Jump to ratings and reviews
Rate this book

শুদ্ধতম কবি

Rate this book
জীবনানন্দ দাশের কবিতা ও কবিমানস সম্পর্কি‌ত ব্যাপকভিত্তিক ও সূক্ষ্মাতিসূক্ষ আলোচনা করা হয়েছে এই বইয়ে । কবিতার বহিরঙ্গ এবং আভ্যন্তরীণ রূপৈশ্ব‌র্যে‌র অনন্য পরিচয় ফুটে উঠেছে আবদুল মান্নান সৈয়দের নিপুণ বিশ্লেষণে ।

415 pages, Hardcover

First published January 1, 2011

2 people are currently reading
79 people want to read

About the author

Abdul Mannan Syed

88 books12 followers
Abdul Mannan Syed (Bengali: আবদুল মান্নান সৈয়দ), (1943–2010) was a renowned Bangladeshi poet, author and researcher. A versatile writer and poet, he was one of the most prolific Bengali literary personalities of the post-Partition Indian subcontinent. Until his death on 5 September 2010, he was regarded an authority on Bengali literature. Popularly regarded as a poet, he is also notable as a literary critic and an editor. Born as Syed Abdul Mannan, he assumed the pen name Ashoke Syed at the debut in literatur in 1960s. He published more than 150 titles to his credit during his lifetime. His works on poet Jibanananda Das and Kazi Nazrul Islam are not only seminal but also monumental in form, content and quality.

He was born in a village called Jalalpur, on the rivulet Ichamati, in the district of Chabbish Paragana, in West Bengal of undivided India. That was 1943, the year of great famine. In 1946, just before the partition of British Indian, a lethal Hindu-Muslim riot took place and forced many Muslims to leave West Bengal to settle in East Bengal, now Bangladesh. A less discussed but equally fearsome riot took place in 1950 that drove the family of Mannan Syed from West Bengal and to settle in Dhaka of then East Pakistan, now Bangladesh. He lost his motherland for ever and always felt like a refugee. They first lived in Gopibagh of Dhaka town. Shortly his father bought a piece of land on the Green Road, formerly called Kuli Road. Since then 51 Green Road has been his address till his sudden death in September 2010. His father Syed A. M. Badruzzdoza was a public official who served in many places of the then East Pakistan. He was very strict about the formal education of his children. He had six sons and four daughters. Mannan was married to his cousin Syra Syed Ranu. His only child was a daughter named Jinan Syed Shampa. In 1958 Mannan Syed passed the Matriculate examination from the Nawabpur High School. In 1960, he passed the Intermediate from the Dhaka College. He studied Bengali language and literature in the Dhaka University from where he obtained his B. A and M. A. degrees, respectively, in 1963 and 1964. Most of his life he earned his livelihood as a teacher of Bengali language and literature in government colleges. He stated his career as a lecturer in the M. C. College of Sylhet town. He also taught in the Sheikh Borhanuddin College in Faridpur. However he served in the Jagannath College for a long time from where he retired in 1998. He also served as the District Gazetteer for a period of time. Later he was appointed the executive director of the Nazrul Institute (2002–2004).

