তিন তারা থেকে সাড়ে তিন তারা।
সম্পূর্ণ রহস্যটা অ্যাতো দুর্দান্ত-অ্যাতো আকর্ষণীয়-অ্যাতো উত্তেজনাকর, একটার পর একটা জটিল থেকে মহাজটিল সব ছন্দমেলানো ধাঁধাঁর ছড়া (লেখক ইসমাইল আরমান কেবল এই বাংলা কাব্যিক ধাঁধাঁগুলোর জন্যই পাঁচ তারা ডিজার্ভ করেন), একটার পর একটা জটিল থেকে মহাজটিল সব সূত্র টেনে নিচ্ছে পরের সূত্রতে (বার বার তিনগোয়েন্দার ক্লাসিক বুদ্ধির ঝিলিক মনে করিয়ে দিচ্ছিল!)..... যে শেষ রহস্যভেদ, শেষ প্রকৃত উত্তর, শেষ "মাস্টারপীস"টা একেবারে সব থ্রিলে বরফ ঠাণ্ডা জল ঢেলে দিয়ে জমজমাট রহস্যের আমেজটা, পড়ার মেজাজটা পুরোপুরি নষ্ট করে দিলো। সিরিয়াসলি, এইডা কিসু হইলো??!! বাংলা নাটক প্লাস বাংলা সিনেমার ডবল স্যাকারিন সুইট মেলোড্রামা ওভারলোডেড। 😑
শেষের দিকে গিয়ে খানিকটা আন্দাজ পেতে শুরু করেছিলাম, তবুও আশা হচ্ছিল অয়ন-জিমি সিরিজের অতীত ইতিহাস বলে শেষ মুহূর্তেও ঘটনাক্রমের হঠাৎ বেমক্কা টার্নে রহস্যময়/কিংবদন্তীর/বহুকালের হারানো কিছু একটা ঠিকই উন্মোচিত হয়ে যায়... কিসের কি। কাহিনিটা এহেন ভিন্টেজ জটিল ধাঁধাঁ সমাধানের মাধ্যমে গুপ্তধন উদ্ধারের মতো টানটান রোমাঞ্চকর আর আগ্রহোদ্দীপক না হলে এভাবে মেজাজ গরম হতো না।
সত্যি বলতে, বইয়ের অন্তিম মেসেজটা যাদের টার্গেট করে লেখা সেই শিশু-কিশোরদের জন্যই উপযুক্ত, বাস্তবজীবনের জটিলতার ঊর্ধ্বে সহজসরল পজিটিভিটির শিক্ষা, পজিটিভ চিন্তা করতে শেখানোর এই সিনিক্যাল যুগে প্রয়োজন আছে। সমস্যা হচ্ছে আমি সিনিক্যাল সময়ের এক সিনিক্যাল বুড়োপাঠক, চাইলেও জীবনকে আর অতোটা সরল ভাবে দেখতে পারি না। তাই কেবল আমার ব্যক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে: শেষাংশ টুকু বাদ দিলে অনায়াসে ৫/৫, এন্ডিং-এর জন্য ১.৫/৫, গড় করে ৩-৩.৫/৫।