Based on Treasure of Khan by Clive Cussler & Dirk Cussler.
বৈকাল হ্রদের অপূর্ব প্রাকৃতিক শোভা উপভোগ করতে গেছে মাসুদ রানা। তাই বলে পিস্তলটা রাখবে না সাথে? চিফের বারণ শুনে মস্ত ভুল করেছে ও। ওখানে জটিল এক ঝামেলায় জড়িয়ে গেল ওরা। কারা যেন ডুবিয়ে মারতে চায় রিসার্চ শিপের সবাইকে। প্রলয়ঙ্কর প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিশাল ঢেউ থেকে যাদেরক উদ্ধার করল ওরা, তাদেরই ভিতর রয়েছে কালনাগিনী! ঠিক সময়মত ফণা তুলল সে। কী করবে নিরস্ত্র রানা? চেষ্টা করেও তা বিজ্ঞানীদের কিডন্যাপ হওয়া ঠেকানো গেল না। এবার? বৈকাল হ্রদ ছেড়ে চলল ও মঙ্গোলিয়ার উলানবাটোর। বন্ধু ববি মুরল্যাণ্ডকে নিয়ে ঢুকে পড়ল ভয়ঙ্কর এক উন্মাদের আস্তানায়। চেঙ্গিস খানের সমাধির ভিতর পরিচিত বিজ্ঞানীর লাশ নীরবে বলল, বাঁচতে চাইলে পালাও, রানা! এ বিরান মরুভূমিতে কোথায় পালাবে রানা-ববি? হিংস্র-বর্বর প্রহরীদের আদেশ দিয়েছে জালাইর তেমুজিন: লাশ চাই আমি ওই লোক দুটির!
কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের ১৯ জুলাই ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম কাজী শামসুদ্দিন আনোয়ার হোসেন। ডাক নাম 'নবাব'। তাঁর পিতা প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, গণিতবিদ ও সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন, মাতা সাজেদা খাতুন। কাজী আনোয়ার হোসেন সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার হিসাবে ষাটের দশকের মধ্যভাগে মাসুদ রানা নামক গুপ্তচর চরিত্রকে সৃষ্টি করেন। এর কিছু আগে কুয়াশা নামক আরেকটি জনপ্রিয় চরিত্র তার হাতেই জন্ম নিয়েছিলো। কাজী আনোয়ার হোসেন ছদ্মনাম হিসেবে বিদ্যুৎ মিত্র নাম ব্যবহার করে থাকেন।
কৈশোরের মধ্যগগণে মাসুদ রানার ভক্ত হলে বোধ হয় সময়টা একদম সঠিক হতো – খুব যে দেরি হয়ে গেছে তা বলবো না। কিন্তু একটা ব্যাপার সত্যঃ আজকে থেকে পনেরো-বিশ বছর আগে যারা মাসুদ রানা পড়তো, তাদের চেনা কাজী আনোয়ার হোসেন আর আমার চেনা সেই লোকের মাঝে সীমাহীন পার্থক্য। শেখ আবদুল হাকিমের সাথে দীর্ঘ আইনি জটিলতার পরে ২৬০ টি বইয়ের মালিকানা হারান কাজী আনোয়ার হোসেন। আমি যে বইটি পড়ে শেষ করলাম, সেটার লেখক আসলে কাজী আনোয়ার হোসেন, শেখ আবদুল হাকিম নাকি ইফতেখার আমিন সেটাই আমার কাছে পরিষ্কার না। তবে লেখাটা মূলত Treasure of Khan by Clive Cussler এর বাঙালিকরণ কিংবা মাসুদ-রানা-সংস্করণ।
গল্পের শুরু হয়েছে জাপানের হাকাটা বে’তে, সময়কাল বেশ প্রাচীন – বারোশো একাশি সাল। ঐতিহাসিক মঙ্গোলিয়ান পটভূমির রাজকীয় নৌবহর থেকে শুরু করে প্রত্নতাত্ত্বিক এক গবেষকের অভিযান – বইয়ের শুরু থেকেই গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল বিস্তৃত এক ঐতিহাসিক সংযোগের। এরপর যতই সময় গিয়েছে, কাহিনীর মারপ্যাঁচ বেড়েছে। বৈকাল হ্রদে একটি অয়েল সার্ভে টিমের সাথে গিয়ে হঠাৎ করেই এক প্রলয়ঙ্কারী দুর্যোগের মুখে পড়ে মাসুদ রানা। একই সাথে পেট্রোলিয়াম সরবরাহে এক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে গোটা পৃথিবী, দোদুল্যমান হয়ে পড়ে এক অতি গুরুত্বপূর্ণ সাপ্লাই-চেইন। এর সাথে জড়িয়ে পড়ে বৈশ্বিক রাজনীতি।
জানা এবং অজানা শত্রুর বিপক্ষে মাসুদ রানা আর ববি মুরল্যান্ডের অদ্ভুত অভিযান শুরু হয়। ছোট ছোট রহস্য আর অভিযানের মাঝে দিয়ে আরো জটিল হতে থাকে ঘটনার প্রবাহ। জড়িয়ে পড়ে বরজিন অয়েল কনসোর্টিয়াম নামে এক প্রাইভেট কোম্পানি এবং তাদের কার্যক্রম। মজার ব্যাপার হলো, গল্পে উল্লিখিত NUMA (National Underwater & Marine Agency) প্রাথমিকভাবে একটি কাল্পনিক সংস্থা হলেও পরবর্তিতে অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় লেখক Clive Cussler নিজেই এই প্রতিষ্ঠানের গোড়াপত্তন করেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। সুতরাং বলাই বাহুল্য যে, মূল লেখক সামুদ্রিক জলজীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবেই যুক্ত ছিলেন - যার প্রমাণ পাওয়া যায় লেখায়। পড়তে গিয়ে এই সংক্রান্ত বিভিন্ন টার্মিনোলজি এবং বিবরণ প্রায়ই আমার বেশ জটিলও মনে হয়েছে সঙ্গত কারণেই।
বেশ অনেকগুলো চরিত্রের আবির্ভাব হয়েছে গল্পের প্রয়োজনে। আর কাহিনী জমাতে বেশ খানিকটা সময় নিয়েছেন লেখক। প্রথম দুইশ পৃষ্ঠার পর অবশ্য আর ফিরে তাকাতে হয় নি। খুবই পরিকল্পিত এবং ভয়ঙ্কর এক আন্তর্জাতিক চক্রান্তের মাঝে প্রবেশ করেছে মাসুদ রানা এবং অল্প কয়েকজন, কিন্তু এর কলকাঠি নাড়ছে বিপুল ক্ষমতাধর এক পরিবার, দুর্ধর্ষ এক যোদ্ধার উত্তরসূরী।
টানটান উত্তেজনা নিয়ে শেষ হয়েছে প্রথম খণ্ড। ভাগ্যিস দ্বিতীয় খণ্ডটাও হাতের কাছেই আছে।