পরীক্ষায় ভালো করতে না পারলে মেহনাজকে তার জীবনের সমস্ত স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে এখনই বিয়ের পিড়িতে বসতে হবে। মরিয়া হয়ে খুঁজতে শুরু করে ভিন্ন পথ। কোথাও কী নেই নিশ্চয়তা? তখনই বান্ধবীর কাছ থেকে পায় সে এক উদ্ভট সমাধান। টানা দুই মাস রাতের শেষ প্রহরে এক প্রকার সাধনা করলে একটি জিন তার গোলাম হয়ে যাবে। সেই জিনের মাধ্যমে মেহনাজ যা ইচ্ছা তাই করিয়ে নিতে পারবে। অন্য সব বন্ধুদের দ্বিমতকে উপেক্ষা করে সে এই সাধনা শুরু করে। মেহনাজের জীবনে সূচনা হয় এক অন্ধকার অধ্যায়ের। প্রতিদিন রাতের শেষ প্রহরে এক অশরীরী ছায়ামূর্তি তাকে কোথাও নিয়ে যেতে চেষ্টা করে। রাতে দুঃস্বপ্নের মধ্যে দেখা ভয়ংকর সব অভিজ্ঞতা বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করে। কেন এমন বীভৎস অভিজ্ঞতার শিকার হতে হচ্ছে তাকে? রাতের শেষ প্রহরের সাধনার সাথে অন্য কোন ষড়যন্ত্র জড়িয়ে নেই তো?
গল্পগুলোর প্লট খুব সাদামাটা আর প্রেডিক্টেবল। যা আমরা হামেশায় নানী দাদীদের কাছ থেকে শুনে শুনে বড় হয়েছি। গল্পগুলো ছোটবেলা মুখে মুখে শুনতেই ভালো লাগে কিন্তু বইয়ের পাতায় সেসব গল্প ফুটিয়ে তুলতে যতটুকু রহস্যঘন পরিবেশ তৈরি করতে হয় তাতে লেখক ব্যার্থ।বিশেষ করে আমাদের মতো সাত ঘাটের জল খাওয়া পাঠকের কাছে অন্তত তাই। আলাদা কিছু বলতে লেখক খানিকটা টুইস্ট দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সেটাও আগে থেকেই অনুমানযোগ্য। 'হোটেল রজনীগন্ধা' আর 'অফিস টাইম' দুটো গল্পের মুল থিম একদম সেইম । সম্পূর্ণ সংকলনের মধ্যে 'মৃত্যুর হাইওয়ে' গল্পটা একমাত্র নজর কেড়েছে। ওটার জন্যই একটা তাঁরা বেশি।
নবীন লেখকের হরর থ্রিলার গল্পগ্রন্থ যে এত রহস্য আর টুইস্টে ভরা হতে পারে, সেটা আমি সত্যিই ভাবতে পারিনি। বইটি কেনার সময় কিছুটা দ্বিধা ছিল যে, কেমন হবে না হবে? তবে বইটি পড়তে বসে আর ওঠার সুযোগ পাই নি। প্রতিটি গল্পই আমার খুব ভালো লেগেছে। তার মধ্যে হোটেল রজনীগন্ধা, বোবার পাড়, রাতের শেষ প্রহর আর মৃত্যুর হাইওয়ে আমার কাছে বেস্ট মনে হয়েছে। লেখক প্রতিটি গল্পেই ভৌতিক আবহাওয়া থেকে শুরু করে স্থান, কাল, পাত্রের বেশ সুনিপুণ বর্ণনা দিয়েছেন। সব মিলিয়ে আমার কাছে বইটি বেশ উপভোগ্য লেগেছে। লেখকের জন্য শুভকামনা রইল। তার পরবর্তী বইয়ের অপেক্ষায় থাকব।
