গৌরী ধর্মপালের নাম শোনামাত্র আমাদের চোখের সামনে একঝাঁক ছবি ভেসে ওঠে। রূপকথা, উপকথা, বেদ, সংস্কৃত সাহিত্য— সব মিশে থাকে তাতে। মনে হয় যেন 'পুরোনোতুন' গল্প আর ছড়ার এক মস্ত মিছিল চলেছে সামনে দিয়ে। তাঁর রচনাসমগ্রের এই তৃতীয় খণ্ডটি সেই মিছিলেরই এক বহুবর্ণ অংশকে তুলে ধরেছে। সম্পাদকীয় ভূমিকা ও প্রকাশকের কথার পর এতে আছে~ ১. পঞ্চতন্ত্র: বিষ্ণুশর্মা নামের আড়ালে এই রচনাটির সঙ্গে জড়িয়ে আছেন উত্তর ও মধ্য ভারতের অজস্র কথক ও কাহিনিকার। সেই লেখাদের স্বচ্ছন্দ অনুবাদের পাশাপাশি তাতে উল্লিখিত যাবতীয় শ্লোক উদ্ধার করেছিলেন গৌরী। বাংলা অনুবাদ ও টীকার পাশাপাশি 'কথামুখম' নামক অংশে মূল শ্লোকাবলির সম্পূর্ণ সংগ্রহ পরিবেশিত হয়েছে সেজন্যই। সংস্কৃত সাহিত্যের ছাত্রছাত্রীদের কাছে এ এক অমূল্য সম্ভার। ২. বেদ ও রবীন্দ্রনাথ: এই হারিয়ে যাওয়া রচনাটি ফিরিয়ে আনার জন্য সম্পাদক ও প্রকাশকের কাছে আমাদের কৃতজ্ঞ থাকতেই হয়। বেদ-বিষয়ে বাঙালির আগ্রহ ও অধ্যয়ন যখন খুবই সীমিত ছিল, সেই সময় তার কাব্যময়তাকে বিশ্বকবির জীবনদর্শনের সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছিলেন গৌরী। এ-লেখার কোনো তুলনা নেই। গৌরী ধর্মপাল বাঙালির সারস্বত সাধনার এক অত্যুজ্জ্বল প্রতিনিধি। তাঁর এই লেখাগুলো এমন চমৎকার আকারে পাঠকের কাছে ফিরিয়ে আনার জন্য লালমাটি-র কাছে কৃতজ্ঞ রইলাম। তারই সঙ্গে অনুরোধ রইল তাঁর বৈদিক সাহিত্যকে যত শীঘ্র সম্ভব পুনরুদ্ধার করার। ওভাবে বেদ-কে বাঙালির জন্য আর কেউ পরিবেশন করেননি।