পথ আর জীবন নিয়ে সাহিত্যে কত কথাই না লেখা হয়েছে। কিন্তু যে-মানুষ পথ দিয়ে হেঁটে গেলে ধুলোয় ফুটে ওঠে অবিকল এক সরীসৃপের চলার আঁচড়, তার কথা? তেমনই এক মানুষ তবু সরীসৃপের অজানা জীবন-ইতিহাস এই ভিন্নধর্মী উপন্যাসে। তার নাম ঈশানচন্দ্র। গ্রামবাংলার এক অন্ত্যজ পরিবারে জন্ম। ছোট্টবেলা থেকে তার পা দু’খানি নষ্ট। সরু, লিকলিকে, মৃতপ্রায় সেই পা নিয়ে জীবনের দীর্ঘ পথ হেঁটে যেতে চেয়েছিল ঈশান। কিন্তু কী দিল জীবন তাকে? আবুল বাশারের জীবন্ত কলমে এক অভিনব উপন্যাস ‘স্পর্শের বাইরে’। একাহিনীর বিষয় আলাদা, স্বাদ স্বতন্ত্র, চাল ভিন্ন। যেন ঈশানচন্দ্রের নিজেরই লেখা এক ‘জীবনচরিত’ থেকে নানান অংশ শোনাচ্ছেন ঈশানের বাল্যবন্ধু এবং পরবর্তীকালে প্রতিষ্ঠিত এক লেখক। লেখকের ভূমিকা এখানে কখনও কথকের, কখনও ভাষ্যকারের। কখনও আবার আত্মস্মৃতির সঙ্গে বাল্যবন্ধুর জীবনস্মৃতিকে মিলিয়ে নেওয়ার চেষ্টা। সামাজিক ও শারীরিকভাবে দুর্বল এক মানুষের শরীর ও মনের, প্রেম ও বঞ্চনার, সাফল্য ও পরাজয়ের অনবদ্য কাহিনী ‘স্পর্শের বাইরে’।
আবুল বাশারের জন্ম ১৯৫১ খ্রীস্টাব্দে। ছয় বছর বয়সে সপরিবার গ্রাম তাগ। মুর্শিদাবাদের লালবাগ মহকুমার টেকা গ্রামে বসবাস শুরু। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্যের স্নাতক। হিন্দিভাষা-সাহিত্যেরও ডিপ্লোমা। গ্রামের স্কুলে ১০-১২ বছর চাকুরি। কাজ করেছেন সাপ্তাহিক ‘দেশ’ পত্রিকায়। দারিদ্র্যের চাপ আর সামাজিক বিষমতা ও পীড়ন কৈশোরেই লেখালেখিতে প্ররোচিত। উত্তীর্ণকৈশোরে, ১৯৭১ সালে, প্রথমে কবিতাগ্রন্থের প্রকাশ। নাম : ‘জড় উপড়ানো ডালাপা ভাঙা আর এক ঋতু’। পরবর্তী এক দশক লেখালেখি বন্ধ। জড়িয়ে পড়েন সক্রিয় রাজনীতিতে। বহরমপুরের ‘রৌরব’ পত্রিকাগোষ্ঠীর প্রেরণায় লেখালেখিতে প্রত্যাবর্তন। কবিতা ছেড়ে এবার গল্পে। প্রথম মুদ্রিত গল্প ‘মাটি ছেড়ে যায়’। ‘ফুলবউ’ উপন্যাসের জন্য পেয়েছেন ১৩৯৪ সালের আনন্দ-পুরস্কার।