Abdul Mannan Syed is best known for his research on Bengali poet Jibanananda Das. Although he is most renowned for literary criticism, he is a versatile writer and poet. He taught as a faculty in the department of Bengali in the Jagannath College, Dhaka. Later he served as Director General of the Nazrul Institute. He was the first Scholar-in-residence in Bangladesh at North South University. For a long time he was associated with the Shilpataru, a monthly literary magazine published from Dhaka by poet Abid Azad.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
4 (18%)
4 stars
9 (40%)
3 stars
1 (4%)
2 stars
4 (18%)
1 star
4 (18%)
Displaying 1 - 6 of 6 reviews
Profile Image for Shotabdi.
819 reviews200 followers
May 23, 2023
রবীন্দ্রনাথের পর সম্ভবত জীবনানন্দের কবিতা থেকেই পরবর্তী সাহিত্যিকেরা তাঁদের অধিকাংশ সাহিত্যকর্মের নামকরণ করেছেন৷ (কবি-সাহিত্যিকদের থেকে অনুপ্রাণিত নাম নেয়ার ক্ষেত্রে)
হুমায়ূন এ তো রয়েছেই (যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ, এইসব দিনরাত্রি)
এছাড়াও আমরা হেঁটেছি যারা (ইমতিয়ার শামীম), এই পথে আলো জ্বেলে (আনিসুল হক) প্রমুখেরাও নিয়েছেন জীবনানন্দীয় সেইসব আশ্চর্য পংক্তি।
কবিতার এ এক আশ্চর্য শক্তি আর সেই শক্তি উপলব্ধি করানোর ক্ষমতা জীবনানন্দের পুরোপুরি ছিল৷
নির্জনতম কবি, শুদ্ধতম কবি, রূপসী বাংলার কবি ইত্যাদি নানা নামে ভূষিত এই কবিকে চিনতে হলে তাঁর কাব্য পড়ার যে বিকল্প নেই তা অনুমেয়। কেমন ছিল তাঁর পড়াশোনা, বিশ্বকাব্যের জগতে তাঁর অদ্ভুত সমৃদ্ধ পদচারণ এই বিষয়গুলি তাঁর কবিতা বিশ্লেষণ না করে বোঝা মুশকিল।
অত্যন্ত মুখচোরা একজন সাদামাটা চেহারার কলেজশিক্ষকের আড়ালে যে অসাধারণ কবি এবং অনুসন্ধিৎসু পাঠক লুকিয়ে রয়েছেন তাঁকে আবিষ্কার করতে আবিষ্কারকদের সম্ভবত সবচেয়ে বেশি ঘাম ঝরাতে হয়েছে৷
প্রথম কাব্যগ্রন্থ ঝরা পালকে বরং তাঁকে অনেক সহজে চেনা যায়৷ চেনা যায় কারণ কাব্যের ছাঁচটা তখনো বড্ড চেনা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নজরুল ইসলাম, মোহিতলাল মজুমদার, সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের প্রভাবের ছাপ কবিতাগুলোতে স্পষ্ট, ছন্দও ঘুরপাক খেয়েছে মাত্রাবৃত্তের মধ্যে৷ তবুও কিছু কিছু পঙক্তি তাঁর সম্ভাবনার কথা ঘোষণা করেছিল৷
যেমন,
হেমন্তের হিম মাঠে, আকাশের আবছায়া ফুঁড়ে
বকবধূটির মতো কুয়াশায় শাদা ডানা যায় তার উড়ে।
( কবি, ঝরা পালক)
পরবর্তী কাব্যগ্রন্থ ধূসর পাণ্ডুলিপি থেকেই এমন এক জীবনানন্দ আবির্ভূত হলেন যাঁকে চিনতে গিয়ে খোদ রবীন্দ্রনাথেরও সংশয় হয়েছিল।
জীবনানন্দের কাব্যে প্রভাব রয়েছে এডগার অ্যালান পো, ইয়েটস, ডিলান টমাস, কীটস প্রমুখের। কিন্তু সবকটাই তাঁর নিজস্ব মৌলিকত্বে ভাস্বর। অনুপ্রাণিত বা ছায়া থাকলেও উচ্ছিষ্ট বা বহুল-ব্যবহৃত নয়। বরং নিজ চোখে দেখা বাস্তবতা আর আলো আঁধারের অদ্ভুত দ্বান্দ্বিক অবাস্তবতাকে আশ্চর্য শব্দের মাধ্যমে মোহনীয় করে গেঁথে তুলেছিলেন একেকটি নিটোল মালা।
আবদুল মান্নান সৈয়দ এর শুদ্ধতম কবি বইটি এক আশ্চর্য সমালোচনা গ্রন্থ। আমি জীবনানন্দকে নিয়ে মোটামুটি কয়েকটা বই পড়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছি। কিন্তু এই বইটির মতো বিশ্লেষণাত্মক আর ঋদ্ধ বই আমি পাই নি। আমার কাছে এটি অনন্য জীবনানন্দ থেকেও আরেকটু ভালো কারণটা বোধহয় আবদুল মান্নান সৈয়দ।
জীবনানন্দের প্রায় প্রতিটি কাজকে তিনি যেভাবে বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন এবং অনুসন্ধানী করে তুলেছেন পাঠককেও তাঁর অপূর্ব শব্দবন্ধের মাধ্যমে, তাতে জীবনানন্দের কীর্তির প্রতি শ্রদ্ধা আর বিস্ময় বাড়ে তো বটেই, একই সাথে আরো তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ আর দৃষ্টির একটা প্রয়োজন টের পাওয়া যায়। যেটা মান্নান সৈয়দের আসলে ছিল।
তিন খণ্ডের মূল বইটিতে রয়েছে জীবনানন্দের প্রায় সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ বিশ্লেষণ। কাব্য, উপন্যাস, প্রবন্ধ সবই রয়েছে। এছাড়াও ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও রয়েছে আলোকপাত। রয়েছে মৃত্যু এবং তাঁর ভাবনা নিয়ে পরিচিতদের বয়ান থেকে একটি উপসংহারে পৌঁছানোর প্রয়াস। যোজনাংশে সংযোজিত হয়েছে তিনটি বক্তৃতা এবং রবীন্দ্রনাথ-জীবনানন্দের আদানপ্রদানকৃত চিঠি।
বইটি পাঠের পর আমার মনে হয়েছে এই কাজটা সম্ভবত আবদুল মান্নান সৈয়দের শ্রেষ্ঠ কাজ৷ প্রথম দু-এক পাতা পড়ে আমার বইটিকে একটু কঠিন লাগছিল বটে কিন্তু যতই ঢুকলাম গভীরে, ততই মধু বাড়তে থাকল।
জীবনানন্দের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কাব্য, পটভূমি, উপমার এমন সুন্দর আলোচনা এবং বিশ্লেষণ এত সুন্দর ভাবে-ভাষায় ব্যাখ্যা করা একমাত্র বোধহয় মান্নান সৈয়দ এর পক্ষেই সম্ভব ছিল৷ আমি এই বইটি নিয়ে আলোচনাও খুব কম দেখেছি।
অথচ জীবনানন্দকে বুঝতে বইটির জুড়ি মেলা সত্যিই ভার৷
Profile Image for রিফাত সানজিদা.
174 reviews1,356 followers
July 13, 2016
টিপে টিপে জমানো পাক্কা হাজার টাকা খরচ করে, বহু অপেক্ষার পর হাতে পাওয়া এই বই। দামের জন্য নয়, মানেই আনমুল। মিছে কেটে যাওয়া নিঃশব্দ দিন, নিঃসঙ্গ রাত, অপার্থিব ঘোরে না বুঝে আউড়ে যাওয়া জীবনবাবুর হাজারো লাইন নিয়ে। কখনো প্রেমে, কখনো অপ্রেমে, বিরহ অথবা ভালোবাসায়। অথবা অযথাই।

