেল ভেতরে ভেতরে। মা, বাবা, নতুন-বাবা এইসব সম্পর্কের টানাপোড়েনে তোয়া এক দুঃখী মেয়ে। সে তের পেল, লালটুও তারই মতো দুঃখী। এবার কি তোয়ার আর লালটুর বন্ধুত্ব হবে প্রবল? ওদিকে সিদ্ধার্থ আর তৃষিতা কি সত্যিই সার্থক বা সুখী? সুচিত্রা ভট্টাচার্যের এই উপন্যাস নির্দেশ করে আপাত-সুখী জীবনের ভয়াবহ একাকিত্বকেই।
Her writing focuses on contemporary social issues. She is a perceptive observer of the changing urban milieu and her writing closely examines the contemporary Bengali middle class. Crisis in human relationships and the changing values of the present era along with degeneration of the moral fibre of the society in the backdrop of globalisation and consumerism are depicted in her prose. Exploitations and sufferings of women regardless of their social or economic identities find a distinct voice in her writing. While she is famous for her writing on women's issues, she does not consider herself as a feminist. She took up many odd jobs in her early youth and finally joined the public service which she left in 2004 to become a fulltime writer. Her long career is reflected in many of her stories and novels.
Over the past two decades, Suchitra has written about 24 novels and a large number of short stories in different leading Bangla literary magazines. Some of her acclaimed novels are Kachher Manush (Close to Me), Dahan (The Burning), Kacher Dewal(The Wall Of Glass), Hemonter Pakhi(Bird of Autumn), Neel Ghurni, Aleek Shukh(Heavenly happiness), Gabhir Ashukh (A Grave Illness), Uro Megh(Flying Cloud), Chhera Taar, Alochhaya(Shadows Of Light), Anyo Basanto(Another Spring), Parabas, Palabar Path Nei, Aami Raikishori, Rangin Pritibi and Jalchhobi among others. Her novels and short stories have been translated into many Indian languages such as Hindi, Tamil, Telugu, Malayalam, Oriya, Marathi, Gujarati, Punjabi and English. She also writes novels and short stories for children. Her novel Dahan was made into a movie by famous Bengali director, Rituparno Ghosh.
"একাকিত্বের জগতে যাওয়া যায় কিন্তু ফিরতে হয় জীবন্ত লাশ হয়ে ...." দিনশেষে আমরা অনেকে একা, কথা বোঝার তো দূর শোনার লোক পর্যন্ত থাকে না । কেউ কেউ কথা বলে ডাইরির পাতায় , কেউবা খোলা আকাশে তাকিয়ে, চাঁদের সাথে .... লেখিকা প্রায় বারো বছর আগে এই নিয়ে কলম চালিয়েছেন । দেখিয়েছেন সমাজে কত মানুষ খুশি থাকতে গিয়ে কত কি করে ফেলে । তৃষিতা আর অয়ন ভালোবেসে বিয়ে করেছিল , জীবনে এসেছিল তোয়া । কিন্তু সম্পর্কের টানাপোড়েনে তৃষিতা ডিভোর্স করে অয়নকে । আবার বিয়ে করে আর্কিটেক্ট সিদ্ধার্থকে । পেশাগত জীবনে সফল হলেও সিদ্ধার্থের মনে হানা দেয় প্রথম স্ত্রীর মৃত্যু , নিজেকে দায়ী করতে থাকে । ছোটো থেকে মামাবাড়িতে বড়ো হওয়া সোহম ওরফে লাল্টু কলেজে উঠলে তাকে সিদ্ধার্থ নিজের কাছে রাখার সিদ্ধান্ত নেয় । এতে তোয়া প্রচন্ড বিরক্ত হলেও সোহমের মাউথ অর্গানের সুরে সেও একসময় বুঝতে পারে তোয়ার মতো সেও একা । তোয়া সোহম দুজনেই নিজেদের দাবার গুটি মনে করে। বাবা মা নিজেদের ভালো থাকার চেষ্টায় সন্তানের ভালো থাকা কি ভুলে যায় ? সিদ্ধার্থ - তৃষিতা - অয়ন এরাও কি আদতে সুখী ? একসময় সোহম মিলিয়ে যায় ভোরের কুয়াশায়। তৃষিতা, সিদ্ধার্থ সময়ের তালে ব্যস্ত জীবনে ফিরে যায় কিন্তু তোয়া ? " ওই দুঃখী ছেলেটাকে তখন বুঝি মনে মনে একটু হিঃসেই করে তোয়া । সে যেখানেই থাকুক, যে অবস্থাতেই থাকুক, তার অন্তত একটা মাউথঅরগ্যান আছে । তোয়ার তো সেটুকুও নেই ।"
