তিন দশকের বেশি সময় দিনলিপি লিখেছেন সরদার ফজলুল করিম। সেই ডায়েরির পাতায় পাতায় বিভিন্ন গুণিজনের প্রসঙ্গ এসেছে; স্মৃতিচারণ করেছেন অতীত দিনের কথা। দিনলিপির বিভিন্ন ব্যক্তিকে নিয়ে সরদারের স্মৃতিচারণামূলক বই 'আমার প্রিয় মুখ'। মাত্র ১শ ২০ পৃষ্ঠার দামি বইটির প্রকাশক 'প্রথমা'। ডায়েরি থেকে সম্পাদনা করেছেন মতিউর রহমান ও আনিসুল হক।
রুশোকে নিজের সুহৃদ জ্ঞান করতেন সরদার ফজলুল করিম। তাই ফরাসিদেশের এই মনীষীকে নিয়ে লেখাটিতে সরদার উচ্ছ্বাস লক্ষ করার মতো এবং ভীষণ সুখপাঠ্য। বইয়ের অন্যতম সেরা লেখা বলব একে।
আব্দুর রাজ্জাককে নিয়ে তিনটি লেখা বইতে রয়েছে। জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাকের প্রজ্ঞা ও পড়াশোনার ব্যাপ্তি বরাবরের মতো পাঠককে মুগ্ধ করবে। যেমনি বিমোহিত করেছিল সরদার ফজলুল করিমকে। তাই তো তিনি অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাককে সম্বোধন করেছেন, 'আমার দ্বিতীয় পিতা' বলে। বইয়ের সেরা লেখাগুলো অধ্যাপক রাজ্জাককে নিয়ে।
শেখ মুজিবুর রহমানের নাম শুনলেই একদল লোকের গাত্রদাহ শুরু হয়। হুঁশ হারিয়ে এরা যাচ্ছেতাই বলে এবং করে। সরদার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, এটাই প্রমাণ করে মুজিবকে অস্বীকার করা কারো পক্ষে সম্ভব না এবং তাঁর কীর্তির জন্যই তিনি মহত্তম। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে একাধিক লেখা পেয়েছি। সবগুলো সমগুণসম্পন্ন মনে হয়নি। কেমন যেন ফরমায়েশি ভাব ছিল। অর্থাৎ লেখাগুলো একান্তই বইয়ের সম্পাদকদ্বয়ের মর্জিতে যুক্ত করা। অনেকটাই জোর করে চাপানোর মতো।
তাজউদ্দীন আহমদকে নিয়ে স্মৃতিচারণ এবং সেখানে তাজউদ্দীন কন্যা রিমির বইয়ের উদ্ধৃতি পাঠককে নিমিষের জন্য আবেগপ্রবণ করে তুলতে পারে। যেখানে বঙ্গবন্ধু হত্যার খবর শোনার পর তাজউদ্দীন আফসোস করে বলছেন,
' মুজিব ভাই চলে গেলেন। কিন্তু জেনে গেলেন না কে তার বন্ধু আর কে শত্রু ছিল। '
আরজ আলী মাতুব্বর, সানাউল হক, শামসুর রাহমান, এম আর আখতার মুকুল এবং সত্যেন সেন প্রমুখের উল্লেখ পাই 'আমার প্রিয় মুখ'-এ।
রুশো, আব্দুর রাজ্জাক এবং তাজউদ্দীন আহমদ - এই তিনজনকে নিয়ে লেখার জন্য এতগুলো পয়সা খরচ করে বইটি কেনা লাভজনক প্রকল্প মনে হয়নি। একান্তই কিনে ফেললে অথবা বিনে পয়সায় পড়ার সুযোগ থাকলে পড়ে ফেলতে পারেন।