জীবনের কোন এক সময়ে,পৃথিবীর সব আলো একদিন নিভে গেলে পরে,পৃথিবীর সব গল্প একদিন ফুরাবে যখন-- সাহস হলে সেই শুদ্ধতম কবিকে নিয়ে দু-চার কথা লেখার হাউশ রাখি। দুঁদে সমালোচকের বুকরিভিউ নয়, নিছকই তুচ্ছ পাঠকের হাবিজাবি অনুভূতি।

'একবার নক্ষত্রের পানে চেয়ে- একবার বেদনার পানে
অনেক কবিতা লিখে চ’লে গেলো যে যুবকের দল..' সেইসব কবিতা নিয়ে আর কী।

সকলেই কবি নয়, সে ঠিক আছে।
কেউ কেউ তো নিশ্চয় কবি-ই। :)
Profile Image for Sharmin Sultana  Shamoly.
89 reviews23 followers
November 20, 2021
জীবনানন্দই সম্ভবত একমাত্র কবি যিনি নিজে ছদ্মনাম ধারণ না করেও বিচিত্র অভিধায় অভিষিক্ত হয়েছেন। নির্জনতম কবি, রূপসী বাংলার কবি, তিমির হননের কবি, শুদ্ধতম কবি ইত্যাদি। প্রত্যেকটা উপাধি ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে তাই একটাতে পূর্ণাঙ্গ জীবনানন্দ পাওয়া যায় না৷ এক জীবনে অনেক লিখেছেন জীবনানন্দ দাশ। কিন্তু তাঁর জীবদ্দশায় তিনি শুধু কবিতাই প্রকাশ করেছেন। তাঁর রচিত গল্প, উপন্যাস তালাবদ্ধ করে রেখেছিলেন। আমরা বলতেই পারি, তিনি শুধু কবি হতে চেয়েছিলেন। বাংলা ভাষায় কবি হতে চাওয়া মানুষের সংখ্যা অগণিত কিন্তু সবাইকে কি জানে, কতটা লিখতে হয়? কি লিখতে হয়? জীবনানন্দ জানতেন তিনি কি লিখেন। তাঁর লেখা প্রবন্ধে সেটা প্রকাশও করেছেন,
"সকলেই কবি নয়৷ কেউ কেউ কবি; কবি - কেননা তাদের হৃদয়ে কল্পনার এবং কল্পনার ভিতরে চিন্তা ও অভিজ্ঞতার স্বতন্ত্র সারবত্তা রয়েছে এবং তাদের পশ্চাতে অনেক বিগত শতাব্দী ধরে এবং তাদের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক জগতের নব নব কাব্য-বিকিরণ তাদের সাহায্য করছে৷"
( প্রবন্ধ: কবিতার কথা)

