যুধিষ্ঠির এলেন দ্বৈপায়নের কাছে। বললেন, মহাকালের নায়ক শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করার জন্য। তখন দ্বৈপায়নের মানসচক্ষে ভেসে উঠলো প্রবল আকর্ষণধর্মী কৃষ্ণের সমগ্র জীবন। তিনি দেখলেন কৃষ্ণের জন্ম,বাল্যলীলা ,কংস বধ। বৃন্দাবনের প্রাণভোমরা "কৃষ্ণের" পান্ডবদের সাথে বন্ধুত্ব, তাদের বিপদে এগিয়ে আসা এবং কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে সারথি রূপে অংশগ্রহণ।যুদ্ধ শেষে গান্ধারীর অভিশাপ মাথা পেতে নেওয়া ও যদুবংশ ধ্বংস হওয়া দেখেও কিছু করতে না পারা। মানুষের একজন হয়ে, মানুষের সাথে মিশে যাওয়ার ক্ষমতা ছিল কৃষ্ণের।সবার জন্য এতকিছু করেও তিনি প্রতিদানে যুদ্ধের মহানায়ক অপবাদই পেলেন। একদিন ঐশ্বর্যের নাগাল পেতে রাধাকে ছেড়ে দ্বারকা পাড়ি জমিয়েছিলেন,অথচ শেষ সময়ে অধিক প্রিয় অর্জুন ও রাধা দুই বিপরীত মেরুতে থেকে গেল।
এটা খুব বিশ্লেষণ ধর্মী বই নয়, এখানে কৃষ্ণের সমগ্র জীবনের খন্ডাংশের আলোচনা কথাসাহিত্য দ্বারাই হয়েছে। লেখকের ভাষায়- উৎপীড়িত মানুষের শৃঙ্খল মুক্তির জন্যে এক ঐশীশক্তির উন্মেষ হয়। মানুষের দুর্জয় সাহস, শক্তি, দৃঢ়তা, বুদ্ধিবল, এবং আত্মবিশ্বাসের মধ্যে লুকানো থাকে সে শক্তি। যেদিন আত্মিকশক্তির এই উদ্বোধন হয়,সেদিনই তাদের পরিত্রাতার আবির্ভাব ঘটে। যুগে যুগে আমরা এই আবির্ভাব দেখেছি। কৃষ্ণ সেই যুগদেবতা। কালের গর্ভে তার জন্ম। কাল সবাইকে আকর্ষণ করে। কৃষ্ণ সময়ের স্রোতে ভেসে আসা একটি নীলপদ্ম, তাই তার আকর্ষণ দুর্নিবার। কারো সাধ্য নেই নিজেকে দূরে রাখে। সবাইকে পতঙ্গবৎ ঝাঁপ দিতে হবে। ৩.৫/৪