– “কিয়ামুল লাইল”- বইটি মূলত ‘শাইখ আহমাদ মুসা জিবরিল’- এর কিয়ামুল লাইল বা তাহাজ্জুদের উপর দেয়া লেকচার ‘The Ultimate Pleasure of a Beliver on This Earth (Qiyaam Al- Layl) এর বাংলা অনুবাদ । বইটির সম্পাদক ‘আবু বারিয়াহ্’ ।
আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি, ইনশাআল্লাহ্ আপনি এমন একজন শহিদ কিংবা হকপন্থী আলিমও পাবেন না, যিনি জীবনে কোনোদিন তাহাজ্জুদ পড়েননি। আজকের তথাকথিত মূর্খ আলিমরা উম্মাহ্কে ভ্রষ্টতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। কারণ তারা কোনোদিনই ইবনু তাইমিয়াহ্ কিংবা ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বলের মতো রাতের গভীরে তাঁদের রবের প্রতি সাজদাহ্য় অবনত হয়ে আল্লাহ্র দরবারে সঠিক পথের দিশা চায়নি। আল্লাহ্র দরবারে রাতে সাজদাহ্য় কাটানো ব্যক্তি কখনও দিনের বেলায় কাফিরদের সন্তুষ্ট করতে পারে না, কিংবা আকিদাহ্র যে বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই, সে বিষয়ে উম্মাহ্কে গোমরাহ করতে পারে না।'
শাইখ আহমাদ মুসা জিবরিল যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেন। ইসলামী শরীয়াহ’র ওপর মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ডিগ্রি নেন। প্রখ্যাত সালাফি আলেমদের সোহবতে থেকে তিনি উপকৃত হয়েছেন।
শায়খ আহমেদ মুসা জিবরীলের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে। তার পিতা শায়খ মুসা জিবরীল রাহিমাহুল্লাহ ছিলেন মদীনার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। সেই সুবাদে আহমেদ মুসা জিবরীল শৈশবের বেশ কিছু সময় কাটান মদীনায় । সেখানেই ১১ বছর বয়সে তিনি হিফয সম্পন্ন করেন। হাইস্কুল পাশ করার আগেই তিনি বুখারী ও মুসলিম শরীফ মুখস্ত করেন। কৈশোরের বাকী সময়টুকু তিনি যুক্তরাষ্ট্রেই কাটান এবং সেখানেই ১৯৮৯ সালে হাইস্কুল থেকে পাশ করেন। পরবর্তিতে তিনি বুখারী ও মুসলিম শরিফের সনদ সমূহ মুখস্ত করেন আর এরপরে হাদিসের ৬টি কিতাব (কুতুব সিত্তাহ) মুখস্ত করেন। এরপর তিনিও তার বাবার পদাঙ্ক অনুসরন করে মদীনার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শরীয়াহর উপর ডিগ্রী নেন।
আহমাদ মুসা জিবরীল শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল উসাইমীনের (রাহিমাহুল্লাহ) তত্ত্বাবধানে অনেকগুলো কিতাবের অধ্যায়ন সম্পন্ন করেন এবং তিনি তার কাছ থেকে অত্যন্ত বিরল তাযকিয়্যাও লাভ করেন।
শায়খ বাকর আবু যাইদের (রাহিমাহুল্লাহ) সাথে একান্ত ক্লাসে তিনি আল ইমাম ওয়াল মুজাদ্দিদ শায়খ মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল ওয়াহ্হাব (রাহিমাহুল্লাহ) ও শায়খ আল-ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যার (রাহিমাহুল্লাহ) কিছু বইও অধ্যায়ন করেন। তিনি শায়খ মুহাম্মাদ মুখতার আশ-শিনক্বিতীর অধীনে ৪ বছর পড়াশুনা করেন। আল্লামাহ হামুদ বিন উক্বলা আশ- শু’আইবীর অধীনেও তিনি অধ্যায়ন করেন এবং তাযকিয়্যাহ লাভ করেন।
তিনি তার পিতার সহপাঠি শায়খ ইহসান ইলাহি যহীরের অধীনেও পড়েছেন। শায়খ মুসা জিবরীল (শায়খ আহমেদ মুসা জিবরীলের পিতা) শায়খ ইহসানকে অ্যামেরিকায় আমন্ত্রন জানান। শায়খ ইহসান অ্যামেরিকায় কিশোর শায়খ আহমাদ মুসা জিবরীলের সাথে পরিচিত হবার পর চমৎকৃত হয়ে তার বাবাকে বলেন – ইন শা আল্লাহ আপনি একজন মুজাদ্দিদ গড়ে তুলেছেন! তিনি আরও বলেন – “এই ছেলেটি তো আমার বইগুলো সম্পর্কে আমার চেয়েও বেশি জানে!”