আবদুল মান্নান সৈয়দ নিজে গল্প, কবিতা, উপন্যাস লিখলেও তিনি সাহিত্য-সমালোচক হিসেবে অধিকতর খ্যাতিমান। বিগত পঞ্চাশ বছর ধরে সাহিত্য-সমালোচনার ক্ষেত্রে নিরলস প্রচেষ্টায় বাংলা সমালোচনা-সাহিত্যকে একটি দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছেন। সমালোচনায় তিনি নিমোর্হ। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা তাঁকে অনন্য করে তুলেছে৷ । শুদ্ধতম কবি , করতলে মহাদেশ, দশ দিগন্তের দ্রষ্টা, বিবেচনা-পুনর্বিবেচনা প্রভৃতি গ্রন্থে আবদুল মান্নান সৈয়দের ষাটের কাব্য-লক্ষণ গদ্যভাষার সবচেয়ে উজ্জ্বল উদাহরণ।
আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত এবং সম্পাদিত জীবনানন্দ বিষয়ক গ্রন্থাবলি:
শুদ্ধতম কবি (১৯৭২),
জীবনানন্দ দাশ (১৯৯৩),
জীবনানন্দ (১৯৮৪),
জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা (১৯৮৬),
জীবনানন্দ দাশের পত্রাবলী (১৯৮৭),
জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ গল্প (১৯৮৯)।

আলোচ্য বইয়ের ভূমিকা থেকে জানতে পারি "শুদ্ধতম কবি" উপাধি আবদুল মান্নান সৈয়দের দেয়া নয়। জীবনানন্দ দাশকে "শুদ্ধতম কবি" বলেছিলেন অন্নদাশঙ্কর রায়।
"ঝরা পালক থেকে বেলা অবেলা কালবেলা পর্যন্ত কবিমানস ক্রমাগত পরিবর্তন - যদিও তাঁর প্রকাশরীতির বড়রকম বদল ঘটেনি বলেই তাঁর এই বিষয়বিব��্তন অনেকসময় চোখ এড়িয়ে যায়। সমগ্র কাব্যের ব্যাখ্যা হিশেবে জীবনানন্দের নিজের কাছে অন্নদাশঙ্কর রায়-প্রযুক্ত " শুদ্ধতম কবি' মনঃপূত হত কি? আমার তো প্রযোজ্য মনে হয়।"

বইটা তিন খণ্ডে বিভক্ত। প্রথম খণ্ডে বর্ণ, শব্দ, জীবনানন্দের কবিতায় বহুল ব্যবহৃত অব্যয় নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে। শব্দের বিন্যাস কিভাবে জীবনানন্দের কবিতায় দ্যোতনা সৃষ্টি করে অর্থবহ হয়ে উঠে। জীবনানন্দের ছন্দের ব্যবহার, গদ্য কবিতা, সনেট নিয়ে আলোচনা হয়। তৎকালীন বাংলা ও ইংরেজি কবিতার সাথে জীবনানন্দের কবিতার তুলনামূলক বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া এই খণ্ডের দশম পরিচ্ছদে আবদুল মান্নান সৈয়দ কবিতার তিনটি কণ্ঠের কথা বলেছেন, কবিতাসত্য, পরাবাস্তবতা ও ইতিহাস-ভূগোলের শোভাভূমি।

জীবনানন্দের সর্বাধিক জনপ্রিয় কবিতা "বনলতা সেন" আর হয়তো সর্বাধিক জনপ্রিয় কাব্যও বনলতা সেন। শুধু বনলতা সেন কবিতা নিয়েই বিস্তর লেখালেখি হয়েছে, বিতর্ক হয়েছে এবং তা আজো চলমান রয়েছে। "রূপসী বাংলা" কাব্যের কবিতাও জনপ্রিয়। আবদুল মান্নান সৈয়দ বইয়ের দ্বিতীয় খণ্ডে বনলতা সেন ও রূপসী বাংলা কাব্যগ্রন্থের পাশাপাশি জীবনানন্দ রচিত আরো কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কবিতা নিয়ে আলোচনা করেছেন৷ গত ষাট বছরে "আট বছর আগের একদিন" কবিতা নিয়েও কম আলাপ হয়নি। জীবনানন্দের অন্তর্গত রক্তের ভেতর খেলা করা বিপন্ন বিস্ময় জীবনানন্দের পাঠক মাত্রই বিস্মিত, বিহ্বলিত করে।