আমি সাধারণত নবীন লেখকদের বই পড়ি না। এই বইটি কিনেছিলাম মূলত দুটি কারণে। এক, বইটির প্রচ্ছদ আমার কাছে বেশ পছন্দ হয়েছিল আর দুই, ফ্ল্যাপের লেখায় কাহিনিটা বেশ আকর্ষণীয় ছিল।
ভৌতিক বই পড়ে আমার খুব কম ভয় লাগে, এজন্য এগুলো সচরাচর পড়ি না। তবে সত্যি বলতে এই বইটা পড়ে আমি বাকশুন্য হয়ে যাই। বইটি যে একজন নতুন লেখকের প্রথম বই তা একবারও মনে হয়নি। গল্পগুলোতে ভয় আর রহস্যের কোন কমতি রাখেন নি তিনি।
বইয়ের তিন-চারটি গল্প আমার খুব ভালো লেগেছে। গল্পগুলো আমাকে আনন্দ দিতে সক্ষম হয়েছিল বলে সেকথা বলছি। তবে তার মধ্যে "বশীকরণ মন্ত্র" গল্পটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল। কারণ, এই গল্পটি আমাকে আনন্দ যতটা না দিয়েছে তার চেয়ে বেশি ভয় দিয়েছে। এই গল্পটা পড়ে রাতে বার বার আমার মনে হচ্ছিল ঘরে যেন কেউ আছে, কেমন যেন একটা অন্যরকম অনুভূতি হচ্ছিল। আমি জানি সেটা নিছক আমার মনের ভুল এবং গল্পটি পড়ার সাইড ইফেক্ট। কিন্তু তবুও অনেক বছর কোন ভূতের বই পড়ে আমার এমন গা ছমছম করে নি। শুধুমাত্র তার জন্য আমার রেটিং ৫/৫ দিলাম। নাহলে ৪.৫ দিতাম।
লেখকের জন্য শুভকামনা রইল। তাকে লেখা চালিয়ে যাবার পরামর্শ থাকবে।
গল্পগুলো খুবই সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। গল্পের কাহিনি একবার শুরু করলে সেটা শেষ না করে উঠার উপায় নেই। নবীন লেখকের বই থেকে এতোটা সুনিপুণভাবে গল্পের বুনন আশা করিনি। প্রতিটি গল্পই আমার বেশ ভালো লেগেছে। রাতের শেষ প্রহর গল্পের সমাপ্তিতে বলা হয় বড় হুজুর আবার কখনো কবিরাজি করলে মারা যাবেন, কিন্তু কেন? শেষ হয়েও হইল না শেষের অদ্ভুত এক নজির। লেখকের জন্য শুভকামনা রইল। তবে আমার মতে তিনি ছোট গল্প না লিখে উপন্যাস লিখলে আরও ভালো হবে। কারণ, বইয়ের তিনটা গল্প বেশ বড় বড় ছিল। সেগুলো অনায়াসে নভেলা বা উপন্যাস করতে পারতেন।
যদিও সংকলনের দিকে আমার আগ্রহ খুবই কম কিন্তু এই গল্প সংকলনটি আমার কাছে ভালো লেগেছে।প্রতিটা গল্পের স্টোরিলাইন আলাদা ও ইউনিক।গুছানো ও পরিপাটি ছিলো লিখা।থ্রিলার ও ভয়ের মিশ্রণ ছিলো পুরো বই জুড়ে।এক বসাতে শেষ করার মতো ছিল বইটা।
তবে হ্যাঁ আমার মনে হয় কিছু কিছু জায়গায় আরো সহজ শব্দ ব্যবহার বা কম ব্যাখ্যা দিলেও হতো।এটা হয়তো ভবিষ্যতে ঠিক হয়ে যাবে।আমি লেখকের কাজ কে মন থেকে প্রশংসা করছি ও আশাবাদী।
বিশেষ দ্রষ্টব্য- ভুলেতেও কেউ রাতের বেলা এই বইটি পড়তে যাবেন না। নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি।