পাঠ প্রতিক্রিয়া :- লেখিকার লেখা সমাজকেন্দ্রিক । সমাজের বাস্তবতা ফুটে ওঠে তাঁর লেখায় । বর্তমান যুগে বাবা মা'র সম্পর্কের দোলাচল , উচ্চাকাঙ্ক্ষী মানসিকতা নিয়ে যায় একাকিত্বের অন্ধকারে । তাঁরা নিজেদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য খুঁজতে গিয়ে সন্তানের উপর বাড়তে থাকা মানসিক চাপের খবর রাখার সময় হয়না তাঁদের। বাইরের চাকচিক্যকে বেছে নিয়ে চলতে থাকে জীবন, আসলেই সব মেকি । একটা লাইন গভীরভাবে দাগ কাটে - " ওটা যে হাসি নয় , ঠোঁটের একটা বিশেষ ভঙ্গিমা।"
১০ টা তারা দেবার option থাকলে বোধ হয় তাই দিতাম । 🤩🤩🤩🤩
সুচিত্রা ভট্টাচার্য এর লেখা বই আজ প্রথম পড়লাম । তিনি সত্যিই একজন অসাধারণ লেখিকা । 😍
*একা* বই টি সম্পর্কের জটিলতা এর উপর ভিত্তি করে লেখা। ( Not a love story at all) গল্প টি প্রচন্ড বাস্তবিক । 🙃
এখানে প্রধান চরিত্র তোয়া আর সোহম । তাদের মধ্যে আপাত সম্পর্ক এই যে তারা step brother and sister । তাদের মধ্যের সম্পর্ক এর উপর ভিত্তি করেই পুরো বই টা লেখা বললে ভুল হবে না। তারা দুজনই আপাত ভাবে খুশি হলেও তারা খুব একা এবং দুঃখী । তোয়া চরিত্র টির সাথে নিজের অনেক মিল খুঁজে পেয়ছি। 😅😅 তার মূল কারন তোয়া ও একাদশ শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী । কিন্তূ প্রিয় চরিত্র টি নিঃসন্দেহে সোহম । তার একাকীত্ব এবং কষ্ট টা কে লেখিকা এত সুন্দভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন , to be honest চোখ দিয়ে জল বেরিয়ে গেছিল। 😅 বইটির কয়েক টা লাইন খুব ই সুন্দর লেগেছে যেমন
১ *কর্তব্য তো নেহাতই এক প্রাণহীন সমীকরণ*
২ *ওটা যে হাঁসি নয়, ঠোঁটের একটা বিশেষ ভঙ্গিমা*
৩ *আমি তোমার দাবার গুটি হতে রাজি নই!*
এক কথায় বললে বইটি সত্যিই অসাধাণ। বইটি এত টা ভালো লেগেছিল যে মাত্র ৪ ঘণ্টা এর মধ্যে শেষ করে ফেলেছিলাম । 😅😅
তবে হ্যাঁ , happy ending এর expectations রাখলে মন ভাঙ্গা নিশ্চিত । 😔( আমারও ভেঙ্গে ছিল) তাই expectations না রাখা টা শ্রেয়। 🙂
মানুষ বিয়ের বন্ধনে জড়িয়ে পড়ে, সে প্রেম করে হোক, বা সম্বন্ধ করে। কিন্তু মতের মিল নাহলে সম্পর্ক ভাঙে, বা দুর্ঘটনায় প্রাণও যায় অনেকের। এবং এই ভাঙা ঘরের পাখিরা আবার নতুন ঘর বাঁধে। কিন্তু, তাদের সন্তানাদি? তারাও কী বাবা-মায়ের মতো আগের মানুষটার মায়া কাটিয়ে উঠতে পারে? আর so-called 'বড়'রাও কী অতীতের মানুষটার ব্যাপারে সম্পূর্ণ উদাসীন হয়ে যায়? সম্ভব কী? এই এত প্রশ্নের উত্তর নিয়ে এই ১৬০ পাতার উপন্যাস। টানটান, মনস্তত্ব নিয়ে খুব সুন্দর করে কাহিনী বুনেছেন সুচিত্রা ভট্টাচার্য্য। আর সেই সঙ্গে গোটা কাহিনীজুড়ে রয়েছে একটা ভয়াবহতা। একাকীত্বের ভয়াবহতা। শেষে প্রশ্নও রয়ে যায় অনেক কিছু, যার উত্তর একাকীত্বে আতঙ্কগ্রস্ত পাঠকের মহা-দরবারের আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে পাওয়া যাবে (হয়তো!)।
একা আর একাকিত্ব - শব্দগুলো বড়োই ওজনদার। এই একাকিত্বের কারণে কত মানুষ অকালে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে, কেউ বা সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছয় আবার কেউ বা সঙ্গী খোঁজে। এসবের ফলে সত্যিই কি একা হওয়ার নির্জনতা কাটে? জানিনা কেন আমার মনে হয়, সব মানুষই মূলত একা। আজীবন। লোকের ভিড়ে মিশে থাকলেও মনের নির্জনতা কাটে না তো! মনের গভীরতার তল কজনই বা পায়?