বইয়ের তৃতীয় খণ্ডের চারটি পরিচ্ছেদে আবদুল মান্নান সৈয়দ জীবনানন্দের প্রেমের কবিতা, প্রবন্ধ, সমকালীন প্রতিক্রিয়া এবং ছন্দ ও রূপকল্প নিয়ে আলোচনা করেছেন। প্রকৃতি চেতনা আর মৃত্যু চেতনা নিয়ে অবিরাম বিহ্বল থাকা কবি জীবনানন্দ লিখেছেন অসংখ্য প্রেমের কবিতা।
"তুমি তো জান না কিছু, না জানিলে , -
আমার সকল গান তবুও তোমারে লক্ষ্য করে !
যখন ঝরিয়া যাব হেমন্তের ঝড়ে ,
পথের পাতার মতো তুমিও তখন
আমার বুকের ’পরে শুয়ে রবে ?
অনেক ঘুমের ঘোরে ভরিবে কি মন
সেদিন তোমার !"
বাংলা সাহিত্যের কবিরা প্রেমিকাকে প্রিয়া, প্রেয়সী, প্রিয়তমা নামে ডাকলেও জীবনানন্দের কবিতার প্রেয়সীরা স্বনামে পরিচিত। বনলতা সেন, সুজাতা, শ্যানলী, সুরঞ্জনা প্রভৃতি নাম দেখে মনে হয় শুধু কবিতায় নয় এইসব প্রেমিকারা হয়তো কবির পরিচিত রক্ত-মাংসের মানুষ।

যেহেতু বর্তমান সময়ে ফেসবুকে সাহিত্য বিষয়ক আলাপ হয় তাই প্রসঙ্গত আরেকটু কথা বলি। অনেকেই ফেসবুকে বলেন, জীবনানন্দ বেঁচে থাকতে মূল্যায়ন পাননি। তাঁর মৃত্যুর এতদিন পর তাঁকে নিয়ে হৈচৈ হচ্ছে। কথাটা সর্বাংশে সত্যি নয়। জীবনানন্দের কবিতা সেই সময়ের বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকা কল্লোল, কালিকলম, কবিতা, পূর্বাশা, প্রগতিতে ছাপা হতো। বিদ্বৎসমাজে ঠিকই সমাদৃত হয়েছিলেন। অনেকে "শনিবারের চিঠি" পত্রিকার সজনীকান্তের উল্লেখ করেন। আপনি এই বিষয়ে পড়লে বুঝবেন যে, জীবনানন্দের কবিতা বোঝার মতো বোধ সজনীকান্তের ছিল না। শুধু সজনীকান্ত নয়, সেই সময়ের আরো অনেকেরই ছিল না।

ব্যক্তি জীবনানন্দ এবং কবি জীবনানন্দ অনেকেই একসাথে গুলিয়ে ফেলেন৷ ব্যক্তিগত জীবনের প্রভাব লেখায় পড়া স্বাভাবিক ব্যাপার কিন্তু পাঠককে মনে রাখতে হবে জীবনানন্দ শুধু কবি/লেখক নন, তিনি ভালো সম্পাদকও৷ নিজের উৎকৃষ্ট লেখাগুলোই তিনি ছাপিয়েছেন। যদিও তাঁর মৃত্যুর পর বহু পরিমাণ লেখার সন্ধান পাওয়া গেছে কিন্তু এগুলো তাঁর ব্যক্তিগত সম্পাদনায় বাতিল লেখা। জীবনানন্দ আপাদমস্তক একজন কবি আর এই বইতে জীবনানন্দের কবিতার চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়েছে।
যদিও জীবনানন্দের কবিতা পুরোপুরি বিশ্লেষণ সম্ভবত এখনো হয়নি। আসলে কবির নিজস্ব কবিতার অর্থ/ভাব কবি নিজেই বলতে পারবেন।

এই বই সম্পর্কে শামসুর রাহমান বলেছেন,
"এই গ্রন্থ প্রকাশ আমাদের সাহিত্যে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা বলে আমি মনে করি। -
যারা জীবনানন্দ দাশের কবিতা ভালোবাসেন তাঁদের তো বটেই, যাঁরা কাব্যচর্চায় উৎসাহী তাঁদেরও এই বই অবশ্যপাঠ্য। এবং যাঁরা ভবিষ্যতে জীবনানন্দ বিষয়ক গ্রন্থ রচনায় উদ্যোগী হবেন, তাঁরাও হাতের কাছে রাখতে চাইবেন 'শুদ্ধতম কবি' নামক গ্রন্থটি। আবদুল মান্নান সৈয়দকে অভিনন্দন জানাই - একটিমাত্র বই লিখেই তিনি আমাদের সমালোচনা-সাহিত্যে তাঁর আসননটি পাকা করে নিলেন।"

আমার জীবনানন্দ পাঠ চলমান৷ জীবনানন্দ আমার প্রিয় কবিদের একজন এবং নিত্যদিনের পাঠ্যসূচিতে অগ্রগণ্য একজন। জীবনানন্দের কবিতা, গল্প, উপন্যাস পাঠের পর কবি এবং তাঁর রচনা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা পাঠ করার চেষ্টায় আছি। অনেকগুলো পড়েছি, আরো অনেক পড়বো। কিন্তু এই বইটা প্রিয় হয়ে থাকবে সবসময়।
Profile Image for Sujan.
106 reviews42 followers
May 21, 2017
বিষয় জীবনানন্দ হওয়ায় অনেক দিনের জমানো আগ্রহ নিয়ে বইটা পড়া শুরু করার পর মাঝখানে বিরক্তি পেয়ে বসাতে মনে হয়েছিলো, আলোচনা যা-ই হোক, সুযোগে কিছু কবিতা পড়া যেহেতু হয়ে যাচ্ছে, বইটার শেষ পর্যন্ত হয়তো যাওয়া যায়। কিন্তু আলোচনা এতো নীরস অকাব্যিক আর 'বাজে', শেষ করা হয়ে উঠলোই না।

