Gaganendranath Tagore (Bengali: গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর) was an Indian painter and cartoonist of the Bengal school. Along with his brother Abanindranath Tagore, he was counted as one of the earliest modern artists in India.
শীতকালে মাঝে মাঝে ঘন কুয়াশার সাথে অহেতুক বিষাদ ও নেমে আসে, আচ্ছন্ন করে রাখে বর্ণাতীত এক দুর্বোধ্য মন খারাপি তে। তেমনই ছিলো আজকের ভোরটা আমার জন্য।
গত দু'দিন ধরে গুডরিডস-নিবাসীদের কল্যাণে 'ভোঁদর বাহাদুর' নামের আজব কিন্তু কৌতূহলোদ্দীপক একটি বইয়ের নাম বার বার সামনে আসছে। রিভিউ পড়ে দেখি যে সবাই বেশ মুগ্ধতা প্রকাশ করছে।কেউ কেউ আফসোস করছে শৈশবে পড়তে পারেননি বলে। আমি নিজেকে মনের দিক থেকে একজন কিশোর ই ভাবি।তাছাড়া আমার মনে হয় মানুষের শৈশব কখনো তাকে ছেড়ে যায়না।আজন্ম আমরা শৈশবের রুপকথাময় স্মৃতি মনের এক কোণে বহন করি।ফলে একটা শিশু-সত্তা আমাদের অবচেতনে থেকে যায়। এতসবের কারনে কিনা জানিনা তবে মনে হলো বইটি হয়তো আমাকে সেই শৈশবের স্নিগ্ধতা দিতে পারে।
গগনেন্দ্রনাথ কে বলা হয় one of earliest modern artist of India. ব্যঙ্গকার্টুন সম্ভবত ভারতে উনি ই প্রথম চালু করেন। তাছাড়া পেইন্টার হিসেবে ও ভারতবর্ষের শিল্পকলায় উনার একটা শক্ত অবস্থান আছে। চিত্র-কলা আমার বোঝার বাইরে। তো আর সবার মতো চিত্রশিল্পী না, উনি আমার কাছে মাত্র একটি বই দিয়েই প্রিয় শিশুসাহিত্যিক হয়ে থাকবেন।
' ভোঁদর বাহাদুর' গল্পটি নাকি গগনেন্দ্রনাথ একদিন স্বপ্ন দেখার পর লিখেছিলেন। আচ্ছা, স্বপ্ন নাকি রঙহীন, সামঞ্জস্যহীন ঘটনার সমষ্টি হয়, তাহলে তিনি কি করে স্বপ্নের মাধ্যমে এতো তীব্র কাল্পনিক এক জগতের সৃষ্টি করতে পারলেন ? নাকি ' ভোঁদর বাহাদুর' এর ফ্যান্টাসটিক জগতটা উনার অসম্ভব কল্পনাশক্তি সম্পন্ন মস্তিষ্কজাতের ( যা একইসাথে শিশুসুলভ সরল সৌন্দর্যে ভর্তি)?
" ভোঁদর বাহাদুর"পাঠ আমার কাছে অতি বিস্ময়কর আনন্দের ছিলো। জীবন আর প্রকৃতির রূঢ়তা পেছনে ফেলে ভোঁদর বাহাদুরের সাথে রোমাঞ্চকর অভিযানের মুগ্ধতার আবেশ ভীষণ উপভোগ করেছি।
কিছু কিছু বই আছে, পড়লে এক ধরণের মেন্টাল রিলিফ পাওয়া যায়, এই বইটা তেমন। শৈশবে এই বই পড়লে হয়তো চোখের সামনে খুলে যেতো অনেকগুলো রূপকথার জানালা, এখনও যে খোলেনি তা না!
