এ স্মৃতিগদ্য দুই সহোদরের।একজন বর্ণনা করেছেন দেশভাগের দুঃসহ স্মৃতি, মানুষের সৌহার্দ্য আর ভাঙনের গল্প।আরেকজন বর্ণনা করেছেন স্বাধীন বাংলাদেশে পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি আবিষ্কারের আবেগঘন অধ্যায়।
দুই সহোদর গল্প করছেন দেশভাগের। মনোজ মিত্রের কলমে একদিকে উঠে এসেছে দেশভাগের দুঃসহ অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে উঠে এসেছে সাধারণ মানুষের অসহায়ত্ব আর ভালোবাসার গল্প। খুলনা পাকিস্তানে পড়ায় যখন কেউ দুর্গাপূজা করার সাহস পাচ্ছিলো না, তখন গ্রামের মুসলমানরা এগিয়ে এসে বলেছে : ‘কাকাবাবু, আমাদের ভয়ে আপনারা ‘বড়পুজো’ বন্ধ করে দেবেন, তার চেয়ে দুটো চড় মারুন। সোম-বছরে এই একটাই উচ্ছব—এটাও যদি বন্ধ হয়ে যায় এই ভূতুড়ে গাঁয়ে আর রইল কী? ছেলেপুলের কাছে মুখ দেখাব কী করে আমরা?' নোয়াখালীর মতো খুলনা মোটেও বিপদজনক জায়গা ছিলো না হিন্দুদের জন্য, তবুও ছেড়ে যেতে হয়েছে দেশ। অমর মিত্র জন্মেছেন দেশভাগের পর। দেশভাগের যন্ত্রণা সরাসরি ভোগ করেননি কিন্তু নিজের আত্মীয়স্বজনের চোখেমুখে, আচরণে, চিন্তায় লেগে থাকতে দেখেছেন দেশত্যাগের বেদনা।ফ্রান্সে বসে নিজের প্রিয় কপোতাক্ষ নদের কথা স্মরণ করে মধুসূদন লিখেছিলেন,"সতত, হে নদ, তুমি পড়ো মোর মনে।" অমর মিত্রের স্বজনরা তীব্র সংরাগে এই কবিতা পাঠ করতেন নিজেদের জন্মভিটা স্মরণ কোরে। সেই তিনি নিজের পূর্বপুরুষের ভিটা দেখতে স্বাধীন বাংলাদেশে ফেরত এসেছিলেন। অমর মিত্র লেখক হিসেবে বরাবরই নিস্পৃহ কিন্তু এই স্মৃতিকথায় তার দেশে ফেরার হৃদয়মথিত উত্তেজনা আর অনুভূতির ভার এতোটাই বেশি যে তা বইয়ের কালো অক্ষর ভেদ করে চামড়া স্পর্শ করে ফ্যালে।এমন আবেগঘন কথন পড়ে নিজেকে ঠিক রাখা মুশকিল।