কবিতার সমালোচনায় ব্যাপক বিশ্লেষণ থাকতেই পারে, কিন্তু বিশ্লেষণে যদি লেখকের প্রজ্ঞার কোন ছাপ না থেকে কেবল কবিতার ইতিহাস; শব্দ ছন্দ বিষয়ের ব্যবহারের বিশদ নির্দেশ এইসব থাকে তাতে এই বইয়ের মূল্য কোথায় গিয়ে ঠেকে তা ঠিক বুঝে উঠতে পারলাম না। তথ্যের এরূপ বিশদ সন্নিবেশে জীবনানন্দ এই বইয়ে পুরোপুরিই নির্জীব হয়ে গেছেন, এ কথা বলাই যায়।

এই প্রসংগে বলে রাখি, কবিতার সমালোচনার দুইটি ধরনকে এখন পর্যন্ত আমি অনুকরণীয় বলে মানি। এক ধরনের আলোচনা কবিতার মতোই সংবেদনশীল, রবীন্দ্রনাথ বা বুদ্ধদেবের আলোচনা যেমন; আরেকটি বিশ্লেষণমুখী, যে বিশ্লেষণে অন্য কোন বিষয়ের আধারে কবিতাকে বিবেচনা করা হয়, যেমন হুমায়ুন কবির ইতিহাস আর সমাজতত্ত্বের আলোকে বাংলা কবিতার আলোচনা করেছেন তার বাংলার কাব্য বইটিতে।

বাংলা বই পড়ার এই এক সমস্যা। যেহেতু উৎকৃষ্ট সমালোচকের অভাব এই সাহিত্যে প্রকট, সেহেতু এই ধরনের নিরর্থক সমালোচনাকে এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ অবশ্যপাঠ্য বই হিশেবে দেখা হয়। অথচ সময়ের ব্যাপক অপচয় ছাড়া বইটির আর কোন গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য আমার চোখে অন্তত পড়েনি।
Profile Image for Sagar Mallick.
46 reviews7 followers
July 3, 2021
"শুদ্ধতম কবি" শব্দদ্বয় দেখে নিশ্চয় বুঝতে পারছেন বইটি কি সম্পর্কিত। হ্যা, জীবনানন্দ দাসের কবি সত্ত্বা এবং কবিতা নিয়ে গুরুগম্ভীর সব তত্ত্ব এই সবুজ মলাটের বইতে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। একদা বুদ্ধদেব বসুও জীবনানন্দ দাসকে "নির্জনতম কবি" এই চমৎকার অঙ্গুরী পরিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু অাজ যখন অাবদুল মান্নান সৈয়দ জীবনানন্দ সত্ত্বার বিশ্লেষণ করতে বসলেন তখন কবিকে বলে বসলেন "শুদ্ধতম কবি"। জীবনানন্দ দাশের কবিতা এবং কবি মানস সম্পর্কিত অালোচনা বহু হয়েছে কিন্তু কবিতার অাভ্যন্তরিক এবং বহিরাঙ্গিক সুক্ষ অালোচনা খুব কম লোকই করেছেন। ঠিক তেমনি এক অালোচনা অাবদুল মান্নান সৈয়দের এই বইটি।

বস্তুত কোন শব্দে জীবনানন্দ দাশকে চিহ্নিত করা বড়ই মুসকিলের ব্যাপার। অতঃপর সমগ্র কাব্যের ব্যাখ্যার পর প্রবন্ধিক অাবদুল মান্নান সৈয়দ কবিকে বলেই ফেললেন "শুদ্ধতম কবি"। হ্যা! বাংলা সাহিত্যের কাব্য ধারার এক অসাধারণ প্রতিভার নাম জীবনানন্দ। যার মৃত্যু নিয়ে রয়েছে যেমন নানা গঞ্জনা তেমনি লেখা নিয়েও অাছে নানান ধারনা। এই বিচিত্রতম জীবনকে ব্যাখ্যা করেছেন অাবদুল মান���নান সৈয়দ। বিভিন্ন অালোচনায় যিনি কবির জীবনকে ছেঁকে তুলে ধরেছেন জীবনানন্দ প্রেমী পাঠকদের কাছে।

