হেম কে? এর কোনো সরাসরি উত্তর হয় না স্বাভাবিকভাবেই। হেমন্তে জন্মানো, মাটিরঙা কপালে টিপ ও মেঘলা শাড়ি পরা এই মেয়েটিকে আমরা সবাই হয়তো দেখেছি আমাদের জীবনের কোনো না কোনো পথের বাঁকে। কখনো তার ইঙ্গিতে পথ ভুল হয়ে গেছে, আবার সেই বাতিঘরের মতো আলোর দিশা দেখিয়ে ফিরিয়ে এনেছে অন্যসময়। আমূল নখ বিঁধিয়ে চিরে দিয়েছে হৃৎপিণ্ড, আবার ওষধি-নির্যাসের মতো চোখের জলে উপশম করেছে রোগযন্ত্রণার। তার তীব্র চাহনির নিচে প্রজাপতির পাখা কাঁপে তিরতির করে, তার হাসিতে ফুটে ওঠে শিউলিফুল। এ তো আমরা সবাই জানি, একে তো আমরা সবাই চিনি।
সেই চির-চেনা, চির-রহস্যময়ীকে কত কথাই তো বলার থাকে। বলা হয়ে ওঠে না। কুণ্ঠায়, দ্বিধায় জড়িয়ে আসে কণ্ঠস্বর। কেঁপে ওঠা বুক, দুর্বল পা-দু'টি শরীর আঁকড়ে ধরে রাখে অনড় মাটিতে।
সেই না বলা কথাগুলি লেখা হয়ে যায় না পাঠানো চিঠিগুলিতে। যাকে যা বলার, তা বলা হল না বলেই, বিলম্ব হল বলেই, বইয়ের ছদ্মবেশে ছড়িয়ে দেওয়া গেল; যদি তার চোখে পড়ে যায়!