শায়খ আহমাদ মুসা জিবরীল “আর-রাহীকুল মাখতুম”- এর লেখক সাফিউর রাহমান আল-মুবারাকপুরির (রাহিমাহুল্লাহ) অধীনে দীর্ঘ ৫ বছর অধ্যায়ন করেন। এছাড়াও তিনি অধ্যায়ন করেন শায়খ মুক্ববিল, শায়খ আব্দুল্লাহ গ্বুনায়মান, শায়খ মুহাম্মাদ আইয়ুব এবং শায়খ আতিয়াহ আস-সালিমের অধীনে। এদের মধ্যে শায়খ আতিয়াহ আস-সালিম ছিলেন শায়খ আল-আল্লামাহ মুহাম্মাদ আল আমিন শানক্বীতির (রাহিমাহুল্লাহ) প্রধান ছাত্র, এবং তিনি শায়খ আশ-শানক্বিতির ইন্তেকালের পর তার প্রধান তাফসির গ্রন্থ আদওয়া উল বায়ানের কাজ শেষ করেন।
শায়খ আহমাদ মুসা জিবরীল শায়খ ইব্রাহিম আল হুসাইনের এর ছাত্র ছিলেন। শায়খ ইব্রাহিম ছিলেন শায়খ আব্দুল আযিয বিন আব্দুল্লাহ বিন বাযের (রাহিমাহুল্লাহ) অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহচর। শায়খ আব্দুল্লাহ আল-ক্বুদের (আল-লাজনাহ আদ দা-ইমাহ লিল বুহুতুল ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতাহ – Permanent Committee for Islamic Research and Issuing Fatwas– এর প্রথম দিকে সদস্য) সাথে শায়খ আহমাদ মুসা জিবরীল হাজ্জ করার সুযোগ লাভ করেন। এছাড়া তিনি দুই পবিত্র মাসজিদের রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্বে নিয়োজিত কমিটির প্রধান শায়খ সালিহ আল-হুসাইনের অধীনেও অধ্যায়নের সু্যোগ পান।
তিনি মহান মুহাদ্দিস শায়খ হামাদ আল-আনসারির রাহিমাহুল্লাহ অধীনে হাদীস অধ্যায়ন করেন এবং তার কাছ থেকে তাযকিয়্যাহ লাভ করেন। তিনি অধ্যায়ন করেন শায়খ আবু মালিক মুহাম্মাদ শাক্বরাহ-র অধীনে। শায়খ আবু মালিক ছিলেন শায়খ আল-আলবানির (রাহিমাহুল্লাহ) অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। শায়খ আল-আলবানি তাঁর ওয়াসিয়্যাহতে শায়খ আবু মালিককে তার জানাযার ইমামতি করার জন্য অনুরোধ করেন। . শায়খ আহমাদ মুসা জিবরীল শায়খ মুসা আল-ক্বারনিরও (রাবী আল-মাদ্বখালির জামাতা) ছাত্র। ক্বুরআনের ব্যাপারে শায়খ আহমাদ ইজাযাহ প্রাপ্ত হন শায়খ মুহাম্মাদ মা’বাদ ও অন্যান্যদের কাছ থেকে। শায়খ মুসা জিবরীল ও শায়খ আহমাদ মুসা জিবরীলের; ইলম থেকে উপকৃত হবার জন্য শায়খ বিন বায অ্যামেরিকায় থাকা সৌদি ছাত্রদের উৎসাহিত করেন। শায়খ আহমাদ মুসা জিবরীল শায়খ বিন বাযের কাছ থেকে তাযকিয়্যাহ অর্জন করেন (শায়খ বিন বাযের মৃত্যুর তিন মাস আগে)।