মুনীর চৌধুরীকে উৎসর্গ করে জীবনানন্দকে নিয়ে একটি কবিতা লিখে মায়াময় কাব্য জগতের বিশ্লেষণ শুরু করেছেন প্রবন্ধক। যেখানে জীবনানন্দের জীবন সত্ত্বা থেকে শুরু করে তার কবিতাগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। কবির জীবনের সেরা কবিতা গুলোর বিচিত্র ধারা এখানে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। কবিতায় তার নিজস্ব ছন্দ, ধারা এবং বিচিত্রিতা এখানের মুখ্য বিষয়। এমন সুনিপুণ বিশ্লেষণ খুব কম দেখা যায়।

কবির কবিতাকে বুঝতে গেলে অবশ্যই কবিকে জানতে হবে। অার কবির বিচিত্রতর কবিতার বিশ্লেষণও একটু ওরধু জেনে নেওয়া দরকার। গভীর গাম্ভীর্যের সাথে পাঠকের কাছে সেই সবই তুলে ধরা হয়েছে শুদ্ধতম কবি বইটিতে। অবশ্য এ প্রাবন্ধিকের চোখে কবির কবিতার বিশ্লেষণের গ্রন্থ রূপ।

বইঃ শুদ্ধতম কবি
লেখকঃ অাবদুল মান্নান সৈয়দ
প্রকাশনীঃ পাঠক সমাবেশ
মূল্যঃ এক হাজার টাকা
Profile Image for Farjana Rahman.
51 reviews4 followers
November 26, 2024
বই: শুদ্ধতম কবি
লেখক: আবদুল মান্নান সৈয়দ
প্রকাশনী: পাঠক সমাবেশ
মূল্য: ১০০০ টাকা
____________________________________________________________________

বাংলা কাব্যে আধুনিকতার পথিকৃতদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র হচ্ছে জীবনানন্দ দাশ। ‘নির্জনতম কবি’ বলে তিনি সবসময় অখ্যায়িত হয়ে এসেছেন বুদ্ধদেব বসুর নিকট। অন্যদিকে অন্নদাশঙ্কর রায় তাকে ‘শুদ্ধতম কবি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। অনেকের কাছে রবীন্দ্র-নজরুল পরবর্তী সবচেয়ে আধুনিক কবি জীবনানন্দ দাশ।

আধুনিক কবিদের মধ্যে ২টা ভাগ খুব স্পষ্ট। এক ভাগে আছেন তারা যাদের কাব্য প্রতিভা তর্কের অতীত, মানে কাব্য-প্রতিভা নিয়েই এসেছেন, তবে তারা কবিতার চিরায়ত পন্থা বা ব্যাকরণের প্রতি খুব প্রবল ভাবেই অনুগত। অন্য দলে আছেন যারা বাংলা কবিতায় নতুন নতুন সৃষ্টির আবেদন নিয়ে গৌরবপ্রার্থী। জীবনানন্দ দাশ নিশ্চিতভাবে পরের গোত্রের।
১৯৪৩ সনে 'বনলতা সেন '-এর সমালোচনায় বুদ্ধদেব বসু লেখেন: -

"আধুনিক বাংলা কাব্যে অনেক আলোচনা আমার চোখে পড়েছে, যাতে জীবনানন্দ দাশের উল্লেখমাত্র নেই। অথচ তাকে বাদ দিয়ে ১৯৩০ পরবর্তী বাংলা কাব্যের কোন সম্পূর্ন আলোচনা হতেই পারে না। কেননা এই সময়কার তিনি একজন প্রধান কবিকর্মী, আমাদের পরিপূর্ন অভিনিবেশ তার প্রাপ্য"

আসলেই হতে পারে না আলোচান। তাইতো জীবনানন্দ দাশের কবি সত্ত্বা এবং কবিতা নিয়ে গুরুগম্ভীর সব তত্ত্ব, কবিতার নানা রূপ, ছন্দ, মেকানিজম সর্বোপরি জীবনানন্দ দাশের কবি সত্ত্বার সাথে একাত্ম পোষন করা এবং বিরোধ দুই-ই উঠে এসেছে আবদুল মান্নান সৈয়দ এর "শুদ্ধতম কবি" বইয়ে।