আমায় নতুন করে বইয়ের প্রেমে ফেলার পিছনে যাঁর কথা সর্বাগ্রে আসবে, তিনি হলেন সুচিত্রা ভট্টাচার্য। বেশ অনেকদিন পর প্রিয় লেখিকার লেখা পড়ে অনেক ওলটপালোট প্রশ্ন মনে ভিড় করছে। ফিরিয়ে দিচ্ছে পেরিয়ে আসা দিনগুলোর স্মৃতি।
কিশোরী বয়সের মেয়ে তোয়া বড়োই একা। তার মন বোঝার মত কাছের মানুষ কেউ নেই। বাবা মায়ের বিবাহ বিচ্ছেদের পর মায়ের নতুন সংসারে বেশ প্রাচুর্যের মধ্যেই দিন কাটে তোয়ার তবু সে ভালো থাকতে পারে না। এভাবেই দিন কাটতে কাটতে হঠাৎই ঘটে ছন্দপতন। তোয়ার বাপীর একমাত্র ছেলে লাল্টুও এখন থেকে তাঁদের সঙ্গেই থাকবে। তোয়া এই পরিবর্তন কিছুতেই মেনে নিতে ��ারে না তবু শেষ পর্যন্ত মানতে বাধ্য হয়। তোয়া আর লাল্টুর সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেবে? সেই আগ্রহে আর লেখিকার উপস্থাপনার গুণেই শেষ পাতা পর্যন্ত আসতে হয় পাঠককে।
বিবাহবিচ্ছেদের পর সন্তানের জীবন কেমন হয়, তাদের মনের ওঠাপড়া আর অনুভূতিদের নিয়েই মূলত এই উপন্যাস। লেখিকা কঠিন সত্যিগুলো অবলীলায় বলে দেন। এই কারণেই কেউ ওঁনার ভক্ত আবার কেউ বা সমালোচনায় মুখর। উপন্যাসের শেষটুকু বড়োই মন কেমন করা। ডিসেম্বরের থিওরি আসলে খুবই সহজ। হয় কোনো কাছের মানুষ জীবনে আসে আর নয়তো খুব কাছের কেউ হারিয়ে যায়। চিরতরে। এই বইটাও সেরকমই এক বার্তা দিয়ে গেল। যাঁরা সামাজিক উপন্যাস পড়তে ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য অবশ্যপাঠ্য।
"তবে একটু তলিয়ে দেখলে বোঝা যায়, অধিকাংশ আকস্মিক ঘটনাই বুঝি আকস্মিক নয়। কোথাও যেন একটা প্রস্তুতি চলে তার। অলক্ষ্যে। অজান্তে।"
স্বপনপুরীর আটতলার দক্ষিণের ফ্ল্যাট লেপ মুড়ি দিয়ে ঘুমোচ্ছে তখন। শুধু স্টাডিরুমই যা বিনিদ্র।শেষ রাতে আলো জ্বলল ঘরটায়, নিভেও গেল। নিজের কিটস ব্যাগখান কাঁধে চাপিয়ে বেরিয়ে পড়ল সোহম। নিঃসাড়ে। কাউকে জানান না দিয়ে। ভোর ফুটছে। কুয়াশা ভেদ করে হাঁটছিল সোহম।এক সময় মিলিয়েও গেল কুয়াশায়।"
পেশাগত জীবনে উন্নতির শিখায় গিয়েও কেন হীনমন্যতায় ভোগে সিদ্ধাথ? সে কি সত্যি তার প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর জন্য দায়ী। তৃষিতা কেন তাদের জীবনে সিদ্ধাথের ছেলে সোহমকে মানতে পারেনা। সব পেয়েও তোড়ার এত মন খারাপ কেন হয়, কেন এত বছর পরের সে সিদ্ধাথকে বাবা বলতে পারেনা।নিজেকে তার মার দাবার গুটি মনে হয় কেন। সোহম কী তার বাবাকে খুনী মনেকরে। তার বাবা কেন তার কাছে বাইরের মানুষ হয়ে থেকে গেল সারাজীবন। কোথায় চলে গেল সে। কেন তাকে আর পাওয়া গেল না....
"দুঃখী ছেলেটাকে মনে মনে একটু হিংসেই করে তোয়া। সে যেখানেই থাকুক, যে অবস্থাতেই থাকুক, তার অন্তত একটা মাউথঅরর্গ্যান আছে।তোয়ার তো সেটুকুও নেই।" .
প্রথম গল্পটায় একটু থ্রিল ছিল,সেই তুলনায় দ্বিতীয়টা অনেকটুকু আন্দাজ করা যাচ্ছিল কেমন হবে গল্পের মোর, লেখকের পূর্ব রচিত উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে। তবে সুচিত্রা ভট্টাচর্য্যর লেখায় যে উপকরণ থেকে, তা সব সময় এক টানে পরে শেষ করা যায়,জীবনের কাছ ঘেঁষে প্রত্যেকটা প্লট রচিত।
For readers seeking a profound understanding of modern Bengali society, this book is required reading. It is a mirror held up to the compromises of contemporary life, reminding us that the deepest yearning is often for the simple, unburdened expanse of one's own sky.
The book is really good, with good plot, nice story-line and writing style. And the book title, could it be any more perfect? I really liked this book.