শায়খ আহমাদ মুসা জিবরীলের ব্যাপারে মন্তব্য করার সময়ে শায়খ বিন বায তাকে সম্বোধন করেন, একজন “শায়খ” হিসেবে এবং বলেন তিনি “(আলিমদের কাছে) পরিচিত” ও “উত্তম আক্বিদা পোষণ করেন।”
শায়খ আহমাদ মুসা জিবরীল নিজেকে শায়খ হামুদ বিন উক্বলা আশ-শু’আইবি রাহিমাহুল্লাহ, শায়খ আলি আল খুদাইর হাফিযাহুল্লাহ, শায়খ নাসির আল ফাহদ ফাকাল্লাহু আশরাহ, শায়খ সুলাইমান আল ‘উলওয়ানসহ ফাকাল্লাহু আশরাহ ঐসব আলিমদের সিলসিলার অনুসারী মনে করেন যারা বর্তমান সময়ে শায়খ আল-ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ, আল ইমাম ওয়াল মুজাদ্দিদ মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল ওয়াহ্হাব ও উলামায়ে নাজদের শিক্ষাকে সত্যিকারভাবে আকড়ে আছে, যারা প্রকৃত অর্থে উলামায়ে নাজদের উত্তরসূরী। তার সব শিক্ষকের মাঝে শায়খ আল আল্লামাহ শায়খ হামুদ বিন উক্বলা আশ-শু’আইবীকে রাহিমাহুল্লাহ তিনি তার প্রধান শায়খ মনে করেন, এবং শায়খ
মাত্র ৩২ পেজের একটি বই, অথচ অনেক শক্তিশালী। এই বই বুঝিয়ে দিবে আপনার ঈমানের অবস্থা, আল্লাহের সাথে আপনার সম্পর্ক। কিয়ামের কারণে আল্লাহ বান্দাকে কতটা সম্মানিত করেন, অথচ আমরা এই কিয়াম থেকে কত দূরে। একটু আরামের ঘুমের জন্যে আমরা কত কিছু থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। যদি নিজের ঈমান সম্পর্ক এ জানতে হই, ঈমান বৃদ্ধি করতে হয় পড়ুন বইটি।
নির্জনে প্রিয় মানুষের সঙ্গ কে না চায়। সেখানে আমরা নির্জনে কেন প্রিয় রব আল্লাহর স্মরণ থেকে ভুলে যাই? কেন তার ডাকে সাড়া দেই না যখন তিনি নিজেই সাক্ষাতের জন্য প্রথম আসমানে নেমে আসেন? একজন মুমিন কখনোই সেই ডাককে উপেক্ষা করতে পারেন না বরং রবের সামনে সাজদায় লুটিয়ে পড়াতেই অন্তরে সর্বোচ্চ প্রশান্তি লাভ করেন।একজন মুমিনের তাকওয়ার পূর্ণতা দেয় যে আমলটি তা হল কিয়ামুল লাইল বা তাহাজ্জুদ। মাত্র ৩২ পৃষ্ঠার বইটিতে শাঈখ আহমাদ মূসা জিব্রিল আমাদের সেই কিয়ামুল লাইলের গুরুত্ব উপলব্ধি করার খোরাক যুগিয়েছেন। যারা আল্লাহর নিকটবর্তী হতে চাই তাদের জন্য প্রথম পদক্ষেপের রসদ হতে পারে ছোট্ট এই বইটি।