কিছু কিছু স্থানে বেশি ডিটেইলস (ব্যাখ্যা) ছাড়া আমার সবই ভালো লেগেছে। বিশেষ করে রাতের শেষ প্রহর গল্পটা আমাকে বেশ কল্পনার অনুভূতি জাগিয়েছে। আমার মনে হচ্ছিল পুরো ঘটনা আমার চোখের সামনে হচ্ছে।
লেখকের জন্য অনেক শুভকামনা রইল। আরও হরর গল্পের অপেক্ষায় রইলাম। নতুন লেখক হিসেবে রেটিং ৫/৫
আমার প্রিয় ভাইয়ের একটা বই বেরিয়েছে বইটা পড়বোনা তাকি হয়, আসলেই হরর গল্প আমার বরাবরই ভালো লাগে, এই বইয়ের গল্পগুলো ব্যতিক্রম না। ধন্যবাদ ভাই এরকম গল্প উপহার দেয়ার জন্য। সামনে আরো ভালো গল্প নিয়ে আসবেন এটাই আশা।
আমার রোমান্টিক গল্প একদম পছন্দ না। মুলত হরর এবং থ্রিলার ধরণের বই পড়ে থাকি। এই বইয়ের গল্পগুলো বেশি বড় কিংবা ছোট না, একদম পারফেক্ট সাইজের। গল্পগুলোর প্রতিটি রহস্যের উত্তর লেখক খুব সুনিপুনভাবে গল্পের মধ্যে ফুটিয়ে তুলেছেন। মৃত্যুর হাইওয়ে গল্পের কাহিনি একদম ধরতেই পারিনি। আর বোবার পাড় পড়ে মনে হচ্ছিল, পুরো ঘটনা যেন চোখের সামনে হচ্ছে। রাতের শেষ প্রহর বইটি পড়ে একদিকে ভয়ের অনুভূতি হয়েছে, অন্যদিকে থ্রিলার আর টুইস্টগুলো আমার কাছে বেশ উপভোগ্য ছিল। আমার রেটিং ৫/৫।
বই সম্পর্কে আলোচনাঃ ছোট/মাঝারি ৪টি ও বেশ বড় সাইজের ৩টি মিলিয়ে মোট ০৭টি গল্পের সমন্বয়ে এই বইটি লেখা। প্রত্যেকটি গল্পই হরর থ্রিলার ধর্মী। পাঠকদের সুবিধার্থে গল্পের কাহিনির ওভারভিউ তুলে ধরলামঃ
**হোটেল রজনীগন্ধাঃ এটি 'রাতের শেষ প্রহর' গল্পগ্রন্থের প্রথম গল্প। ভার্সিটি ভরতি পরীক্ষা দিতে গিয়ে দুই বন্ধু এই হোটেলে অবস্থান করে রাতে যে অশরীরী অভিজ্ঞতার শিকার হয় তাই তুলে ধরা হয়��ছে। **বোবার পাড়ঃ কথিত আছে, অমাবস্যার রাতে সুন্দরবনের গহীনে নির্দিষ্ট একটি পুকুর পাড়ে পিশাচের আবির্ভাব ঘটে। অমাবস্যার রাতে বন কর্মকর্তা রাজিবকে খুন করার ফাঁদ পাততে গিয়ে বন দস্যুদের যা হয়েছিল তা নিয়ে এই গল্প। **অফিস টাইমঃ অফিস টাইম শেষ হবার পর রাতে একা বসে অফিসে কাজ করার সময় যে অবিশ্বাস্য ঘটনার সম্মুখীন হতে হয় তা এ গল্পে বর্ণিত হয়েছে। **নিশির ডাকঃ গ্রামে হঠাৎ নিশির ডাক শোনা যাচ্ছে। কেউ সে ডাকে সাড়া দিলে পরদিন তার রক্তশুন্য লাশ পাওয়া যায়। **রাতের শেষ প্রহরঃ রাতের শেষ প্রহরে একটা সাধনা করলে নাকি জিনের মাধ্যমে যেকোনো স্বার্থ সিদ্ধি করা সম্ভব। সেই সাধনা করতে গিয়ে মেহনাজের জীবনে শুরু হয় এক ভয়ঙ্কর অধ্যায়। **বশীকরণ মন্ত্রঃ ভালোবাসা আর