তিব্বতি জাদু শিখতে রুটুং পাহাড়ে পৌঁছে গিয়েছিল তিন কিশোর— জয়, শংকর আর টাবলু। কিন্তু ভয়ংকর এক ধসে ভেঙে পড়ে ধরতে গেলে গোটা পাহাড়টাই। নিরুপায় হয়ে পায়ে হেঁটে ফেরার পথ ধরেছিল তিন বন্ধু। কিন্তু গভীর জঙ্গলে চোরাচালানকারীদের খপ্পরে পড়ে যায় ওরা। তারপর থেকে রোমাঞ্চকর সব ঘটনা সার বেঁধে উঠে আসে ‘সোনার বিস্কুট’-এ। এই তিন বন্ধুই আরও দুটি রহস্যে-মোড়া অভিযানে মুখোমুখি হয়েছিল ইয়েতি ও পৃথিবীর আদিযুগের সম্ভবত শেষ ডায়নোসরের। গা-ছমছমে দুটি উপন্যাসের নাম ‘ইয়েতির মুখোমুখি’ ও ‘চিরনবীনের দেশে’। দ্বিতীয় ডারউইন এক কিশোরের অনুসন্ধান-পর্বে নানা মজাদার সব ঘটনা ঘটে যায় ‘বাঁদর-মানুষ আজও আছে’ উপন্যাসে। প্রতিভাবান এক বিজ্ঞানী সৌরজগতে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পৃথিবীগ্রহের অবস্থান পালটে দিয়েছিল, তারই ফলে ‘কলকাতায় প্রচণ্ড তুষারপাত’। এক সাহেবের সাতটি বিলিতি ট্রেন্ড ডগ ঘোল খেয়েছিল টিঙ্কুর দিশি কুকুর তানাইয়ের কাছে। সেই বৃত্তান্ত নিয়ে ‘সাত বিলিতি হেরে গেল’। ‘বাঘের ঘরে’ এবং ‘বিপদ যখন গভীরে’ দু-ধরনের দুটি গোয়েন্দা-কাহিনি। শিল্ড ফাইন্যালের দিন নিখোঁজ দলের সেরা খেলোয়াড়, এবং শেষ মুহূর্তে তার মাঠে ফিরে আসার শ্বাসরোধকারী কাহিনি ‘ওরা যখন পাঁচজন’। শিল্পপতি-হতে-চাওয়া তিন কিশোর এক মার্কিনি ফুড চেনের কায়দায় ফ্রায়েড চিকেনে লঙ্কার গুঁড়ো মিশিয়ে কী অবস্থায় পড়েছিল সেই বিচিত্র গল্প নিয়ে ‘গন’স হট চিকেন’। নানা স্বাদের দশটি অনবদ্য উপন্যাস আছে এখানে।
শেখর বসুর জন্ম ১৯৪০। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এম এ। দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা, হিন্দুস্থান স্ট্যান্ডার্ড, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, আনন্দমেলা এবং প্রবাসী আনন্দবাজার-এর সম্পাদকীয় বিভাগের সঙ্গে কর্মসূত্রে যুক্ত ছিলেন বিভিন্ন সময়ে। এখন সম্পূর্ণ সময়ের লেখক। বড়দের লেখার পাশাপাশি ছোটদের জন্যেও লেখেন। ছোটদের প্রথম গল্প ‘ভাগ্যিস ইনু ছিল’, প্রথম উপন্যাস সোনার বিস্কুট । প্রথম অনুবাদ-গ্রন্থ বারোটি কিশোর ক্লাসিক। বড়দের জন্যে লিখেছেন পঞ্চাশটি গল্প। গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, অনুবাদ-গ্রন্থ, ভ্রমণকাহিনির সংখ্যা পঞ্চাশটিরও বেশি। সম্পাদনা করেছেন শ্রেষ্ঠ বিদেশি গল্প, আধুনিক রবীন্দ্রনাথের একুশটি গল্প ও শাস্ত্রবিরোধী গল্পসংকলন। গল্প অনূদিত হয়েছে নানা ভাষায়। ভিয়েনায় গিয়ে সুভাষচন্দ্র বসুর স্ত্রী এমিলি শেঙ্কলের দীর্ঘ সাক্ষাত্কার নিয়ে লিখেছেন নেতাজির সহধর্মিণী, যা এমিলির প্রথম জীবনকথা হিসেবে স্বীকৃত। আটটি সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন।
এই বইয়ের লেখাগুলোকে, অনেকটা কমিক্স-এর যুগবিভাগের ধারা অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। তারা হল, (ক) ক্লাসিক পিরিয়ড: আমার প্রজন্ম এই উপন্যাস (এবং ওই সময়ের ছোটোগল্পগুলো) দিয়েই শেখর বসুকে মনের মণিকোঠায় রেখেছে। সাত ও আটের দশকে আনন্দমেলায় প্রকাশিত এই রোমাঞ্চ আর মায়ায় ভরা লেখাগুলো ছিল~ ১. সোনার বিস্কুট; ২. সাত বিলিতি হেরে গেল; ৩. ইয়েতির মুখোমুখি। (খ) সলিড: এই লেখাগুলোও লেখকের মোটামুটি সেরা সময়ের রচনা। তাদের মধ্যে আছে~ ৪. কলকাতায় প্রচণ্ড তুষারপাত; ৫. ওরা যখন পাঁচজন; ৬. বাঘের ঘরে। (গ) রাবিশ: এগুলো, দুর্ভাগ্যজনকভাবে, লেখকের কল্পনাশক্তি এবং লেখনী পুরোপুরি অবসর নেওয়ার পরও ঠেকায় পড়ে লেখা এবং মোটামুটি অপাঠ্য। তাদের মধ্যে আছে~ ৭. বিপদ যখন গভীরে; ৮. বাঁদর-মানুষ আজও আছে; ৯. গন'স হট চিকেন; ১০. চিরনবীনের দেশে। একইরকম অভিজ্ঞতা হয়েছিল লেখকের 'ছোটোদের পঞ্চাশটি গল্প' পড়তে গিয়েও, যাতে ওই শেষ পর্যায়ভুক্ত গল্পরা গোটা সংকলনটাকেই ঝুলিয়ে দিয়েছিল। যাইহোক...