বক্ষ্যমান বইটি তাহাজ্জুদ নিয়ে। তবে এটি একটি লেকচারের সংকলনরূপ। শাইখ মুসা জিবরিলের কিয়ামুল লাইল বা তাহাজ্জুদের ওপর দেয়া লেকচার “The Ultimate Pleasure of a Believer on this earth (Qiyaam Al-Layl)” এর অনুবাদ হচ্ছে “কিয়ামুল লাইল”
বইটিতে শাইখ তাহাজ্জুদের ফজিলত, গুরুত্ব, তাহাজ্জুদের ব্যাপারে সালাফদের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করেছেন ছোট হলেও অনেক বিস্তর আলোচনা এসে গেছে। নিজেদের দুঃখ- দুর্দশার কথা অন্য মানুষকে বলে বেড়াই । একটু খানি ভরসা পাবার আশায়, সমাধান পাবার আশায় ; অথচ বিশ্ব জাহানের অধিপতি, যার কাছে আমাদের যেকোনো সমস্যা তৈরির আগেই সেই সব সমস্যার সমাধান রয়েছে। তিনি আমাদের প্রতি রাতেই ডেকে যাচ্ছেন।
আমাদের সব সমস্যা গুলোর সমাধান দিতে চান বলে, সব প্রয়োজন গুলো মিটিয়ে দিতে চান বলে। কিন্তু সে সময়টাতে ঘুমিয়ে কাটাচ্ছি। অবজ্ঞা করছি সেই মহিমান্বিত ডাকটিকে। এ নিয়ে বইটিতে একজন সালাফ এর দু'আ উল্লেখ করা হয়েছে যিনি কয়েকদিনের জন্য 'রাতের সালাত' আদায় করতে পারেননি। তারপর তিনি আল্লাহর কাছে এই বলে দু'আ করলেন, "হে আল্লাহ্, আমাকে রাতের সালাত আদায়ের তৌফিক দিন আর যদি এটা আমার তাকদীরে না থাকে, তবে আমাকে দুনিয়ার বুক থেকে উঠিয়ে নিন"। এই ঘটনটা পড়ার পর একটা ধাক্কা খেলাম । অবাক হয়ে গেলাম যে, আমি তো সেই সালাফগণদের চিন্তা-চেতনার ধারে কাছেও নেই । বছরের পর বছর তাহাজ্জুদ বাদ দেই, মনের মধ্যে এ নিয়ে বিন্দু মাত্র অনুশোচনাও জাগে না!! আর উনারা মাত্র কয়েকটা দিন আদায় করতে পারেন নি, তাতেই আল্লাহর কাছে এই দুআ করেন!! তাহলে আমার কি করা উচিত!? তাহাজ্জুদকে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করতে বইটা সত্যিই অনেক উপকারী!