রাগের বশবর্তী হয়ে যখন কেউ বশীকরণ মন্ত্রের সাহায্য নেয়, তখন ভিকটিম এর জীবন কতটা দুর্বিষহ হয়ে যায় তাই হচ্ছে এই গল্পের মূল উপজীব্য। **মৃত্যুর হাইওয়েঃ আমার কাছে এটা হচ্ছে বইয়ের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ গল্প। চার বন্ধু মিলে রাতে হাইওয়ে দিয়ে ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাবার পথে যে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হয় তার গল্প। তবে গল্পটা ছিল টুইস্টে ভরপুর।গল্পের সমাপ্তি পুরো ১৮০ ডিগ্রি কোণে মাথা ঘুরিয়ে দিয়েছিল।
পাঠ প্রতিক্রিয়ার কথা বলতে গেলে বর্তমানে বিজ্ঞান অনেক এগিয়ে গেলেও আমাদের চারপাশে অনেক ঘটনাই আছে যা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাতীত। লেখক তার মধ্যে থেকে কিছু অতিপ্রাকৃত ঘটনা অতি চমৎকারভাবে তার 'রাতের শেষ প্রহর' বইটিতে তুলে ধরেছেন। গল্পগুলো পড়তে আমার খুবই ভালো লেগেছে। লেখকের বর্ণনাশৈলীর নৈপুণ্যে মুগ্ধ হয়েছি। কারণ, লেখক গল্পের মধ্যে অযথা কথা বলে পৃষ্ঠাসংখ্যা বৃদ্ধি করেননি, বরং গল্পের কাহিনিকে এগিয়ে নেয়ার দিকে বেশি নজর দিয়েছেন। তার বর্ণনারীতি এতোটাই স্পষ্ট আর জীবন্ত ছিল যে, পাঠক অতি সহজে নিজেকে সেই গল্পের মধ্যে দাঁড় করানো কল্পনা করে নিতে পারবে। ভাষাবিন্যাস এবং বানান শুদ্ধির দিকে যথেষ্ট যত্ন রাখা হয়েছিল। সর্বোপরি, 'রাতের শেষ প্রহর' বইটি আমার কাছে খুব সুখপাঠ্য লেগেছে। এটা পড়লে যে ভয় লাগবে বিষয়টা তেমন নয়। তবে রাতের বেলা পড়লে একটু হলে গাঁ ছমছমে অনুভূতি হতেই পারে।
যারা হরর থ্রিলার বই পড়তে ভালোবাসেন কিংবা ভয় পেতে চান তাদের জন্য এই বইটি একবার হলেও ট্রাই করা উচিত। নতুন লেখকের জন্য শুভ কামনা।
'অতিপ্রাকৃত 'গল্প বলতে সে ধরনের গল্প কে বোঝায় যা যুক্তিতর্কের মাধ্যমে সম্পূর্ণরূপে ব্যাখ্যা করা যায় না এবং এতে মিশে থাকে অশরীরী আত্মার মেলবন্ধন। আর এ মেলবন্ধনের সঠিক সমাহার দেখতে পাওয়া যায় মোঃ মেহেদী রহমান এর "রাতের শেষ প্রহর "গল্পগ্রন্থে। এই বইয়ের গল্প গুলো পড়তে গিয়ে মনে হয়েছে যেন ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো একেবারে চোখের সামনে সুস্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছি। গল্প গুলো এক নিমিষে পড়ে শেষ করা গেলেও এর রেশ রয়ে যাবে অনেকক্ষন। মনে হবে এই বুঝি রহস্যের শেষ সীমানায় পৌঁছে যাব কিন্তু সেই সীমানায় পৌঁছানোর জন্য অপেক্ষা করতে হবে গল্পগুলোর শেষ পর্যন্ত। গল্পগুলো পড়ার পরে এ জাতীয় রহস্য সমাধানের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হবে পাঠকের মনে।
