১.অপারেশন কক্সবাজারঃ ৪/৫
দেশীয় পটভূমিতে লেখা তিন গোয়েন্দার গল্প "অপারেশন কক্সবাজার"। ঘূর্ণিদূর্গত মানুষদের সাহায্য করার জন্য কক্সবাজারে আসে তিন গোয়েন্দা। একটা হাসপাতালে ভলান্টিয়ারের কাজ নেয় কিশোর। সেই হাসপাতালের চিলড্রেন্স ফ্লোরের একটা ছেলে রোগীকে ঘিরেই ঘনীভূত হতে থাকে রহস্য। প্রথমে খুব সাধারনভাবে শুরু হলেও,গল্প যতই এগিয়েছে ততই রহস্য আরও গভীর হয়েছে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বেশ ইন্টারেস্টিং ছিল গল্পটা। একবারের জন্যও হাত থেকে নামাতে পারিনি বইটা। অতি চমৎকারভাবে শেষে সমাধান হয় সব রহস্যের। তবে ক্লাইম্যাক্সটা প্রেডিক্টেবল ছিল। মেইন টুইস্টটা আমি আগেই আন্দাজ করে ফেলেছিলাম। তারপরেও বলবো,গল্পটা দারুন লেগেছে আমার।
২.মায়ানেকড়েঃ ৪.৫/৫
ভলিউমের এই গল্পটা পুরোপুরি হরর গল্প। একটা অদ্ভুত হত্যাকান্ডের সমাধান করতে মনটানার এক র্যাঞ্চে গিয়ে হাজির হয় তিন গোয়েন্দা। সেখান থেকেই মূল গল্পের শুরু। তিন গোয়েন্দা যতই তদন্ত করতে থাকে ততই জটিল হতে থাকে রহস্য। এক পর্যায়ে গোয়েন্দাপ্রধান কিশোর পাশার যুক্তিবাদী মনও ধন্দে পড়ে যায়। এই বিষয়টা আমার বেশ ভালো লাগে। প্রায়ই দেখেছি,যে গল্পে কিশোরকে প্রচুর মাথা খাটাতে হয়,সেই গল্পগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বেশ এনজয়েবল হয়। "মায়ানেকড়ে" গল্পের হরর টোনটা একদিকে যেমন প্যারানরমাল এক্সপেরিয়েন্স দিচ্ছিল,তেমনই অন্যদিকে দারুন এজ অফ দ্য সিট থ্রিলারের ফিলিংও দিচ্ছিল। ভীষন উপভোগ করেছি গল্পটা।নেগেটিভ দিক যদি বলতে হয় তাহলে বলবো,ক্লাইম্যাক্সটা মনে হলো হুট করেই হয়ে গেল। এন্ডিংটা আরও ভালোভাবে করা যেতে পারতো!
৩.প্রেতাত্মার প্রতিশোধঃ ৩.৫/৫
এই গল্পটা মূলত "মায়ানেকড়ে" গল্পের সিক্যুয়েল। টাইটেল দেখে মনে হয়েছিল হরর গল্প। তবে "প্রেতাত্মার প্রতিশোধ" যে হরর গল্প নয় তা গল্পটা পড়া শেষ করেই বুঝতে পারলাম। প্লটটা তিন গোয়েন্দার অন্যান্য গল্পগুলোর তুলনায় বেশ ভিন্ন। গল্পটা মোটামুটি ভালোই লেগেছে আমার। কিন্তু ক্লাইম্যাক্সে সবকিছুর পেছনে যে যুক্তি দেখানো হয়েছে সেটা তেমন জোরালো মনে হয়নি। প্রত্যাশা অনুযায়ী সেরকম টুইস্ট অ্যান্ড টার্নস না থাকায় একটু আশাহতই হয়েছি বলা যায়।