আবদুল মান্নান সৈয়দ এর "শুদ্ধতম কবি" সত্যি বলতে এমন একট বই, যেটা আপনি সময় এবং ধৈর্য্য দুই এর যোগফল এক করে পড়তে হবে। বইয়ের প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় খন্ড এর মধ্যে প্রথম খন্ড অনেক বোরিং বলা যায়। আপনার ধৈয্যের বাঁধ ভেঙে যেতে পারে। তবে পরের দুটো পার্ট তুলনামূলক ভাবে কৌতুহুল-উদ্দীপক এবং মজার। প্রথম খন্ডে কবির নানা কবিতার মেকানিজম, ছন্দ, সনেট, ছন্দযুক্তি এবং ছন্দমুক্তি, পয়ার, অব্যয় এর ব্যবহার, জীবনান্দীয় সূত্র, গদ্যকবিতা - এরূপ নানা আলোচনায় ভরা। তবে এটা সত্যি, কবিতা রিডিং পড়া এবং একটু মনোযোগী পাঠক হওয় ভিন্ন। এর মানে এই না যে ব্যকরন বুঝেই সেটা অনুভব জরুরী। তবে ব্যকরন বুঝে সেটার অনুভব আলাদা হবে সুনিশ্চিত। সেজন্যে অক্ষরবৃত্তের সম্পর্কে একটা ধারনা বা মোটামোটি জ্ঞান জীবনানন্দীয় কবিতা দাবী করতেই পারে।

বইয়ের দ্বিতীয় খন্ড তার কয়েকটা গ্রন্থ এবং বিখ্যাত কবিতার একদম চুলচেরা ব্যবচ্ছেদ। তার মধ্যে আছে বনলতা সেন (গ্রন্থ), রূপসী বাংলা (গ্রন্থ), বনলতা সেন, সুচেতনা, আট বছর আগের একদিন, গোধূলিসন্ধির নৃত্য ইত্যাদি। পরবতৃী তৃতীয় খন্ড হচ্ছে বইয়ের সবচেয়ে আগ্রহ-জাগানিয়া খন্ড। এতে বিষদভাবে আলোচিত হয়েছে জীবনানন্দ দাশের নানা প্রেমের কবিতা, প্রবন্ধ, তাকে নিয়ে নানা সমকালীর পতিক্রিয়া এবং প্রগতিশীলদের বিরাগভাজন হবার চিত্র।

এছাড়ার ৩য় খন্ডের শেষে আছে একটা সংযোজনী অংশ এবং পরিশেষ যেটায় কবির জীবনপঞ্জি, গ্রন্থপঞ্জি, প্রকাশিত এবং অপ্রকাশিত কবিতা নিয়ে আলোচনা, কবির আশা নৈরাশ্য আরো অনেক অনেক টপিকের গাঢ় আলোচান। এই বই যেন একটা লা শকাটা ঘর, যেখানে প্রতি অঙ্গ ব্য বচ্ছেদ করা হয়েছে সূচারুভাবে জীবনানন্দকে নিয়ে।

জীবনানন্দ জটিল, তার কবিতা জটিল। এবং এই জটিলতা অনেক সময় আরো জটিলতর হয়েছে তার নানা শব্দ, বাক্য, পঙতি, স্তবকের পরিবর্তনে এবং পরিশোধনে। এতে ১ম,২য় বা ৩য় পাঠ কি আর প্রকৃত পাঠ কি নির্ধারন করা অনেক মুশকিল। বই থেকে একটা উদাহরন এখানে তুলে ধরে শেষ করি এই আলোচনা।

তার বিখ্যাত "আট বছর আগের একদিন" যখন ১৩৪৪ এ কবিতা পত্রিকায় (বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত) প্রকাশিত হয়, কবিতার মধ্যবর্তী স্তবক এভাবে ছাপা হয়েছিল:-

‘কোনোদিন জাগিবে না আর
জানিবার গাঢ় বেদনার
অবিরাম— অবিরাম ভার
সহিবে না আর—’
এই কথা বলেছিলো তারে"

কিন্তু ১৩৬০ এ এসে কবিতা পত্রিকায় (বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পঞ্চম সংস্করনে) "জানিবার" শব্দটি বদলে এসে দাড়ায়:-

‘কোনোদিন জাগিবে না আর
জাগিবার গাঢ় বেদনার
অবিরাম— অবিরাম ভার
সহিবে না আর—’

অর্থাৎ, "জানিবার" হয়ে যায় "জাগিবার"। "জানিবার" না "জাগিবার" - এটা নিয়ে বেশ তর্ক আছে। পরবর্তীতে বুদ্ধদেব বসু (কবিতা পত্রিকা), লেখক (আবুদুল মান্নান সৈয়দ), মানবেন্দ্র বন্ধ্যোপাধ্যায় (তার সম্পাদিত মহাপৃথিবি এর সিগনেট সংস্করন) এ পঞ্চম সংস্করকের পাঠ গ্রহন করেছেন। মানে "জাগিবার"।

আগ্রহী পাঠক চাইলে নেটে সার্চ দিয়ে দেখতে পারেন। দুটো ভার্সনই পাবেন বিভিন্ন সাইটে।
Displaying 1 - 6 of 6 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.