একজন ইঞ্জিনিয়ার ভয়ের গল্প লেখার জন্য বিষয় হিসেবে কী-কী বেছে নিতে পারেন? জানি, কথাটা পড়া-মাত্র আপনার, বিশেষত আপনি নিজেও যদি ইঞ্জিইয়ার হন তাহলে, ভ্রুজোড়া কুঁচকে যাবে। হয়তো লিস্টও করতে শুরু করবেন~ ক্লায়েন্টের ত্যাঁদড়ামো, বসের বদমায়েশি, তোলাবাজদের ফ্যাকড়া, লেবার নিয়ে পেইন... ইত্যাদি-ইত্যাদি। কিন্তু এই প্রকাশ্য, সর্বজনজ্ঞাত ভয়গুলো বাদ দিয়েও কিন্তু অনেক অন্য, অব্যাখ্যাত, গা-শিরশিরে অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা একজন ইঞ্জিনিয়ারের জন্য অপেক্ষা করে থাকতে পারে। 'সাইট' নামক আপাত নির্বিষ জায়গাটির গভীরে লুকিয়ে থাকতে পারে নানা ফিসফিস, কানাকানি, আর অন্ধকার। এই বই সেই অন্ধকারের অভিজ্ঞতাপ্রসূত পনেরোটি আখ্যানের সংকলন। বইয়ে এইক'টি গল্প আছে~ ১. হাতিবাবু ২. রানু ৩. দল ৪. অন্ধকার ৫. বাদুড় ৬. ইম্পেরিয়াল ৭. কাম্পসুরোর দিনলিপি ৮. ও স্যার ৯. প্রজাপতি ১০. বাকু ১১. ভাটি ১২. রেঘো ১৩. শ্বাস ১৪. সত্যি না গল্প ১৫. পরি মনোগ্রাহী অলংকরণে, শুদ্ধ মুদ্রণে, সর্বোপরি অত্যন্ত সহজ ও প্রাণবন্ত লেখনীতে এই কাহিনিরা যতটা না ভয়-পাওয়ায়, তার চেয়েও বেশি করে মন-কেমন করায়। তবে তারও মধ্যে কয়েকটি এমন গল্প আছে যা পড়ার পর আমার মতো পোড়-খাওয়া পাঠককেও কিঞ্চিৎ থমকে যেতে হয়েছিল। যদি তন্ত্র-মন্ত্র, পিশাচ-রক্তচোষা এবং অন্যান্য গুষ্টির পিন্ডির বাইরে কিছু ভালো, বাস্তব-আধারিত ভয়ের গল্প পড়তে চান, তাহলে এই বইটিকে উপেক্ষা করবেন না।
কৃষ্ণপক্ষের দিনকালের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বইতে ১৫টি গল্প। প্রথম দিকের গল্পগুলো আমার সাদামাটা লেগেছে, অলৌকিক, ভূত, ভৌতিক তেমন ভাবে পাইনি। পরের দিক গল্পগুলো যথেষ্ট ভালো, খাঁটি ভূত আর ভৌতিক-অলৌকিক আবহ।
প্রায় সব গল্পে প্লট গড়ে উঠেছে হয় কোনো কারখানা বা দূরবর্তী অঞ্চলে, ওয়ার্কিং সাইট এ। এতে আগে থেকেই একটা লোকালয়বর্জিত, জঙ্গলময় পরিবেশ পাওয়া গেছে। ২-৩ টি গল্প রীতিমতো ভীষণ ভয়ের।
কিছু গল্প বেশ ভালো, পড়ে ভালো লেগেছে, কিন্তু শেষের গল্পটা একদমই ভালো লাগেনি, আর মাঝের বেশ কটা গল্প মনে হলো বড্ড তাড়া ছিল শেষ করার| তাই ভালো লাগলো না |