ভৌতিক গল্প গুলো পূর্ণতা পায় সাধারণত রাতের শেষ বেলায়। সেই দিক বিচারে "রাতের শেষ প্রহর" গল্প গ্রন্থের নামকরণ যথার্থ হয়েছে।
এছাড়া লেখক এর প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি আমাকে নিয়ে গল্প লেখার জন্য। আশা করি ভবিষ্যতে এ ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন থাকবে।
থ্রিলার বই আমার খুব ভালো লাগে, তবে হরর থ্রিলার কমই পড়া হয়েছে। রাতের শেষ প্রহর বইটি কেনা এবং পড়া সম্পূর্ণ কাকতালীয় ছিল। কিন্তু বইটা না পড়লে খুব মিস হয়ে যেত। এক কথায় বললে বইটি প্রচণ্ড সুন্দর। মানুষের মনে ভয়ের অনুভূতি জাগিয়ে যে আনন্দ দেওয়া সম্ভব তা লেখক বুঝিয়েছেন। প্রতিটি গল্প আমার কাছে ভালো লেগেছে। তবে আমার মনে হয়, নিশির ডাক এবং অফিস টাইম গল্পটা আরও বেশি বড় হলে আরও বেশি মজা পেতাম। লেখকের কাছের আশা রাখি সে রাতের শেষ প্রহর ২ নিয়ে আসবেন। কারণ, যেভাবে এটা শেষ হয়েছে তাতে ২য় পার্ট আনা বাধ্যতামূলক। শুভকামনা লেখকের জন্য।
বহুদিন পর প্রচণ্ড ভয়ের কিছু অতিপ্রাকৃত ছোট গল্প পড়লাম। বইয়ের গল্পগুলো যেমন রহস্যের উদ্রেক ঘটাচ্ছিল, তেমনি শরীরে শিহরণ জাগায়। আমি বেশ সাহসী বলে রাতেই বইটি পড়ি। তবে ঘুমাতে যাবার পর বুঝতে পারছিলাম, গল্পগুলো আসলেই ব্রেনে ইফেক্ট করে।
লেখকের এটা খুব সম্ভবত প্রথম বই। তবে উনার লিখনশৈলী বেশ দারুণ। সাধারণত ভূতের গল্পে এন্ডিং প্রেডিক্টেবল হয়। তবে এক্ষেত্রে ১-২টা গল্প বাদে বাকি সব আমাক বেশ চমক দিয়েছে। বইটি খুব উপভোগ করেছি।
ভূতের গল্প পড়ার নেশা ছোটবেলা থেকেই। বহুদিন পর বেশ ভয় লাগার মতো একখানা বই পড়লাম। শেষের গল্প "মৃত্যুর হাইওয়ে" সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। গল্পগুলোর ভৌতিক আবহ খুব চমৎকার ছিল। গল্পের স্টোরিটেলিং অসাধারণ ছিল।
অফিস টাইম গল্পে আরও ব্যাখ্যা থাকলে ভালো হতো।
লেখকের লেখা বেশ ঝরঝরে ছিল, পড়তে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি। গল্পগুলো সব রাতে পড়া এজন্য বেশি ভয় পেয়েছি। ভয় পেতে চাইলে এটা রাতে পড়তে হবে।
নবীন লেখক হিসেবে কেউ যে হরর থ্রিলার গল্প এত ভাল লিখতে পারেন সেটা মোঃমেহেদী রহমানের "রাতের শেষ প্রহর"গল্পটি না পড়লে বুঝতাম না। এমন ভাবে প্রতিটি গল্প লিখেছেন যেন জীবন্ত দৃশ্য।যত গল্পটির ভিতরে ঢুকি তত যেন রহস্য সমাধানের পথ খুজতে থাকতাম।তবুও রহস্য যেন থেকেই যেত।তবে প্রতিটি গল্পের ভাষা ছিল সাবলীল, মার্জিত।যে কেও সহজেই গল্পের মর্মার্থ বুঝতে পারবে।
নবীন লেখকের প্রথম বই, তাই চিন্তায় ছিলাম কেমন হবে। তবে বইটির প্রথম গল্প পড়েই এতো ভালো লেগেছিল যে, বাকি কয়েকটা গল্প এক নাগাড়ে পড়ে ফেলি। গল্পগুলো খুবই চমৎকার। মৃত্যুর হাইওয়ে এবং রাতের শেষ প্রহর তুলনাবিহীন। যারা ভালো কিছু হরর-থ্রিলার গল্পসংকলন পড়তে চান , তারা বইটি পড়ে ফেলতে পারেন। নিঃসন্দেহে ভালো লাগবে। হ্যাপি রিডিং।
গল্পগুলো বেশ সুন্দর ছিল। কোনো কিছু নিয়ে পরিপূর্ণ জ্ঞান ছাড়াই তা নিয়ে মাতামাতি করা ঠিক না। আমরা অনেক সময় পড়াশোনা নিয়ে খুব বেশি সেনসিটিভ হয়ে পড়ি। তখন ভুলভাল কাজ করে বিপদে পড়ি। রাতের শেষ প্রহর গল্পটি বেশ শিক্ষামূলক ছিল সেই অর্থে। লেখক কিছুটা ব্যতিক্রমধর্মী কাজ করতে চেয়েছেন। সাধুবাদ জানাই তাকে।
বেশ ভয় পেয়েছি বইটা পড়ে। বোবার পাড় গল্পের ডিটেইলিং এত বেশি এবং নিখুঁত ছিল, পড়ে আমার মনে হচ্ছিল সব স্বচক্ষে দেখছি। ভয়ে হাড় হিম হয়ে যাবার অবস্থা। নিশির ডাক গল্পের মূল থিম সবারই জানা। তবে লেখক তাতে নতুনত্ব কিছু আনলে খুশি হতাম। আমার কাছে গল্পটা এভারেজ লেগেছে। বাকি সবগুলোই মোটামুটি ইন্টারেস্টিং ছিল। রেটিং- ৪.৬
সর্বমোট গল্পের সংখ্যা সাতটি। সবগুলোই ভালো বলা যায়। সবগুলোই ভৌতিক এবং ভৌতিক সংকলন হিসেবে আমার প্রিয় একটা বই। রাতের শেষ প্রহর গল্পের বর্ণনা একদম সত্যিকারের মতো। কাহিনীতেও বেশ রহস্য বিদ্যমান ছিল বলা যায়। ভৌতিক ছোটগল্প হিসেবে গল্পগুলোর লেখার ধরণ বেশ আকর্ষণীয় ছিল। সবচেয়ে বড় কথা গল্পগুলোকে অযথা টেনে লম্বা করার চেষ্টা করা হয়নি। সেজন্য পাঁচ স্টার দিলাম।
হরর গল্পগ্রন্থ। কিছু গল্প বেশ ভালো লাগল। কয়েকটা অনেক ভালো। অনেক ভালো লাগার তালিকায় আছে রাতের শেষ প্রহর, হোটেল রজনীগন্ধা, মৃত্যুর হাইওয়ে। মৃত্যুর হাইওয়ে ভালো লাগার কারণ হচ্ছে বাংলায় এধরনের অতিপ্রাকৃত গল্প কম দেখা যায়।
অতিপ্রাকৃত গল্পের মাঝে যদি সাসপেন্স চান তাহলে এই বই আপনার জন্য। বেশিরভাগ গল্প খুব টুইস্ট দিয়েছে।
রেটিং: ৪.৫ বইটির ফ্ল্যাপের লেখা পড়ে, বইটি মেলা থেকে কিনেছিলাম। নতুন লেখক হয়েও, লেখকের গল্প পড়ে মনে হয়নি সেটা। কিছু কিছু গল্প দারুন লেগেছে, সেগুলোর মধ্যে "বোবার পার", "রাতের শেষ প্রহর", "অফিস টাইম" এবং "হোটেল রজনীগন্ধা" অন্যতম।
লেখকের পরিচিতি পড়ে বুঝলাম সে একজন ব্যাংকার এবং তার পড়াশোনার দিকে বেশি ঝোঁক। তবে তার প্রথম বইটা পড়ে আশ্চর্য হলাম। সাতটি ভূতের গল্পেই লেখক যথেষ্ট ভয়ের সঞ্চার ঘটাতে সফল হয়েছেন। বইটি পড়ে মনে হয়েছে ২৫০/- টাকাটা উশুল হয়েছে। সবগুলো গল্পই ভালো ছিল, তবে আমার কাছে বোবার পাড়টা বেশি মনে ধরেছে।
হোটেল রজনীগন্ধায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভরতি পরীক্ষার কাহিনিটা জোস ছিল। লেখক মনে হয় আমার জীবনের স্টোরিকে গল্পে রূপ দিয়েছে। পড়ে মনে হচ্ছিল নিজেই পরীক্ষা দিতে সেই হোটেলে উঠেছি। লেখক গল্পগুলোর মধ্যে বেশ ভালো ভৌতিক আবহাওয়া নিয়ে এসেছেন। গুড লাক ভাই।
লেখনশৈলী ও বর্ণনা দিয়েই প্রায় প্রত্যেকটা গল্পেই ভয়ের বেশ সুন্দর আবহ তৈরি করেছেন লেখক। সবগুলো গল্পই অসাধারণ বলব না, কিন্তু বেশ উপভোগ্য ছিল। পড়তে একদমই ক্লান্তি লাগেনি। হরর থ্রিলার হিসেবে জোস।
অসাধারণ কিছু গল্পের সংকলন রয়েছে এই বইতে। সব গল্প দারুণ বা গায়ে কাটা দিবে তা না। কিন্তু বেশ চমৎকার প্রায় সবগুলো গল্পই। বেশ ঝরঝরে সহজবোধ্য লেখা। পড়তে কষ্ট হয়না। কাহিনি ভালো, প্লটগুলো বেশ গোছানো। বইয়ের সাথে সময়টা বেশ ভালোই কেটেছে।
লেখকের গদ্য সাবলীল ও ঝরঝরে। বইয়ের প্রথম গল্পটা সবচেয়ে ভালো লেগেছে। পরেরগুলোও বেশ সুন্দর। মৃত্যুর হাইওয়ে গল্পের প্লট অতিরিক্ত প্যাঁচানো। ভৌতিক গল্পে অনেক লেখক উপযুক্ত ভয়ের আবহ তৈরি করতে লেখক দারুণ সফল। এজন্য বইটা পড়ে তৃপ্তি পেয়েছি খুব
ভালো লাগল গল্পসংকলনটা। সবগুলোই ভৌতিক তবে ভিন্ন ধাঁচের। একই ধরনের গল্প হলে একঘেয়েমি চলে আসে। এখানে সেই সুযোগ নেই। প্রত্যেকটা গল্পই মনে ভয় ধরিয়ে দেওয়ার মতো। গল্পে থ্রিলার ভাবটা বেশ জমিয়েছে। তবে সবথেকে বেশি ভালো লেগেছে রাতের শেষ প্রহর আর হোটেল রজনীগন্ধা।
Interesting stories. Short stories was good enough to keep me excited. All the 07 stories were not up to the mark but maximum could give me a nerve-chilling feeling.
Highly Appreciate the writer and would recommend the book to horror and thriller lovers.
বইমেলা থেকে র্যানডমলি বইটা কিনেছিলাম। ঈদে বাড়ি যাবার সময় গাড়িতে বইটি পড়া। অপ্রত্যাশিতভাবে বেশ ভালোই লাগল। মৃত্যুর হাইওয়ে গল্পটা পড়ে যাত্রাপথেও বেশ ভয় পেয়েছি।