তাহাজ্জুদের ব্যাপারে উম্মাহর অধিকাংশের ধারণা এমন যে,এটি কেবল রমাদানেরই বিশেষ বৈশিষ্ট্য। অথচ তা এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদাত যার মাধ্যমে একজন মুসলিম বুঝতে পারে--সে সত্যিই আল্লাহকে ভালোবাসে কি না, অথবা আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন কি না। . অনেক সময় ছেলেমেয়েদের ভালোভাবে গড়ে তুললেও তারা নষ্ট হয়ে যায়।আল্লাহ তা'য়ালা বলেন,
"তুমি যাকে পছন্দ করো, ইচ্ছে করলেই তাকে সুপথে আনতে পারো না; বরং আল্লাহই যাকে যাকে চান সুপথে আনেন।" [ সূরা- আল কাসাস, ২৮ ~ ৫৬ আয়াত ]
এই আয়াতটি বারবার মনে পড়ে,আমার কিছু কাছের মানুষের ক্ষেত্রে। যারা হেদায়েত পেয়েও পায় নি, শুধু মুখেই বললে হয় না আমি হেদায়েত পেয়েছি।তার উপর অটুট থাকতে হয়।নিজের নফসের সাথে যুদ্ধ করতে হয় প্রতিনিয়ত, কখনো জিতি তো কখনো হারি।এই আয়াতটি আমার জন্যও।আমি কী আগে জানতাম না, দ্বীনের ব্যাপারে? গাফেল বান্দা ছিলাম তবুও! . কিয়াম হলো আল্লাহর ডাকে সাড়া দেওয়া। এটা কীভাবে সম্ভব, আল্লাহ তা'য়ালা আপনাকে ডাকছেন অথচ আপনি তাঁর ডাকে সাড়া দিচ্ছেন না?কারও স্ত্রী,সন্তান কিংবা প্রিয় মানুষটি যদি তাকে মাঝরাতে ডেকে জিজ্ঞেস করে--তুমি ঠিক আছো তো, তোমার কিছু লাগবে? সে তখন বলবে --আমি ঠিক আছি। সবকিছু ঠিক আছে।আমি ঠিক আছি প্রিয়। আমি ঠিক আছি বন্ধু, ঠিক আছি ভাই ইত্যাদি। এসব বলে সে আকর্ষণ অনুভব করবে।আপনার সহকর্মী, অফিসের বস কিংবা কেউ যদি আপনাকে ফোনকল অথবা মেসেজ দিতো, আপনি এর উত্তর দিতেন। তারা যে আপনার খোঁজ নিচ্ছে এটা অন্তর দিয়ে উপলব্ধি করতেন। তা হলে এটা কিভাবে সম্ভব যে, আল্লাহ তা'য়ালা আপনাকে ডাকছেন, আপনার প্রয়োজনের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করছেন কিন্তু আপনি তাঁর ডাকে সাড়া দিচ্ছেন না? নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিদর্শনই সর্বোত্তম নিদর্শন!
বইমেলা থেকে নিয়েছিলাম বইটা,আফসোস এতদিন পড়ি নি। ইবাদাত গুজার বান্দা কী এমনি এমনি হওয়া যায়? নবীরা, সালাফরা কেমন ইবাদতগুজার বান্দা ছিলেন তা ভাবলেই অবাক লাগে।হায়,আমরা তো তার ধারেকাছেও না।তারা এমনভাবে ইবাদাত করতেন যাতে অন্যকেউ বুঝতে না পারে,এবং কী নিজের স্ত্রী/স্বামীও না। বইটা একদম ছোট,কিন্তু কথাগুলোর ভার অনেক💫
ছোট্ট এক টুকরা বই, আমি এটাকে এক টুকরাই বলবো। কারণ পৃষ্ঠা সংখ্যা মাত্র ৩২ টি। এর মাঝে প্রথমেই আছে ২ পৃষ্ঠা লেখকের বর্ণনা এবং শেষে এক পৃষ্ঠা পাঠকের অনুভুতি ধারণের জন্য খালি রাখা হয়েছে। তবুও এই ছোট বইটি তার কথার ভারে অনন্য। বিখ্যাত গল্প-উপন্যাসের চেয়ে বহু দামি কিছু কথা এই বইয়ের পাতায় ফুটিয়ে তুলেছেন শাইখ আহমাদ মূসা জিবরীল। আজকের জামানায় তর্ক - বিতর্কের ভিড়ে আমার চোখে ভালো যে কয়েকজন আলেম রয়েছেন তাদের মধ্যে আহমাদ মূসা