গগনেন্দ্রনাথ এ গল্প লিখেছিলেন অবন ঠাকুরের আদরের নাতি মোহনলালের অনুরোধে, ঠাকুরবাড়ির কিশোরদের হাতে লেখা ঘরোয়া পত্রিকা 'দেয়ালা'র জন্য। নাম দিয়েছিলেন 'দাদামশায়ের দেয়ালা'।
পরে সে'খানাই ছাপা হয় 'রংমশালে' এবং সিগনেট প্রেস থেকে বের হয় 'ভোঁদর বাহাদুর' নামে। ছোট্ট, মিষ্টি বই। :)
দুপুরে ভরপেট খাওয়ার পর, লম্বা হয়ে শুয়ে পড়লাম। তারপর ভাবছি,এই মুহূর্তে ঠিক কোন বইটা পড়া যায়। এমন সময় মনে আসলো সদ্য কেনা "ভোঁদর বাহাদুর " এর কথা। নতুন কেনা বই গুলো আমার মাথার পাশেই থাকে,তাই কষ্ট করে আর উঠতে হলো না। শুরু করলাম পড়া। কি অদ্ভুত! হাতে নিতেই শেষ পড়া! কিন্তু রেশ রেখে গেল,যুক্ত হলো আমার প্রিয় বইয়ের তালিকায়।
ভোঁদর বাহাদুর,একটা রুপকথার বই। যেখানে ভোঁদর বাহাদুর দলবল নিয়ে খুঁজতে বেরোয় তার হারানো পুত্রকে,সাথে নিয়ে যায় রাজবাড়ির এক পুত্রকে। আমাদের গল্পের কথক সে।
কি চমৎকার একটা রুপকথা। আজকে থেকে শ খানেক বছর আগে বসে এমন একটা গল্প লিখে ফেলা চাট্টিখানি কথা নয়। গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর পেশায় ছিলেন চিত্র শিল্পী। কিন্তু তাঁর ভেরত অসাধারণ লেখকস্বত্তা ও যে লুকিয়ে ছিল তার প্রমাণ " ভোঁদর বাহাদুর"। ভোঁদর বাহাদুর এর অসাধারণ প্রচ্ছদ টা করেছেন " সত্যজিৎ রায়"।
গুডরিডসের পরিচিতি পাঠকদের অনেকে বইটা পড়েছে এবং ভালো সব রিভিউ দেখে বইটা পড়ার আগ্রহ জন্মেছিল খুব করে। তো সেদিন বাতিঘরে বইটা দেখে নিজেকে আর আটকে রাখতে পারলাম না, এক বসাতেই পড়ে ফেললাম। ছোট্ট একটা বই, সাথে সুন্দর সব illustration সব মিলিয়ে বইটা পড়তে অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা দেয়
এখানে তোতাপাখি, বানর, শেয়াল, সিংহ, হাতির-বাচ্চা এরা সবাই কথা বলছে এবং এরা এক-একজন পুলিশ, সেনাপতি, রাজা ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো বাংলা-১৩৩৩ সালে এমন একটা fantasy বই লিখে ফেলা! বইটাকে একটা রত্ম বললেও ভুল হবে না আমার মতে
অনেকে বলেছে উনারা ছোট বেলায় পড়লে আরো বেশি মজা পেতো। কিন্তু আমি বেশ আনন্দ পেলাম এখন পড়ে। আমার মনে হয়েছে ছোট-বড় সকলে বইটা পড়ে মজা পাবে
....তাঁর পরনে একখানি যুঁইফুলের শাড়ি, তাতে চন্দ্রমল্লিকার পাড় বসানো। গলায় শিউলীফুলের সাত-লহর। মাথায় নব-দূর্বাদলের চমৎকার একটি মুকুট, তাতে ফোঁটা-ফোঁটা শিশির পড়ে হীরের মতো চিকচিক করছে। তাঁর দুই কানে সদাসোহাগিনী ফুলের কানবালা— আর কপালে জ্বলজ্বল করছিল সন্ধ্যাতারার একটি টিপ। এই সাজে জোটেবুড়িমা সিংহাসনে বসতেই সমস্ত ঘর একটা নতুন রকমের আলোয় ভরে গেল। ...
এমন সোনায় বাঁধানো ভাষা পড়ার জন্যই তো বাঙালি হয়ে জন্মানো।
পাক্কা 'বুড়ো আংলা' vibes পাবেন এই চমৎকার, মুচমুচে ছোট্ট বইটিতে।
পড়লাম এশিয়া পাবলিশিং কোম্পানি প্রকাশিত সংস্করণটি। তাতে অলংকরণ করেছেন আরেক দিগগজ শিল্পী শ্রী চণ্ডী লাহিড়ী। কাহিনিটি একটি আদ্যান্ত রূপকথা। বিংশ শতাব্দীর রূপকথা। প্রচ্ছন্ন স্যাটায়ার লুকানো একটি ননসেন্স রূপকথা। প্রচণ্ড উপভোগ করার রূপকথা। ভেবে খুবই অবাক হই - মানুষে এমন প্লট ভাবে ক্যামনে?? এত সরল, তবুও এত বিস্ময়কর! শিশুবয়সে পড়লে হয়তো একটা ঘোর লাগা স্মৃতি তৈরি হয়ে যেত। বড় বয়সে এসে সেরকমটা না হলেও নেহাত কম আমোদ পাইনি! তবে লেখনীর সঙ্গে চণ্ডীবাবুর অলংকরণের সঙ্গতই মেহফিল জমিয়ে দিয়েছে শশীকান্ত। ২০২৫ সালে ২৫ টাকার মুদ্রিত মূল্য। কলকাতা বইমেলা প্রতিবারই আমাকে অবাক করে।
মজার শিশুতোষ বই। এখনকার বাচ্চারা কী এসব বই পড��ে? তাদের বাবা-মায়েরা কী এইসব বই তাদের কিনে দেয়? আমার জানা নেই। দিলে মন্দ হতোনা। ছোটবেলায় পড়তে পারলে হয়তো আরো ভাল লাগতো। আধাঘন্টা লাগে বড়জোর। কী মিষ্টি লেখা!
ছোটবেলায় পশুপাখিদের নিয়ে এই ধরণের একটা গল্প আমাদের পাঠ্য ছিল। শেয়াল, খরগোশ, বাঘ আরো কত কী ছিল। আমরা সেই গল্প অনুযায়ী বাঘ, শেয়াল, খরগোশ হয়ে নাটক বানাতাম। সেইসব আনন্দের দিন মনে পড়ে গেল।