জিবরীল একজন। শাইখ যেসব কিতাব লিখেছেন তার প্রতিটিতেই দেখতে পাই লেখকের আলোচ্য বিষয়ে এক গভীর অনুধাবন, পরম মমতা আর কুরআন সুন্নাহর সার নির্যাস। কিয়ামুল লাইল বইটিও শাইখের দীর্ঘ কর্ম জীবনের আরও একটি অধ্যায়। যেখানে ফুটিয���ে তুলেছেন আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার পথ, সে পথের পথিকদের গল্প, অনুপ্রেরণা, নসিহত আর আল্লাহর সাথে বান্দার ভালোবাসা তৈরি ও অনুধাবন করার এক অনন্য পন্থা। আল্লাহ এই বই পাঠ করার মাধ্যমে এর লেখক, অনুবাদক, প্রকাশক ও পাঠক সকলকে তার প্রিয় বান্দা হিসেবে কবুল করুন। সকলকে কম করে হলেও ২ রাকাত তাহাজ্জুদ আদায় করার তৌফিক দান করুন।
কিয়ামুল লাইল। শেষ রাত্রির সালাত। আচ্ছা, শেষ রাত্রে আপনি ঘুমোচ্ছেন। হঠাৎ ডাক দিলো প্রিয় কেউ একজন। হয়তো মোবাইল ফোনটি বেজে উঠলো বা ঘরে এসেই ডাক দিলো। হড়মড় করে উঠে গেলেন তার ডাকে সাড়া দিতে। যদি এমন হয় প্রিয় জনের প্রয়োজনে আপনার সাড়া দেওয়া তবে কেমন হবে যদি আপনারই প্রয়োজন পড়ে। যে আপনার প্রয়োজনের শেষ নেই। শেষ রাতে আপনার সৃষ্টিকর্তা, আল্লাহ ﷻ ডাক দিলেন। হে আমার বান্দা তোমার কি প্রয়োজন আমাকে বলো। আমি পূরণ করবো তোমার মনের সুপ্ত বাসনা। তাহলে নিশ্চয় আপনি প্রতিরাতে জেগে উঠবেন সাক্ষাৎ করতে, মনের কথা খুলে বলতে। সে কিয়ামুল লাইল নিয়ে শায়খ আহমাদ মুসা জিবরিল হাফিজাহুল্লাহর লেকচার অবলম্বনে বইটি আমাদের কিয়ামুল লাইলের গুরুত্ব উপলব্ধি করাতে সক্ষম হবে ইন শা আল্লাহ।
৩২ পৃষ্ঠার এই ছোট্ট বইটি পাঠকের জীবনে আমূল-পরিবর্তন আনার ক্ষমতা রাখে। লেখক এতোটা সুন্দরভাবে কিয়ামের মাহাত্ম্য তুলে ধরেছেন, মাশাআল্লাহ। আল্লাহ লেখককে উত্তম জাযা দান করুন। বইটির কিছু অন্তর জাগানিয়া উক্তি: "আল্লাহর শপথ! তাহাজ্জুদের আলোচনা করা এবং এ জন্য সবাইকে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রেও আমাদের লজ্জিত হওয়া উচিত, কারণ এর পুরোটাই তো নিজের কল্যাণের জন্য।" "মানুষ আশ্বস্ত হওয়ার জন্য অন্য মানুষের ওপর ভরসা করে। অথচ আল্লাহ তাআলা কি তাকে এই আশ্বাস দেননি–বান্দা যখন তাঁকে ডাকে তিনি তাতে সাড়া দেবেন?"
গ্যালারি ঘুরতে ঘুরতে সামনে এলো।এই সেই বই(কিয়ামুল লাইল)যেটা পড়ে জীবনে প্রথম তাহাজ্জুদ পড়েছিলাম😭আমার রব সবাই কতই না সহজ করে দেয় আমাদের সব। সব কিছুর কোনো না কোনো এক উছিলার মাধ্যমে আমাদের সামনে এনে দেয়🌸 اللهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ حُبَّكَ. "আল্লহুম্মা ইন্নি আসআলুকা হুব্বাক্কা"
"আপনি কি বিচারদিবসে দাঁড়ানোর সময়কে কমিয়ে আনতে চান! যে দিনটি পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান? তবে আজ রাতেই দাঁড়ান, আল্লাহও আপনার ওই দাঁড়ানোটা কমিয়ে আনবেন"- ছোট বই হলেও বিবেক নাড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট